📄 দীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ: لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ ﴾ [البقرة: ٢٥٦] ، قَالَ : كَانَتِ الْمَرْأَةُ مِنَ الْأَنْصَارِ لَا يَكَادُ يَعِيشُ لَهَا وَلَدٌ، فَتَحْلِفُ: لَئِنْ عَاشَ لَهَا وَلَدٌ لَتُهَوِّدَنَّهُ، فَلَمَّا أُجْلِيَتْ بَنُو النَّضِيرِ إِذَا فِيهِمْ نَاسٌ مِنْ أَبْنَاءِ الْأَنْصَارِ، فَقَالَتِ الْأَنْصَارُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَبْنَاؤُنَا، فَأَنْزَلَ اللَّهُ هَذِهِ الْآيَةَ:
لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّين) [البقرة: ٢٥٦] ، قَالَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ: فَمَنْ شَاءَ لَحِقَ بِهِمْ، وَمَنْ شَاءَ دَخَلَ فِي الْإِسْلَامِ.
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর বাণী, "দীন গ্রহণের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৫৬] সম্পর্কে বলেন, (জাহেলী যুগে) কোনো কোনো আনসার মহিলার সন্তান জীবিত থাকতো না। ফলে সে মানত করতো যে, "যদি তার সন্তান বেঁচে থাকে তবে সে তাকে ইয়াহূদী বানাবে। অবশেষে বনু নাযীরকে যখন দেশান্তর করা হয়, তখন তাদের সাথে আনসারদের ঐরূপ কয়েকটি সন্তান ছিল। তখন তারা বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ এরা তো আমাদের সন্তান তখন আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেন, "দীন গ্রহণের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই”। [সূরা আল- বাকারাহ, আয়াত: ২৫৬]। সা'ঈদ ইবন জুবায়ের রহ, বলেন, যারা চায় তারা ইয়াহুদীদের সাথে যোগ দিবে, আর যাদের ইচ্ছা তারা ইসলামে প্রবেশ করবে”।
সহীহ, ইবন হিব্বان, হাদীস নং ১৪০; আবু দাউদ, হাদীস নং ২৬৮২। আবু দাউদের বর্ণনায় এসেছে,
كَانَتِ الْمَرْأَةُ تَكُونُ مِقْلَاتًا فَتَجْعَلُ عَلَى نَفْسِهَا إِنْ عَاشَ لَهَا وَلَدٌ أَنْ تُهَوِّدَهُ».
(জাহেলী যুগে) কোনো কোনো মহিলার সন্তান জীবিত থাকতো না। ফলে সে মানত করতো যে, “যদি তার সন্তান বেঁচে থাকে তবে সে তাকে ইয়াহুদী বানাবে"।
সহীহ, আবু দাউদ, হাদীস নং ২৬৮২। আবুদাউদরহ. বলেন, মিকলা ঐ মহিলাকে বলা হয়, যার কোনো সন্তান জীবিত থাকে না
عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِرَجُلٍ: «أَسْلِمْ» قَالَ: إِنِّي أَجِدُنِي كَارِهَا، قَالَ: وَإِنْ كُنْتَ كَارِها».
আনাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বললেন, "তুমি ইসলাম গ্রহণ করো”। সে বলল, আমি ইসলামকে অপছন্দ করি। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, যদিও এখন তুমি ইসলাম অপছন্দ করো তবুও ইসলাম গ্রহণ করো।
সহীহ, মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ১২৮৬৮, ১২০৬১। এ হাদীসে জবরদস্তি করে ইসলাম গ্রহণের কথা বলা হয় নি; বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইসলামের প্রতি আহ্বান করেছেন। সে তাকে জানালো, তার অন্তর এখনও ইসলাম গ্রহণে আগ্রহী নয়; বরং অপছন্দকারী। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি ইসলাম গ্রহণ করো; যদিও এখন তুমি ইসলামকে অপছন্দ করো; কেননা তোমার সুন্দর নিয়ত ও ইখলাসের বদৌলতে আল্লাহ তোমার অন্তরকে পরিবর্তন করে অচিরেই ইসলাম গ্রহণের তাওফিক দিবেন। ইবন কাসীর তার তাফসীরে তা বলেছেন
📄 আল্লাহর বাণী, ﴾وَإِن طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا﴿
"আর যদি মুমিনদের দু'দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তাহলে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও”। [সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ৯] আল্লাহ তাদেরকে মুমিন বলে সম্বোধন করেছেন।
عَنِ الْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ: ذَهَبْتُ لِأَنْصُرَ هَذَا الرَّجُلَ ، فَلَقِيَنِي أَبُو بَكْرَةً فَقَالَ أَيْنَ تُرِيدُ؟ قُلْتُ: أَنْصُرُ هَذَا الرَّجُلَ، قَالَ: ارْجِعْ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِذَا التَّقَى المُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَالقَاتِلُ وَالمَقْتُولُ فِي النَّارِ»، فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا القَاتِلُ فَمَا بَالُ المَقْتُولِ قَالَ: «إِنَّهُ كَانَ حَرِيصًا عَلَى قَتْلِ صَاحِبِهِ».
আহনাফ ইবন কায়স রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি (সিফফীনের যুদ্ধে) এ ব্যক্তিকে [আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে] সাহায্য করতে যাচ্ছিলাম। আবু বকরা রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেন, তুমি কোথায় যাচ্ছো? আমি বললাম, আমি এ ব্যক্তিকে সাহায্য করতে যাচ্ছি। তিনি বললেন, ফিরে যাও; কারণ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, "দু'জন মুসলিম তাদের তরবারি নিয়ে মুখোমুখি হলে হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয়ে জাহান্নামে যাবে”। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এ হত্যাকারী (তো অপরাধী); কিন্তু নিহত ব্যক্তির কী অপরাধ? তিনি বললেন, "(নিশ্চয়ই) সে তার সঙ্গীকে হত্যা করার জন্য উদগ্রীব ছিলো”। মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৮৮৮।
📄 মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকী এবং তার সাথে লড়াই করা কুফরী
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقُ وَقِتَالُهُ كُفُرُ».
আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসিকী এবং তার সাথে লড়াই করা কুফুরী”।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৪। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, »وَقِتَالُهُ كُفُرُ এর ব্যাখ্যায় ইমাম বাগভী 'শরহে সুন্নাহ' ১৩/১৩০ এ বলেন, "যারা অন্য মুসলিমের রক্ত হালাল মনে করেন। ইসলাম মুসলিমের রক্ত হারাম করেছে। অতএব, যে ব্যক্তি মুসলিমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে সে মুরতাদ হয়ে যাবে এবং এভাবে সে প্রকৃত কুফুরী করল। তাদের এ ধরণের কাজকে কাফেরদের কাজের সাথে সাদৃশ করা হয়েছে; যদিও আসল কুফুরী নয়। যেহেতু একে অন্যের রক্ত হালাল নয়। যেমন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لَا تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا، يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ
"আমার পরে তোমরা কাফির (এর মতো) হয়ে যেও না যে, একে অপরের গর্দান কাটবে”। মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৫। অর্থাৎ তোমরা তাদের মতো কাজ করো না, যাদের অভ্যাস হলো একে অপরের গর্দান কাটা।
📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর অর্থ, “আমার পরে তোমরা কাফির হয়ে যেও না”
عَنْ جَرِيرٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ: «اسْتَنْصِتِ النَّاسَ» فَقَالَ: لا تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا، يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ.
জারীর রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, বিদায় হজের সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, "তুমি লোকদেরকে চুপ করিয়ে দাও, তারপর তিনি বললেন, "আমার পরে তোমরা কাফির হয়ে যেও না যে, একে অপরের গর্দান কাটবে”।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৫। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, يَضْرِبُ শব্দটির বা বর্ণে দম্মা যোগে অর্থ হবে, তোমরা কাফেরদের কাজের মতো কাজ করো না। একে অপরকে হত্যা করার ব্যাপারে তাদেরকে কাফেরদের সাথে সাদৃশ করা হয়েছে। ফাতহুল বারী, ১/২১৭।