📘 সহীহ হাদীস সম্বলিত অহি ও ঈমান বিশ্বকোষ > 📄 আল্লাহভীতি ও তাকওয়া সম্পর্কে

📄 আল্লাহভীতি ও তাকওয়া সম্পর্কে


عَنْ أُمَّ العَلَاءِ، امْرَأَةً مِنَ الأَنْصَارِ بَايَعَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْبَرَتْهُ: أَنَّهُ اقْتُسِمَ المُهَاجِرُونَ قُرْعَةً فَطَارَ لَنَا عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُونٍ، فَأَنْزَلْنَاهُ فِي أَبْيَاتِنَا، فَوَجِعَ وَجَعَهُ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ، فَلَمَّا تُوُفِّيَ وَغُسَلَ وَكُفَّنَ فِي أَثْوَابِهِ، دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقُلْتُ: رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْكَ أَبَا السَّائِبِ، فَشَهَادَتِي عَلَيْكَ : لَقَدْ أَكْرَمَكَ اللَّهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَمَا يُدْرِيكِ أَنَّ اللَّهَ قَدْ أَكْرَمَهُ؟ فَقُلْتُ: بِأَبِي أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَمَنْ يُكْرِمُهُ اللَّهُ؟ فَقَالَ: أَمَّا هُوَ فَقَدْ جَاءَهُ اليَقِينُ، وَاللَّهِ إِنِّي لَأَرْجُو لَهُ الخَيْرَ، وَاللَّهِ مَا أَدْرِي، وَأَنَا رَسُولُ اللَّهِ، مَا يُفْعَلُ بي» قَالَتْ: فَوَاللَّهِ لَا أُزَكِّي أَحَدًا بَعْدَهُ أَبَدًا.
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বায়'আতকারী আনসারী মহিলা উম্মে 'আলা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা থেকে বর্ণিত, (হিজরতের পর) লটারির মাধ্যমে মুহাজিরদের বণ্টন করা হচ্ছিলো। তাতে উসমান ইবন মায'ঊন রাদিয়াল্লাহু 'আনহু আমাদের ভাগে পড়লেন। আমরা (সাদরে) তাকে আমাদের বাড়িতে স্থান দিলাম। এক সময় তিনি সে রোগে আক্রান্ত হলেন, যাতে তার মৃত্যু হলো। তিনি মারা গেলে যখন তাকে গোসল করিয়ে কাফনের কাপড় পরানো হলো, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করলেন। তখন আমি বললাম, হে আবু সায়িব! আপনার ওপর আল্লাহ্র রহমত বর্ষিত হোক। আপনার সম্বন্ধে আমার সাক্ষ্য এই যে, আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি কি করে জানলে যে, আল্লাহ তাকে সম্মানিত করেছেন?” আমি বললাম, আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তাহলে আল্লাহ আর কাকে সম্মানিত করবেন? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তার ব্যাপার তো এই যে, নিশ্চয় তার মৃত্যু হয়েছে এবং আল্লাহর কসম! আমি তার জন্য মঙ্গল কামনা করি। আল্লাহর কসম! আমি জানি না আমার সঙ্গে কী ব্যবহার করা হবে; অথচ আমি আল্লাহর রাসূল”। সেই আনসারী মহিলা বললেন, আল্লাহর কসম! এরপর আর কোনো দিন আমি কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে পবিত্র বলে মন্তব্য করব না। সহীহ, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২৪৩।

📘 সহীহ হাদীস সম্বলিত অহি ও ঈমান বিশ্বকোষ > 📄 আল্লাহর রহমত তাঁর আযাবের চেয়ে প্রশস্ত

📄 আল্লাহর রহমত তাঁর আযাবের চেয়ে প্রশস্ত


عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخدري رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَّ رَجُلًا كَانَ قَبْلَكُمْ، رَغَسَهُ اللَّهُ مَالًا، فَقَالَ لِبَنِيهِ لَمَّا حُضِرَ : أَيَّ أَبٍ كُنْتُ لَكُمْ؟ قَالُوا: خَيْرَ أَبٍ، قَالَ: فَإِنِّي لَمْ أَعْمَلْ خَيْرًا قَطُّ، فَإِذَا مُتُّ فَأَحْرِقُونِي، ثُمَّ اسْحَقُونِي، ثُمَّ ذَرُونِي فِي يَوْمٍ عَاصِفٍ، فَفَعَلُوا، فَجَمَعَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ، فَقَالَ: مَا حَمَلَكَ؟ قَالَ: مَخَافَتُكَ، فَتَلَقَّاهُ بِرَحْمَتِهِ».
আবু সা'ঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমাদের পূর্ববর্তী যুগে এক ব্যক্তি - আল্লাহ তাকে প্রচুর ধন-সম্পদ দান করেছিলেন- যখন তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো তখন সে তার ছেলেদেরকে একত্রিত করে জিজ্ঞাসা করলো, আমি তোমাদের কেমন পিতা ছিলাম? তারা উত্তর দিলো, আপনি আমাদের উত্তম পিতা ছিলেন। সে বললো, আমি জীবনে কখনও কোনো ভালো আমল করতে পারি নি। আমি যখন মারা যাবো তখন তোমরা আমার লাশকে জ্বালিয়ে ভস্ম করে গুঁড়াগুলো রেখে দিও এবং প্রচণ্ড ঝড়ের দিনে ঐ ভস্ম বাতাসে উড়িয়ে দিও। সে মারা গেলে ছেলেরা অসিয়াত অনুযায়ী কাজ করলো। আল্লাহ তার ভস্ম একত্রিত (পুনঃজীবিত) করে জিজ্ঞাসা করলেন, এমন অদ্ভুত অসিয়াত করতে কে তোমাকে উদ্বুদ্ধ করল? সে জবাব দিলো, হে আল্লাহ! তোমার শাস্তির ভয়। ফলে আল্লাহর রহমত তাকে ঢেকে নিলো”।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৪৭৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৫৭।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, رَغَسَ এর অর্থ আল্লাহ তাকে ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং তাতে বরকত দিয়েছেন। رَفَّس অর্থ বরকত, বৃদ্ধি ও কল্যাণ।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাণী, اسْحَقُونِي শব্দটি السحق থেকে নির্গত। এর অর্থ চূর্ণ বিচূর্ণ করা, গুঁড়া করা।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: قَالَ رَجُلٌ لَمْ يَعْمَلْ خَيْرًا قَطُّ : فَإِذَا مَاتَ فَحَرَّقُوهُ وَاذْرُوا نِصْفَهُ فِي البَر، وَنِصْفَهُ فِي البَحْرِ، فَوَاللَّهِ لَئِنْ قَدَرَ اللَّهُ عَلَيْهِ لَيُعَذِّبَنَّهُ عَذَابًا لَا يُعَذِّبُهُ أَحَدًا مِنَ العَالَمِينَ، فَأَمَرَ اللهُ البَحْرَ فَجَمَعَ مَا فِيهِ، وَأَمَرَ البَرَّ فَجَمَعَ مَا فِيهِ، ثُمَّ قَالَ: لِمَ فَعَلْتَ؟ قَالَ: مِنْ خَشْيَتِكَ وَأَنْتَ أَعْلَمُ، فَغَفَرَ لَهُ».
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "এক ব্যক্তি (জীবনেও) কোনো ভালো আমল করে নি। মৃত্যুর সময় সে বলল, মারা যাওয়ার পর তোমরা তাকে পুড়িয়ে ফেলো। আর অর্ধেক স্থলে আর অর্ধেক সাগরে ছড়িয়ে দাও। সে আরো বলল, আল্লাহর কসম! আল্লাহ যদি তাকে পেয়ে যান তাহলে অবশ্যই তাকে এমন শাস্তি দেবেন, যা জগতের আর কাউকে দেবেন না। তারপর আল্লাহ সাগরকে হুকুম দিলে সাগর এর মধ্যকার অংশকে একত্রিত করল। স্থলকে হুকুম দিলে সেও তার মধ্যকার অংশ একত্রিত করল। তারপর আল্লাহ বললেন, তুমি কেন এরূপ করলে? সে উত্তর বলল, তোমার ভয়ে। আর তুমি অধিক জ্ঞাত। এর প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন”।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং ৫২; সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৫০৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৫৬।
عَنْ عُقْبَةَ أنه قال الحُذَيْفَةَ: أَلَا تُحَدَّثُنَا مَا سَمِعْتَ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: سَمِعْتُهُ يَقُولُ: «إِنَّ رَجُلًا حَضَرَهُ المَوْتُ، لَمَّا أَيْسَ مِنَ الحَيَاةِ أَوْصَى أَهْلَهُ: إِذَا مُتُّ فَاجْمَعُوا لِي حَطَبًا كَثِيرًا، ثُمَّ أَوْرُوا نَارًا ، حَتَّى إِذَا أَكَلَتْ لَحْمِي، وَخَلَصَتْ إِلَى عَظْمِي، فَخُذُوهَا فَاطْحَنُوهَا فَذَرُونِي فِي اليَمِّ فِي يَوْمٍ حَارٌ، أَوْ رَاحٍ، فَجَمَعَهُ اللهُ فَقَالَ لِمَ فَعَلْتَ؟ قَالَ: خَشْيَتَكَ، فَغَفَرَ لَهُ، قَالَ عُقْبَةُ: وَأَنَا سَمِعْتُهُ يَقُولُ.
উকবা ইবন 'আমের রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে বললেন, আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনেছেন তা থেকে কিছু বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "এক ব্যক্তির যখন মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো এবং সে জীবন থেকে নিরাশ হয়ে গেলো তখন সে তার পরিবার পরিজনকে অসিয়াত করল, যখন আমি মরে যাব তখন তোমরা আমার জন্য অনেক লাকড়ি জমা করে (তার ভিতরে আমাকে রেখে) আগুনে জ্বালিয়ে দিও। আগুন যখন আমার গোশত জ্বালিয়ে পুড়িয়ে হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে তখন (অদগ্ধ) হাড়গুলি পিষে ছাই করে নিও। তারপর সেই ছাই গরমের দিন কিংবা প্রচণ্ড বাতাসের দিনে সাগরে ভাসিয়ে দিও (তারা তাই করল)। আল্লাহ তা'আলা (তার ভস্মীভূত দেহ একত্রিত করে) জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি এমন কেন করলে? সে বলল, আপনার ভয়ে। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন”। উকবা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, আর আমিও তাকে তা বলতে শুনেছি। সহীহ, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৪৭৯।

📘 সহীহ হাদীস সম্বলিত অহি ও ঈমান বিশ্বকোষ > 📄 দীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই

📄 দীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ: لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ ﴾ [البقرة: ٢٥٦] ، قَالَ : كَانَتِ الْمَرْأَةُ مِنَ الْأَنْصَارِ لَا يَكَادُ يَعِيشُ لَهَا وَلَدٌ، فَتَحْلِفُ: لَئِنْ عَاشَ لَهَا وَلَدٌ لَتُهَوِّدَنَّهُ، فَلَمَّا أُجْلِيَتْ بَنُو النَّضِيرِ إِذَا فِيهِمْ نَاسٌ مِنْ أَبْنَاءِ الْأَنْصَارِ، فَقَالَتِ الْأَنْصَارُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَبْنَاؤُنَا، فَأَنْزَلَ اللَّهُ هَذِهِ الْآيَةَ:
لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّين) [البقرة: ٢٥٦] ، قَالَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ: فَمَنْ شَاءَ لَحِقَ بِهِمْ، وَمَنْ شَاءَ دَخَلَ فِي الْإِسْلَامِ.
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর বাণী, "দীন গ্রহণের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৫৬] সম্পর্কে বলেন, (জাহেলী যুগে) কোনো কোনো আনসার মহিলার সন্তান জীবিত থাকতো না। ফলে সে মানত করতো যে, "যদি তার সন্তান বেঁচে থাকে তবে সে তাকে ইয়াহূদী বানাবে। অবশেষে বনু নাযীরকে যখন দেশান্তর করা হয়, তখন তাদের সাথে আনসারদের ঐরূপ কয়েকটি সন্তান ছিল। তখন তারা বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ এরা তো আমাদের সন্তান তখন আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেন, "দীন গ্রহণের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই”। [সূরা আল- বাকারাহ, আয়াত: ২৫৬]। সা'ঈদ ইবন জুবায়ের রহ, বলেন, যারা চায় তারা ইয়াহুদীদের সাথে যোগ দিবে, আর যাদের ইচ্ছা তারা ইসলামে প্রবেশ করবে”।
সহীহ, ইবন হিব্বان, হাদীস নং ১৪০; আবু দাউদ, হাদীস নং ২৬৮২। আবু দাউদের বর্ণনায় এসেছে,
كَانَتِ الْمَرْأَةُ تَكُونُ مِقْلَاتًا فَتَجْعَلُ عَلَى نَفْسِهَا إِنْ عَاشَ لَهَا وَلَدٌ أَنْ تُهَوِّدَهُ».
(জাহেলী যুগে) কোনো কোনো মহিলার সন্তান জীবিত থাকতো না। ফলে সে মানত করতো যে, “যদি তার সন্তান বেঁচে থাকে তবে সে তাকে ইয়াহুদী বানাবে"।
সহীহ, আবু দাউদ, হাদীস নং ২৬৮২। আবুদাউদরহ. বলেন, মিকলা ঐ মহিলাকে বলা হয়, যার কোনো সন্তান জীবিত থাকে না
عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِرَجُلٍ: «أَسْلِمْ» قَالَ: إِنِّي أَجِدُنِي كَارِهَا، قَالَ: وَإِنْ كُنْتَ كَارِها».
আনাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বললেন, "তুমি ইসলাম গ্রহণ করো”। সে বলল, আমি ইসলামকে অপছন্দ করি। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, যদিও এখন তুমি ইসলাম অপছন্দ করো তবুও ইসলাম গ্রহণ করো।
সহীহ, মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ১২৮৬৮, ১২০৬১। এ হাদীসে জবরদস্তি করে ইসলাম গ্রহণের কথা বলা হয় নি; বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইসলামের প্রতি আহ্বান করেছেন। সে তাকে জানালো, তার অন্তর এখনও ইসলাম গ্রহণে আগ্রহী নয়; বরং অপছন্দকারী। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি ইসলাম গ্রহণ করো; যদিও এখন তুমি ইসলামকে অপছন্দ করো; কেননা তোমার সুন্দর নিয়ত ও ইখলাসের বদৌলতে আল্লাহ তোমার অন্তরকে পরিবর্তন করে অচিরেই ইসলাম গ্রহণের তাওফিক দিবেন। ইবন কাসীর তার তাফসীরে তা বলেছেন

📘 সহীহ হাদীস সম্বলিত অহি ও ঈমান বিশ্বকোষ > 📄 আল্লাহর বাণী, ﴾وَإِن طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا﴿

📄 আল্লাহর বাণী, ﴾وَإِن طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا﴿


"আর যদি মুমিনদের দু'দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তাহলে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও”। [সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ৯] আল্লাহ তাদেরকে মুমিন বলে সম্বোধন করেছেন।
عَنِ الْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ: ذَهَبْتُ لِأَنْصُرَ هَذَا الرَّجُلَ ، فَلَقِيَنِي أَبُو بَكْرَةً فَقَالَ أَيْنَ تُرِيدُ؟ قُلْتُ: أَنْصُرُ هَذَا الرَّجُلَ، قَالَ: ارْجِعْ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِذَا التَّقَى المُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَالقَاتِلُ وَالمَقْتُولُ فِي النَّارِ»، فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا القَاتِلُ فَمَا بَالُ المَقْتُولِ قَالَ: «إِنَّهُ كَانَ حَرِيصًا عَلَى قَتْلِ صَاحِبِهِ».
আহনাফ ইবন কায়স রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি (সিফফীনের যুদ্ধে) এ ব্যক্তিকে [আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে] সাহায্য করতে যাচ্ছিলাম। আবু বকরা রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেন, তুমি কোথায় যাচ্ছো? আমি বললাম, আমি এ ব্যক্তিকে সাহায্য করতে যাচ্ছি। তিনি বললেন, ফিরে যাও; কারণ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, "দু'জন মুসলিম তাদের তরবারি নিয়ে মুখোমুখি হলে হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয়ে জাহান্নামে যাবে”। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এ হত্যাকারী (তো অপরাধী); কিন্তু নিহত ব্যক্তির কী অপরাধ? তিনি বললেন, "(নিশ্চয়ই) সে তার সঙ্গীকে হত্যা করার জন্য উদগ্রীব ছিলো”। মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৮৮৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00