📄 ঈমানের ব্যাপারে ইনশা আল্লাহ বলা
আওযা'ঈ রহ, আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণীর ব্যাপারে বলেছেন,
لَتَدْخُلُنَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ إِن شَاءَ اللَّهُ عَامِنِينَ﴾ [الفتح: ٢٧]
"তোমরা ইনশাআল্লাহ নিরাপদে তোমাদের মাথা মুণ্ডন করে এবং চুল ছেঁটে নির্ভয়ে আল-মাসজিদুল হারামে অবশ্যই প্রবেশ করবে”। [সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ২৭] তিনি বলেন, আল্লাহ অবশ্যই জানেন যে, তারা নিঃসন্দেহে মসজিদে হারামে প্রবেশ করবেন; তারপরেও তিনি ইনশাআল্লাহ বলেছেন। (সুতরাং ইনশাআল্লাহ বললে সন্দেহযুক্ত হয়ে যাবে তা শুদ্ধ নয়)।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَى الْمَقْبُرَةَ، فَقَالَ: «السَّلَامُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللهُ بِكُمْ لَاحِقُونَ، وَدِدْتُ أَنَّا قَدْ رَأَيْنَا إِخْوَانَنَا قَالُوا: أَوَلَسْنَا إِخْوَانَكَ؟ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «أَنْتُمْ أَصْحَابِي وَإِخْوَانُنَا الَّذِينَ لَمْ يَأْتُوا بَعْدُ فَقَالُوا: كَيْفَ تَعْرِفُ مَنْ لَمْ يَأْتِ بَعْدُ مِنْ أُمَّتِكَ؟ يَا رَسُولَ اللهِ فَقَالَ: «أَرَأَيْتَ لَوْ أَنَّ رَجُلًا لَهُ خَيْلٌ غُرُّ مُحَجَّلَةٌ بَيْنَ ظَهْرَيْ خَيْلٍ دُهُم بُهُم أَلَا يَعْرِفُ خَيْلَهُ؟ قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «فَإِنَّهُمْ يَأْتُونَ غُرًا مُحَجَّلِينَ مِنَ الْوُضُوءِ، وَأَنَا فَرَطُهُمْ عَلَى الْحَوْضِ أَلَا لَيُنَادَنَّ رِجَالٌ عَنْ حَوْضِي كَمَا يُذَادُ الْبَعِيرُ الضَّالُ أُنَادِيهِمْ أَلَا هَلُمَّ فَيُقَالُ: إِنَّهُمْ قَدْ بَدَّلُوا بَعْدَكَ فَأَقُولُ سُحْقًا سُحْقًا».
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, “একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কবরস্থানে এসে বললেন, তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। এটা মুমিনদের ঘর। ইনশাআল্লাহ আমরাও তোমাদের সাথে এসে মিলবো। আমার বড় ইচ্ছা হয় আমাদের ভাইদেরকে দেখি। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা কি আপনার ভাই নই? তিনি বললেন, তোমরা তো আমার সাহাবী। আর যারা এখনো (পৃথিবীতে) আসে নি তারা আমাদের ভাই। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার উম্মাতের মধ্যে যারা এখনো (পৃথিবীতে) আসে নি তাদেরকে আপনি কীভাবে চিনবেন? তিনি বললেন, কেন? যদি কোনো ব্যক্তির কপাল ও হাত-পা সাদাযুক্ত ঘোড়া সম্পূর্ণ কালো ঘোড়ার মধ্যে মিশে যায় তবে সে কি তার ঘোড়াকে চিনে নিতে পারে না? তারা বললেন, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি বললেন, তারা (আমার উম্মাত) সেদিন এমন অবস্থায় আসবে যে, অযুর ফলে তাদের মুখ- মণ্ডল হবে নুরানী এবং হাত-পা দীপ্তিময়। আর হাউযের পাড়ে আমি হবো তাদের অগ্রনায়ক। জেনে রাখো, কিছু সংখ্যক লোককে সেদিন আমার হাউয থেকে হটিয়ে দেওয়া হবে যেমনিভাবে পথহারা উটকে হটিয়ে দেওয়া হয়। আমি তাদেরকে ডাকব, এসো এসো। তখন বলা হবে, এরা আপনার পরে (আপনার দীনকে) পরিবর্তন করে দিয়েছিল। তখন আমি বলবো, দূর হও, দূর হও”।
সহীহ, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪৯।
সুফিয়ান সাওরী রহ. বলেন, যে ব্যক্তি 'আমি ইনশাআল্লাহ মুমিন' একথা বলতে অপছন্দ করে সে আমাদের কাছে মুরজিয়াহ ফের্কার অন্তর্ভুক্ত - একথা বলে তিনি তাঁর কণ্ঠ উঁচু করেন - । অনুরূপ একলোক 'আলকামা রহ. কে জিজ্ঞেস করলেন, অপনি কি মুমিন? তিনি বললেন, ইনশাআল্লাহ আশা করি আমি মুমিন। ইমাম বায়হাকী রহ. শু'আবুল ঈমানে (১/৩৮) বলেন, আমরা একথা সাহাবী, তাবেয়ী ও সৎ উত্তরসূরীদের এক বিরাট দল থেকে বর্ণনা করেছি।
📄 ঈমানের অর্ধেক
عَنْ أَبِي مَالِكِ الْأَشْعَرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الطُّهُورُ شَطْرُ الْإِيمَانِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلَأُ الْمِيزَانَ، وَسُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلَانِ - أَوْ تَمْلَأُ - مَا بَيْنَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، وَالصَّلَاةُ نُورُ، وَالصَّدَقَةُ بُرْهَانٌ وَالصَّبْرُ ضِيَاءُ، وَالْقُرْآنُ حُجَّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ، كُلُّ النَّاسِ يَغْدُو فَبَايِعٌ نَفْسَهُ فَمُعْتِقُهَا أَوْ مُوبِقُهَا».
আবু মালিক আশ'আরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। 'আল হামদুলিল্লাহ' (শব্দটি) পাল্লাকে ভরে দেয়। 'সুবহানাল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ' (দু' পাল্লাকে) ভরে দেয় অথবা (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন) আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবতী স্থান ভরে দেয়। সালাত হলো আলো, সদাকা হলো প্রমাণ, ধৈর্য হলো জ্যোতি। কুরআন তোমার পক্ষে কিংবা বিপক্ষে দলিল। প্রত্যেক মানুষ প্রত্যহ আপন সত্তাকে বিক্রি করে, তখন কেউ সত্তার উদ্ধারকারী হয় আর কেউ হয় ধ্বংসকারী”।
সহীহ, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৩।
📄 যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ঈমান আনল অতঃপর তাতে সুদৃঢ় রইল
عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الثَّقَفِيَّ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، قُلْ لِي فِي الْإِسْلَامِ قَوْلًا لَا أَسْأَلُ عَنْهُ أَحَدًا بَعْدَكَ. قَالَ: «قُلْ: آمَنْتُ بِاللَّهِ، فَاسْتَقِمْ».
সুফিয়ান ইবন আব্দুল্লাহ আস-সাকাফী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আমাকে ইসলাম সম্বন্ধে এমন কথা বলে দিন, আপনার পরে যেনো তা আমাকে আর কারো কাছে জিজ্ঞেস করতে না হয়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বলো, আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি। তারপর এর ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকো”।
সহীহ, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৮।
📄 ঈমানদারদের ঈমানের তারতম্য
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، يَقُولُ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بَيْنَا أَنَا نَائِمُ، رَأَيْتُ النَّاسَ يُعْرَضُونَ عَلَيَّ وَعَلَيْهِمْ قُمُص ، مِنْهَا مَا يَبْلُغُ القَدِيَّ، وَمِنْهَا مَا دُونَ ذَلِكَ، وَعُرِضَ عَلَيَّ عُمَرُ بْنُ الخَطَابِ وَعَلَيْهِ قَمِيصُ يَجُرُّهُ . قَالُوا : فَمَا أَوَّلْتَ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «الدِّينَ»
আবু সাঈদ খুদুরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "একবার আমি ঘুমন্ত অবস্থায় (স্বপ্নে) দেখলাম যে, লোকদেরকে আমার সামনে হাযির করা হচ্ছে। আর তাদের পরিধাণে রয়েছে জামা। কারো জামা বুক পর্যন্ত আর কারো জামা এর নীচ পর্যন্ত। আর উমার ইবন খাত্তাবকে আমার সামনে হাযির করা হলো এমন অবস্থায় যে, তিনি তার জামা (এতো লম্বা যে) টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সাহাবীরা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি এর কী তা'বীর করেছেন? তিনি বললেন, (এ জামা মানে) দীন”।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৩৯০।
عَنْ هَانِي بْنِ هَانِي، قَالَ: دَخَلَ عَمَّارٌ عَلَى عَلَيَّ، فَقَالَ: مَرْحَبًا بِالطَّيِّبِ الْمُطَيِّبِ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مُلِئَ عَمَّارُ إِيمَانًا إِلَى مُشَاشِهِ».
হানী ইবন হানী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আম্মার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু 'আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর নিকট প্রবেশ করলে তিনি বলেন, "এই পাক- পবিত্র ব্যক্তিকে স্বাগতম। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, 'আম্মার এমন একটি পাত্র যার হাঁড়ের অগ্রভাগ পর্যন্ত ঈমানে ভরপুর”।
হাসান, ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৪৭; ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৭০৭৬, তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন; নাসায়ী, হাদীস নং ৫০০৭।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, مُشَاشِهِ এর অর্থ হাঁড়ের মাথা পর্যন্ত। এখানে 'আম্মার রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর শক্তিশালী ঈমানের কথা বুঝানো হয়েছে।