📄 আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ভালোবাসা পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অংশ
عَنْ زِر بن حبيش، قَالَ: قَالَ عَلَى: وَالَّذِي فَلَقَ الحَبَّةَ، وَبَرَأَ النَّسَمَةَ، إِنَّهُ لَعَهْدُ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيَّ: أَنْ لَا يُحِبَّنِي إِلَّا مُؤْمِنٌ، وَلَا يُبْغِضَنِي إِلَّا مُنَافِقٌ».
যির ইবন হুবাইশ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেছেন, সে মহান সত্তার শপথ, যিনি বীজ থেকে অঙ্কুরোদগম করেন এবং মানবকুল বা আত্মা সৃষ্টি করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, মুমিন ব্যক্তিই আমাকে ভালোবাসবে আর মুনাফিক ব্যক্তি আমার সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করবে”। সহীহ, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৮।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, فَالِقُ الْحَبِّ এর অর্থ বীজ থেকে অঙ্কুরোদগম হওয়া।
আর بَرَأَ النَّسَمَةَ এর অর্থ মানব সৃষ্টি। কেউ কেউ বলেছেন, মানবাত্মা সৃষ্টি করেছেন।
📄 মুমিনদেরকে বন্ধুত্বরূপে গ্রহণ করা
عَنْ عَمْرُو بْنِ العَاصِ، قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جِهَارًا غَيْرَ سِرِّ يَقُولُ: " إِنَّ آلَ أَبِي - قَالَ عَمْرُو فِي كِتَابٍ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ بَيَاضُ - لَيْسُوا بِأَوْلِيَائِي، إِنَّمَا وَلِيَ اللَّهُ وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِينَ ».
আমর ইবন 'আস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উচ্চ স্বরে বলতে শুনেছি, আস্তে নয়। তিনি বলেছেন, "অমুকের বংশ আমার ওলী বা বন্ধু নয়। 'আমর রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, মুহাম্মাদ ইবন জা'ফরের কিতাবে বংশের পরে জায়গা খালি রয়েছে (কোন বংশের নাম উল্লেখ নাই)। আমার ওলী বা বন্ধু তো কেবল আল্লাহ ও সৎ মুমিনগণ”।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৯৯০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১৫। হাদীসের মর্ম হলো, আমার বন্ধু হলো যারা সৎলোক; যদিও তাদের বংশ আমার বংশ থেকে আলাদা। আমার বংশের কাছাকাছি লোক হলেও অসৎ লোক আমার বন্ধু নয়।
📄 ফিতনা থেকে পলায়ন পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অংশ
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، أَنَّهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ خَيْرَ مَالِ المُسْلِمِ غَنَمُ يَتْبَعُ بِهَا شَعَفَ الجِبَالِ وَمَوَاقِعَ القَطْرِ، يَفِرُّ بِدِينِهِ مِنَ الفتن».
আবু সা'ঈদ খুদুরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "সেদিন দূরে নয়, যেদিন মুসলিমের উত্তম সম্পদ হবে কয়েকটি বকরী, যা নিয়ে সে পাহাড়ের চুড়ায় অথবা বৃষ্টিপাতের স্থানে চলে যাবে। ফিতনা থেকে সে তার দীন নিয়ে পালিয়ে যাবে”। সহীহ, মুয়াত্তা মালেক, হাদীস নং ১৬; সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ، قَالَ: جَاءَ أَعْرَابِيُّ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ النَّاسِ خَيْرٌ؟ قَالَ: رَجُلٌ جَاهَدَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ، وَرَجُلٌ فِي شِعْبٍ مِنَ الشَّعَابِ: يَعْبُدُ رَبَّهُ، وَيَدَعُ النَّاسَ مِنْ شَرِّهِ».
আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, একজন বেদুঈন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললো, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! কোন ব্যক্তি সবচাইতে উত্তম? তিনি বললেন, "সে ব্যক্তি যে নিজের জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করে, আর সে ব্যক্তি যে ব্যক্তি পাহাড় বেষ্টিত এলাকাসমূহের কোনোটিতে তার রবের ইবাদত করতে থাকে এবং মানুষকে তার অনিষ্ট থেকে রেহাই দেয়”। মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৪৯৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৮৮।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: «مِنْ خَيْرِ مَعَاشِ النَّاسِ لَهُمْ، رَجُلٌ مُمْسِكُ عِنَانَ فَرَسِهِ فِي سَبِيلِ اللهِ، يَطِيرُ عَلَى مَتْنِهِ، كُلَّمَا سَمِعَ هَيْعَةً، أَوْ فَزْعَةٌ طَارَ عَلَيْهِ، يَبْتَغِي الْقَتْلَ وَالْمَوْتَ مَظَانَّهُ، أَوْ رَجُلٌ فِي غُنَيْمَةٍ فِي رَأْسِ شَعَفَةٍ مِنْ هَذِهِ الشَّعَفِ، أَوْ بَطْنِ وَادٍ مِنْ هَذِهِ الْأَوْدِيَةِ، يُقِيمُ الصَّلَاةَ، وَيُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَيَعْبُدُ رَبَّهُ حَتَّى يَأْتِيَهُ الْيَقِينُ، لَيْسَ مِنَ النَّاسِ إِلَّا فِي خَيْرٍ».
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "সর্বোত্তম জীবন যাপনকারী হচ্ছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে (জিহাদের উদ্দেশ্যে) তার ঘোড়ার লাগাম ধরে রাখে, যে দিকেই ভয়ঙ্কর আওয়াজ শুনতে পায় অথবা সাহায্যের আবেদন শুনতে পায় সেদিকেই সে এর পিঠে চড়ে উড়ে চলে। সে এর পিঠে চড়ে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে নিহত হয় বা মৃত্যুর দিকে (যুদ্ধক্ষেত্রে) ধাবিত হয় অথবা এমন ব্যক্তি যে তার মেষপাল নিয়ে নির্জনে কোনো পাহাড়ের উচ্চ শৃঙ্গে অথবা উপত্যকায় অবস্থান করে, সালাত কায়েম করে, যাকাত আদায় করে এবং তার রবের ইবাদতে মশগুল থাকে। এ অবস্থায় তার মৃত্যু এসে যায়, এ দুই ব্যক্তি মানুষের মধ্যে কেবল কল্যাণেই রত থাকে" সহীহ, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৮৯।
📄 ভয়-শঙ্কার কারণে ঈমান গোপন রাখা জায়েয প্রসঙ্গে
عَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اكْتُبُوا لِي مَنْ تَلَفَّظَ بِالإِسْلامِ مِنَ النَّاسِ، فَكَتَبْنَا لَهُ أَلْفًا وَخَمْسَ مِائَةِ رَجُلٍ، فَقُلْنَا: نَخَافُ وَنَحْنُ أَلْفُ وَخَمْسُ مِائَةٍ، فَلَقَدْ رَأَيْتُنَا ابْتُلِينَا، حَتَّى إِنَّ الرَّجُلَ لَيُصَلِّي وَحْدَهُ وَهُوَ خَائِفٌ.
হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "মানুষের মধ্যে যারা ইসলামের কালেমা উচ্চারণ করেছে তাদের নাম তালিকাভুক্ত করে আমাকে দাও। হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, তখন আমরা এক হাজার পাঁচশ লোকের নাম তালিকাভুক্ত করে তাঁর নিকট পেশ করি। তখন আমরা বলতে লাগলাম, আমরা একহাজার পাঁচশত লোক এখন আমাদের ভয় কিসের? (বর্ণনাকারী) হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, পরবর্তীকালে আমরা দেখেছি যে, আমরা এমনভাবে ফিতনায় পতিত হয়েছি যাতে লোকেরা ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় একা একা সালাত আদায় করছে”।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩০৬০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৪৯। সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে,
أَحْصُوا لِي كَمْ يَلْفِظُ الْإِسْلَامَ، قَالَ: فَقُلْنَا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، أَتَخَافُ عَلَيْنَا وَنَحْنُ مَا بَيْنَ السَّتِّمِائَةِ إِلَى السَّبْعِمِائَةِ؟ قَالَ: «إِنَّكُمْ لَا تَدْرُونَ لَعَلَّكُمْ أَنْ تُبْتَلُوا»، قَالَ: «فَابْتُلِيَنَا حَتَّى جَعَلَ الرَّجُلُ مِنَّا لَا يُصَلِّي إِلَّا سِرًا»
"কতোজন মানুষ ইসলামের কথা স্বীকার করেছে তা আমাকে গণনা করে জানাও। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাদের ব্যাপারে আশঙ্কা করেছেন? আমরা তো প্রায় ছয়শত থেকে সাতশ লোক আছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা জানো না, সম্ভবত তোমাদেরকে পরীক্ষায় ফেলা হবে। সাহাবী বলেন, পরবর্তীকালে সত্যিই আমরা পরীক্ষার সম্মুখীন হই; এমন কি আমাদের কোনো কোনো ব্যক্তিকে গোপনে সালাত আদায় করতে হতো”।
সহীহ, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৪৯।