📄 যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসবে সে তাদের সাথে জান্নাতে থাকবে
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا، قَالَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَتَى السَّاعَةُ؟ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أَعْدَدْتَ لَهَا؟ قَالَ: حُبَّ اللَّهِ وَرَسُولِهِ، قَالَ: «أَنْتَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ.
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলো, কিয়ামত কবে সংঘটিত হবে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, কিয়ামতের জন্য কী পাথেয় সঞ্চয় করেছ? সে বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসা। তিনি বললেন, তুমি তারই সঙ্গী হবে যাকে তুমি ভালোবাসো”।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ মুসলিম, বাব: বিররু ওয়াসসিলাহ, হাদীস নং ২৬৩৯; সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭১৫৩।
সহীহ মুসলিমে আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, قَالَ: بَيْنَمَا أَنَا وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَارِجَانِ مِنَ المَسْجِدِ، فَلَقِينَا رَجُلٌ عِنْدَ سُدَّةِ المَسْجِدِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، مَتَى السَّاعَةُ؟ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أَعْدَدْتَ لَهَا ؟»، فَكَأَنَّ الرَّجُلَ اسْتَكَانَ، ثُمَّ قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، مَا أَعْدَدْتُ لَهَا كَبِيرَ صِيَامٍ، وَلا صَلاةِ، وَلا صَدَقَةٍ، وَلَكِنِّي أُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ، قَالَ: «أَنْتَ مَعَ مَنْ أحببت.
"আমি এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববী থেকে বের হচ্ছিলাম। তখন মসজিদের দরজায় এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলাম। সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কিয়ামত কবে সংঘটিত হবে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কিয়ামতের জন্য কী পাথেয় সঞ্চয় করেছ? তখন লোকটি চুপ রইল। এরপর সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি তো সে জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সালাত, সিয়াম ও সদাকা সঞ্চয় করি নি; তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি। তিনি বললেন, তুমি তার সঙ্গেই থাকবে যাকে তুমি ভালোবাসো”।
সহীহ, মুসলিম, বাব: বিররু ওয়াসসিলাহ, হাদীস নং ২৬৩৯।
📄 নিজের জন্য যা পছন্দনীয় তা অন্য ভাইয়ের জন্যও পছন্দ করা ঈমানের বৈশিষ্ট্য
عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ، حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ».
আনাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে, যা নিজের জন্য পছন্দ করে”। মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৫।
সহীহ মুসলিমে অন্য বর্ণনায় এসেছে,
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَا يُؤْمِنُ عَبْدٌ حَتَّى يُحِبَّ لِجَارِهِ - أَوْ قَالَ: لِأَخِيهِ - مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ».
"সে সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, কোনো বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ সে তার প্রতিবেশী -অন্য বর্ণনায় ভাই- এর জন্য তা পছন্দ করবে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে”। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৫।
ইবন হিব্বানের বর্ণনায় এসেছে,
لا يَبْلُعُ عَبْدُ حَقِيقَةَ الْإِيمَانِ حَتَّى يُحِبُّ لِلنَّاسِ مَا يُحِبُّ لنفسه من الخير».
"কোনো বান্দা প্রকৃত ঈমানের স্তরে পৌঁছতে পারবে না, যতক্ষণ সে নিজের জন্য যেসব কল্যাণকর জিনিস পছন্দ করে তা অন্য মানুষের জন্যও পছন্দ করবে”। ইবন হিব্বান, হাদীস নং ২৩৫।
📄 অতিথির আপ্যায়ন ঈমানের পূর্ণতা
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يُؤْذِ جَارَهُ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ».
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে আল্লাহ ও শেষ দিনে ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের দিনে ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। আর যে লোক আল্লাহ ও শেষ দিনে ঈমান আনে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ করে থাকে”। মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬০১৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৭। হাদীসের শব্দ বুখারীর চয়নকৃত। সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে,
"সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ করে থাকে”। «فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ».
عَنْ أَبِي شُرَيحِ العَدَوِيَّ، قَالَ: سَمِعَتْ أُذْنَايَ، وَأَبْصَرَتْ عَيْنَايَ، حِينَ تَكَلَّمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ جَارَهُ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ جَائِزَتَهُ قَالَ: وَمَا جَائِزَتُهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: يَوْمُ وَلَيْلَةٌ وَالضَّيَافَةُ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ، فَمَا كَانَ وَرَاءَ ذَلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ عَلَيْهِ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ».
আবু শুরাইহ আল-'আদাওয়ী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কথা বলেছিলেন, তখন আমার দু'কান সে কথা শুনছিলো ও আমার দুচোখ তাঁকে দেখছিলো। তিনি বলেছিলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের ওপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের ওপর বিশ্বাস করে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে তার প্রাপ্যের ব্যাপারে। জিজ্ঞাসা করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! মেহমানের প্রাপ্য কী? তিনি বললেন, তিনি বললেন, একদিন একরাতে ভালোভাবে মেহমানদারী করা, আর তিন দিন হলো (সাধারণ) মেহমানদারী, আর তার চেয়েও বেশী হলে তাহলো তার প্রতি অনুগ্রহ। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের দিনের বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে”। মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬০১৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৮।
📄 অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অংশ
عن أبي سعيد الخدري قال : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرُهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ».
আবু সা'ঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "তোমাদের কেউ যদি অন্যায় কাজ দেখে, তাহলে সে যেন হাত দ্বারা এর সংশোধন (পরিবর্তন) করে দেয়। যদি এর ক্ষমতা না থাকে, তাহলে মুখের দ্বারা, যদি তাও সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তর দ্বারা (উক্ত কাজকে ঘৃণা করবে ও পরিবর্তনের চেষ্টা করবে), আর এটাই ঈমানের নিম্নতম স্তর”।
সহীহ, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৯।
সহীহ মুসলিমে হাদীসটি এভাবে শুরু হয়েছে, أَوَّلُ مَنْ بَدَأَ بِالخُطْبَةِ يَوْمَ الْعِيدِ قَبْلَ الصَّلَاةِ مَرْوَانُ. فَقَامَ إِلَيْهِ رَجُلٌ ، فَقَالَ: الصَّلَاةُ قَبْلَ الْخُطْبَةِ، فَقَالَ: قَدْ تُرِكَ مَا هُنَالِكَ، فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ: أَمَّا هَذَا فَقَدْ قَضَى مَا عَلَيْهِ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: فذكر الحديث.
"ঈদের সালাতের পূর্বে মারওয়ান ইবন হাকাম সর্বপ্রথম খুতবা প্রদান আরম্ভ করেন। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, খুতবার আগে হবে সালাত। মারওয়ান বললেন, এ নিয়ম রহিত করা হয়েছে। এতে আবু সা'ঈদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বললেন, 'এ ব্যক্তি তো তার ওপরে থাকা কর্তব্য পালন করেছে'। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি" এ বলে হাদীস বর্ণনা শুরু করেন।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا مِنْ نَبِيٌّ بَعَثَهُ اللَّهُ فِي أُمَّةٍ قَبْلِي إِلَّا كَانَ لَهُ مِنْ أُمَّتِهِ حَوَارِيُّونَ، وَأَصْحَابُ يَأْخُذُونَ بِسُنَّتِهِ وَيَقْتَدُونَ بِأَمْرِهِ، ثُمَّ إِنَّهَا تَخْلُفُ مِنْ بَعْدِهِمْ خُلُوفٌ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ، وَيَفْعَلُونَ مَا لَا يُؤْمَرُونَ، فَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِيَدِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِلِسَانِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِقَلْبِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَيْسَ وَرَاءَ ذَلِكَ مِنَ الْإِيمَانِ حَبَّةُ خَرْدَلٍ».
আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আল্লাহ তা'আলা আমার পূর্বে যখনই কোনো জাতির মাঝে নবী প্রেরণ করেছেন তখনই উম্মাতের মধ্যে তার এমন হাওয়ারী ও সাথী দিয়েছেন, যারা তার পদাংক অনুসরণ করে চলতেন ও তার নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন। অনন্তর তাদের পরে এমন সব লোক তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, যারা মুখে যা বলে বেড়াত কাজে তা পরিণত করত না, আর সেসব কর্ম সম্পাদন করত যেগুলোর জন্য তারা আদিষ্ট ছিল না। এদের বিরুদ্ধে যারা হাত দ্বারা জিহাদ করবে, তারা মুমিন; যারা এদের বিরুদ্ধে মুখের কথা দ্বারা জিহাদ করবে, তারাও মুমিন এবং যারা এদের বিরুদ্ধে অন্তরে (ঘৃণা পোষণ ও পরিবর্তনের চেষ্টা করার দ্বারা) জিহাদ করবে তারাও মুমিন। এর বাইরে সরিষার দানার পরিমাণও ঈমান নেই”।
সহীহ, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫০।