📄 ঈমানের পরিপূর্ণতা প্রসঙ্গে
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنْ rَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ أَحَبَّ لِلَّهِ، وَأَبْغَضَ لِلَّهِ، وَأَعْطَى لِلَّهِ، وَمَنَعَ لِلَّهِ فَقَدِ اسْتَكْمَلَ الْإِيمَانَ».
আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ভালোবাসবে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দুশমনি করবে; আর দান করবে আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করা থেকে বিরত থাকবে, সে ব্যক্তি তার ঈমান পরিপূর্ণ করেছে”।
হাসান, আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৬৮১।
عَنْ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ الْجُهَنِي، قال، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَعْطَى لِلَّهِ، وَمَنَعَ لِلَّهِ، وَأَحَبَّ لِلَّهِ، وَأَبْغَضَ لِلَّهِ، وَأَنْكَحَ لِلَّهِ، فَقَدْ اسْتَكْمَلَ إِيمَانَهُ».
মু'আয ইবন আনাস আল-জুহানী বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে দান করে, আল্লাহর উদ্দেশ্যেই মানা করে (দান করা থেকে বিরত থাকে), আল্লাহর উদ্দেশ্যেই ভালোবাসে, আল্লাহর উদ্দেশ্যেই শত্রুতা পোষণ করে এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যেই বিয়ে-শাদী করে, সে তার ঈমান পরিপূর্ণ করল”।
হাসান, তিরমিযী, হাদীস নং ২৫২১, তিনি হাদীসটিকে মুনকার বলেছেন। আলবানী রহ. হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ১৫৬৩৮; হাকিম, ২/১৬৪।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا، خِيَارُكُمْ خِيَارُكُمْ لِنِسَائِهِمْ خُلُقًا».
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "মুমিনদের মাঝে ঈমানে সেই পরিপূর্ণ, তাদের মাঝে যার চরিত্র সুন্দরতম। তোমাদের মধ্যে উত্তম হলো তারা, যারা তাদের স্ত্রীদের কাছে চারিত্রিকভাবে উত্তম”। হাসান, তিরমিযী, হাদীস নং ১১৬২; আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৬৮২; ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৪৭৯, ৪১৭৬। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
عَن أَنَسٍ بن مالك، قَالَ: قَالَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّم: «إن أكمل الناس إيمانا أحسنهم خلقا، وإن حسن الخلق ليبلغ درجة الصوم والصلاة».
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "মুমিনদের মাঝে ঈমানে সেই পরিপূর্ণ, তাদের মাঝে যার চরিত্র সুন্দরতম। নিশ্চয়ই উত্তম চরিত্র সালাত ও সাওমের মর্যাদায় পৌঁছায়”। হাসান, বাযযার -কাশফুল আসতার, হাদীস নং ৩৫; আবু ইয়া'লা, হাদীস নং ৪১৬৬।
📄 গুনাহের কারণে ঈমানের পরিপূর্ণতা কমে যায়
قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلا يَشْرَبُ الخَمْرَ حِينَ يَشْرَبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَسْرِقُ السَّارِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "ব্যভিচারী ব্যভিচার করার সময়ে মুমিন থাকে না, মদ পানকারী মদ পান করার সময়ে মুমিন থাকে না। চোর চুরি করার সময়ে মুমিন থাকে না”। মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৫৭৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৭।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَزْنِي العَبْدُ حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَسْرِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَشْرَبُ حِينَ يَشْرَبُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَقْتُلُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ قَالَ عِكْرِمَةُ : قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ: كَيْفَ يُنْزَعُ الإِيمَانُ مِنْهُ؟ قَالَ: هَكَذَا، وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ، ثُمَّ أَخْرَجَهَا، فَإِنْ تَابَ عَادَ إِلَيْهِ هَكَذَا، وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ».
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "মুমিন হিসেবে বহাল থাকা অবস্থায় কোনো বান্দাহ ব্যভিচারে লিপ্ত হয় না। মুমিন থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি চুরি করে না। মুমিন থাকা অবস্থায় কেউ মদ পান করে না। মুমিন থাকা অবস্থায় কেউ হত্যা করে না”।
ইকরিমা রহ. বলেন, আমি ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে জিজ্ঞেস করলাম, তার থেকে ঈমান কীভাবে ছিনিয়ে নেওয়া হয়? তিনি বললেন, এভাবে; আর আঙ্গুলিগুলো পরস্পর জড়ালেন, এরপর আঙ্গুলিগুলো বের করলেন। যদি সে তওবা করে তবে পূর্ববৎ এভাবে ফিরে আসে। এ বলে আঙ্গুলিগুলো পুনরায় পরস্পর জড়ালেন”।
সহীহ, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৮০৯।
عن عائشة رضي الله عنها قالت: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لا يزني الزاني حين يزني وهو مؤمن ولا يسرق حين يسرق وهو مؤمن.
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "ব্যভিচারী ব্যভিচার করার সময়ে মুমিন থাকে না এবং চোর চুরি করার সময়ে মুমিন থাকে না”।
সহীহ, বাযযার- কাশফুল আসতার, হাদীস নং ১১২।
عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى، عَنِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَشْرَبُ الْخَمْرَ حِينَ يَشْرَبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَزْنِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَنْتَهِبُ نُهْبَةً ذَاتَ شَرَفٍ أَوْ سَرَفٍ وَهُوَ مُؤْمِنٌ».
ইবন আবু আওফা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "মদ পানকারী মদ পান করার সময়ে মুমিন থাকে না, ব্যভিচারী ব্যভিচার করার সময়ে মুমিন থাকে না এবং মূল্যবান অথবা বেশি সামগ্রী লুটেরা যখন লুট করতে থাকে (এমন জিনিস ছিনতাই করে মানুষ তা দেখার জন্য তাদের চোখ সেদিকে উত্তোলিত করে) তখন সে মুমিন থাকে না”।
হাসান, মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ১৯১০২; বাযযার- কাশফুল আসতার, হাদীস নং ১১১।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا زَنَى الرَّجُلُ خَرَجَ مِنْهُ الْإِيمَانُ كَانَ عَلَيْهِ كَالظُّلَّةِ، فَإِذَا انْقَطَعَ رَجَعَ إِلَيْهِ الْإِيمَانُ».
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যখন কেউ যিনা করে, তখন তার থেকে ঈমান বেরিয়ে যায় এবং তা তার মাথার উপর মেঘের ন্যায় অবস্থান করে। আর যখন সে তা থেকে বিরত হয়, তখন ঈমান তার কাছে পুনরায় ফিরে আসে”।
সহীহ, আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৬৯০; হাকেম, ১৮২২, তিনি সহীহ বলেছেন।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: مَا خَطَبَنَا نَبِيُّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا قَالَ: «لَا إِيمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ، وَلَا دِينَ لِمَنْ لَا عَهْدَ لَهُ».
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখনই আল্লাহর নবী আমাদের মাঝে খুতবা দিতেন, তখনই তিনি বলতেন, "যার মধ্যে আমানতদারীতা নেই তার ঈমান নেই এবং যে অঙ্গীকার পালন করে না তার মধ্যে দীন নেই”।
হাসান, মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ১২৩৮৩; আবু ইয়া'লা, হাদীস নং ২৮৬৩; বাযযার- কাশফুল আসতার, হাদীস নং ১০০।
📄 ইবাদত বন্দেগী (সৎকাজ) কম করার কারণে ঈমান অপূর্ণ হওয়া প্রসঙ্গে
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِي، قَالَ: خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَضْحَى أَوْ فِطْرٍ إِلَى المُصَلَّى، فَمَرَّ عَلَى النِّسَاءِ ، فَقَالَ: «يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ فَإِنِّي أُرِيتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ» فَقُلْنَ: وَبِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ، وَتَكْفُرْنَ العَشِيرَ، مَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَدِينٍ أَذْهَبَ لِلبَّ الرَّجُلِ الحَازِمِ مِنْ إِحْدَاكُنَّ»، قُلْنَ: وَمَا نُقْصَانُ دِينِنَا وَعَقْلِنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «أَلَيْسَ شَهَادَةُ المَرْأَةِ مِثْلَ نِصْفِ شَهَادَةِ الرَّجُلِ قُلْنَ : بَلَى، قَالَ: «فَذَلِكِ مِنْ نُقْصَانِ عَقْلِهَا، أَلَيْسَ إِذَا حَاضَتْ لَمْ تُصَلَّ وَلَمْ تَصُمْ قُلْنَ : بَلَى، قَالَ: «فَذَلِكِ مِنْ نُقْصَانِ دينها».
আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, একবার ঈদুল আযহা বা ঈদুল ফিতরের সালাত আদায়ের জন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি মহিলাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন, "হে মহিলা সমাজ! তোমরা সদকা করতে থাকো। কারণ আমি দেখেছি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে তোমরাই অধিক। তারা বললেন, কী কারণে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্? তিনি বললেন, তোমরা অধিক পরিমাণে অভিশাপ দিয়ে থাকো আর স্বামীর না-শোকরী করে থাকো। বুদ্ধি ও দীনের ব্যাপারে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও একজন সদাসতর্ক ব্যক্তির বুদ্ধি হরণে তোমাদের চাইতে পারদর্শী আমি আর কাউকে দেখি নি। তারা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের দীন ও বুদ্ধির ত্রুটি কোথায়? তিনি বললেন, একজন মহিলার সাক্ষ্য কি একজন পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়? তারা উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, এ হচ্ছে তাদের বুদ্ধির কমতি আর হায়েয অবস্থায় তারা কি সালাত ও সিয়াম থেকে বিরত থাকে না? তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন: এ হচ্ছে তাদের দীনের কমতি”।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩০৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮০।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ، تَصَدَّقْنَ وَأَكْثِرْنَ الاسْتِغْفَارَ، فَإِنِّي رَأَيْتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ جَزْلَةٌ: وَمَا لَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَكْثَرُ أَهْلِ النَّارِ؟ قَالَ: تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ، وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ، وَمَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَدِينٍ أَغْلَبَ لِذِي لُبِّ مِنْكُنَّ» قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا نُقْصَانُ الْعَقْلِ وَادদীন? قَالَ: «أَمَّا نُقْصَانُ الْعَقْلِ: فَشَهَادَةُ امْرَأَتَيْنِ تَعْدِلُ شَهَادَةَ رَجُلٍ فَهَذَا نُقْصَانُ الْعَقْلِ، وَتَمْكُثُ اللَّيَالِيَ مَا تُصَلِّي، وَتُفْطِرُ فِي رَمَضَانَ فَهَذَا نُقْصَانُ الدِّينِ».
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "হে নারীগণ! তোমরা দান-খয়রাত করতে থাকো এবং বেশি করে ইস্তিগফার করো; কেননা আমি দেখেছি, জাহান্নামের অধিবাসীদের অধিকাংশই নারী। জনৈকা বুদ্ধিজীবি মহিলা প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! জাহান্নামে আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণ কী? বললেন, তোমরা বেশি বেশি অভিসম্পাত করে থাকো এবং স্বামীর প্রতি (অকৃতজ্ঞতা) প্রকাশ করে থাকো। আর দীন ও জ্ঞান-বুদ্ধিতে ত্রুটিপূর্ণ কোনো সম্প্রদায়, জ্ঞানীদের ওপর তোমাদের চেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী আর কাউকে আমি দেখি নি। প্রশ্নকারী মহিলা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! জ্ঞান-বুদ্ধি ও দীনে আমাদের কমতি কিসে? তিনি বললেন, তোমাদের জ্ঞান-বুদ্ধির ত্রুটি হলো দুজন স্ত্রীলোকের সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান; এটিই তোমাদের বুদ্ধির ত্রুটির প্রমাণ। স্ত্রীলোক (প্রতিমাসে) কয়েকদিন সালাত থেকে বিরত থাকে আর রমযান মাসে সাওম ভঙ্গ করে (ঋতুমতী হওয়ার কারণে); এটাই দীনের ত্রুটি”।
সহীহ, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৯। হাদীসে উল্লিখিত امرأة منهن جزلة এ জীম অক্ষরে ফাতহা ও যা অক্ষরে সুকুন যোগে অর্থ হলো জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন মহিলা। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকেও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।
সহীহ, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮০।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، انْصَرَفَ مِنَ الصُّبْحِ يَوْمًا فَأَتَى النِّسَاءَ فِي الْمَسْجِدِ، فَوَقَفَ عَلَيْهِنَّ ، فَقَالَ: «يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ، مَا رَأَيْتُ مِنْ نَوَاقِصِ عُقُولٍ وَدِينٍ أَذْهَبَ بِقُلُوبِ ذَوِي الْأَلْبَابِ مِنْكُنَّ ، وَإِنِّي قَدْ رَأَيْتُ أَنَّكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَتَقَرَّبْنَ إِلَى اللَّهِ مَا اسْتَطَعْتُنَّ "، وَكَانَ فِي النِّسَاءِ امْرَأَةُ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ، فَأَتَتْ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مسْعُودٍ فَأَخْبَرَتْهُ بِمَا سَمِعَتْ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَخَذَتْ حُلِيًّا لَهَا، فَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: أَيْنَ تَذْهَبِينَ بِهَذَا الْحَلِي؟ فَقَالَتْ: أَتَقَرَّبُ بِهِ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ لَا يَجْعَلَنِي مِنْ أَهْلِ النَّارِ، فَقَالَ: وَيْلَكِ، هَلُمَّ تَصَدَّقِي بِهِ عَلَيَّ وَعَلَى وَلَدِي، فَأَنَا لَهُ مَوْضِعُ، فَقَالَتْ: لَا وَاللَّهِ، حَتَّى أَذْهَبَ بِهِ إِلَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَذَهَبَتْ تَسْتَأْذِنُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالُوا لِلنَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: هَذِهِ زَيْنَبُ تَسْتَأْذِنُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَالَ: " أَيُّ الزَّيَانِبِ هِيَ؟ " فَقَالُوا : امْرَأَةُ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ، فَقَالَ: " تُذَنُوا لَهَا، فَدَخَلَتْ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ ، إِنِّي سَمِعْتُ مِنْكَ مَقَالَةٌ، فَرَجَعْتُ إِلَى ابْنِ مَسْعُودٍ فَحَدَّثْتُهُ، وَأَخَذْتُ حُلِيًّا أَتَقَرَّبُ بِهِ إِلَى اللهِ وَإِلَيْكَ، رَجَاءَ أَنْ لَا يَجْعَلَنِي اللَّهُ مِنْ أَهْلِ النَّارِ، فَقَالَ لِي ابْنُ مَسْعُودٍ: تَصَدَّقِي بِهِ عَلَيَّ وَعَلَى وَلَدِي فَإِنَّا لَهُ مَوْضِعُ، فَقُلْتُ: حَتَّى أَسْتَأْذِنَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَصَدَّقِي بِهِ عَلَيْهِ، وَعَلَى بَنِيهِ فَإِنَّهُمْ لَهُ مَوْضِعُ». ثُمَّ قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ ، أَرَأَيْتَ مَا سَمِعْتُ مِنْكَ حِينَ وَقَفْتَ عَلَيْنَا: " مَا رَأَيْتُ مِنْ نَوَاقِصِ عُقُولٍ قَطُّ وَلَا دِينِ أَذْهَبَ بِقُلُوبِ ذَوِي الْأَلْبَابِ مِنْكُنَّ "، قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَمَا نُقْصَانُ دِينِنَا وَعُقُولِنَا؟ فَقَالَ: أَمَّا مَا ذَكَرْتُ مِنْ نُقْصَانِ دِينِكُنَّ فَالْخَيْضَةُ الَّتِي تُصِيبُكُنَّ، تَمْكُثُ إِحْدَاكُنَّ مَا شَاءَ اللهُ أَنْ تَمْكُثَ لَا تُصَلِّي وَلَا تَصُومُ، فَذَلِكَ مِنْ نُقْصَانِ دِينِكُنَّ، وَأَمَّا مَا ذَكَرْتُ مِنْ نُقْصَانِ عُقُولِكُنَّ ، فَشَهَادَتُكُنَّ إِنَّمَا شَهَادَةُ الْمَرْأَةِ نِصْفُ شَهَادَةٍ ».
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকালের (ফজরের) সালাত শেষে মসজিদে মহিলাদের কাছে আসলেন। তাদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, হে নারীগণ! বুদ্ধি ও দীনের ব্যাপারে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও একজন সদাসতর্ক ব্যক্তির বুদ্ধি হরণে তোমাদের চাইতে পারদর্শী আমি আর কাউকে দেখি নি। আমি দেখেছি কিয়ামতের দিনে জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে তোমরাই অধিক। সুতরাং তোমরা সাধ্যমত আল্লাহর ইবাদত বন্দেগীতে মনোনিবেশ করো এবং তাঁর নিকটবর্তী হও (অর্থাৎ দান সদকা করতে থাকো)। তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর স্ত্রী ছিলেন। তিনি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর কাছে এসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনেছেন তা বর্ণনা করলেন। তিনি তার গহনাদি নিলেন। আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু জিজ্ঞেস করলেন, এসব গহনা নিয়ে কোথায় যাচ্ছো? তিনি বললেন, এগুলো দ্বারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্ট অর্জনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছি। হয়ত এগুলোর (দানের) কারণে আল্লাহ আমাকে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত করবেন না। তিনি বললেন, এসো, এগুলো আমাকে ও আমার সন্তান সন্ততিদেরকে দান করো। আমি এগুলোর হকদার। তার স্ত্রী বললেন, না, যতক্ষণ আমি এগুলো রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে যাবো (তিনি অনুমতি দিলে আমি তোমাকে দান করতে পারবো)। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে গেলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যাওয়ার অনুমতি চাইলেন। সাহাবীরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, ইনি যয়নাব, আপনার কাছে প্রবেশের অনুমতি চাচ্ছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোন যয়নাব? তারা বললেন, আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদের স্ত্রী যয়নাব। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিলে তিনি তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার থেকে নসিহত শুনেছি, অতঃপর তা আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে বর্ণনা করেছি। আমি আমার গহনাদি দান করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাই, যাতে আল্লাহ আমাকে জাহান্নামের অধিবাসী না করেন। তখন আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বললেন, এগুলো আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে দান করো; কেননা আমি এগুলোর অধিক হকদার ও দানের উপযুক্ত লোক। তখন আমি তাকে বলেছি, আমি আগে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুমতি নিবো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি এগুলো তাকে ও তার সন্তানদেরকে দান করে দাও, কেননা তারা এগুলো পাওয়ার উপযুক্ত ও হকদার। অতঃপর তিনি বললেন,
হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার থেকে শুনেছি যে, বুদ্ধি ও দীনের ব্যাপারে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও একজন সদাসতর্ক ব্যক্তির বুদ্ধি হরণে তোমাদের চাইতে পারদর্শী আমি আর কাউকে দেখি নি। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের দীন ও বুদ্ধির ত্রুটি কোথায়? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমাদের দীনের ত্রুটি সম্পর্কে ইতোপূর্বে আলোচনা করেছি, তা হলো তোমাদের কেউ হায়েয অবস্থায় যতোদিন আল্লাহ চায় হায়েয থাকে ততোদিন সালাত ও সাওম থেকে বিরত থাকে। এ হচ্ছে তাদের দীনের ত্রুটি। আর বুদ্ধির ত্রুটি সম্পর্কে যা আলোচনা করেছি, তা হলো, একজন মহিলার সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক (এ হচ্ছে তোমাদের বুদ্ধির ত্রুটি)"।
হাসান, মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং৮৮৬২; ইবন খুযাইমা, হাদীস নং ২৪৬১।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «تَصَدَّقْنَ يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ، وَلَوْ مِنْ حُلِيكُنَّ، فَإِنَّكُنَّ أَكْثَرُ أَهْلِ النَّارِ. فَقَامَتِ امْرَأَةٌ لَيْسَتْ مِنْ عِلْيَةِ النِّسَاءِ، فَقَالَتْ: لِمَ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: لِأَنَّكُنَّ تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ، وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ ». وفي رواية: «وَمَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَدِينٍ أَغْلَبَ لِذِي لُبِّ مِنْكُنَّ».
আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "হে নারীগণ! তোমরা দান-খয়রাত করতে থাকো; যদিও তোমাদের গহনাদি থেকে হয়; কেননা আমি দেখেছি যে, জাহান্নামের অধিবাসীদের অধিকাংশই নারী। জনৈকা মহিলা দাঁড়িয়ে গেলো, যিনি মহিলাদের মধ্যে সম্ভ্রান্ত ছিল না, সে প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! জাহান্নামে আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণ কী? তিনি বললেন, তোমরা বেশি বেশি অভিসম্পাত করে থাকো এবং স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকো”।
অন্য বর্ণনায় এসেছে, "দীন ও জ্ঞান-বুদ্ধিতে ত্রুটিপূর্ণ কোনো সম্প্রদায়, জ্ঞানীদের ওপর তোমাদের চেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী আর কাউকে আমি দেখি নি”।
হাসান, মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ৩৫৬৯, ৪১৫২; আবু ইয়া'লা, হাদীস নং ৫১১২, ৫১৪৪; হাকিম, হাদীস নং ২/১৯০।
📄 ঈমানের বাড়তি-কমতি
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, وَمَا زَادَهُمْ إِلَّا إِيمَانًا وَتَسْلِيمًا [الاحزاب : ٢٢]
"এতে তাদের ঈমান ও আত্মসমর্পণই বৃদ্ধি পেলো”। [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২২] وَيَزْدَادَ الَّذِينَ ءَامَنُوا إِيمَانَا ﴾ [المدثر: ٣١]
"আর মুমিনদের ঈমান বেড়ে যায়”। [সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ৩১]
فَأَمَّا الَّذِينَ ءَامَنُوا فَزَادَتْهُمْ إِيمَانًا ﴾ [التوبة: ١٢٤] "অতএব, যারা মুমিন নিশ্চয় তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে”। [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১২৪]
فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا ﴾ [آل عمران: ۱۷۳] "সুতরাং তাদেরকে ভয় করো; কিন্তু তা তাদের ঈমান বাড়িয়ে দিয়েছিল"। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৭৩]
لِيَزْدَادُوا إِيمَانَا مَّعَ إِيمَانِهِمْ ﴾ [الفتح: ٤] "যেন তাদের ঈমানের সাথে ঈমান বৃদ্ধি পায়”। [সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ৪]
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِي، قَالَ: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: حَتَّى إِذَا خَلَصَ الْمُؤْمِنُونَ مِنَ النَّارِ، فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ بِأَشَدَّ مُنَاشَدَةٌ لِلَّهِ فِي اسْتِقْصَاءِ الْحَقُّ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ لِلَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لِإِخْوَانِهِمُ الَّذِينَ فِي النَّارِ، يَقُولُونَ: رَبَّنَا كَانُوا يَصُومُونَ مَعَنَا وَيُصَلُّونَ وَيَحُجُّونَ، فَيُقَالُ لَهُمْ: أَخْرِجُوا مَنْ عَرَفْتُمْ ، فَتُحَرَّمُ صُوَرُهُمْ عَلَى النَّارِ، فَيُخْرِجُونَ خَلْقًا كَثِيرًا قَدْ أَخَذَتِ النَّارُ إِلَى نِصْفِ سَاقَيْهِ، وَإِلَى رُكْبَتَيْهِ، ثُمَّ يَقُولُونَ: رَبَّنَا مَا بَقِيَ فِيهَا أَحَدٌ مِمَّنْ أَمَرْتَنَا بِهِ، فَيَقُولُ: ارْجِعُوا فَمَنْ وَجَدْتُمْ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ دِينَارٍ مِنْ خَيْرٍ [ص: فَأَخْرِجُوهُ، فَيُخْرِجُونَ خَلْقًا كَثِيرًا، ثُمَّ يَقُولُونَ : رَبَّنَا لَمْ نَذَرْ فِيهَا أَحَدًا مِمَّنْ أَمَرْتَنَا، ثُمَّ يَقُولُ: ارْجِعُوا فَمَنْ وَجَدْتُمْ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ نِصْفِ دِينَارٍ مِنْ خَيْرٍ فَأَخْرِجُوهُ، فَيُخْرِجُونَ خَلْقًا كَثِيرًا، ثُمَّ يَقُولُونَ: رَبَّنَا لَمْ نَذَرْ فِيهَا مِمَّنْ أَمَرْتَنَا أَحَدًا، ثُمَّ يَقُولُ: ارْجِعُوا فَمَنْ وَجَدْتُمْ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ مِنْ خَيْرٍ فَأَخْرِجُوهُ، فَيُخْرِجُونَ خَلْقًا كَثِيرًا ثُمَّ يَقُولُونَ: رَبَّنَا لَمْ نَذَرُ فِيهَا خَيْرًا "، وَكَانَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ يَقُولُ: إِنْ لَمْ تُصَدِّقُونِي بِهَذَا الْحَدِيثِ فَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ: ﴿إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ وَإِن تَكُ حَسَنَةً يُضَعِفْهَا وَيُؤْتِ مِن لَّدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا ﴾ [النساء : ٤٠] فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: شَفَعَتِ الْمَلَائِكَةُ، وَشَفَعَ النَّبِيُّونَ، وَشَفَعَ الْمُؤْمِنُونَ، وَلَمْ يَبْقَ إِلَّا أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ، فَيَقْبِضُ قَبْضَةً مِنَ النَّارِ، فَيُخْرِجُ مِنْهَا قَوْمًا لَمْ يَعْمَلُوا خَيْرًا قَطُّ قَدْ عَادُوا حُمَمًا، فَيُلْقِيهِمْ فِي نَهَرٍ فِي أَفْوَاءِ الْجَنَّةِ يُقَالُ لَهُ: نَهَرُ الْحَيَاةِ، فَيَخْرُجُونَ كَمَا تَخْرُجُ الْحِبَّةُ فِي حَمِيلِ السيل».
“শেষ নাগাদ মুমিনরা জাহান্নাম থেকে নাজাত পেয়ে যাবে। সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ নিজের অধিকার আদায়ের দাবীতে, ততোখানি অনমনীয় নও যতোখানি কঠোর হবে কিয়ামতের দিন মুমিনরা আল্লাহর কাছে তাদের সে সব ভাইদের মুক্তির জন্যে যারা জাহান্নামে চলে গেছে। তারা বলবে, হে আমাদের রব! তারা আমাদের সাথে সাওম পালন করতো, সালাত পড়তো এবং হজ করতো। তখন তাদেরকে বলা হবে, যাও, তোমরা যাদেরকে চিনো তাদেরকে বের করে নিয়ে আসো। অতঃপর জাহান্নামের আগুন তাদের চেহারার জন্য হারাম হয়ে যাবে। তারা বহু সংখ্যক লোককে জাহান্নাম থেকে বের করে আনবে। আগুন এদের কারো পায়ের নলা পর্যন্ত এবং কারো পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত জ্বালিয়ে ফেলবে। অতঃপর তারা বলবে, হে আমাদের রব, এখন এমন কোনো ব্যক্তি অবশিষ্ট নেই, যাদেরকে বের করার জন্যে আপনি নির্দেশ দিয়েছিলেন। অতঃপর আল্লাহ বলবেন, আবার যাও। যাদের অন্তরে এক দীনার পরিমাণ কল্যাণ (ঈমান) দেখতে পাবে, তাদেরকে বের করে আনো। এবার তারা অনেক লোককে বের করে নিয়ে আসবে। তারা আবার বলাবে, হে আমাদের রব, এমন কোনো ব্যক্তিকে আমরা বাদ দিইনি, যাদেরকে বের করার জন্যে আপনি নির্দেশ করেছিলেন। অতঃপর তিনি তাদেরকে বলবেন, পুনরায় যাও, যাদের অন্তরে অর্ধদীনার পরিমাণ ঈমান পাবে, তাদেরকে বের করে আনো। এবার তারা বহু লোককে বের করে আনবে। তারা ফিরে এসে বলবে, হে আমাদের রব, আপনি যাদেরকে আনার নির্দেশ করেছিলেন, এমন কোনো ব্যক্তিকে আমরা রেখে আসি নি। আল্লাহ বলবেন, পুনরায় যাও, যাদের অন্তরে বিন্দু পরিমাণ ঈমান পাবে তাদেরকে বের করে নিয়ে আসো। এবারও তারা বহু সংখ্যক লোক বের করে নিয়ে আসবে এবং ফিরে এসে বলবে, হে আমাদের রব, সামান্য পরিমাণ ঈমানদার আর একজন লোককেও আমরা জাহান্নামে অবশিষ্ট রেখে আসি নি।
হাদীসের বর্ণনাকারী আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, যদি তোমরা আমাকে এ হাদীসের ব্যাপারে বিশ্বাস না করো, তা হলে আমার কথার সত্যতা প্রমাণের এ আয়াতটি পাঠ করে নাও:
(إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ وَإِن تَكُ حَسَنَةً يُضَاعِفَهَا وَيُؤْتِ مِن لَّدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا)
[النساء : ٤٠]
"নিশ্চয় আল্লাহ অনু পরিমাণও জুলুম করেন না। আর যদি সেটি ভালো কাজ হয়, তিনি তাকে বহুগুণ করে দেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে মহা প্রতিদান প্রদান করেন”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৪০] অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলবেন, ফিরিশতাগণ, নবীগণ এবং মুমিনরা সবাই শাফা'আত করে অবসর হয়েছে। এখন (আমি) 'আরহামুর রাহেমিন' পরম দয়ালু ব্যতীত আর কেউ অবশিষ্ট নেই। তখন তিনি এক মুষ্টি ভর্তি এক দল লোককে জাহান্নাম থেকে বের করবেন। তিনি এমন সব লোককে বের করে আনবেন, যারা কখনো কোনো নেক আমল করে নি। এরা জ্বলে পুড়ে কয়লার মতো হয়ে গেছে। অতঃপর তাদেরকে জান্নাতের দ্বারদেশে 'নাহরুল হায়াত' নামক একটি ঝর্ণায় নামানো হবে।
হবে। তারা এখান থেকে এমন ভাবে সজীব হয়ে বের হবে যেমন বন্যার আবজর্নাময় ভেজা মাটিতে বীজ অংকুরিত হয়ে বেড়ে ওঠে"।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৪৩৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৩।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَدْخُلُ أَهْلُ الجَنَّةِ الجَنَّةَ، وَأَهْلُ النَّارِ النَّارَ ، ثُمَّ يَقُولُ اللهُ تَعَالَى: «أَخْرِجُوا مِنَ النَّارِ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ فَيُخْرَجُونَ مِنْهَا قَدِ اسْوَدُّوا، فَيُلْقَوْنَ فِي نَهَرِ الحَيَا، أَوِ الحَيَاةِ - شَكٍّ مَالِكٌ - فَيَنْبُتُونَ كَمَا تَنْبُتُ الحِبَّةُ فِي جَانِبِ السَّيْلِ ، أَلَمْ تَرَ أَنَّهَا تَخْرُجُ صَفْرَاءَ مُلْتَوِيَةٌ».
আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "জান্নাতে জান্নাতীরা এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবেন। পরে আল্লাহ তা'আলা (ফিরিশতাদের) বলবেন, যার অন্তরে একটি সরিষা পরিমাণও ঈমান রয়েছে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আসো। তারপর তাদের জাহান্নাম থেকে বের করা হবে এমন অবস্থায় যে, তারা (পুড়ে) কালো হয়ে গেছে। এরপর তাদের বৃষ্টিতে বা হায়াতের [বর্ণনাকারী মালিক রহ, শব্দ দু'টির কোনটি এ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেছেন] নদীতে ফেলা হবে। ফলে তারা সতেজ হয়ে উঠবে, যেমন বন্যার পানির পাশে ঘাসের বীজ গজিয়ে উঠে। তুমি কি দেখতে পাওনা সেগুলো কেমন হলুদ রঙের হয় ও ঘন হয়ে গজায়"?
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৪, হাদীসের শব্দ বুখারীর চয়নকৃত।
عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَفِي قَلْبِهِ وَزْنُ شَعِيرَةٍ مِنْ خَيْرٍ، وَيَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَفِي قَلْبِهِ وَزْنُ بُرَّةٍ مِنْ خَيْرٍ، وَيَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَفِي قَلْبِهِ وَزْنُ ذَرَّةٍ مِنْ خَيْرٍ
রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে কেউ 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে আর তার অন্তরে একটি যব পরিমাণও নেকী থাকবে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে
এবং যে 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে আর তার অন্তরে একটি অনু পরিমাণও নেকী থাকবে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯৩:৩২৫। عَنْ عَبْدِ اللهِ بن مسعود، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَدْخُلُ النَّارَ أَحَدٌ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةِ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ، وَلَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ أَحَدٌ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ خَرْدَلٍ مِنْ كبرياء».
আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান থাকবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। আর যে ব্যক্তির অন্তরে এক সরিষার দানা পরিমাণ অহমিকা থাকবে সেও জান্নাতে প্রবেশ করবে না”। সহীহ, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯১:১৪৮।
عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ: «إِذَا مُيَّزَ أَهْلُ الْجَنَّةِ، وَأَهْلُ النَّارِ، فَدَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ، وَأَهْلُ النَّارِ النَّارَ، قَامَتِ الرُّسُلُ فَشَفَعُوا، فَيَقُولُ: انْطَلِقُوا - أَوْ اذْهَبُوا - فَمَنْ عَرَفْتُمْ، فَأَخْرِجُوهُ، فَيُخْرِجُونَهُمْ قَدِ امْتُحِشُوا فَيُلْقُونَهُمْ فِي نَهَرٍ - أَوْ عَلَى نَهَرٍ - يُقَالَ لَهُ : الْحَيَاةُ "، قَالَ: " فَتَسْقُطُ تَحَاشُّهُمْ عَلَى حَافَةِ النَّهَرِ ، وَيَخْرُجُونَ بِيضًا مِثْلَ النَّعَارِيرِ، ثُمَّ يَشْفَعُونَ، فَيَقُولُ: اذْهَبُوا - أَوْ انْطَلِقُوا - فَمَنْ وَجَدْتُمْ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ قِيرَاطٍ مِنْ إِيمَانٍ فَأَخْرِجُوهُمْ "، قَالَ: " فَيُخْرِجُونَ بَشَرًا، ثُمَّ يَشْفَعُونَ، فَيَقُولُ: اذْهَبُوا أَوْ انْطَلِقُوا، فَمَنْ وَجَدْتُمْ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلَةٍ مِنْ إِيمَانٍ فَأَخْرِجُوهُ، ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ: أَنَا الْآنَ أُخْرِجُ بِعِلْمِي وَرَحْمَتِي قَالَ: فَيُخْرِجُ أَضْعَافَ مَا أَخْرَجُوا وَأَضْعَافَهُ، فَيُكْتَبُ فِي رِقَابِهِمْ عُتَقَاءُ اللَّهِ، ثُمَّ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ فَيُسَمَّوْنَ فِيهَا الْجَهَنَّمِيِّينَ».
জাবির রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "জান্নাতীরা যখন জান্নাতে ও জাহান্নামীরা যখন জাহান্নামের জন্য আলাদা করা হবে এবং জান্নাতীরা যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং জাহান্নামীরা যখন জাহান্নামে প্রবেশ করবে তখন রাসূলগণ দাঁড়িয়ে সুপারিশ করতে চাইবেন, তখন তাদের বলা হবে, যাও বা চলো, তোমরা জাহান্নামে গিয়ে দেখো যাদেরকে তোমরা চিনো তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে এসো। তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আসা তৎক্ষণাৎ তাদের চেহারা জ্বলে পুড়ে দগ্ধ হয়ে গেছে। তখন তাদেরকে ঝর্ণায় বা 'হায়াত' নামক নহরে এ নিক্ষেপ করা হবে। তাদের দগ্ধ শরীর সে নহরের দু'পার্শ্বে এমন শুভ্রভাবে উদ্ভুত হবে, যেমন কোনো (বন্যার আবর্জনাস্থিত বীজ থেকে) তৃণ উদ্ভূত হয়। অতঃপর আবার শাফা'আত করা হবে। অতঃপর বলা হবে, চলো বা যাও, তোমরা জাহান্নামে গিয়ে যাদের অন্তরে 'কিরাত' (ইঞ্চি) পরিমাণ ঈমান পাবে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আস ফলে একদলকে বের করে নিয়ে আসা হলো। অতঃপর আবার শাফা'আত করবে, তাদেরকে বলা হবে চলো বা যাও, যাদের অন্তরে সরিষা পরিমাণ ঈমান পাবে তাদেরকে বের করে নিয়ে আসো। অতঃপর মহান আল্লাহ বলবেন, আমি এখন আমার ইলম ও রহমত অনুযায়ী মুক্ত করে আনবো। বর্ণনাকারী বলেন, ফলে অন্যরা যা বের করে এনেছে আল্লাহ তা'আলা তার থেকে বহুগুণ বেশি বিশাল একদল জাহান্নামীকে মুক্ত করে নিয়ে আসলেন। তাদের গর্দানে লিখা থাকবে 'উতাকাউল্লাহ' (عُتَقَاءُ الله) (আল্লাহর আযাদকৃত)। অতঃপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদেরকে জান্নাতীরা 'জাহান্নামী' (জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত) বলে আখ্যায়িত করবে”।
হাসান, মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ১৪৪৯১, ১৫০৪৮; ইবন হিব্বান, হাদীস নং ১৮৩, তিনি বলেছেন।
عَنْ جُنْدُبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ فِتْيَانُ حَزَاوِرَةٌ فَتَعَلَّمْنَا الْإِيمَانَ قَبْلَ أَنْ نَتَعَلَّمَ الْقُرْآنَ، ثُمَّ تَعَلَّمْنَا الْقُرْآنَ فَازْدَدْنَا بِهِ إِيمَانًا».
জুনদুব ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। আমরা ছিলাম শক্তিশালী এবং সক্ষম যুবক। আমরা কুরআন শেখার পূর্বে ঈমান শিখেছি। অতঃপর কুরআন শিখেছি এবং তা দ্বারা আমাদের ঈমান বাড়িয়ে নিয়েছি”।
হাসান, ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৬১। হাদীসে উল্লিখিত «خزاوِرَةٌ» এর অর্থ হলো শক্তিশালী ও সক্ষম যুবক।