📘 সহীহ হাদীস সম্বলিত অহি ও ঈমান বিশ্বকোষ > 📄 ঈমানের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত পরিচ্ছেদসমূহ

📄 ঈমানের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত পরিচ্ছেদসমূহ


ঈমানের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত পরিচ্ছেদসমূহ

📘 সহীহ হাদীস সম্বলিত অহি ও ঈমান বিশ্বকোষ > 📄 ঈমান, ইসলাম ও ইহসান সম্পর্কে জিবরীল আলাইহিস সালামের প্রশ্ন

📄 ঈমান, ইসলাম ও ইহসান সম্পর্কে জিবরীল আলাইহিস সালামের প্রশ্ন


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَارِزًا يَوْمًا لِلنَّاسِ، فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ: مَا الإِيمَانُ؟ قَالَ: «الإِيمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَبِلِقَائِهِ، وَرُسُلِهِ وَتُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ». قَالَ: مَا الإِسْلامُ؟ قَالَ: " الإِسْلامُ: أَنْ تَعْبُدَ اللهَ، وَلاَ تُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤَدِّيَ الزَّكَاةَ المَفْرُوضَةَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ ". قَالَ: مَا الإِحْسَانُ؟ قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ، قَالَ: مَتَى السَّاعَةُ؟ قَالَ : " مَا المَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ، وَسَأُخْبِرُكَ عَنْ أَشْرَاطِهَا: إِذَا وَلَدَتِ الأَمَةُ رَبَّهَا، وَإِذَا تَطَاوَلَ رُعَاةُ الإِبِلِ البُهُمُ فِي البُنْيَانِ، فِي خَمْسٍ لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلَّا اللَّلهُ ثُمَّ تَلاَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: {إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمٌ السَّاعَةِ } [لقمان: ٣٤] ، ثُمَّ أَدْبَرَ فَقَالَ: «رُدُّوهُ» فَلَمْ يَرَوْا شَيْئًا، فَقَالَ: «هَذَا جِبْرِيلُ جَاءَ يُعَلِّمُ النَّاسَ دِينَهُمْ».
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনসমক্ষে বসা ছিলেন। এমন সময় তাঁর কাছে এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞাসা করলেন 'ঈমান কী?' তিনি বললেন, 'ঈমান হলো, আপনি বিশ্বাস রাখবেন আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফিরিশতাগণের প্রতি, (কিয়ামতের দিন) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি। আপনি আরো বিশ্বাস রাখবেন পুনরুত্থানের প্রতি।' তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, 'ইসলাম কী?'
তিনি বললেন, 'ইসলাম হলো, আপনি আল্লাহর ইবাদত করবেন এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরীক করবেন না, সালাত কায়েম করবেন, ফরয যাকাত আদায় করবেন এবং রমযানের সাওম পালন করবেন।' ঐ ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, 'ইহসান কী?' তিনি বললেন, 'আপনি এমন ভাবে আল্লাহর ইবাদত করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পান তবে (বিশ্বাস রাখবেন যে,) তিনি আপনাকে দেখছেন।' ঐ ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, 'কিয়ামত কবে হবে?' তিনি বললেন, 'এ ব্যাপারে যাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, তিনি জিজ্ঞাসাকারী অপেক্ষা বেশি জানেন না। তবে আমি আপনাকে কিয়ামতের আলামতসমূহ বলে দিচ্ছি, বাঁদী যখন তার প্রভুকে প্রসব করবে এবং উটের নগণ্য রাখালেরা যখন বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে। (কিয়ামতের বিষয়) সেই পাঁচটি জিনিসের অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।' এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াতটি শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেন,
إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ [لقمان: ٣٤] "কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহই নিকট।” [সূরা লুকমান, আয়াত: ৩৪]।
এরপর ঐ ব্যক্তি চলে গেলে তিনি বললেন, 'তোমরা তাকে ফিরিয়ে আনো।' তারা কিছুই দেখতে পেল না। তখন তিনি বললেন, 'ইনি জিবরীল আলাইহিস সালাম। লোকদের দীন শেখাতে এসেছিলেন"।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯।
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ، إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ، شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعَرِ، لَا يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ، وَلَا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ، حَتَّى جَلَسَ إِلَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَسْنَدَ رُكْبَتَيْهِ إِلَى رُكْبَتَيْهِ، وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ، وَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِسْلَامِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ، وَتَحُجَّ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلًا»، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَعَجِبْنَا لَهُ يَسْأَلُهُ، وَيُصَدِّقُهُ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ الْإِيمَانِ، قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ»، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ الْإِحْسَانِ، قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ»، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ، قَالَ: «مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ» قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَتِهَا، قَالَ: «أَنْ تَلِدَ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا، وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ» قَالَ: ثُمَّ انْطَلَقَ فَلَبِثْتُ مَلِيًّا، ثُمَّ قَالَ لِي: يَا عُمَرُ أَتَدْرِي مَنِ السَّائِلُ؟ قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ».
উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "একবার আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমীপে অবস্থান করছিলাম। এমন সময় একজন লোক আমাদের কাছে এসে হাযির হলেন। তার পরিধানের কাপড় ছিল সাদা ধবধবে, মাথার কেশ ছিল কালো কুচকুচে। তার মধ্যে সফরের কোনো চিহ্ন ছিল না। আমরা কেউ তাকে চিনি না। তিনি নিজের দুই হাঁটু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই হাঁটুর সাথে লাগিয়ে বসে পড়লেন আর তার দুই হাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই উরুর উপর রাখলেন। তারপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইসলাম হলো, তুমি এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, রমযানের সাওম পালন করবে এবং বাইতুল্লাহ পৌঁছার সামর্থ্য থাকলে হজ পালন করবে। আগন্তুক বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন। তার কথা শুনে আমরা বিস্মিত হলাম যে, তিনিই প্রশ্ন করেছেন আর তিনিই-তা সত্যায়িত করছেন। আগন্তুক বললেন, আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঈমান হলো আল্লাহর প্রতি, তার ফিরিশতাদের প্রতি, তার কিতাবসমূহের প্রতি, তার রাসূলগণের প্রতি এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান আনবে, আর তাকদিরের ভাল-মন্দের প্রতি ঈমান রাখবে। আগন্তুক বললেন,আপনি ঠিকই বলেছেন। তারপর বললেন, আমাকে ইহসান সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইহসান হলো, এমনভাবে ইবাদত-বন্দেগী করবে যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ, যদি তুমি তাকে নাও দেখ, তাহলে এ বিশ্বাস রাখবে যে, তিনি তোমাকে দেখছেন।
আগন্তুক বললেন, আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ বিষয়ে প্রশ্নকারীর চাইতে যাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে তিনি অধিক অবহিত নন। আগন্তুক বললেন, আমাকে এর আলামত সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা হলো এই যে, দাসী তার প্রভুর জননী হবে এবং নগ্নপদ, বিবস্ত্রদেহ দরিদ্র মেষপালকদের বিরাট বিরাট অট্টালিকার প্রতিযোগিতায় গর্বিত দেখতে পাবে। উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বললেন, পরে আগন্তুক প্রস্থান করলেন। আমি বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, হে উমার! তুমি জানো, এই প্রশ্নকারী কে? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সম্যক জ্ঞাত আছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তিনি তো জিবরীল। তোমাদের তিনি দীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন”।
সহীহ, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮, কয়েকটি সনদে। যাতে ইয়াহইয়া ইবন ই'য়ামার রহ. থেকে বর্ণিত,
أَوَّلَ مَنْ قَالَ فِي الْقَدَرِ بِالْبَصْرَةِ مَعْبَدُ الْجُهَنِي، فَانْطَلَقْتُ أَنَا وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيُّ حَاجَّيْنِ - أَوْ مُعْتَمِرَيْنِ - فَقُلْنَا: لَوْ لَقِينَا أَحَدًا مَنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَسَأَلْنَاهُ عَمَّا يَقُولُ هَؤُلَاءِ فِي الْقَدَرِ، فَوُفِّقَ لَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ دَاخِلًا الْمَسْجِدَ، فَاكْتَنَفْتُهُ أَنَا وَصَاحِبِي أَحَدُنَا عَنْ يَمِينِهِ وَالْآخَرُ عَنْ شِمَالِهِ، فَظَنَنْتُ أَنَّ صَاحِبِي سَيَكِلُ الْكَلَامَ إِلَيَّ، فَقُلْتُ: أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنَّهُ قَدْ ظَهَرَ قِبَلَنَا نَاسٌ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ، وَيَتَقَفَّرُونَ الْعِلْمَ، وَذَكَرَ مِنْ شَأْنِهِمْ، وَأَنَّهُمْ يَزْعُمُونَ أَنْ لَا قَدَرَ، وَأَنَّ الْأَمْرَ أُنْفُ، قَالَ: «فَإِذَا لَقِيتَ أُولَئِكَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنِّي بَرِيءٌ مِنْهُمْ، وَأَنَّهُمْ بُرَاءُ مِنِّي، وَالَّذِي يَحْلِفُ بِهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ لَوْ أَنَّ لِأَحَدِهِمْ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا، فَأَنْفَقَهُ مَا قَبِلَ اللَّهُ مِنْهُ حَتَّى يُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ ثُمَّ قَالَ: حدثني أبي عمر بن الخطاب رضي الله عنه. فذكر الحديث.
"সর্বপ্রথম 'কাদর' (তাকদীরের ভালো-মন্দ) সম্পর্কে বসরা শহরে 'মা'বাদ আল জুহানী কথা তোলেন। আমি (ইয়াহইয়া ইবন ই'য়ামার) এবং হুমাইদ ইবন আব্দুর রহমান আল হিমইয়ারী হজ অথবা উমরা আদায়ের জন্য মক্কায় আসলাম। আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলাম যে, যদি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সাহাবীর সাক্ষাৎ পাই তাহলে তার কাছে এসব লোক তাকদীর সম্পর্কে যা বলে বেড়াচ্ছে, সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করতাম।
সৌভাগ্যক্রমে আমরা আব্দুল্লাহ ইবন উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে মসজিদে প্রবেশরত অবস্থায় দেখা পাই। আমরা তার কাছে গিয়ে একজন তার ডানপাশে এবং আর একজন বামপাশ দিয়ে তাকে ঘিরে ধরলাম। আমার মনে হলো, আমার সাথী চান যে, আমিই কথা বলি। আমি বললাম, হে আবু আব্দুর রহমান! (আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর কুনিয়াত ছিল আবু আব্দুর রহমান) আমার দেশে এমন কতিপয় লোকের আবির্ভাব হয়েছে যারা কুরআন পাঠ করে এবং ইলমে দীন সম্পর্কে গবেষণা করে। তিনি তাদের অবস্থা সম্পর্কে আরো কিছু উল্লেখ করেন এবং বলেন যে, তারা মনে করে তাকদীর বলতে কিছু নেই। সবকিছু তাৎক্ষনিকভাবে ঘটে। আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বললেন, তাদের সাথে তোমাদের দেখা হলে বলে দিও যে, তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই এবং আমার সঙ্গে তাদেরও কোনো সম্পর্ক নেই। আল্লাহর কসম! যার উপর আবদুল্লাহ ইবন উমর শপথ করছে তা হলো, যদি এদের কেউ উহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনার মালিক হয় এবং তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে, তাকদীরের প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত আল্লাহ তা কবুল করবেন না। তারপর তিনি বললেন, আমাকে আমার পিতা উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু 'আনহু হাদীস শুনিয়েছেন। অতঃপর তিনি পুরো হাদীস বর্ণনা করেন।
হাদীসে উল্লিখিত বাক্য »فَاكْتَنَفْتُهُ أَنَا وَصَاحِبِي« এর অর্থ হলো, আমি ও আমার সাথী তার দুপাশে (একজন ডান পাশে আরেকজন বাম পাশে) ঘিরে ধরলাম।
হাদীসে উল্লিখিত আরেকটি বাক্য »يَتَقَفَّرُونَ الْعِلْمَ« এর অর্থ, তারা ইলমে দীন অনুসরণ করে এবং তা খুঁজে বেড়ায়, تقفر হচ্ছে কোনো কিছুর অনুসরণ করা।
হাদীসে উল্লিখিত আরেকটি বাক্য »أَنَّ الْأَمْرَ أَنفُ« এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সবকিছু তাৎক্ষনিক ভাবে ঘটে। এতে তাকদীর বা কারো ইচ্ছার হাত নেই। যেমন বলা হয়, روضة أنف যেখানে আগের কিছু বিবেচনা করা হয় না, أنف الشيء কোনো কিছুর আগ্রভাগ।
ইমাম বাগভী রহ. বলেন, "এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহ্যিক আমলকে ইসলাম এবং অন্তরের বিশ্বাসকে ঈমান বলেছেন। মূলত এ কথা দ্বারা এটা বুঝার সুযোগ নেই যে, আমলসমূহ ঈমানের অংশ নয়। অথবা এটাও বলা যাবে না যে, অন্তরের সত্যায়নকে ইসলাম বলে না। বরং এটা একটি মৌলিক বাক্যের ব্যাখ্যা যে বাক্যটি সবকিছুকেই শামিল করে, আর তা হচ্ছে দীন। আর এ জন্যই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
ذلك جبريل أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ أَمر دِينَكُمْ».
"তিনি জিবরীল আলাইহিস সালাম। তোমাদেরকে তিনি দীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন”। বস্তুত: ঈমান ও ইসলাম উভয় শব্দ দ্বারাই অন্তরের সত্যায়ন ও আমল বুঝায়। এর প্রমাণ আল্লাহ তা'আলার বাণী,
إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ) [آل عمران: ١٩] “নিশ্চয় আল্লাহর নিকট দীন হচ্ছে ইসলাম"। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯]
“এবং তোমাদের জন্য দীন হিসেবে পছন্দ করলাম আল্লাহ তা'আলা আরো বলেছেন, ]وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا) [المائدة: ٣﴿ ইসলামকে”। [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৩]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেছেন,
وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَسِرِينَ ﴾ [آل عمران: ٨٥] "আর যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দীন চায়, তবে তার কাছ থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৮৫] এসব আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন যে, তিনি যে দীনের ওপর রাজি-খুশি ও বান্দাহর থেকে গ্রহণ করবেন তা হলো ইসলাম। আর অন্তরের সত্যায়নের সাথে আমল না থাকলে আল্লাহর কাছে তা গ্রহণযোগ্য ও সন্তুষ্টির পর্যায়ে যাবে না”। শরহে সুন্নাহ, ১/১০-১১।
عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، قُلْتُ لِابْنِ عُمَرَ: «إِنَّ عِنْدَنَا رِجَالًا يَزْعُمُونَ أَنَّ الْأَمْرَ بِأَيْدِيهِمْ، فَإِنْ شَاءُوا عَمِلُوا، وَإِنْ شَاءُوا لَمْ يَعْمَلُوا، فَقَالَ: أَخْبِرُهُمْ أَنِّي مِنْهُمْ بَرِيءٌ، وَأَنَّهُمْ مِنِّي بُرَاءُ، ثُمَّ قَالَ: جَاءَ جِبْرِيلُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَا الْإِسْلَامُ؟ فَقَالَ: "تَعْبُدُ اللهَ لَا تُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَصُومُ رَمَضَانَ، وَتَحُجُّ الْبَيْتَ قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَأَنَا مُسْلِمُ؟ قَالَ: " نَعَمْ " قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَمَا الْإِحْسَانُ؟ قَالَ: " تَخْشَى اللَّهَ تَعَالَى كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَا تَكُ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ " قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَأَنَا مُحْسِنُ؟ قَالَ: " نَعَمْ " قَالَ: صَدَقْتَ. قَالَ: فَمَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ: " تُؤْمِنُ بِاللَّهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْبَعْثِ مِنْ بَعْدِ الْمَوْتِ، وَالْجَنَّةِ، وَالنَّارِ، وَالْقَدَرِ كُلِّهِ "، قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَأَنَا مُؤْمِنٌ ؟ قَالَ : " نَعَمْ ". قَالَ: صَدَقْتَ».
ইয়াহইয়া ইবন ইয়া'মুর রহ, বলেন, আমি ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমাকে বললাম, আমাদের মধ্যে কিছু লোক আছেন যারা মনে করেন ভালো-মন্দ সবই তাদের হাতে (তাকদীর- বলতে কিছু নেই। সবকিছু তাৎক্ষনিকভাবে ঘটে)। তারা মনে চাইলে আমল করে আর ইচ্ছা করলে আমল ছেড়ে দেয়। ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, তুমি তাদেরকে বলে দাও যে, আমি তাদের দলভুক্ত নই এবং তারাও আমার দলের অন্তর্ভুক্ত নয়। অতঃপর তিনি বলেন,
একবার জিবরীল আলাইহিস সালাম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ! ইসলাম কী? তিনি উত্তরে বললেন, ইসলাম হলো, তুমি এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত (সত্য) কোনো ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, রমযানের সাওম পালন করবে এবং বাইতুল্লাহ পৌঁছার সামর্থ্য থাকলে হজ পালন করবে। জিবরীল বললেন, আমি যখন এ কাজগুলো করবো তখন কি আমি মুসলিম? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ জিবরীল আলাইহিস সালাম বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন। তারপর বললেন, ইহসান কী? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইহসান হলো, এমনভাবে আল্লাহকে ভয় করবে যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ। যদি তুমি তাকে নাও দেখো, তাহলে তিনি তোমাকে দেখছেন। জিবরীল বললেন, আমি যখন এ কাজগুলো করবো তখন কি আমি মুহসিন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ জিবরীল আলাইহিস সালাম বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন। তাহলে ঈমান কী? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঈমান হলো আল্লাহর প্রতি, তার ফিরিশতাদের প্রতি, তার কিতাবসমূহের প্রতি, তার রাসূলগণের প্রতি এবং মৃত্যুর পরে পুনর্জীবিত হওয়া, জান্নাত, জাহান্নাম আর তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনা। জিবরীল বললেন, আমি যখন এ কাজগুলো করবো তখন কি আমি মুমিন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ জিবরীল আলাইহিস সালাম বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন”।
সহীহ, মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ৫৮৫৬। মুসনাদে আহমদের অন্য বর্ণনায় এসেছে,
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِثْلِهِ، قَالَ: وَكَانَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ يَأْتِي النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي صُورَةٍ دِحْيَةَ. বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উপরের হাদীসের ন্যায় অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন, “জিবরীল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ‘দেহইয়া কালবী’ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর আকৃতিতে আসতেন”।
সহীহ, মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ৫৮৫৬, ৫৮৫৭। عَنِ عَبْدِ اللهِ بْن عَبَّاسٍ قَالَ : جَلَسَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَجْلِسًا لَهُ، فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ، فَجَلَسَ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَاضِعًا كَفَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، حَدَّثْنِي مَا الْإِسْلامُ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " الْإِسْلامُ أَنْ تُسْلِمَ وَجْهَكَ لِلَّهِ، وَتَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ " قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَقَدْ أَسْلَمْتُ؟ قَالَ: " إِذَا فَعَلْتَ ذَلِكَ، فَقَدْ أَسْلَمْتَ " قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، فَحَدَّثْنِي مَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ : " الْإِيمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ، وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، وَالْمَلَائِكَةِ، وَالْكِتَابِ، وَالنَّبِيِّينَ، وَتُؤْمِنَ بِالْمَوْتِ، وَبِالْحَيَاةِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَتُؤْمِنَ بالْجَنَّةِ وَالنَّارِ، وَالْحِسَابِ، وَالْمِيزَانِ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ كُلِّهِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ ، قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَقَدْ آمَنْتُ؟ قَالَ: " إِذَا فَعَلْتَ ذَلِكَ فَقَدْ آمَنْتَ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، حَدَّثْنِي مَا الْإِحْسَانُ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " الْإِحْسَانُ أَنْ تَعْمَلَ لِلَّهِ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنَّكَ إِنْ لَمْ تَرَهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ " قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَحَدَّثْنِي مَتَى السَّاعَةُ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " سُبْحَانَ اللهِ فِي خَمْسٍ مِنَ الغَيْبِ لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلَّا هُوَ: إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضِ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ ) [لقمان: ٣٤] وَلَكِنْ إِنْ شِئْتَ حَدَّثْتُكَ بِمَعَالِمَ لَهَا دُونَ ذَلِكَ "، قَالَ: أَجَلْ يَا رَسُولَ اللهِ، فَحَدَّثْنِي. قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا رَأَيْتَ الْأَمَةَ وَلَدَتْ رَبَّتَهَا أَوْ رَبَّهَا، وَرَأَيْتَ أَصْحَابَ الشَّاءِ تَطَاوَلُوا بِالْبُنْيَانِ، وَرَأَيْتَ الْحُفَاةَ الْجِيَاعَ الْعَالَةَ كَانُوا رُؤوسَ النَّاسِ، فَذَلِكَ مِنْ مَعَالِمِ السَّاعَةِ وَأَشْرَاطِهَا ". قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَنْ أَصْحَابُ الشَّاءِ وَالْحُفَاةُ الْجِيَاعُ الْعَالَةُ؟ قَالَ: الْعَرَبُ».
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মজলিসে বসা ছিলেন। এমন সময় জিবরীল আলাইহিস সালাম আসলেন। তিনি নিজের দুই হাঁটু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই হাঁটুর সাথে লাগিয়ে তাঁর সামনে বসে পড়লেন আর তার দুই হাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই হাঁটুর উপর রাখলেন। তারপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইসলাম হলো, তুমি নিজেকে আল্লাহর সামনে সমর্পণ করবে আর এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত কোনো (সত্য) ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দাহ ও রাসূল। জিবরীল বললেন, আমি যখন এরূপ করবো তখন আমি মুসলিম হবো?। রাসূল বললেন, আপনি যখন এরূপ করবেন তখন আপনি আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) হবেন। জিবরীল আলাইহিস সালাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঈমান হলো আল্লাহর প্রতি, আখিরাতের প্রতি, তাঁর ফিরিশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, মৃত্যু হওয়ার প্রতি, মৃত্যুপরবর্তী জীবনের প্রতি, জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতি, হিসাব নিকাশ, মিযান ও তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান রাখবে। জিবরীল বললেন, আমি যখন এরূপ করবো তখন আমি কি ঈমান আনয়নকারী (মুমিন) হলাম? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, আপনি যখন এরূপ করবেন তখন আপনি মুমিন হবেন। তারপর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে ইহসান সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইহসান হলো, আল্লাহর জন্য এমনভাবে আমল করবে যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ, যদি তুমি তাকে নাও দেখ, তাহলে তিনি তো তোমাকে দেখছেন। জিবরীল আলাইহিস সালাম বললেন, আমাকে কিয়ামত কখন হবে তা বিবৃত করুন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি। এ তো এমন পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ (সত্যিকারের জ্ঞান) জানেন না।
إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ ﴾ [لقمان: ٣٤]
"নিশ্চয় আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। আর তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং জরায়ুতে যা আছে, তা তিনি জানেন। আর কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন স্থানে সে মারা যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত”। [সূরা লুকমান, আয়াত: ৩৪]
তবে আপনি চাইলে আমি এর চেয়ে ছোট বিষয় কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে আপনাকে বলতে পারি। তখন জিবরীল আলাইহিস সালাম বললেন, নিশ্চয়ই হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাকে এর আلامত সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যখন তুমি দেখবে যে, দাসী তার প্রভু- বা পালনকর্তাকে জন্ম দিচ্ছে, আর মেষপালকদের বিরাট বিরাট অট্টালিকার প্রতিযোগিতায় গর্বিত দেখতে পাবে। আর তুমি দেখবে নগ্নপদ, ক্ষুধার্ত, অভাবী লোকেরা মানুষের নেতা হবে। এগুলো কিয়ামতের নিদর্শন ও আলামত। জিবরীল আলাইহিস সালাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! মেষপালক, নগ্নপদ, ক্ষুধার্ত (নিঃস্ব), অভাবী লোক কারা? তিনি বললেন, এরা আরব”।
হাসান, মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ২৬২৪, ১৭১৬৭; মুসনাদ বাযযার -কাশফুল আসতার-, হাদীস নং ২৪।

📘 সহীহ হাদীস সম্বলিত অহি ও ঈমান বিশ্বকোষ > 📄 ইসলামের রুকনসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা

📄 ইসলামের রুকনসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা


عَنْ طَلْحَةَ بْن عُبَيْدِ اللَّهِ ، يَقُولُ : جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ أَهْلِ نَجْدٍ ثَائِرَ الرَّأْسِ، نَسْمَعُ دَوِيٌّ صَوْتِهِ وَلَا نَفْقَهُ مَا يَقُولُ، حَتَّى دَنَا، فَإِذَا هُوَ يَسْأَلُ عَنِ الإِسْلَامِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خَمْسُ صَلَوَاتٍ فِي اليَوْمِ وَاللَّيْلَةِ». فَقَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهُن؟ قَالَ: «لا، إِلَّا أَنْ تَطَوَّعَ». قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَصِيَامُ شَهرُ رَمَضَانَ». قَالَ: هَلْ عَلَى غَيْرُهُ؟ قَالَ: «لا ، إِلَّا أَنْ تَطَوَّعَ». قَالَ: وَذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الزَّكَاةَ، قَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهَا؟ قَالَ: «لاَ ، إِلَّا أَنْ تَطَوَّعَ». قَالَ: فَأَدْبَرَ الرَّجُلُ وَهُوَ يَقُولُ: وَاللَّهِ لَا أَزِيدُ عَلَى هَذَا وَلَا أَنْقُصُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَفْلَحَ الرجلُ إِنْ صدق».
তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "নাজদবাসী এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলো। তার মাথার চুল ছিল এলোমেলো। আমরা তার কথার মৃদু আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম; কিন্তু সে কি বলছিল, আমরা তা বুঝতে পারছিলাম না। এভাবে সে কাছে এসে ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন করতে লাগল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। সে বলল, আমার ওপর এ ছাড়া আরো সালাত আছে?' তিনি বললেন, না, তবে নফল আদায় করতে পারো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আর রমযান মাসের সিয়াম। সে বলল, 'আমার ওপর এ ছাড়া আরো সাওম আছে? তিনি বললেন, না, তবে নফল সাওম পালন করতে পারো। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে যাকাতের কথা বললেন। সে বলল, আমার ওপর এ ছাড়া আরো দেওয়ার আছে? তিনি বললেন, না, তবে নফল হিসেবে দিতে পারো। বর্ণনাকারী বলেন, সে ব্যক্তি এই বলে চলে গেলেন, আল্লাহর কসম! আমি এর চেয়ে বেশিও করব না এবং কমও করব না। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, লোকটি সফলকাম হবে; যদি সত্য বলে থাকে”।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং ৯৪; সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১।
عَنْ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي المَسْجِدِ، دَخَلَ رَجُلٌ عَلَى جَمَلٍ، فَأَنَاخَهُ فِي المَسْجِدِ ثُمَّ عَقَلَهُ، ثُمَّ قَالَ لَهُمْ: أَيُّكُمْ مُحَمَّدٌ ۚ وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُتَّكِيُّ بَيْنَ ظَهْرَانَيْهِمْ، فَقُلْنَا: هَذَا الرَّجُلُ الأَبْيَضُ المُتَّكِيُّ. فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ: يَا ابْنَ عَبْدِ المُطَّلِبِ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قَدْ أَجَبْتُكَ». فَقَالَ الرَّجُلُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنِّي سَائِلُكَ فَمُشَدَّدٌ عَلَيْكَ فِي المَسْأَلَةِ، فَلَا تَجِدْ عَلَيَّ فِي نَفْسِكَ؟ فَقَالَ: سَلْ عَمَّا بَدَا لَكَ فَقَالَ: أَسْأَلُكَ بِرَبِّكَ وَرَبِّ مَنْ قَبْلَكَ اللهُ أَرْسَلَكَ إِلَى النَّاسِ كُلِّهِمْ؟ فَقَالَ: «اللَّهُمَّ نَعَمْ». قَالَ: أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ ، اللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ نُصَلِّي الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ فِي اليَوْمِ وَاللَّيْلَةِ؟ قَالَ: «اللَّهُمَّ نَعَمْ». قَالَ: أَنْشُدُكَ بِاللهِ ، اللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ نَصُومَ هَذَا الشَّهْرَ مِنَ السَّنَةِ؟ قَالَ: «اللَّهُمَّ نَعَمْ». قَالَ : أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ ، اللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ تَأْخُذَ هَذِهِ الصَّدَقَةَ مِنْ أَغْنِيَائِنَا فَتَقْسِمَهَا عَلَى فُقَرَائِنَا ۚ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُمَّ نَعَمْ». فَقَالَ الرَّجُلُ : آمَنْتُ بِمَا جِئْتَ بِهِ، وَأَنَا رَسُولُ مَنْ وَرَائِي مِنْ قَوْمِي، وَأَنَا ضِمَامُ بْنُ ثَعْلَبَةَ أَخُو بَنِي سَعْدِ بْنِ بَكْرٍ.
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "একবার আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে মসজিদে বসা ছিলাম।
তখন এক ব্যক্তি সওয়ার অবস্থায় ঢুকল। মসজিদে (প্রাঙ্গণে) সে তার উটটি বসিয়ে বেঁধে রাখল। এরপর সাহাবীদের লক্ষ্য করে বলল, তোমাদের মধ্যে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে?' রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সাহাবীগণের সামনেই হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। আমরা বললাম, এই হেলান দিয়ে বসা ফর্সা রঙের ব্যক্তিই হলেন তিনি। তারপর লোকটি তাঁকে লক্ষ্য করে বলল, হে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র! রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, আমি তোমার জওয়াব দিচ্ছি।
লোকটি বলল, আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করব এবং সে প্রশ্ন করার ব্যাপারে কঠোর হবো, এতে আপনি রাগ করবেন না। তিনি বললেন, তোমার যেমন ইচ্ছা প্রশ্ন করো। সে বলল, আমি আপনাকে আপনার রব ও আপনার পূর্ববর্তীদের রবের কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহই কি আপনাকে সকল মানুষের রাসূলরূপে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন, আল্লাহ সাক্ষী, হ্যাঁ। সে বলল, আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আল্লাহই কি আপনাকে দিনরাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, আল্লাহ সাক্ষী, হ্যাঁ। সে বলল, আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আল্লাহই কি আপনাকে বছরের এ মাসে (রমযান) সাওম পালনের নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, আল্লাহ সাক্ষী, হ্যাঁ। সে বলল, আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আল্লাহই কি আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আমাদের ধনীদের থেকে সদকা (যাকাত) আদায় করে আমাদের গরীবদের মধ্যে তা ভাগ করে দিতে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ সাক্ষী, হ্যাঁ। এরপর লোকটি বলল, আমি ঈমান আনলাম আপনি যা (যে শরী'আত) এনেছেন তার ওপর। আর আমি আমার জাতির রেখে আসা লোকজনের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি। আমার নাম দ্বিমাম ইবন সা'লাবা, বনী সা'দ ইবন বকর গোত্রের একজন”।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২। মুসলিমের (হাদীস নং ১২) বর্ণনায় এসেছে,
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: نُهِينَا أَنْ تَسْأَلَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ شَيْءٍ، فَكَانَ يُعْجِبُنَا أَنْ يَجِيءَ الرَّجُلُ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ الْعَاقِلُ ، فَيَسْأَلَهُ، وَنَحْنُ نَسْمَعُ، فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، أَتَانَا رَسُولُكَ فَزَعَمَ لَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ اللهَ أَرْسَلَكَ، قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: فَمَنْ خَلَقَ السَّمَاءَ ۚ قَالَ: «اللَّهُ»، قَالَ: فَمَنْ خَلَقَ الْأَرْضَ؟ قَالَ: «اللَّهُ»، قَالَ: فَمَنْ نَصَبَ هَذِهِ الْجِبَالَ ، وَجَعَلَ فِيهَا مَا جَعَلَ ؟ قَالَ: «اللَّهُ»، قَالَ: فَبِالَّذِي خَلَقَ السَّمَاءَ، وَخَلَقَ الْأَرْضَ، وَنَصَبَ هَذِهِ الْجِبَالَ اللهُ أَرْسَلَكَ؟ قَالَ: «نَعَمْ، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي يَوْمِنَا، وَلَيْلَتِنَا، قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ، اللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا زَكَاةً فِي أَمْوَالِنَا، قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ، اللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا صَوْمَ شَهْرٍ رَمَضَانَ فِي سَنَتِنَا، قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ اللهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا حَجَّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا، قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: ثُمَّ وَلَّى، قَالَ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ، لا أَزِيدُ عَلَيْهِنَّ، وَلَا أَنْقُصُ مِنْهُنَّ ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَئِنْ صَدَقَ لَيَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ».
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোনো বিষয়ে (অতিরিক্ত) প্রশ্ন করার ব্যাপারে আমাদের নিষেধ করা হয়েছিল। তাই আমরা চাইতাম যে, গ্রাম থেকে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি এসে তাঁকে প্রশ্ন করুক আর আমরা তা শুনি। তারপর একদিন গ্রাম থেকে এক ব্যক্তি এসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, হে মুহাম্মাদ! আমাদের কাছে আপনার দূত এসে বলেছে, আপনি দাবি করেছেন যে, আল্লাহ আপনাকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সত্যই বলেছে। আগন্তুক বলল, আসমান কে সৃষ্টি করেছেন? তিনি বললেন, আল্লাহ। আগন্তুক বলল, জমিন কে সৃষ্টি করেছেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ। আগন্তুক বলল, এসব পর্বতমালা কে স্থাপন করেছেন এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তা কে সৃষ্টি করেছেন? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ। আগন্তুক বলল, সেই সত্তার কসম! যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং এসব পর্বতমালা স্থাপন করেছেন। আল্লাহই আপনাকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। আগন্তুক বলল, আপনার দূত বলেছে যে, আমাদের ওপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সত্যই বলেছে। আগন্তুক বলল, যিনি আপনাকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন তাঁর কসম, আল্লাহ-ই কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। আগন্তুক বলল, আপনার দূত বলেছে যে, আমাদের ওপর আমাদের মালের যাকাত দেওয়া ফরয। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঠিকই বলেছে। আগন্তুক বলল, যিনি আপনাকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন, তাঁর কসম, আল্লাহ-ই কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। আগন্তুক বলল, আপনার দূত বলেছে যে, প্রতি বছর রমযান মাসের সাওম পালন করা আমাদের ওপর ফরয। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সত্যই বলেছে। আগন্তুক বলল, যিনি আপনাকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন, তার কসম, আল্লাহ-ই কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। আগন্তুক বলল, আপনার দূত বলেছে যে, আমাদের মধ্যে যে বাইতুল্লায় যেতে সক্ষম তার ওপর হজ ফরয। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সত্যি বলেছে। বর্ণনাকারী বলেন যে, তারপর আগন্তুক চলে যেতে যেতে বলল, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন তার কসম, আমি এর অতিরিক্তও করব না এবং এর কমও করব না। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, লোকটি সত্য বলে থাকলে অবশ্যই সে জান্নাতে যাবে”।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: بَعَثَتْ بَنُو سَعْدِ بْنِ بَكْرٍ ضِمَامَ بْنَ ثَعْلَبَةَ وَافِدًا إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَدِمَ عَلَيْهِ، وَأَنَاخَ بَعِيرَهُ عَلَى بَابِ الْمَسْجِدِ، ثُمَّ عَقَلَهُ، ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ، وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، جَالِسٌ فِي أَصْحَابِهِ، وَكَانَ ضِمَامٌ رَجُلًا جَلْدًا أَشْعَرَ ذَا غَدِيرَتَيْنِ، فَأَقْبَلَ حَتَّى وَقَفَ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فِي أَصْحَابِهِ فَقَالَ: أَيُّكُمُ ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ "، قَالَ مُحَمَّدٌ؟ قَالَ: " نَعَمْ ، فَقَالَ: ابْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، إِنِّي سَائِلُكَ وَمُغَلَةٌ فِي الْمَسْأَلَةِ، فَلَا تَجِدَنَّ فِي نَفْسِكَ، قَالَ: " لَا أَجِدُ فِي نَفْسِي، فَسَلْ عَمَّا بَدَا لَكَ " قَالَ: أَنْشُدُكَ اللَّهَ إِلَهَكَ، وَإِلَهَ مَنْ كَانَ قَبْلَكَ، وَإِلَهَ مَنْ هُوَ كَائِنُ بَعْدَكَ، اللَّهُ بَعَثَكَ إِلَيْنَا رَسُولًا؟ فَقَالَ: " اللَّهُمَّ نَعَمْ " قَالَ: فَأَنْشُدُكَ اللَّهَ إِلَهَكَ، وَإِلَهَ مَنْ كَانَ قَبْلَكَ، وَإِلَهَ مَنْ هُوَ كَائِنُ بَعْدَكَ، اللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ تَأْمُرَنَا أَنْ نَعْبُدَهُ وَحْدَهُ، لَا تُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا، وَأَنْ نَخْلَعَ هَذِهِ الْأَنْدَادَ الَّتِي كَانَتْ آبَاؤُنَا يَعْبُدُونَ مَعَهُ؟ قَالَ: " اللهُمَّ نَعَمْ "، قَالَ: فَأَنْشُدُكَ اللَّهَ إِلَهَكَ، وَإِلَهَ مَنْ كَانَ قَبْلَكَ، وَإِلَهَ مَنْ هُوَ كَائِنٌ بَعْدَكَ، اللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ نُصَلِّي هَذِهِ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ؟ قَالَ: " اللهُمَّ نَعَمْ " قَالَ: ثُمَّ جَعَلَ يَذْكُرُ فَرَائِضَ الْإِسْلامِ فَرِيضَةً فَرِيضَةً: الزَّكَاةَ، وَالصَّيَامَ، وَالْحَجَ، وَشَرَائِعَ الْإِسْلامِ كُلَّهَا، يُنَاشِدُهُ عِنْدَ كُلَّ فَرِيضَةٍ كَمَا يُنَاشِدُهُ فِي الَّتِي قَبْلَهَا، حَتَّى إِذَا فَرَغَ قَالَ: فَإِنِّي أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، وَسَأُؤَدِّي هَذِهِ الْفَرَائِضَ، وَأَجْتَنِبُ مَا نَهَيْتَنِي عَنْهُ، ثُمَّ لَا أَزِيدُ وَلَا أَنْقُصُ، قَالَ: ثُمَّ انْصَرَفَ رَاجِعًا إِلَى بَعِيرِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ وَلَّى: " إِنْ يَصْدُقُ ذُو الْعَقِيصَتَيْنِ يَدْخُلِ الْجَنَّةَ ".
قَالَ: فَأَتَى إِلَى بَعِيرِهِ، فَأَطْلَقَ عِقَالَهُ ، ثُمَّ خَرَجَ حَتَّى قَدِمَ عَلَى قَوْمِهِ، فَاجْتَمَعُوا إِلَيْهِ، فَكَانَ أَوَّلَ مَا تَكَلَّمَ بِهِ أَنْ قَالَ: بِئْسَتِ اللاتُ وَالْعُزَّى، قَالُوا: مَنْ يَا ضِمَامُ اتَّقِ الْبَرَصَ وَالْجُذَامَ اتَّقِ الجنونَ، قَالَ : وَيْلَكُمْ ، إِنَّهُمَا وَاللهِ لَا يَضُرَّانِ وَلا يَنْفَعَانِ، إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ بَعَثَ رَسُولًا، وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ كِتَابًا اسْتَنْقَذَكُمْ بِهِ مِمَّا كُنْتُمْ فِيهِ، وَإِنِّي أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، إِنِّي قَدْ جِئْتُكُمْ مِنْ عِنْدِهِ بِمَا أَمَرَكُمْ بِهِ، وَنَهَاكُمْ عَنْهُ، قَالَ: فَوَاللهِ مَا أَمْسَى مِنْ ذَلِكَ الْيَوْمِ وَفِي حَاضِرِهِ رَجُلٌ وَلَا امْرَأَةٌ إِلَّا مُسْلِمًا قَالَ: يَقُولُ ابْنُ عَبَّاسٍ: " فَمَا سَمِعْنَا بِوَافِدِ قَوْمٍ كَانَ أَفْضَلَ مِنْ ضِمَامِ بْنِ ثَعْلَبَةَ ".
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বনী সা'দ ইবন বকর দিমام ইবন সা'লাবা রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে প্রেরণ করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন এবং মসজিদে নববীর আঙ্গিনায় তার উট বসিয়ে তাকে বেঁধে মসজিদে প্রবেশ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের সাথে মজলিসে বসা ছিলেন। দিমাম রাদিয়াল্লাহু আনহু খুবই শক্তিশালী ও দুবেণী বিশিষ্ট ঘনকেশী ছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের মাঝে এসে দাঁড়ালেন। উপস্থিত লোকদের জিজ্ঞাসা করলেন: তোমাদের মধ্যে ইবন আব্দুল মুত্তালিব কে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি ইবন আব্দুল মুত্তালিব। লোকটি বললো: আপনি মুহাম্মাদ? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সে ব্যক্তি বললো: হে ইবন আব্দুল মুত্তালিব! আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করবো এবং প্রশ্নের ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করব। আপনি কিছু মনে করবেন না। তখন তিনি বললেন, আমি কিছু মনে করবো না। তোমার যা মনে চায় প্রশ্ন করো। তখন সে বললো: আমি আপনাকে আপনার ইলাহ, আপনার পূর্ববর্তীদের ইলাহ ও আপনার পরবর্তীদের ইলাহর নামে শপথ দিয়ে বলছি আল্লাহ তা'আলা কি আপনাকে আমাদের কাছে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন, নিশ্চয়ই। সে বললো, এখন আমি আপনাকে আপনার ইলাহ, আপনার পূর্ববর্তীদের ইলাহ ও আপনার পরবর্তীদের ইলাহর নামে শপথ দিয়ে বলছি আল্লাহ তা'আলা কি আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমরা যেন একমাত্র তার ইবাদত করি, তাঁর সাথে কাউকে শরিক না করি, আমাদের পূর্বপুরুষরা যেসব মূর্তির পূজা করতো এবং তাঁর সাথে শরীক করতো সেগুলো যেনো ছেড়ে দেই? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন, নিশ্চয়ই। সে বললো, এখন আমি আপনাকে আপনার ইলাহ, আপনার পূর্ববর্তীদের ইলাহ ও আপনার পরবর্তীদের ইলাহর নামে শপথ দিয়ে বলছি আল্লাহ তা'আলা কি আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমরা যেনো এ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করি? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন, নিশ্চয়ই। এভাবে তিনি ইসলামের অন্যান্য ফরয তথা যাকাত, সাওম, হজ ও ইসলামের সমস্ত বিধান সম্পর্কে পূর্বের ন্যায় শপথ করে করে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছেন। এগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা শেষ হলে তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতীত কোনো (সত্য) ইলাহ নেই, আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল। আমি এসব ফরয যথাযথভাবে আদায় করবো। আর আপনি যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকবো।
তবে আমি আমলের ক্ষেত্রে এগুলোর বেশিও করবো না আবার কমও করবো না। অতঃপর সে দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য তার উটের দিকে গেলো। তিনি যখন ফিরে যাচ্ছিলেন তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দুবেণী বিশিষ্ট লোকটি যদি সত্য বলে থাকে তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোকটি তার উটের কাছে গেলো, তার বাঁধন খুলে নিজ গোত্রের উদেশ্যে রওয়ানা হলেন। সেখানে পৌঁছে তাদের সাথে মিলিত হলেন। তিনি সর্বপ্রথম যে বাক্যটি বললেন তা হলো: লাত ও 'উয্যা কতোই না নিকৃষ্ট! গোত্রের লোকেরা বললো, চুপ করো হে দিমাম। এগুলো অভিশাপ লেগে যাবে। কুষ্ঠরোগ ও গোদ রোগের ভয় করো। তুমি পাগল হয়ে যাওয়ার ভয় করো। দিমাম রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বললেন, তোমাদের ধ্বংস হোক। আল্লাহর শপথ এদুটি কোনো উপকার বা ক্ষতি কিছুই করতে পারে না। আল্লাহ তা'আলা একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, তিনি তাঁর রাসূলের প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন, তোমরা যে পথভ্রষ্টতায় ছিলে তা থেকে মুক্তি দিবে এবং তোমাদেরকে উদ্ধার করবেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যাতীত কোনো (সত্য) ইলাহ নেই, তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরীক নেই, আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দাহ ও রাসূল। তিনি তোমাদেরকে যা আদেশ ও নিষেধ করেছেন আমি তা নিয়ে তোমাদের কাছ থেকে এসেছি। বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর শপথ, সেদিন বিকেল হওয়ার পূর্বেই বনী সা'দ ইবন বকর গোত্রের উপস্থিত এমন কোনো নারী পুরুষ ছিল না যে মুসলিম হয় নি
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, দিমাম ইবন সা'লাবা রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর চেয়ে উত্তম কোনো প্রতিনিধি দলের প্রধানের কথা আমরা আর শুনি নি”।
হাসান, মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ২৩৮০; আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৮৭; হাকিম, ৩/৫৪, তিনি সহীহ বলেছেন।
عَنْ حَكِيمِ بْنِ مُعَاوِيَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: «أَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ: مَا أَتَيْتُكَ حَتَّى حَلَفْتُ عَدَدَ أَصَابِعِي هَذِهِ أَنْ لَا آتِيَكَ، أَرَانَا عَفَّانُ وَطَبَّقَ كَفَّيْهِ، فَبِالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا الَّذِي بَعَثَكَ بِهِ ؟ قَالَ : " الْإِسْلَامُ " . قَالَ : وَمَا الْإِسْلَامُ؟ قَالَ: " أَنْ يُسْلِمَ قَلْبُكَ لِلَّهِ وَأَنْ تُوَجَّهَ وَجْهَكَ إِلَى اللهِ وَتُصَلَّي الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ، وَتُؤَدِّيَ الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ، أَخَوَانِ نَصِيرَانِ. لَا يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْ أَحَدٍ تَوْبَةً أَشْرَكَ بَعْدَ إِسْلَامِهِ ". قُلْتُ: مَا حَقُّ زَوْجَةِ أَحَدِنَا عَلَيْهِ؟ قَالَ: " تُطْعِمُهَا إِذَا طَعِمْتَ، وَتَكْسُوهَا إِذَا اكْتَسَيْتَ، وَلَا تَضْرِبِ الْوَجْهَ، وَلَا تُقَبِّحُ، وَلَا تَهْجُرُ إِلَّا فِي الْبَيْتِ ". قَالَ: " تُحْشَرُونَ هَاهُنَا وَأَوْمَا بِيَدِهِ إِلَى نَحْوِ الشَّامِ مُشَاةً وَرُكْبَانًا، وَعَلَى وُجُوهِكُمْ تُعْرَضُونَ عَلَى اللهِ وَعَلَى أَفْوَاهِكُمُ الْقِدَامُ، وَأَوَّلُ مَا يُعْرِبُ عَنْ أَحَدِكُمْ فَخِذُهُ ».
হাকিম ইবন মু'আওয়িয়াহ্ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তার পিতা বলেন, "আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে আসলাম। এসে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার কাছে আসার পূর্বে এই সংখ্যার (আমার দুই হাতের আঙ্গুলসমূহের সংখ্যার) চেয়েও অধিক সংখ্যক শপথ করেছিলাম যে, আমি আপনার কাছে আসব না (আপনার ধর্মও গ্রহণ করব না)। আমাদেরকে এ সময় আফফান (একজন বর্ণনাকারী) তার হাত দুটি একত্রিত করেন। সে সত্তার কসম করে বলছি যিনি আপনাকে সত্যসহকারে প্রেরণ করেছেন, আল্লাহ আপনাকে আমাদের কাছে কী দিয়ে প্রেরণ করেছেন? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইসলাম দিয়ে। মু'আবিয়া বললেন, ইসলাম কী? তিনি বললেন, তা হচ্ছে এই যে, তুমি বলবে, আমি আমার মুখমণ্ডল (নিজ সত্তা) সমর্পণ করলাম (আল্লাহর নিকট) এবং যাবতীয় শির্ক থেকে নিজেকে মুক্ত করলাম। ফরয সালাত কায়েম করবে, ফরয যাকাত প্রদান করবে এবং (জেনে রেখ) মুসলিমরা পরস্পর সহযোগী ভাই। ইসলাম গ্রহণ করার পর কেউ শির্ক করলে আল্লাহ তার কোনো ভালো আমল গ্রহণ করেন না (যতক্ষণ না সে তওবা করে মুসলিমের দলে ফিরে আসে)। আমি বললাম, আমাদের ওপর আমাদের স্ত্রীর অধিকার কী? তিনি বললেন, তোমরা যা খাবে তাদেরকেও তা খাওয়াবে, তোমরা যা পরিধান করবে তাদেরকেও তা পরিধান করাবে, তাদের চেহারায় আঘাত করবে না (তাদেরকে বেদম প্রহর করবে না) এবং তাদেরকে গালমন্দ করবে না। তাদেরকে গৃহ ব্যতীত অন্য কোথাও পরিত্যাগ করবে না অর্থাৎ তাদেরকে ঘর থেকে বের করে দিবে না। তিনি বললেন, তোমাদেরকে এখান থেকে – শামের দিকে ইশারা করে- আল্লাহর দরবারে পায়ে হেঁটে, আরোহী অবস্থায় ও মুখের উপর ভর করে উপস্থিত হতে হবে, (সে দিন) তোমাদের মুখে (জিহ্বায়) ছাঁকনি (আঁটি) লাগিয়ে দেওয়া হবে, তোমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করবে এবং নিশ্চয়ই সর্বপ্রথম যে অঙ্গ তোমাদের সম্বন্ধে সাক্ষ্য দেবে তা হচ্ছে তোমাদের উরু”।
হাসান, মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ২০০২২; আবু দাউদ, হাদীস নং ২১৪২; ইবন হিব্বান, হাদীস নং ১৬০; নাসায়ী, হাদীস নং ২৪৩৬; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ২৫৩৬।
وَقَالَ: «مَا مِنْ مَوْلًى يَأْتِي مَوْلًى لَهُ، فَيَسْأَلُهُ مِنْ فَضْلٍ عِنْدَهُ فَيَمْنَعُهُ إِلَّا جَعَلَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ شُجَاعًا يَنْهَشُهُ قَبْلَ الْقَضَاءِ».
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, "কোনো দাস যদি তার মনিবের কাছে এসে এমন কোনো অনুগ্রহ চায় যা তার কাছে আছে, কিন্তু সে তাকে সে অনুগ্রহ (সম্পদ) প্রদান করা থেকে বিরত থাকে, তবে সেসব অনুগ্রহকে আল্লাহ তা'আলা তার ওপর বিষাক্ত সাপ বানিয়ে তাকে দংশন করাতে থাকবে যতক্ষণ না তাদের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন হবে।" হাসান, মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ২০০২৩।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ.
ইবন 'উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি। আল্লাহ ব্যতীত কোনো (সত্য) ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, এ কথার সাক্ষ্য দান, সালাত কায়েম করা, যাকাত দেওয়া, হজ করা এবং রমযান মাসের সাওম পালন করা”। মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬ বা ২২, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর।

📘 সহীহ হাদীস সম্বলিত অহি ও ঈমান বিশ্বকোষ > 📄 ঈমানের শাখা-প্রশাখা সম্পর্কে

📄 ঈমানের শাখা-প্রশাখা সম্পর্কে


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ «الْإِيمَانُ بِضْعُ وَسِتُونَ شُعْبَةُ، وَالحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ».
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "ঈমানের শাখা রয়েছে ষাটের কিছু বেশি। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা”।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫, হাদীসের শব্দ বুখারীর চয়নকৃত। মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে,
«الْإيمَانُ بِضْعُ وَسَبْعُونَ - أَوْ بِضْعُ وَسِتُونَ - شُعْبَةٌ، فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطريقِ، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةُ مِنَ الْإِيمَانِ»
"ঈমানের শাখা সত্তরটিরও কিছু বেশি অথবা ষাটটিরও কিছু বেশি। এর সর্বোচ্চ শাখা হচ্ছে, 'আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই' এ কথা স্বীকার করা আর এর সর্বনিম্ন শাখা হচ্ছে রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা আর লজ্জা ঈমানের বিশিষ্ট একটি শাখা”.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00