📘 সহীহ হাদীস সম্বলিত অহি ও ঈমান বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অহী নাযিল বন্ধ ছিলো না

📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অহী নাযিল বন্ধ ছিলো না


عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى تَابَعَ عَلَى رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الوَحْيَ قَبْلَ وَفَاتِهِ، حَتَّى تَوَفَّاهُ أَكْثَرَ مَا كَانَ الوَحْيُ، ثُمَّ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدُ»
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে অহী নাযিল করেন। তাঁর মৃত্যুর পূর্বে অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি অহী নাযিল হতো। এরপর তিনি মারা যান”। মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৯৮২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩০১৬। হাফিয ইবন হাজার আসকালানী রহ. ‘ফাতহুল বারী’ (৮/৯) এ বলেছেন: “হাদীসে উল্লিখিত, «حَتَّى تَوَفَّاهُ أَكْثَرَ مَا كَانَ الْوَحْيُ» এর অর্থ হলো, তাঁর মৃত্যুর পূর্বে অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি অহী নাযিল হতো। এর হিকমত ছিলো মক্কা বিজয়ের পরে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নানা প্রতিনিধিদল আসতে থাকেন। তারা শরী‘আতের নানা বিষয় জানতে চেয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনেক প্রশ্ন করেন। ফলে অধিক হারে অহী নাযিল হয়। এটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম জীবনের চেয়ে শেষ জীবনে বেশি ঘটেছে। কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মক্কী জীবনে তেমন কোনো বড় সূরা নাযিল হয় নি। হিজরতের পরে মাদানী জীবনে আহকাম সম্পৃক্ত অনেক বড় সূরা নাযিল হয়। তবে তাঁর শেষ জীবনে উপরোক্ত কারণে বেশি অহী নাযিল হয়"।

📘 সহীহ হাদীস সম্বলিত অহি ও ঈমান বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পরে অহী নাযিল বন্ধ হয়ে যায়

📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পরে অহী নাযিল বন্ধ হয়ে যায়


عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، بَعْدَ وَفَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعُمَرَ: «انْطَلِقُ بِنَا إِلَى أُمَّ أَيْمَنَ نَزُورُهَا ، كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَزُورُهَا، فَلَمَّا انْتَهَيْنَا إِلَيْهَا بَكَتْ، فَقَالَا لَهَا : مَا يُبْكِيكِ؟ مَا عِنْدَ اللهِ خَيْرٌ لِرَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالَتْ: مَا أَبْكِي أَنْ لَا أَكُونَ أَعْلَمُ أَنَّ مَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ لِرَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَكِنْ أَبْكِي أَنَّ الْوَحْيَ قَدِ انْقَطَعَ مِنَ السَّمَاءِ، فَهَيَّجَتْهُمَا عَلَى الْبُكَاءِ. فَجَعَلَا يَبْكِيَانِ مَعَهَا».
আনাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারা গেলে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু 'আনহু উমর রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে বললেন, চলো উম্মে আইমান রাদিয়াল্লাহু 'আনহার কাছে যাই, তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাবো যেমন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাক্ষাতে যেতেন। যখন আমরা তার কাছে গেলাম, তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। তারা দুজন বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আল্লাহর কাছে যা কিছু রয়েছে তা তাঁর রাসুলের জন্য বেশি উত্তম। উম্মে আইমান রাদিয়াল্লাহু 'আনহা বললেন, এজন্য আমি কাঁদছি না যে, আমি জানি না আল্লাহর কাছে যা কিছু আছে তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য উত্তম; বরং এ জন্য আমি কাঁদছি যে, আসমান থেকে অহী আসা বন্ধ হয়ে গেলো। উম্মে আইমানের এ কথা তাদের মধ্যেও কান্নার আবেগ সৃষ্টি করল। সুতরাং তারাও তার সাথে কাঁদতে লাগলেন”।
সহীহ, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪৫৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00