📘 সহীহ হাদীস সম্বলিত অহি ও ঈমান বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাযিলকৃত সব অহীই তিনি পূর্ণরূপে পৌঁছে দিয়েছেন

📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাযিলকৃত সব অহীই তিনি পূর্ণরূপে পৌঁছে দিয়েছেন


আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, يَأَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ وَإِن لَّمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ ﴾ [المائدة: ٦٧]
“হে রাসূল, আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার নিকট যা নাযিল করা হয়েছে, তা পৌঁছে দিন। আর যদি আপনি না করেন তবে আপনি তাঁর রিসালাত পৌঁছালেন না। আর আল্লাহ আপনাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না”। [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৬৭]
ইমাম যুহরী রহ. বলেছেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে রিসালা তথা অহী, আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে তাবলিগ তথা পৌঁছে দেওয়া আর আমাদের পক্ষ থেকে তাসলিম তথা আত্মসমর্পণ করা ও মেনে নেওয়া।
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «مَنْ حَدَّثَكَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَتَمَ شَيْئًا مِنَ الوَحْيِ فَلَا تُصَدِّقُهُ، إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ: ﴿ يَأَيُّهَا الرَّسُولُ bَلِّغْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ وَإِن لَّمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ ﴾ [المائدة: ٦٧]
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমাকে যে বলবে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অহীর) কিছু জিনিস গোপন করেছেন তাকে তুমি সত্যবাদী মনে করো না। মহান আল্লাহ বলেছেন, "হে রাসূল! আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার কাছে যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা প্রচার করুন, আর যদি আপনি না করেন তবে আপনি তাঁর রিসালাত পৌঁছালেন না”। [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৬৭] সহীহ, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৫৩১।

📘 সহীহ হাদীস সম্বলিত অহি ও ঈমান বিশ্বকোষ > 📄 অহী নাযিলের সময় আসমানবাসীর অবস্থার বিবরণ

📄 অহী নাযিলের সময় আসমানবাসীর অবস্থার বিবরণ


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " إِذَا قَضَى اللَّهُ الْأَمْرَ فِي السَّمَاءِ، ضَرَبَتِ المَلَائِكَةُ بِأَجْنِحَتِهَا خُضْعَانًا لِقَوْلِهِ، كَالسَّلْسِلَةِ عَلَى صَفْوَانٍ - قَالَ عَلِيٌّ: وَقَالَ غَيْرُهُ: صَفْوَانٍ يَنْفُذُهُمْ ذَلِكَ - فَإِذَا فُزَعَ عَنْ قُلُوبِهِمْ، قَالُوا: مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ، قَالُوا لِلَّذِي قَالَ: الحَقَّ، وَهُوَ الْعَلِي الكَبِيرُ، فَيَسْمَعُهَا مُسْتَرِقُو السَّمْعِ، وَمُسْتَرِقُو السَّمْعِ هَكَذَا وَاحِدٌ فَوْقَ آخَرَ - وَوَصَفَ سُفْيَانُ بِيَدِهِ، وَفَرَّجَ بَيْنَ أَصَابِع يَدِهِ اليُمْنَى ، نَصَبَهَا بَعْضَهَا فَوْقَ بَعْضٍ - فَرُبَّمَا أَدْرَكَ الشَّهَابُ المُسْتَمِعَ قَبْلَ أَنْ يَرْيَ بِهَا إِلَى صَاحِبِهِ فَيُحْرِقَهُ، وَرُبَّمَا لَمْ يُدْرِكْهُ حَتَّى يَرْمِيَ بِهَا إِلَى الَّذِي يَلِيهِ، إِلَى الَّذِي هُوَ أَسْفَلَ مِنْهُ ، حَتَّى يُلْقُوهَا إِلَى الأَرْضِ - وَرُبَّمَا قَالَ سُفْيَانُ: حَتَّى تَنْتَهِيَ إِلَى الْأَرْضِ - فَتُلْقَى عَلَى فَمِ السَّاحِرِ، فَيَكْذِبُ مَعَهَا مِائَةَ كَذَّبَةٍ، فَيُصَدِّقُ فَيَقُولُونَ: أَلَمْ يُخْبِرُنَا يَوْمَ كَذَا وَكَذَا، يَكُونُ كَذَا وَكَذَا، فَوَجَدْنَاهُ حَقًّا؟ لِلْكَلِمَةِ الَّتِي سُمِعَتْ مِنَ السَّمَاءِ " حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا عَمْرُو، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: «إِذَا قَضَى اللَّهُ الْأَمْرَ»، وَزَادَ وَالكَاهِنِ»، وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، فَقَالَ: قَالَ عَمْرُو: سَمِعْتُ عِكْرِمَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ: «إِذَا قَضَى اللَّهُ الأَمْرَ»، وَقَالَ: «عَلَى فَمِ السَّاحِرِ» قُلْتُ لِسُفْيَانَ: أَأَنْتَ سَمِعْتَ عَمْرًا؟ قَالَ : سَمِعْتُ عِكْرِمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قُلْتُ لِسُفْيَانَ: إِنَّ إِنْسَانًا رَوَى عَنْكَ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَيَرْفَعُهُ أَنَّهُ قَرَأَ: «فُرَّغَ»، قَالَ سُفْيَانُ: هَكَذَا قَرَأَ عَمْرُو، فَلا أَدْرِي سَمِعَهُ هَكَذَا أَمْ لَا، قَالَ سُفْيَانُ: وَهِيَ قِرَاءَتُنَا.
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, যখন আল্লাহ তা'আলা আকাশের কোনো বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন ফিরিশতারা তার কথা শোনার জন্য অতি বিনয়ের সাথে নিজ নিজ পালক ঝাড়তে থাকে মসৃণ পাথরের উপর জিঞ্জীরের শব্দের মতো। আলি ইবনুল মাদীনী বলেন, صَفْوَان এর মধ্যে ফা বর্ণ সাকিন যুক্ত এবং অন্যরা বলেন, ফাতাহ যুক্ত। এভাবে আল্লাহ তা'আলা তার বাণী ফিরিশতাদের পৌঁছান। যখন ফিরিশতাদের অন্তর থেকে ভয় দূরীভূত হয় তখন তারা পরস্পরকে জিজ্ঞেস করে, তোমাদের প্রভু কী বলেছেন? তখন তারা বলেন, যা সত্য তিনি তাই বলেছেন এবং তিনি সর্বোচ্চ ও সুমহান"। চুরি করে কান লাগিয়ে (শয়তানরা) তা শুনে নেয়। শোনার জন্য শয়তানগুলো একের ওপর এক এভাবে থাকে। সুফিয়ান ডান হাতের আঙ্গুলের উপর অন্য আঙ্গুল রেখে হাতের ইশারায় ব্যপারটা প্রকাশ করলেন। তারপর কখনো আগুনের ফুলকি শ্রবণকারীকে তার সাথীর কাছে এ কথাটি পৌঁছানোর আগেই আঘাত করে এবং তাকে জ্বালিয়ে দেয়। আবার কখনও সে ফুলকি প্রথম শ্রবণকারী শয়তান পর্যন্ত পৌঁছার পূর্বেই সে তার নিচের সাথীকে খবরটি জানিয়ে দেয়। এমনি করে এ কথা পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। কখনও সুফিয়ান বলেছেন, এমনি করে পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তারপর তা জাদুকরের মুখে ঢেলে দেওয়া হয় এবং সে তার সাথে শত মিথ্যা মিলিয়ে প্রচার করে। তাই তার কথা সত্য হয়ে যায়। তখন লোকেরা বলতে থাকে যে, দেখ এ জাদুকর আমাদের কাছে অমুক অমুক দিন অমুক অমুক কথা বলেছিল, আমরা তা সঠিক পেয়েছি। বস্তুত আসমান থেকে শোনা কথার কারণেই তা সত্যে পরিণত হয়েছে"।
আলী ইবন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি 'আমর থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেন, "যখন আল্লাহ তা'আলা কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন", এ বর্ণনায় জ্যোতির্বিদ «জ্যোতির্বিদ» কথাটি অতিরিক্ত। আর আলী ইবন আব্দুল্লাহ সুফিয়ান থেকে, তিনি 'আমর থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেন, এতে "যখন আল্লাহ তা'আলা কোনো ব্যপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ বর্ণনায় جادوكَرَ মুশের উপর উল্লেখ করেছেন। আলী ইবন আব্দুল্লাহ বলেন, আমি সুফিয়ানকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি 'আমর থেকে শুনেছেন? তিনি বলেছেন, আমি ইকরিমা থেকে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে শুনেছি। আমি (আলী ইবন আব্দুল্লাহ) সুফিয়ান রহ, কে বললাম, কেউ কেউ আপনার থেকে, আপনি 'আমর থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মারফু' সূত্রে বর্ণনা করেন এবং এতে শব্দ রয়েছে। সুফিয়ান রহ. বলেন, 'আমর রহ, এভাবেই পড়েছেন। তিনি এভাবেই শুনেছেন কী না আমি জানি না। সুফিয়ান রহ. বলেন, এটি আমাদের কিরাআত। সহীহ, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৭০১।
عَنْ عَبْدِ اللهِ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « إِذَا تَكَلَّمَ اللَّهُ بِالْوَحْيِ ، سَمِعَ أَهْلُ السَّمَاءِ لِلسَّمَاءِ صَلْصَلَةً كَجَرِّ السَّلْسِلَةِ عَلَى الصَّفَا ، فَيُصْعَقُونَ ، فَلَا يَزَالُونَ كَذَلِكَ حَتَّى يَأْتِيَهُمْ جِبْرِيلُ ، حَتَّى إِذَا جَاءَهُمْ جِبْرِيلُ فُزَعَ عَنْ قُلُوبِهِمْ » قَالَ : " فَيَقُولُونَ : يَا جِبْرِيلُ مَاذَا قَالَ رَبُّكَ ؟ فَيَقُولُ : الْحَقَّ ، فَيَقُولُونَ : الْحَقَّ الْحَقَّ »
আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যখন আল্লাহ তা'আলা অহী প্রেরণের জন্য কথা বলেন, তখন এক আসমানের অধিবাসী আসমান থেকে এরূপ শব্দ শোনে যে, যেমন পরিষ্কার পাথরের উপর লোহার শিকল টানলে শব্দ হয়। যা শুনে তারা সবাই বেহুশ হয়ে পড়ে এবং জিবরীল আলাইহিস সালাম তাদের কাছে না আসা পর্যন্ত তারা এ অবস্থায় থাকে। এরপর জিবরীল আলাইহিস সালাম যখন তাদের কাছে আসে, তখন তারা জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়ে বলে, হে জিবরীল! আপনার রব কী বলেছেন? তিনি বলেন, তিনি সত্য বলেছেন। একথা শুনে সকল ফিরিশতা বলতে থাকে, সত্য বলেছেন, সত্য বলেছেন”। সহীহ, আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৭৩৮; ইবন খুযাইমা, হাদীস নং ২৮০; ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৩৭।

📘 সহীহ হাদীস সম্বলিত অহি ও ঈমান বিশ্বকোষ > 📄 এক আয়াত দু‘বার নাযিল হওয়া

📄 এক আয়াত দু‘বার নাযিল হওয়া


عَنِ البَرَاءِ، قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ: ﴿لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ﴾ [النساء: ٩٥] ﴿وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ﴾ [النساء: ٩٥] ، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ادْعُ لِي زَيْدًا وَلْيَجِئْ بِاللَّوْحِ وَالدَّوَاةِ وَالكَتِفِ - أَوِ الكَتِفِ وَالدَّوَاةِ - ثُمَّ قَالَ: " اكْتُبْ ﴿لَا يَسْتَوِى الْقَاعِدُونَ﴾ [النساء: ٩٥] وَخَلْفَ ظَهْرِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَمْرُو بْنُ أُمَّ مَكْتُومٍ الأَعْمَى، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا تَأْمُرُنِي، فَإِنِّي رَجُلٌ ضَرِيرُ البَصَرِ؟ فَنَزَلَتْ مَكَانَهَا: ﴿لَا يَسْتَوِى الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ﴾ [النساء: ٩٥] ﴿وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ غَيْرُ أُوْلِي الضَّرَرِ﴾ [النساء: ٩٥]
বারা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ﴿لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ﴾ [النساء: ٩٥] ﴿وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ﴾ [النساء: ٩٥]
"মুমিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করে তারা পরস্পর সমান নয়”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৯৫]
আয়াতটি নাযিল হলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যায়েদকে আমার কাছে ডেকে আনো এবং তাকে বলো, সে যেন কাষ্ঠখণ্ড, দোয়াত এবং কাঁধের হাড়, বর্ণনাকারী বলেন, অথবা তিনি বলেছেন, কাঁধের হাড় এবং দোয়াত নিয়ে আসে। এরপর তিনি বললেন, লিখো, ﴿لَّا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ﴾ [النساء : ٩٥]
এ সময় অন্ধ সাহাবী 'আমর ইবন উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু 'আনহু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে বসা ছিলেন। তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি তো অন্ধ, আমার ব্যাপারে আপনার কী নির্দেশ? এ কথার প্রেক্ষিতে পূর্বোক্ত আয়াতের পরিবর্তে নাযিল হলো, ﴿لَّا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ ﴾ [النساء : ٩٥]
"বসে থাকা মুমিনগণ, যারা ওযরগ্রস্ত নয় তারা এক সমান নয়”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৯৫]
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৯৯০। عَنْ البَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «ائْتُونِي بِالكَتِفِ، أَوِ اللَّوْحِ»، فَكَتَبَ: ﴿لَّا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴾ [النساء : ٩٥] ، وَعَمْرُو ابْنُ أُمَّ مَكْتُومٍ خَلْفَ ظَهْرِهِ، فَقَالَ: هَلْ لِي مِنْ رُخْصَةٍ؟ فَنَزَلَتْ: غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ ﴾ [النساء : ٩٥] .
বারা ইবন আযিব রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বললেন, "উটের কাঁধের হাড় বা কাষ্ঠফলক নিয়ে এসো। এরপর তিনি লিখতে বললেন, ﴿لَّا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ﴾ [النساء : ٩٥]
"মুমিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে তারা পরস্পর সমান নয়"। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৯৫]
'আমর ইবন উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু 'আনহু এ সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিঠের পিছনে ছিলেন। তিনি বললেন, আমার জন্য কি কোনো অবকাশ আছে? তখন নাযিল হলো,
﴿ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ ﴾ [النساء : ٩٥] .
"যারা অক্ষম তারা ছাড়া”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৯৫] সহীহ, তিরমিযী, হাদীস নং ১৬৭০; নাসায়ী, হাদীস নং ৩০৪২; ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৪১।

📘 সহীহ হাদীস সম্বলিত অহি ও ঈমান বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অহী নাযিল বন্ধ ছিলো না

📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অহী নাযিল বন্ধ ছিলো না


عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى تَابَعَ عَلَى رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الوَحْيَ قَبْلَ وَفَاتِهِ، حَتَّى تَوَفَّاهُ أَكْثَرَ مَا كَانَ الوَحْيُ، ثُمَّ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدُ»
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে অহী নাযিল করেন। তাঁর মৃত্যুর পূর্বে অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি অহী নাযিল হতো। এরপর তিনি মারা যান”। মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৯৮২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩০১৬। হাফিয ইবন হাজার আসকালানী রহ. ‘ফাতহুল বারী’ (৮/৯) এ বলেছেন: “হাদীসে উল্লিখিত, «حَتَّى تَوَفَّاهُ أَكْثَرَ مَا كَانَ الْوَحْيُ» এর অর্থ হলো, তাঁর মৃত্যুর পূর্বে অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি অহী নাযিল হতো। এর হিকমত ছিলো মক্কা বিজয়ের পরে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নানা প্রতিনিধিদল আসতে থাকেন। তারা শরী‘আতের নানা বিষয় জানতে চেয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনেক প্রশ্ন করেন। ফলে অধিক হারে অহী নাযিল হয়। এটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম জীবনের চেয়ে শেষ জীবনে বেশি ঘটেছে। কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মক্কী জীবনে তেমন কোনো বড় সূরা নাযিল হয় নি। হিজরতের পরে মাদানী জীবনে আহকাম সম্পৃক্ত অনেক বড় সূরা নাযিল হয়। তবে তাঁর শেষ জীবনে উপরোক্ত কারণে বেশি অহী নাযিল হয়"।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00