📄 নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অহী নাযিলের সময় মুখস্থ করতে তাড়াহুড়া করতেন
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ ﴾ [القيامة: ١٦] قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعَالِجُ مِنَ التَّنْزِيلِ شِدَّةٌ، وَكَانَ مِمَّا يُحَرِّكُ شَفَتَيْهِ - فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَأَنَا أُحَرِّكُهُمَا لَكُمْ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَرِّكُهُمَا، وَقَالَ سَعِيدٌ: أَنَا أُحَرِّكُهُمَا كَمَا رَأَيْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يُحَرِّكُهُمَا، فَحَرَّكَ شَفَتَيْهِ - فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: ﴿لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْءَانَهُ ﴾ [القيامة: ١٦، ١٧] قَالَ: جَمْعُهُ لَكَ فِي صَدْرِكَ وَتَقْرَأَهُ: ﴿فَإِذَا قَرَأْنَهُ فَاتَّبِعْ قُرْءَانَهُ ﴾ [القيامة: ١٨] قَالَ: فَاسْتَمِعُ لَهُ وَأَنْصِتْ: ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ ﴾ [القيامة : ۱۹] ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا أَنْ تَقْرَأَهُ، فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ ذَلِكَ إِذَا أَتَاهُ جِبْرِيلُ اسْتَمَعَ فَإِذَا انْطَلَقَ جِبْرِيلُ قَرَأَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمَا قَرَأَهُ.
ইবন 'আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণিত, আল্লাহর বাণী: 'তাড়াতাড়ি অহী আয়ত্ত করার জন্য আপনার জিহ্বা তা নিয়ে নাড়বেন না' [সূরা আল- কিয়ামাহ, আয়াত: ১৬] এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অহী নাযিলের সময় তা আয়ত্ত করতে বেশ কষ্ট স্বীকার করতেন এবং প্রায়ই তিনি তাঁর উভয় ঠোঁট নাড়তেন। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা বলেন, আমি তোমাকে দেখানোর জন্য ঠোঁট দু'টি নাড়ছি যেভাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাড়তেন। সা'ঈদ রহ. (তার ছাত্রদেরকে) বললেন, আমি ইবন 'আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমাকে যেভাবে তার ঠোঁট দু'টি নাড়তে দেখেছি, সেভাবেই আমার ঠোঁট দু'টি নাড়াচ্ছি। এই বলে তিনি তাঁর ঠোঁট দুটি নাড়ালেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা নাযিল করলেন, "তাড়াতাড়ি অহী আয়ত্ত করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা তা নিয়ে নাড়বেন না। এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই”। [সূরা আল-কিয়ামাহ, আয়াত: ১৬-১৭] ইবন 'আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা বলেন অর্থাৎ মনোযোগ সহকারে শুনুন এবং চুপ থাকুন। এরপর এর বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই” [সূরা আল-কিয়ামাহ, আয়াত: ১৯] অর্থাৎ আপনি তা পাঠ করবেন এটাও আমার দায়িত্ব। তারপর যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে জিবরীল আলাইহিস সালাম আসতেন, তখন তিনি মনোযোগ সহকারে কেবল শুনতেন। জিবরীল আলাইহিস সালাম চলে গেলে তিনি যেমন পড়েছিলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও ঠিক তেমনি পড়তেন”।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৪৮। হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর।
📄 জিব্রঈলের বক্তব্য যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অহীরূপে নাযিল হয়
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالَ: انْطَلَقَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي طَائِفَةٍ مِنْ أَصْحَابِهِ عَامِدِينَ إِلَى سُوقِ عُكَافٍ ، وَقَدْ حِيْلَ بَيْنَ الشَّيَاطِينِ وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ، وَأُرْسِلَتْ عَلَيْهِمُ الشُّهُبُ، فَرَجَعَتِ الشَّيَاطِينُ إِلَى قَوْمِهِمْ، فَقَالُوا: مَا لَكُمْ؟ فَقَالُوا: حِيْلَ بَيْنَنَا وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ، وَأُرْسِلَتْ عَلَيْنَا الشُّهُبُ، قَالُوا: مَا حَالَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ إِلَّا شَيْءٌ حَدَثَ، فَاضْرِبُوا مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا، فَانْظُرُوا مَا هَذَا الَّذِي حَالَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ، فَانْصَرَفَ أُولَئِكَ الَّذِينَ تَوَجَّهُوا نَحْوَ تِهَامَةَ إِلَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ بِنَخْلَةَ عَامِدِينَ إِلَى سُوقِ عُكَافٍ، وَهُوَ يُصَلِّي بِأَصْحَابِهِ صَلاةَ الفَجْرِ، فَلَمَّا سَمِعُوا القُرْآنَ اسْتَمَعُوا لَهُ، فَقَالُوا: هَذَا وَاللَّهِ الَّذِي حَالَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ خَبَرٍ السَّمَاءِ، فَهُنَالِكَ حِينَ رَجَعُوا إِلَى قَوْمِهِمْ، وَقَالُوا: يَا قَوْمَنَا: ﴿إِنَّا سَمِعْنَا قُرْءَانًا عَجَبًا يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَامَنَّا بِهِ، وَلَن نُّشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدَانَ) [الجن: ١، ٢] ، فَأَنْزَلَ اللهُ عَلَى نَبِيِّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ﴿ قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ) [الجن: ١] وَإِنَّمَا أُوحِيَ إِلَيْهِ قَوْلُ الجِنِّ».
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন সাহাবীকে সঙ্গে নিয়ে উকায বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। আর দুষ্ট জিন্নদের ঊর্ধ্বলোকের সংবাদ সংগ্রহের পথে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয় এবং তাদের দিকে অগ্নিপিণ্ড নিক্ষিপ্ত হয়। কাজেই শয়তানরা তাদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে আসে। তারা জিজ্ঞাসা করল, তোমাদের কী হয়েছে? তারা বলল, আমাদের এবং আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে এবং আমাদের দিকে অগ্নিপিণ্ড ছুঁড়ে মারা হয়েছে। তখন তারা বলল, নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ একটা কিছু ঘটছে বলেই তোমাদের এবং আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। কাজেই, পৃথিবীর পূর্ব এবং পশ্চিম অঞ্চল পর্যন্ত বিচরণ করে দেখ, কী কারণে তোমাদের ও আকাশের সংবাদ সংগ্রহরে মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে? তাই তাদের যে দলটি তিহামার দিকে গিয়েছিল, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে অগ্রসর হলো। তিনি তখন উকায বাজারের পথে 'নাখলা' নামক স্থানে সাহাবীগণকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। তারা যখন কুরআন শুনতে পেল, তখন সেদিকে মনোনিবেশ করল। তারপর তারা বলে উঠল, আল্লাহর শপথ! এটিই তোমাদের ও আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এমন সময় যখন তারা সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে আসল এবং বলল যে,
﴿إِنَّا سَمِعْنَا قُرْءَانًا عَجَبًا يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَامَنَّا بِهِ، وَلَن نُّشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدَانَ) [الجن: ١، ٢]
"আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি, যা সত্যের দিকে হিদায়াত করে; অতঃপর আমরা তাতে ঈমান এনেছি। আর আমরা কখনো আমাদের রবের সাথে কাউকে শরীক করব না”। [সূরা আল-জিন্ন, আয়াত: ১-২] এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সূরা নাযিল করেন,
قُلْ أُوحِيَ إِلَى أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ) [الجن: ١]
"বলুন, আমার প্রতি অহী করা হয়েছে যে, নিশ্চয় জিন্নদের একটি দল মনোযোগ সহকারে শুনেছে”। [সূরা আল-জিন্ন: ১] মূলত তাঁর নিকট জিন্নদের বক্তব্যই অহীরূপে নাযিল করা হয়েছে”। মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৭৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৪৯। হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর।
📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাযিলকৃত সব অহীই তিনি পূর্ণরূপে পৌঁছে দিয়েছেন
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, يَأَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ وَإِن لَّمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ ﴾ [المائدة: ٦٧]
“হে রাসূল, আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার নিকট যা নাযিল করা হয়েছে, তা পৌঁছে দিন। আর যদি আপনি না করেন তবে আপনি তাঁর রিসালাত পৌঁছালেন না। আর আল্লাহ আপনাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না”। [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৬৭]
ইমাম যুহরী রহ. বলেছেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে রিসালা তথা অহী, আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে তাবলিগ তথা পৌঁছে দেওয়া আর আমাদের পক্ষ থেকে তাসলিম তথা আত্মসমর্পণ করা ও মেনে নেওয়া।
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «مَنْ حَدَّثَكَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَتَمَ شَيْئًا مِنَ الوَحْيِ فَلَا تُصَدِّقُهُ، إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ: ﴿ يَأَيُّهَا الرَّسُولُ bَلِّغْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ وَإِن لَّمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ ﴾ [المائدة: ٦٧]
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমাকে যে বলবে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অহীর) কিছু জিনিস গোপন করেছেন তাকে তুমি সত্যবাদী মনে করো না। মহান আল্লাহ বলেছেন, "হে রাসূল! আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার কাছে যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা প্রচার করুন, আর যদি আপনি না করেন তবে আপনি তাঁর রিসালাত পৌঁছালেন না”। [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৬৭] সহীহ, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৫৩১।
📄 অহী নাযিলের সময় আসমানবাসীর অবস্থার বিবরণ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " إِذَا قَضَى اللَّهُ الْأَمْرَ فِي السَّمَاءِ، ضَرَبَتِ المَلَائِكَةُ بِأَجْنِحَتِهَا خُضْعَانًا لِقَوْلِهِ، كَالسَّلْسِلَةِ عَلَى صَفْوَانٍ - قَالَ عَلِيٌّ: وَقَالَ غَيْرُهُ: صَفْوَانٍ يَنْفُذُهُمْ ذَلِكَ - فَإِذَا فُزَعَ عَنْ قُلُوبِهِمْ، قَالُوا: مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ، قَالُوا لِلَّذِي قَالَ: الحَقَّ، وَهُوَ الْعَلِي الكَبِيرُ، فَيَسْمَعُهَا مُسْتَرِقُو السَّمْعِ، وَمُسْتَرِقُو السَّمْعِ هَكَذَا وَاحِدٌ فَوْقَ آخَرَ - وَوَصَفَ سُفْيَانُ بِيَدِهِ، وَفَرَّجَ بَيْنَ أَصَابِع يَدِهِ اليُمْنَى ، نَصَبَهَا بَعْضَهَا فَوْقَ بَعْضٍ - فَرُبَّمَا أَدْرَكَ الشَّهَابُ المُسْتَمِعَ قَبْلَ أَنْ يَرْيَ بِهَا إِلَى صَاحِبِهِ فَيُحْرِقَهُ، وَرُبَّمَا لَمْ يُدْرِكْهُ حَتَّى يَرْمِيَ بِهَا إِلَى الَّذِي يَلِيهِ، إِلَى الَّذِي هُوَ أَسْفَلَ مِنْهُ ، حَتَّى يُلْقُوهَا إِلَى الأَرْضِ - وَرُبَّمَا قَالَ سُفْيَانُ: حَتَّى تَنْتَهِيَ إِلَى الْأَرْضِ - فَتُلْقَى عَلَى فَمِ السَّاحِرِ، فَيَكْذِبُ مَعَهَا مِائَةَ كَذَّبَةٍ، فَيُصَدِّقُ فَيَقُولُونَ: أَلَمْ يُخْبِرُنَا يَوْمَ كَذَا وَكَذَا، يَكُونُ كَذَا وَكَذَا، فَوَجَدْنَاهُ حَقًّا؟ لِلْكَلِمَةِ الَّتِي سُمِعَتْ مِنَ السَّمَاءِ " حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا عَمْرُو، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: «إِذَا قَضَى اللَّهُ الْأَمْرَ»، وَزَادَ وَالكَاهِنِ»، وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، فَقَالَ: قَالَ عَمْرُو: سَمِعْتُ عِكْرِمَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ: «إِذَا قَضَى اللَّهُ الأَمْرَ»، وَقَالَ: «عَلَى فَمِ السَّاحِرِ» قُلْتُ لِسُفْيَانَ: أَأَنْتَ سَمِعْتَ عَمْرًا؟ قَالَ : سَمِعْتُ عِكْرِمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قُلْتُ لِسُفْيَانَ: إِنَّ إِنْسَانًا رَوَى عَنْكَ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَيَرْفَعُهُ أَنَّهُ قَرَأَ: «فُرَّغَ»، قَالَ سُفْيَانُ: هَكَذَا قَرَأَ عَمْرُو، فَلا أَدْرِي سَمِعَهُ هَكَذَا أَمْ لَا، قَالَ سُفْيَانُ: وَهِيَ قِرَاءَتُنَا.
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, যখন আল্লাহ তা'আলা আকাশের কোনো বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন ফিরিশতারা তার কথা শোনার জন্য অতি বিনয়ের সাথে নিজ নিজ পালক ঝাড়তে থাকে মসৃণ পাথরের উপর জিঞ্জীরের শব্দের মতো। আলি ইবনুল মাদীনী বলেন, صَفْوَان এর মধ্যে ফা বর্ণ সাকিন যুক্ত এবং অন্যরা বলেন, ফাতাহ যুক্ত। এভাবে আল্লাহ তা'আলা তার বাণী ফিরিশতাদের পৌঁছান। যখন ফিরিশতাদের অন্তর থেকে ভয় দূরীভূত হয় তখন তারা পরস্পরকে জিজ্ঞেস করে, তোমাদের প্রভু কী বলেছেন? তখন তারা বলেন, যা সত্য তিনি তাই বলেছেন এবং তিনি সর্বোচ্চ ও সুমহান"। চুরি করে কান লাগিয়ে (শয়তানরা) তা শুনে নেয়। শোনার জন্য শয়তানগুলো একের ওপর এক এভাবে থাকে। সুফিয়ান ডান হাতের আঙ্গুলের উপর অন্য আঙ্গুল রেখে হাতের ইশারায় ব্যপারটা প্রকাশ করলেন। তারপর কখনো আগুনের ফুলকি শ্রবণকারীকে তার সাথীর কাছে এ কথাটি পৌঁছানোর আগেই আঘাত করে এবং তাকে জ্বালিয়ে দেয়। আবার কখনও সে ফুলকি প্রথম শ্রবণকারী শয়তান পর্যন্ত পৌঁছার পূর্বেই সে তার নিচের সাথীকে খবরটি জানিয়ে দেয়। এমনি করে এ কথা পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। কখনও সুফিয়ান বলেছেন, এমনি করে পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তারপর তা জাদুকরের মুখে ঢেলে দেওয়া হয় এবং সে তার সাথে শত মিথ্যা মিলিয়ে প্রচার করে। তাই তার কথা সত্য হয়ে যায়। তখন লোকেরা বলতে থাকে যে, দেখ এ জাদুকর আমাদের কাছে অমুক অমুক দিন অমুক অমুক কথা বলেছিল, আমরা তা সঠিক পেয়েছি। বস্তুত আসমান থেকে শোনা কথার কারণেই তা সত্যে পরিণত হয়েছে"।
আলী ইবন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি 'আমর থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেন, "যখন আল্লাহ তা'আলা কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন", এ বর্ণনায় জ্যোতির্বিদ «জ্যোতির্বিদ» কথাটি অতিরিক্ত। আর আলী ইবন আব্দুল্লাহ সুফিয়ান থেকে, তিনি 'আমর থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেন, এতে "যখন আল্লাহ তা'আলা কোনো ব্যপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ বর্ণনায় جادوكَرَ মুশের উপর উল্লেখ করেছেন। আলী ইবন আব্দুল্লাহ বলেন, আমি সুফিয়ানকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি 'আমর থেকে শুনেছেন? তিনি বলেছেন, আমি ইকরিমা থেকে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে শুনেছি। আমি (আলী ইবন আব্দুল্লাহ) সুফিয়ান রহ, কে বললাম, কেউ কেউ আপনার থেকে, আপনি 'আমর থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মারফু' সূত্রে বর্ণনা করেন এবং এতে শব্দ রয়েছে। সুফিয়ান রহ. বলেন, 'আমর রহ, এভাবেই পড়েছেন। তিনি এভাবেই শুনেছেন কী না আমি জানি না। সুফিয়ান রহ. বলেন, এটি আমাদের কিরাআত। সহীহ, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৭০১।
عَنْ عَبْدِ اللهِ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « إِذَا تَكَلَّمَ اللَّهُ بِالْوَحْيِ ، سَمِعَ أَهْلُ السَّمَاءِ لِلسَّمَاءِ صَلْصَلَةً كَجَرِّ السَّلْسِلَةِ عَلَى الصَّفَا ، فَيُصْعَقُونَ ، فَلَا يَزَالُونَ كَذَلِكَ حَتَّى يَأْتِيَهُمْ جِبْرِيلُ ، حَتَّى إِذَا جَاءَهُمْ جِبْرِيلُ فُزَعَ عَنْ قُلُوبِهِمْ » قَالَ : " فَيَقُولُونَ : يَا جِبْرِيلُ مَاذَا قَالَ رَبُّكَ ؟ فَيَقُولُ : الْحَقَّ ، فَيَقُولُونَ : الْحَقَّ الْحَقَّ »
আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যখন আল্লাহ তা'আলা অহী প্রেরণের জন্য কথা বলেন, তখন এক আসমানের অধিবাসী আসমান থেকে এরূপ শব্দ শোনে যে, যেমন পরিষ্কার পাথরের উপর লোহার শিকল টানলে শব্দ হয়। যা শুনে তারা সবাই বেহুশ হয়ে পড়ে এবং জিবরীল আলাইহিস সালাম তাদের কাছে না আসা পর্যন্ত তারা এ অবস্থায় থাকে। এরপর জিবরীল আলাইহিস সালাম যখন তাদের কাছে আসে, তখন তারা জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়ে বলে, হে জিবরীল! আপনার রব কী বলেছেন? তিনি বলেন, তিনি সত্য বলেছেন। একথা শুনে সকল ফিরিশতা বলতে থাকে, সত্য বলেছেন, সত্য বলেছেন”। সহীহ, আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৭৩৮; ইবন খুযাইমা, হাদীস নং ২৮০; ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৩৭।