📘 সহীহ হাদীস সম্বলিত অহি ও ঈমান বিশ্বকোষ > 📄 অহী কিছুদিন বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে

📄 অহী কিছুদিন বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে


عَنْ جَابِرِ بْن عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيَّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يُحَدِّثُ عَنْ فَتْرَةِ الوَحْيِ، قَالَ فِي حَدِيثِهِ : " بَيْنَا أَنَا أَمْشِي سَمِعْتُ صَوْتًا مِنَ السَّمَاءِ، فَرَفَعْتُ بَصَرِي، فَإِذَا المَلَكُ الَّذِي جَاءَنِي بِحِرَاء جَالِسٌ عَلَى كُرْسِيَّ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، فَفَرِقْتُ مِنْهُ ، فَرَجَعْتُ ، فَقُلْتُ : زَمِّلُونِي زَمِّلُونِي " ، فَدَثَّرُوهُ ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى : ﴿يَأَيُّهَا الْمُدَّثِرُ قُمْ فَأَنذِرْ وَرَبَّكَ فَكَبَرْ وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ﴾ [المدثر: ١، ٥] قَالَ ا أَبُو سَلَمَةَ: وَهِيَ الْأَوْثَانُ، قَالَ: «ثُمَّ تَتَابَعَ الوَحْيُ».
'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অহী বন্ধ থাকা সময়কাল সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছি। তিনি তাঁর আলোচনার মাঝে বলেন, "একবার আমি হাঁটছিলাম, তখন আকাশ থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম। মাথা উপরে তুলেই আমি দেখলাম যে ফিরিশতা হেরা গুহায় আমার কাছে এসেছিল সে ফিরিশতা (জিবরীল) আসমান ও জমিনের মাঝে রক্ষিত একটি আসনে বসে আছে। আমি তার ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বাড়ি ফিরে এসে বললাম, আমাকে বস্ত্রাবৃত করো, আমাকে বস্ত্রাবৃত করো। তারা আমাকে বস্ত্রাবৃত করল। এরপর আল্লাহ নাযিল করলেন, "হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন, অতঃপর সতর্ক করুন। আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন। আপনার পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র করুন। আর অপবিত্রতা বর্জন করুন”। [সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ১-৫] আবু সালামা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেছেন, 'রুজয' অর্থ হল মূর্তিগুলো। এরপর থেকে ঘনঘন এবং ধারাবাহিকভাবে অহী আসতে লাগল”।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩২৩৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬১। অন্য বর্ণনায় এসেছে,
ثم حمي الوحي وتتابع "অতঃপর অহী আগমনের ধারা বাড়লো এবং ধারাবাহিকভাবে নাযিল হতে লাগল”। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, فَتْرَة الوَحْيِي অর্থ হলো আটকিয়ে রাখা, বেঁধে রাখা, বন্ধ থাকা, পরপর অহী নাযিল না হওয়া। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, চল্লিশ দিন অহী নাযিল বন্ধ ছিলো। কিন্তু সুহাইলী তার "الروض الأنف" এ ২/৪৩৩ বলেছেন, প্রথম অহী নাযিলের পরে আড়াই বছর অহী নাযিল বন্ধ ছিলো। এ সম্পর্কে বিস্তারিত দেখুন, ইবন হাজার আসকালানী রহ. এর 'ফাতহুল বারী' ১/২৭।
عن يحيى بن أبي كثير يَقُولُ : سَأَلْتُ أَبَا سَلَمَةَ أَيُّ الْقُرْآنِ أُنْزِلَ قَبْلُ؟ قَالَ: يَا أَيُّهَا الْمُدَّكَّرُ، فَقُلْتُ: أَوِ اقْرَأْ فَقَالَ: سَأَلْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ أَيُّ الْقُرْآنِ أُنْزِلَ قَبْلُ؟ قَالَ: يَا أَيُّهَا الْمُدَّكَّرُ، فَقُلْتُ: أَوْ اقْرَأْ قَالَ جَابِرٌ: أَحَدَّتُكُمْ مَا حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: جَاوَرْتُ بِحِرَاءٍ شَهْرًا، فَلَمَّا قَضَيْتُ جِوَارِي نَزَلْتُ فَاسْتَبْطَنْتُ بَطْنَ الْوَادِي، فَنُودِيتُ فَنَظَرْتُ أَمَامِي وَخَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِي، وَعَنْ شِمَالِي، فَلَمْ أَرَ أَحَدًا، ثُمَّ نُودِيتُ فَنَظَرْتُ فَلَمْ أَرَ أَحَدًا، ثُمَّ نُودِيتُ فَرَفَعْتُ رَأْسِي، فَإِذَا هُوَ عَلَى الْعَرْشِ فِي الْهَوَاءِ - يَعْنِي جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ - فَأَخَذَتْنِي رَجْفَةٌ شَدِيدَةٌ، فَأَتَيْتُ خَدِيجَةَ، فَقُلْتُ: دَكَّرُونِي، فَدَكَّرُونِي، فَصَبُّوا عَلَيَّ مَاءٌ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: يَأَيُّهَا الْمُدَّثِرُ قُمْ فَأَنذِرْ وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ ﴾ [المدثر: ١، ٤].
ইয়াহইয়া ইবন আবী কাসীর রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু সালামাকে জিজ্ঞেস করলাম, কুরআনের কোন আয়াতটি সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছে? তিনি বললেন, يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِرُ আমি বললাম, اقْرَأْ নাকি। তিনি বললেন, আমিও জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কুরআনের কোন আয়াতটি প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেছেন, يَا أَيُّهَا الْمُدَّكَّرُ
আমি বললাম, اقْرَأْ । জাবির রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বললেন, আমি তোমাদের তাই বর্ণনা করছি, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের যা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, "আমি একমাস হেরা গুহায় অবস্থান করি। অবস্থান শেষে আমি নিচে নেমে এলাম। উপত্যকার মাঝখানে যখন পৌঁছলাম তখন আমাকে ডাকা হলো। আমি সামনে-পেছনে ও ডানে-বায়ে তাকালাম। কাউকে দেখলাম না। তারপর আমাকে ডাকা হলো, তখনো কাউকে দেখতে পেলাম না। পুনরায় আমাকে ডাকা হলো। আমি তাকালাম, দেখি সে ফিরিশতা (অর্থাৎ জিবরীল আলাইহিস সালাম) শূন্যে একটি কুরসীর উপর উপবিষ্ট। আমার প্রবল কম্পন শুরু হলো। অনন্তর খাদীজার কাছে আসলাম। বললাম তোমরা আমাকে বস্ত্রাচ্ছাদিত করো। তারা আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিল। আমার উপর পানি ঢালল। তখন আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেন, "হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন,
অতঃপর সতর্ক করুন। আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন। আপনার পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র করুন”। [সূরা আল-মুদ্দাসির, আয়াত: ১-৪] মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৯২২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬১ বা ২৫৭। হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, فَلَمَّا قَضَيْتُ جِوَارِي এর অর্থ হলো, আমি যখন আমার ই'তিকাফ কাটালাম।

📘 সহীহ হাদীস সম্বলিত অহি ও ঈমান বিশ্বকোষ > 📄 নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অহী নাযিলের সময় মুখস্থ করতে তাড়াহুড়া করতেন

📄 নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অহী নাযিলের সময় মুখস্থ করতে তাড়াহুড়া করতেন


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ ﴾ [القيامة: ١٦] قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعَالِجُ مِنَ التَّنْزِيلِ شِدَّةٌ، وَكَانَ مِمَّا يُحَرِّكُ شَفَتَيْهِ - فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَأَنَا أُحَرِّكُهُمَا لَكُمْ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَرِّكُهُمَا، وَقَالَ سَعِيدٌ: أَنَا أُحَرِّكُهُمَا كَمَا رَأَيْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يُحَرِّكُهُمَا، فَحَرَّكَ شَفَتَيْهِ - فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: ﴿لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْءَانَهُ ﴾ [القيامة: ١٦، ١٧] قَالَ: جَمْعُهُ لَكَ فِي صَدْرِكَ وَتَقْرَأَهُ: ﴿فَإِذَا قَرَأْنَهُ فَاتَّبِعْ قُرْءَانَهُ ﴾ [القيامة: ١٨] قَالَ: فَاسْتَمِعُ لَهُ وَأَنْصِتْ: ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ ﴾ [القيامة : ۱۹] ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا أَنْ تَقْرَأَهُ، فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ ذَلِكَ إِذَا أَتَاهُ جِبْرِيلُ اسْتَمَعَ فَإِذَا انْطَلَقَ جِبْرِيلُ قَرَأَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمَا قَرَأَهُ.
ইবন 'আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণিত, আল্লাহর বাণী: 'তাড়াতাড়ি অহী আয়ত্ত করার জন্য আপনার জিহ্বা তা নিয়ে নাড়বেন না' [সূরা আল- কিয়ামাহ, আয়াত: ১৬] এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অহী নাযিলের সময় তা আয়ত্ত করতে বেশ কষ্ট স্বীকার করতেন এবং প্রায়ই তিনি তাঁর উভয় ঠোঁট নাড়তেন। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা বলেন, আমি তোমাকে দেখানোর জন্য ঠোঁট দু'টি নাড়ছি যেভাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাড়তেন। সা'ঈদ রহ. (তার ছাত্রদেরকে) বললেন, আমি ইবন 'আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমাকে যেভাবে তার ঠোঁট দু'টি নাড়তে দেখেছি, সেভাবেই আমার ঠোঁট দু'টি নাড়াচ্ছি। এই বলে তিনি তাঁর ঠোঁট দুটি নাড়ালেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা নাযিল করলেন, "তাড়াতাড়ি অহী আয়ত্ত করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা তা নিয়ে নাড়বেন না। এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই”। [সূরা আল-কিয়ামাহ, আয়াত: ১৬-১৭] ইবন 'আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা বলেন অর্থাৎ মনোযোগ সহকারে শুনুন এবং চুপ থাকুন। এরপর এর বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই” [সূরা আল-কিয়ামাহ, আয়াত: ১৯] অর্থাৎ আপনি তা পাঠ করবেন এটাও আমার দায়িত্ব। তারপর যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে জিবরীল আলাইহিস সালাম আসতেন, তখন তিনি মনোযোগ সহকারে কেবল শুনতেন। জিবরীল আলাইহিস সালাম চলে গেলে তিনি যেমন পড়েছিলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও ঠিক তেমনি পড়তেন”।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৪৮। হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর।

📘 সহীহ হাদীস সম্বলিত অহি ও ঈমান বিশ্বকোষ > 📄 জিব্রঈলের বক্তব্য যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অহীরূপে নাযিল হয়

📄 জিব্রঈলের বক্তব্য যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অহীরূপে নাযিল হয়


عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالَ: انْطَلَقَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي طَائِفَةٍ مِنْ أَصْحَابِهِ عَامِدِينَ إِلَى سُوقِ عُكَافٍ ، وَقَدْ حِيْلَ بَيْنَ الشَّيَاطِينِ وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ، وَأُرْسِلَتْ عَلَيْهِمُ الشُّهُبُ، فَرَجَعَتِ الشَّيَاطِينُ إِلَى قَوْمِهِمْ، فَقَالُوا: مَا لَكُمْ؟ فَقَالُوا: حِيْلَ بَيْنَنَا وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ، وَأُرْسِلَتْ عَلَيْنَا الشُّهُبُ، قَالُوا: مَا حَالَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ إِلَّا شَيْءٌ حَدَثَ، فَاضْرِبُوا مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا، فَانْظُرُوا مَا هَذَا الَّذِي حَالَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ، فَانْصَرَفَ أُولَئِكَ الَّذِينَ تَوَجَّهُوا نَحْوَ تِهَامَةَ إِلَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ بِنَخْلَةَ عَامِدِينَ إِلَى سُوقِ عُكَافٍ، وَهُوَ يُصَلِّي بِأَصْحَابِهِ صَلاةَ الفَجْرِ، فَلَمَّا سَمِعُوا القُرْآنَ اسْتَمَعُوا لَهُ، فَقَالُوا: هَذَا وَاللَّهِ الَّذِي حَالَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ خَبَرٍ السَّمَاءِ، فَهُنَالِكَ حِينَ رَجَعُوا إِلَى قَوْمِهِمْ، وَقَالُوا: يَا قَوْمَنَا: ﴿إِنَّا سَمِعْنَا قُرْءَانًا عَجَبًا يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَامَنَّا بِهِ، وَلَن نُّشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدَانَ) [الجن: ١، ٢] ، فَأَنْزَلَ اللهُ عَلَى نَبِيِّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ﴿ قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ) [الجن: ١] وَإِنَّمَا أُوحِيَ إِلَيْهِ قَوْلُ الجِنِّ».
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন সাহাবীকে সঙ্গে নিয়ে উকায বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। আর দুষ্ট জিন্নদের ঊর্ধ্বলোকের সংবাদ সংগ্রহের পথে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয় এবং তাদের দিকে অগ্নিপিণ্ড নিক্ষিপ্ত হয়। কাজেই শয়তানরা তাদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে আসে। তারা জিজ্ঞাসা করল, তোমাদের কী হয়েছে? তারা বলল, আমাদের এবং আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে এবং আমাদের দিকে অগ্নিপিণ্ড ছুঁড়ে মারা হয়েছে। তখন তারা বলল, নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ একটা কিছু ঘটছে বলেই তোমাদের এবং আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। কাজেই, পৃথিবীর পূর্ব এবং পশ্চিম অঞ্চল পর্যন্ত বিচরণ করে দেখ, কী কারণে তোমাদের ও আকাশের সংবাদ সংগ্রহরে মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে? তাই তাদের যে দলটি তিহামার দিকে গিয়েছিল, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে অগ্রসর হলো। তিনি তখন উকায বাজারের পথে 'নাখলা' নামক স্থানে সাহাবীগণকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। তারা যখন কুরআন শুনতে পেল, তখন সেদিকে মনোনিবেশ করল। তারপর তারা বলে উঠল, আল্লাহর শপথ! এটিই তোমাদের ও আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এমন সময় যখন তারা সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে আসল এবং বলল যে,
﴿إِنَّا سَمِعْنَا قُرْءَانًا عَجَبًا يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَامَنَّا بِهِ، وَلَن نُّشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدَانَ) [الجن: ١، ٢]
"আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি, যা সত্যের দিকে হিদায়াত করে; অতঃপর আমরা তাতে ঈমান এনেছি। আর আমরা কখনো আমাদের রবের সাথে কাউকে শরীক করব না”। [সূরা আল-জিন্ন, আয়াত: ১-২] এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সূরা নাযিল করেন,
قُلْ أُوحِيَ إِلَى أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ) [الجن: ١]
"বলুন, আমার প্রতি অহী করা হয়েছে যে, নিশ্চয় জিন্নদের একটি দল মনোযোগ সহকারে শুনেছে”। [সূরা আল-জিন্ন: ১] মূলত তাঁর নিকট জিন্নদের বক্তব্যই অহীরূপে নাযিল করা হয়েছে”। মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৭৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৪৯। হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর।

📘 সহীহ হাদীস সম্বলিত অহি ও ঈমান বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাযিলকৃত সব অহীই তিনি পূর্ণরূপে পৌঁছে দিয়েছেন

📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাযিলকৃত সব অহীই তিনি পূর্ণরূপে পৌঁছে দিয়েছেন


আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, يَأَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ وَإِن لَّمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ ﴾ [المائدة: ٦٧]
“হে রাসূল, আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার নিকট যা নাযিল করা হয়েছে, তা পৌঁছে দিন। আর যদি আপনি না করেন তবে আপনি তাঁর রিসালাত পৌঁছালেন না। আর আল্লাহ আপনাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না”। [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৬৭]
ইমাম যুহরী রহ. বলেছেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে রিসালা তথা অহী, আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে তাবলিগ তথা পৌঁছে দেওয়া আর আমাদের পক্ষ থেকে তাসলিম তথা আত্মসমর্পণ করা ও মেনে নেওয়া।
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «مَنْ حَدَّثَكَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَتَمَ شَيْئًا مِنَ الوَحْيِ فَلَا تُصَدِّقُهُ، إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ: ﴿ يَأَيُّهَا الرَّسُولُ bَلِّغْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ وَإِن لَّمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ ﴾ [المائدة: ٦٧]
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমাকে যে বলবে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অহীর) কিছু জিনিস গোপন করেছেন তাকে তুমি সত্যবাদী মনে করো না। মহান আল্লাহ বলেছেন, "হে রাসূল! আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার কাছে যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা প্রচার করুন, আর যদি আপনি না করেন তবে আপনি তাঁর রিসালাত পৌঁছালেন না”। [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৬৭] সহীহ, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৫৩১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00