📄 নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আল্লাহ যে ধরণের অহী নাযিল করেছেন
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنَ الْأَنْبِيَاءِ نَبِيُّ إِلَّا أُعْطِيَ مَا مِثْلَهُ آمَنَ عَلَيْهِ البَشَرُ، وَإِنَّمَا كَانَ الَّذِي أُوتِيتُ وَحْيًا أَوْحَاهُ اللهُ إِلَيَّ، فَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَكْثَرَهُمْ تَابِعًا يَوْمَ القِيَامَةِ».
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "প্রত্যেক নবীকে তার যুগের চাহিদা মোতাবেক কিছু মু'জিযা দান করতে হয়েছে, যা দেখে লোকেরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে। আমাকে যে মু'জিযা দেওয়া হয়েছে তা হচ্ছে, অহী- যা আল্লাহ আমার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। সুতরাং আমি আশা করি, কিয়ামতের দিন তাদের অনুসারীদের তুলনায় আমার অনুসারীদের সংখ্যা অনেক বেশি হবে"। মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৯৮১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৫২। হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর।
আর মুসলিমের শব্দ হচ্ছে,
مَا مِنَ الْأَنْبِيَاءِ مِنْ نَبِيَّ إِلَّا قَدْ أُعْطِيَ مِنَ الْآيَاتِ مَا مِثْلُهُ آمَنَ عَلَيْهِ الْبَشَرُ.
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "প্রত্যেক নবীকে এমন মু'জিযা দেওয়া হয়েছে, যে মুজিযা অনুযায়ী মানুষ তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে।.. তারপর বাকীটা পূর্বের অনুরূপ।
অর্থাৎ পূর্ববর্তী প্রত্যেক নবীকে এমন মু'জিযা দেওয়া হয়েছে যা দেখে তাদের উম্মতেরা সে অনুযায়ী ঈমান এনেছে। পক্ষান্তরে আমার স্পষ্ট ও বড় মু'জিযা হলো আল-কুরআন, যার মতো কোনো কিছু কোনো নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালামকে দেওয়া হয় নি।
📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি কীভাবে অহী নাযিল হতো
عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا، أَنَّ الحَارِثِ بْنَ هِشَامٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، كَيْفَ يَأْتِيكَ الوَحْيُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَحْيَانًا يَأْتِينِي مِثْلَ صَلْصَلَةِ الجَرَسِ، وَهُوَ أَشَدُّهُ عَلَيَّ، فَيُفْصَمُ عَنِّي وَقَدْ وَعَيْتُ عَنْهُ مَا قَالَ، وَأَحْيَانًا يَتَمَثَّلُ لِي المَلَكُ رَجُلًا فَيُكَلِّمُنِي فَأَعِي مَا يَقُولُ قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: وَلَقَدْ رَأَيْتُهُ يَنْزِلُ عَلَيْهِ الوَحْيُ فِي اليَوْمِ الشَّدِيدِ البَرْدِ، فَيَفْصِمُ عَنْهُ وَإِنَّ جَبِينَهُ لَيَتَفَصَّدُ عَرَقًا.
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা থেকে বর্ণিত, হারিস ইবন হিশাম রাদিয়াল্লাহু 'আনহু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার প্রতি অহী কীভাবে আসে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোনো সময় তা ঘণ্টাধ্বনির ন্যায় আমার নিকট অহী আসে, আর এটিই আমার উপর সবচাইতে কষ্টদায়ক হয় এবং তা সমাপ্ত হতেই ফিরিশতা যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে নেই। আবার কখনো ফিরিশতা মানুষের আকৃতিতে আমার সঙ্গে কথা বলে। তিনি যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে ফেলি। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা বলেন, আমি প্রচণ্ড শীতের দিনে অহী নাযিলরত অবস্থায় তাঁকে দেখেছি। অহী শেষ হলেই তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরে পড়ত।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, ইমাম মালিক 'কুরআন' (হাদীস নং ৭) এ বর্ণনা করেছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৩৩৩।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী «فَيَفْصِمُ» ইয়া অক্ষরে ফাতহা, ফা অক্ষরে সুকুন ও এবং সোয়াদ অক্ষরে কাসরা যোগে এর অর্থ হলো, শেষ হওয়া, কোনোকিছু আবৃত করে রাখার পরে ছেড়ে দেওয়া।
عَنْ صَفْوَانَ بْنِ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ، عَنْ أَبِيهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ بِالْجِعْرَانَةِ، عَلَيْهِ جُبَّةٌ وَعَلَيْهَا خَلُوقٌ - أَوْ قَالَ أَثَرُ صُفْرَةٍ - فَقَالَ: كَيْفَ تَأْمُرُنِي أَنْ أَصْنَعَ فِي عُمْرَتِي؟ قَالَ: وَأُنْزِلَ عَلَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْوَحْيُ، فَسُتِرَ بِثَوْبٍ، وَكَانَ يَعْلَى يَقُولُ: وَدِدْتُ أَنِّي أَرَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ نَزَلَ عَلَيْهِ الْوَحْيُ، قَالَ فَقَالَ: أَيَسُرُّكَ أَنْ تَنْظُرَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ أُنْزِلَ عَلَيْهِ الْوَحْيُ؟ قَالَ: فَرَفَعَ عُمَرُ طَرَفَ القَوْبِ، فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ لَهُ غَطِيطٌ ، - قَالَ وَأَحْسَبُهُ قَالَ - كَغَطِيطِ الْبَكْرِ، قَالَ فَلَمَّا سُرِّيَ عَنْهُ قَالَ: «أَيْنَ السَّائِلُ عَنِ الْعُمْرَةِ اغْسِلْ عَنْكَ أَثَرَ الصُّفْرَةِ - أَوْ قَالَ أَثَرَ الْخُلُوقِ - وَاخْلَعْ عَنْكَ جُبَّتَكَ، وَاصْنَعْ فِي عُمْرَتِكَ مَا أَنْتَ صَانِعُ فِي حَجَّكَ».
সাফওয়ান ইবন ইয়া'লা ইবন উমাইয়্যাহ্ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জি'রানা নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে আসলো, তার পরিধানে জুব্বা ছিল এবং তাতে খোশবু লাগানো ছিল। অথবা (বর্ণনাকারী বলেছেন) তাঁর উপর কিছুটা হলুদ বর্ণের দাগ ছিলো। অতঃপর সে বললো, আপনি আমাকে উমরাহ করার সময় কি কি কাজ করার নির্দেশ দিচ্ছেন?
বর্ণনাকারী বলেন, এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অহী নাযিল হচ্ছিলো এবং তিনি একখানা কাপড় দিয়ে নিজেকে আবৃত করে নিলেন। ইয়া'লা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলতেন, অহী অবতীর্ণ হওয়া অবস্থায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখার আমার শখ ছিলো। তখন উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বললেন, অহী অবতীর্ণ হওয়া অবস্থায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখে তুমি কি আনন্দিত হতে চাও? অতঃপর উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু কাপড়ের এক খোঁট তুলে ধরলেন এবং আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তিনি হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন এবং নাক ডাকছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় এটা ছিল উঠতি বয়সের উটের নাসিকা ধ্বনির অনুরূপ। অতঃপর অহী নাযিল সমাপ্ত হলে তিনি বললেন, "উমরাহ সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? (লোকটি সাড়া দিলে তিনি বললেন) হলুদ রং ধুয়ে ফেলো। অথবা তিনি বললেন, খোশবু ধুয়ে ফেলো এবং তোমার জুব্বাটিও শরীর থেকে খুলে ফেলো। অতঃপর হজে যা কিছু করে থাক, উমরাহ এ তাই করো”।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৯৮৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৮০। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, "غطِيط" এর অর্থ হলো ঘুমন্ত ব্যক্তির নাক ডাকার শব্দ বা গোঙ্গানো। আর "كَغَطِيطِ الْبَكْرِ" অর্থ হলো, উঠতি বয়সের উটের নাসিকা ধ্বনির অনুরূপ।
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ الْوَحْيُ نَكَسَ رَأْسَهُ وَنَكَسَ أَصْحَابُهُ رُهُ وسَهُمْ، فَلَمَّا أُتْلِي عَنْهُ رَفَعَ رَأْسَهُ».
উবাদা ইবন সামিত রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর যখন অহী নাযিল হতো তখন তিনি মাথা নিচু করে ফেলতেন এবং তাঁর সাহাবীরাও মাথা নিচু করতেন। তারপর যখন অহী শেষ হয়ে যেতো, তিনি তাঁর মাথা তুলতেন”।
সহীহ, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৩৩৪।
📄 অহী প্রতি ভারী হওয়া প্রসঙ্গে
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا﴾ [المزمل: ٥]
"নিশ্চয় আমরা আপনার উপর এক অতি ভারী বাণী নাযিল করছি”। [সূরা আল-মুয্যাম্মিল, আয়াত: ৫]
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা থেকে বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসে তিনি বলেছেন,
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا .... وَاللهُ يَعْلَمُ أَنِّي بَرِيئَةٌ، وَأَنَّ اللهَ مُبَرِّنِي بِبَرَاءَتِي، وَلَكِنْ وَاللهِ مَا كُنْتُ أَظُنُّ أَنَّ اللهَ مُنْزِلُ فِي شَأْنِي وَحْيًا يُعْلَى ، لَشَأْنِي فِي نَفْسِي كَانَ أَحْفَرَ مِنْ أَنْ يَتَكَلَّمَ اللهُ فِي بِأَمْرٍ، وَلَكِنْ كُنْتُ أَرْجُو أَنْ يَرَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي النَّوْمِ رُؤْيَا يُبَرِّئُنِي اللهُ بِهَا، فَوَاللهِ مَا رَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَجْلِسَهُ، وَلَا خَرَجَ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ البَيْتِ، حَتَّى أُنْزِلَ عَلَيْهِ، فَأَخَذَهُ مَا كَانَ يَأْخُذُهُ مِنَ البُرَحَاءِ، حَتَّى إِنَّهُ لَيَتَحَدَّرُ مِنْهُ مِنَ الْعَرَقِ مِثْلُ الجَمَانِ، وَهُوَ فِي يَوْمٍ شَاتٍ مِنْ ثِقَلِ القَوْلِ الَّذِي أُنْزِلَ عَلَيْهِ.
(ইফকের দীর্ঘ হাদীস থেকে) "আল্লাহ তা'আলা জানেন যে, আমি পবিত্র। অবশ্যই আল্লাহ আমার পবিত্রতা প্রকাশ করে দেবেন (এ কথার প্রতি আমার বিশ্বাস ছিল) তবে আল্লাহর কসম, আমি কখনো ধারণা করি নি যে, আমার ব্যাপারে আল্লাহ অহী নাযিল করবেন যা পঠিত হবে। আমার ব্যাপারে আল্লাহ কোনো কথা বলবেন আমি নিজেকে এতোখানি যোগ্য মনে করিনি বরং আমি নিজেকে এর চেয়ে অধিক অযোগ্য বলে মনে করতাম। তবে আমি আশা করতাম যে, হয়তো রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন স্বপ্ন দেখানো হবে যার দ্বারা আল্লাহ আমার পবিত্রতা প্রকাশ করে দেবেন। আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখনো তাঁর বসার জায়গা ছাড়েন নি এবং ঘরের লোকদের থেকেও কেউ ঘর থেকে বাইরে যান নি। এমতাবস্থায় তাঁর উপর অহী নাযিল হতে শুরু হল। অহী নাযিল হওয়ার সময় তাঁর যে বিশেষ কষ্ট হত তখনও সে অবস্থা তাঁর হলো। এমনকি প্রচণ্ড শীতের দিনেও তাঁর দেহ থেকে মোতির দানার মত বিন্দু বিন্দু ঘাম গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ত ঐ বাণীর গুরুভারের কারণে, যা তাঁর প্রতি নাযিল করা হয়েছে”।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪১৪১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৭০।
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ، أَنَّهُ قَالَ: رَأَيْتُ مَرْوَانَ بْنَ الحَكَمِ جَالِسًا فِي المَسْجِدِ، فَأَقْبَلْتُ حَتَّى جَلَسْتُ إِلَى جَنْبِهِ، فَأَخْبَرَنَا أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ أَخْبَرَهُ: " أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمْلَى عَلَيْهِ: ﴿لَّا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ﴾ [النساء : ٩٥] ﴿وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ﴾ [النساء : ٩٥] " ، قَالَ: فَجَاءَهُ ابْنُ أُمَّ مَكْتُومٍ وَهُوَ يُمِلُّهَا عَلَيَّ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، لَوْ أَسْتَطِيعُ الجِهَادَ لَجَاهَدْتُ - وَكَانَ رَجُلًا أَعْمَى - فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى عَلَى رَسُولِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَفَخِذُهُ عَلَى فَخِذِي، فَثَقُلَتْ عَلَيَّ حَتَّى خِفْتُ أَنَّ تَرْضَ فَخِذِي، ثُمَّ سُرِّيَ عَنْهُ، فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ: ﴿غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ ﴾ [النساء : ٩٥].
সাহল ইবন সা'দ আস-সা'য়েদী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আমি মারওয়ান ইবন হাকামকে মসজিদে বসা অবস্থায় দেখলাম। তারপর আমি তাঁর দিকে এগিয়ে গেলাম এবং তাঁর পাশে গিয়ে বসলাম। তিনি আমাকে বর্ণনা করেন যে, যায়েদ ইবন সাবিত রাদিয়াল্লাহু 'আনহু তাকে জানিয়েছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ওপর অবতীর্ণ আয়াত, ﴿لَّا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ﴾ [النساء : ٩٥] ﴿وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ) [النساء : ٩٥]
"মুমিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করে তারা পরস্পর সমান নয়”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৯৫] যখন তাকে দিয়ে লিখিয়ে নিচ্ছিলেন, ঠিক সে সময় অন্ধ সাহাবী ইবন উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু 'আনহু সেখানে উপস্থিত হয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি যদি জিহাদে যেতে সক্ষম হতাম, তবে অবশ্যই অংশ গ্রহণ করতাম। সে সময় আল্লাহ তা'আলা তাঁর রাসূলের ওপর অহী নাযিল করেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উরু আমার উরুর উপর রাখা ছিল এবং তা আমার কাছে এতই ভারী মনে হচ্ছিল যে, আমি আমার উরু ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকা করছিলাম। এরপর অহী অবতীর্ণ হওয়ার অবস্থা কেটে গেল, এ সময় ﴿غَيْرُ أَوْلِي الضَّرَرِ ﴾ [النساء : ٩٥] "যারা ওযরগ্রস্ত নয়" আয়াতটি নাযিল করেন।
সহীহ, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৮৩২ ও ৪৫৯২।
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ الْوَحْيُ نَكَسَ رَأْسَهُ وَنَكَسَ أَصْحَابُهُ رُهُ وسَهُمْ، فَلَمَّا أُتْلِي عَنْهُ رَفَعَ رَأْسَهُ».
উবাদা ইবন সামিত রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যখন অহী নাযিল হতো তখন তিনি মাথা নিচু করে ফেলতেন এবং তাঁর সাহাবীরাও মাথা নিচু করতেন। তারপর যখন অহী শেষ হয়ে যেতো, তিনি তাঁর মাথা তুলতেন”।
সহীহ, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৩৩৪। অন্য বর্ণনায় এসেছে, إِذَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ الْوَحْيُ كُرِبَ لِذَلِكَ وَتَرَبَّدَ وَجْهُهُ».
"রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যখন অহী নাযিল হতো তখন তাতে তাঁর খুব কষ্ট হতো এবং তার চেহারা মলিন (ধূসর বর্ণ) হয়ে যেতো”।
সহীহ, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৩৩৫।
عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ: إِنْ كَانَ لَيُوحَى إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ عَلَى رَاحِلَتِهِ فَتَضْرِبُ بِجِرَانِهَا "
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যখন আরোহী অবস্থায় অহী নাযিল হতো তখন (অহীর ভারে) উট তার ঘাড়ের সম্মুখভাগ চেপে রাখতো।”
হাসান, মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ২৪৮৬৮; হাকিম ২/৫০৫, তিনি সহীহ বলেছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, فَـتَضْرِبُ بِجِرَانِهَا এখানে الجران হলো উটের ঘাড়ের সম্মুখভাগ। উট যখন আরাম করে তখন তাঁর ঘাড় মাটির সাথে মিশে দেয়।
📄 অহী কিছুদিন বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে
عَنْ جَابِرِ بْن عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيَّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يُحَدِّثُ عَنْ فَتْرَةِ الوَحْيِ، قَالَ فِي حَدِيثِهِ : " بَيْنَا أَنَا أَمْشِي سَمِعْتُ صَوْتًا مِنَ السَّمَاءِ، فَرَفَعْتُ بَصَرِي، فَإِذَا المَلَكُ الَّذِي جَاءَنِي بِحِرَاء جَالِسٌ عَلَى كُرْسِيَّ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، فَفَرِقْتُ مِنْهُ ، فَرَجَعْتُ ، فَقُلْتُ : زَمِّلُونِي زَمِّلُونِي " ، فَدَثَّرُوهُ ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى : ﴿يَأَيُّهَا الْمُدَّثِرُ قُمْ فَأَنذِرْ وَرَبَّكَ فَكَبَرْ وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ﴾ [المدثر: ١، ٥] قَالَ ا أَبُو سَلَمَةَ: وَهِيَ الْأَوْثَانُ، قَالَ: «ثُمَّ تَتَابَعَ الوَحْيُ».
'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অহী বন্ধ থাকা সময়কাল সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছি। তিনি তাঁর আলোচনার মাঝে বলেন, "একবার আমি হাঁটছিলাম, তখন আকাশ থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম। মাথা উপরে তুলেই আমি দেখলাম যে ফিরিশতা হেরা গুহায় আমার কাছে এসেছিল সে ফিরিশতা (জিবরীল) আসমান ও জমিনের মাঝে রক্ষিত একটি আসনে বসে আছে। আমি তার ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বাড়ি ফিরে এসে বললাম, আমাকে বস্ত্রাবৃত করো, আমাকে বস্ত্রাবৃত করো। তারা আমাকে বস্ত্রাবৃত করল। এরপর আল্লাহ নাযিল করলেন, "হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন, অতঃপর সতর্ক করুন। আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন। আপনার পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র করুন। আর অপবিত্রতা বর্জন করুন”। [সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ১-৫] আবু সালামা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেছেন, 'রুজয' অর্থ হল মূর্তিগুলো। এরপর থেকে ঘনঘন এবং ধারাবাহিকভাবে অহী আসতে লাগল”।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩২৩৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬১। অন্য বর্ণনায় এসেছে,
ثم حمي الوحي وتتابع "অতঃপর অহী আগমনের ধারা বাড়লো এবং ধারাবাহিকভাবে নাযিল হতে লাগল”। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, فَتْرَة الوَحْيِي অর্থ হলো আটকিয়ে রাখা, বেঁধে রাখা, বন্ধ থাকা, পরপর অহী নাযিল না হওয়া। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, চল্লিশ দিন অহী নাযিল বন্ধ ছিলো। কিন্তু সুহাইলী তার "الروض الأنف" এ ২/৪৩৩ বলেছেন, প্রথম অহী নাযিলের পরে আড়াই বছর অহী নাযিল বন্ধ ছিলো। এ সম্পর্কে বিস্তারিত দেখুন, ইবন হাজার আসকালানী রহ. এর 'ফাতহুল বারী' ১/২৭।
عن يحيى بن أبي كثير يَقُولُ : سَأَلْتُ أَبَا سَلَمَةَ أَيُّ الْقُرْآنِ أُنْزِلَ قَبْلُ؟ قَالَ: يَا أَيُّهَا الْمُدَّكَّرُ، فَقُلْتُ: أَوِ اقْرَأْ فَقَالَ: سَأَلْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ أَيُّ الْقُرْآنِ أُنْزِلَ قَبْلُ؟ قَالَ: يَا أَيُّهَا الْمُدَّكَّرُ، فَقُلْتُ: أَوْ اقْرَأْ قَالَ جَابِرٌ: أَحَدَّتُكُمْ مَا حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: جَاوَرْتُ بِحِرَاءٍ شَهْرًا، فَلَمَّا قَضَيْتُ جِوَارِي نَزَلْتُ فَاسْتَبْطَنْتُ بَطْنَ الْوَادِي، فَنُودِيتُ فَنَظَرْتُ أَمَامِي وَخَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِي، وَعَنْ شِمَالِي، فَلَمْ أَرَ أَحَدًا، ثُمَّ نُودِيتُ فَنَظَرْتُ فَلَمْ أَرَ أَحَدًا، ثُمَّ نُودِيتُ فَرَفَعْتُ رَأْسِي، فَإِذَا هُوَ عَلَى الْعَرْشِ فِي الْهَوَاءِ - يَعْنِي جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ - فَأَخَذَتْنِي رَجْفَةٌ شَدِيدَةٌ، فَأَتَيْتُ خَدِيجَةَ، فَقُلْتُ: دَكَّرُونِي، فَدَكَّرُونِي، فَصَبُّوا عَلَيَّ مَاءٌ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: يَأَيُّهَا الْمُدَّثِرُ قُمْ فَأَنذِرْ وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ ﴾ [المدثر: ١، ٤].
ইয়াহইয়া ইবন আবী কাসীর রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু সালামাকে জিজ্ঞেস করলাম, কুরআনের কোন আয়াতটি সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছে? তিনি বললেন, يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِرُ আমি বললাম, اقْرَأْ নাকি। তিনি বললেন, আমিও জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কুরআনের কোন আয়াতটি প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেছেন, يَا أَيُّهَا الْمُدَّكَّرُ
আমি বললাম, اقْرَأْ । জাবির রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বললেন, আমি তোমাদের তাই বর্ণনা করছি, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের যা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, "আমি একমাস হেরা গুহায় অবস্থান করি। অবস্থান শেষে আমি নিচে নেমে এলাম। উপত্যকার মাঝখানে যখন পৌঁছলাম তখন আমাকে ডাকা হলো। আমি সামনে-পেছনে ও ডানে-বায়ে তাকালাম। কাউকে দেখলাম না। তারপর আমাকে ডাকা হলো, তখনো কাউকে দেখতে পেলাম না। পুনরায় আমাকে ডাকা হলো। আমি তাকালাম, দেখি সে ফিরিশতা (অর্থাৎ জিবরীল আলাইহিস সালাম) শূন্যে একটি কুরসীর উপর উপবিষ্ট। আমার প্রবল কম্পন শুরু হলো। অনন্তর খাদীজার কাছে আসলাম। বললাম তোমরা আমাকে বস্ত্রাচ্ছাদিত করো। তারা আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিল। আমার উপর পানি ঢালল। তখন আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেন, "হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন,
অতঃপর সতর্ক করুন। আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন। আপনার পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র করুন”। [সূরা আল-মুদ্দাসির, আয়াত: ১-৪] মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৯২২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬১ বা ২৫৭। হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, فَلَمَّا قَضَيْتُ جِوَارِي এর অর্থ হলো, আমি যখন আমার ই'তিকাফ কাটালাম।