📘 সহীহ দুআ ঝাড়ফুঁক ও যিকর 📄 অমুসলিম সালাম দিলে

📄 অমুসলিম সালাম দিলে


সালামের হকদার হল মুসলিমগণ। অমুসলিম সালামের হকদার নয়। কোনো অমুসলিম সালাম দিলে তার উত্তরে কেবল ‘আলাইকুম’ বলতে পারি। একই দলে মুসলিম ও অমুসলিম থাকলে মুসলিমদেরকে উদ্দেশ্য করে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলেই সালাম দেওয়া যায়। আবার কোনো অমুসলিম যদি স্পষ্ট করেই ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে সালাম দেয়, তবে তার জওয়াবে ‘অ আলায়কুমুস সালাম’ বলা দূষণীয় নয়।

সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ যে সাক্ষাতে প্রথমে সালাম দিতে চেষ্টা করে। তবুও আরোহী পদাতিককে, পদাতিক উপবিষ্টকে, অল্প সংখ্যক লোক অধিক সংখ্যক লোককে এবং ছোট বড়কে প্রথমে সালাম দিতে চেষ্টা করাই সুন্নত। জামাতভুক্ত তরফ থেকে একজন মাত্র লোক সালাম বা তার উত্তর দিলেই যথেষ্ট। শিশু হলেও তাকে সালাম দেওয়া সুন্নত। সাক্ষাৎ হলে যেমন সালাম দেবে তেমনি পৃথক বা বিদায় হলেও সালাম দেবে। তবে মুসাফাহাহ সাক্ষাতের সময় সুন্নত এবং বিদায়ের সময় মুস্তাহাব। যেমন পৃথক হবার পূর্বে সূরা আসর পড়া উত্তম। সালামের সময় কোনো প্রকার ঝুঁকা বৈধ নয়।

টিকাঃ
১৪৯. তিরমিযী, মিশকাত ১১৪নং
১৫০. মুসলিম ৪/১৭০৫
১৫১. বুখারী ৭/১০২, মুসলিম ৩/১৪২২
১৫২. ফাতওয়া ইবনু উসাইমীন
১৫৩. মিশকাত ৪৬৪নং
১৫৪. বুখারী, মুসলিম মিশকাত ৪৬৩২-৪৬৩৩নং
১৫৫. আবু দাউদ, মিশকাত ৪৬৪নং
১৫৬. মিশকাত ৪৬৩৪নং
১৫৭. সিলসিলাহ সহীহাহ ২/১৩৭৩
১৫৮. তাবারানীর আওসাত, সিলসিলাহ ২৬৪৮নং

📘 সহীহ দুআ ঝাড়ফুঁক ও যিকর 📄 মোরগের ডাক শুনলে

📄 মোরগের ডাক শুনলে


মোরগ ফিরিশতা দেখে ডাক দেয়। তাই তার ঐ ডাক শুনে আল্লাহর অনুগ্রহ এই বলে চাইতে হয়:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ.

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নী আস্‌আলুকা মিন ফাদলিক।

অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট তোমার অনুগ্রহ ভিক্ষা করছি।

📘 সহীহ দুআ ঝাড়ফুঁক ও যিকর 📄 গাধার ডাক শুনলে

📄 গাধার ডাক শুনলে


গাধা শয়তান দেখে চীৎকার করে। তাই তার চীৎকার শুনলে শয়তান থেকে এই বলে পানাহ চাইতে হয়, أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ (আ‘উযু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম।)

অনুরূপভাবে রাত্রে কুকুরের ডাক শুনলেও ঐ দু‘আ’ পড়তে হয়। কারণ ওরাও শয়তান দেখে ঐ ভাবে ডাক ছাড়ে। (কোনো গ্রন্থ দেখে নয়।)

টিকাঃ
৬৯. বুখারী ৬/৩৫৩, মুসলিম ৪/২০৫২, আবু দাউদ ৪/৩২৭

📘 সহীহ দুআ ঝাড়ফুঁক ও যিকর 📄 আল্লাহ তা‘আলার আসমা’এ হুসনা

📄 আল্লাহ তা‘আলার আসমা’এ হুসনা


আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَلِلّٰهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ فَادْعُوهُ بِهَا অর্থাৎ, আল্লাহর জন্যই যাবতীয় সুন্দর নাম। সুতরাং তোমরা সেই সব নাম ধরেই তাঁকে ডাক। (সূরাহ আ‘রাফ ১৮০ আয়াত)

রাসূল (ﷺ) বলেন, নিশ্চয় আল্লাহর এমন ৯৯টি নাম রয়েছে যে কেউ তা (দু‘আ’তে) গণনা করবে (বা মুখস্থ করে তার অর্থ ও দাবী অনুযায়ী আমাল করবে) সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। কুরআন মাজীদ ও সহীহ সুন্নাহ থেকে সেই নামাবলী নিম্নরূপ:

১. اللَّهُ (আল্লাহ্), ২. الْأَحَدُ (আল আহাদ) একক, ৩. الْأَوَّلُ (আল আউওয়াল) আদি, ৪. الْآخِرُ (আল আখির) অন্ত, ৫. الْأَعْلَىٰ (আল আ‘লা) মহামহীয়ান, ৬. الْأكْرَمُ (আল আকরাম) দয়াময় দানশীল, ৭. الْإِلَهُ (আল ইলাহ) উপাস্য, ৮. الْبَارِئُ (আল বারী) উদ্ভাবনকর্তা, ৯. الْبَاسِطُ (আল বাসিত) জীবিকা সম্প্রসারণকারী, ১০. الْبَرُّ (আল বার্র) কৃপাময়, ১১. الْبَصِيْرُ (আল বাসীর) সর্বদ্রষ্টা, ১২. الْبَاطِنُ (আল বাতিন) নিগূঢ়, ১৩. التَّوَّابُ (আত্ তাওওয়াব) তওবা গ্রহণকারী, ১৪. الْجَبَّارُ (আল জাব্বার) প্রবল, ১৫. الْجَمِيْلُ (আল জামীল) সুন্দর, ১৬. الْجَوَّادُ (আল জাওয়াদ) অতি দানশীল, ১৭. الْحَافِظُ (আল হাফিয) রক্ষাকর্তা, ১৮. الْحَسِيْبُ (আল হাসীব) হিসাব গ্রহণকর্তা, ১৯. الْحَفِيْظُ (আল হাফীয) রক্ষণাবেক্ষণকারী, ২০. الْحَقُّ (আল হাক্ক) সত্য, ২১. الْحَكَمُ (আল হাকাম) বিচারকর্তা, ২২. الْহَكِيْمُ (আল হাকীম) প্রজ্ঞাময়, ২৩. الْحَلِيْمُ (আল হালীম) সহিষ্ণু, ২৪. الْحَمِيْدُ (আল হামীদ) প্রশংসিত, ২৫. الْحَيُّ (আল হাইয়্যু) চিরঞ্জীব, ২৬. الْحَيِيُّ (আল হাইয়্যু) লজ্জাশীল, ২৭. الْخَالِقُ (আল খালিক্ব) সৃজনকর্তা, ২৮. الْخَبِيرُ (আল খাবীর) পরিজ্ঞাতা, ২৯. الْخَلَّاقُ (আল খাল্লাক্ব) মহাস্রষ্টা, ৩০. الرَّؤُوفُ (আর রাঊফ) অত্যন্ত দয়াদ্র, ৩১. الرَّبُّ (আর রাব্ব) প্রভু, ৩২. الرَّحْمَنُ (আর রাহমান) পরম করুণাময়, ৩৩. الرَّحِيمُ (আর রাহীম) অতি দয়াবান, ৩৪. الرَّزَّاقُ (আর রায্যাক্ব) মহারুযীদাতা, ৩৫. الرَّفِيقُ (আর রাফীক্ব) সঙ্গী, ৩৬. الرَّقِيبُ (আর রাকীব) তত্ত্বাবধায়ক, ৩৭. السُّبُّوحُ (আস সুব্বূহ) মহামহিম, ৩৮. السِّتِّيرُ (আস সিত্তীর) অতি গোপনকারী, ৩৯. السَّلَامُ (আস সালাম) শান্তি, ৪০. السَّمِيعُ (আস সামী‘) সর্বশ্রোতা, ৪১. السَّيِّدُ (আস সায়্যিদ) প্রভু, ৪২. الشَّافِى (আশ শাফী) আরোগ্যদাতা, ৪৩. الشَّاكِرُ (আশ শাকির) পুরস্কারদাতা, ৪৪. الشَّكُورُ (আশ শাকূর) গুণগ্রাহী, ৪৫. الشَّهِيدُ (আশ শাহীদ) সাক্ষী, ৪৬. اَلصَّمَدُ (আস সামাদ) ভরসাস্থল, ৪৭. اَلطَّيِّبُ (আত্ব-ত্বায়্যিব) পবিত্র, ৪৮. اَلظَّاهِرُ (আয-যাহির) ব্যক্ত, ৪৯. اَلْعَالِمُ (আল আলিম) জ্ঞাতা, ৫০. اَلْعَزِيزُ (আল আযীয) পরাক্রমশালী, ৫১. اَلْعَظِيمُ (আল আযীম) সুমহান, ৫২. اَلْعَفُوُّ (আল আফুয়্যু) ক্ষমাশীল, ৫৩. اَلْعَلِيمُ (আল আলীম) সর্বজ্ঞ, ৫৪. اَلْعَلِيُّ (আল আলিয়্যু) সুউচ্চ, ৫৫. اَلْغَفَّارُ (আল গাফফার) অতি মার্জনাকারী, ৫৬. اَلْغَفُورُ (আল গাফূর) মহাক্ষমাশীল, ৫৭. اَلْغَنِيُّ (আল গানিয়্যু) অভাবমুক্ত, ৫৮. اَلْفَتَّاحُ (আল ফাত্তাহ) বিচারকশ্রেষ্ঠ, ৫৯. اَلْقَابِضُ (আল ক্বাবিদ) জীবিকা সঙ্কুচনকারী, ৬০. اَلْقَادِرُ (আল ক্বাদির) শক্তিমান, ৬১. اَلْقَاهِرُ (আল ক্বাহির) পরাক্রমশালী, ৬২. اَلْقُدُّوسُ (আল ক্বুদ্দূস) অতি পবিত্র, ৬৩. اَلْقَدِيرُ (আল ক্বাদীর) সর্বশক্তিমান, ৬৪. اَلْقَرِيبُ (আল ক্বারীব) নিকটবর্তী, ৬৫. اَلْقَوِيُّ (আল ক্বাবিয়্যু) প্রবল ক্ষমতাবান, ৬৬. اَلْقَهَّارُ (আল কাহ্হার) প্রবল প্রতাপশালী, ৬৭. اَلْقَيُّوْمُ (আল কায়্যূম) অবিনশ্বর, ৬৮. اَلْكَبِِيْرُ (আল কাবীর) সুমহান, ৬৯. اَلْكَرীমু (আল কারীম) মহানুভব, ৭০. اَل্লত্বীফُ (আল লাত্বীফ) সূক্ষ্মদর্শী, ৭১. اَلْمُؤَখِّরُ (আল মুআখ্খির) সর্বশেষে, ৭২. اَلْمُؤْمِنُ (আল মু’মিন) নিরাপত্তাবিধায়ক, ৭৩. اَلْمُبীনُ (আল মুবীন) স্পষ্ট, ৭৪. اَلْمُتَعَالِী (আল মুতাআলী) সর্বোচ্চ মর্যাদাবান, ৭৫. اَلْمُتাকাব্বিরُ (আল মুতাকাব্বির) গর্বের অধিকারী, ৭৬. اَلْمَتীনُ (আল মাতীন) পরাক্রান্ত, ৭৭. اَلْمُجীরُ (আল মুজীর) প্রার্থনা মঞ্জুরকারী, ৭৮. اَلْمَজীদُ (আল মাজীদ) মর্যাদাবান, ৭৯. اَلْمُহীতُ (আল মুহীত) পরিবেষ্টনকারী, ৮০. اَلْمُছাওয়িরُ (আল মুসাওয়ির) রূপদাতা, ৮১. اَلْمُ‘ত্বী (আল মু’ত্বী) দাতা, ৮২. اَلْمُক্বতাদিরُ (আল মুক্বতাদির) সর্বশক্তিমান, ৮৩. اَلْمُক্বাদ্দিমু (আল মুক্বাদ্দিম) অগ্রবর্তী, ৮৪. اَلْمُক্বীতُ (আল মুক্বীত) শক্তিমান, ৮৫. اَلْمَالিকُ (আল মালিক) সম্রাট, ৮৬. اَلْمَالِكُ (আল মালিক) অধীশ্বর, ৮৭. اَلْمَنَّانُ (আল মান্নান) পরম অনুগ্রহশীল, ৮৮. اَلْمَوْلَىٰ (আল মাওলা) প্রভু, ৮৯. اَلْمُهَيْمِنُ (আল মুহায়মিন) সাক্ষী, ৯০. اَلنَّصِيرُ (আন নাসির) সহায়, ৯১. اَلْوَاحِدُ (আল ওয়াহিদ) অদ্বিতীয়, ৯২. اَلْوَارِثُ (আল ওয়ারিস) চুড়ান্ত মালিকানার অধিকারী, ৯৩. اَلْوَاسِعُ (আল ওয়াসি’) সর্বব্যাপী, ৯৪. اَلْوَتْرُ (আল বিতর) অযুগ্ম, ৯৫. اَلْوَدُوْدُ (আল ওয়াদূদ) প্রেমময়, ৯৬. اَلْوَكِيْلُ (আল অকীল) কর্মবিধায়ক, ৯৭. اَلْوَلِيُّ (আল ওয়ালী) বন্ধু, ৯৮. اَلْوَهَّাবُ (আল অহহাব) মহাদাতা, ৯৯. جَامِعُ النَّاسِ (জামি‘উননাস) মানব জাতিকে সমবেতকারী, ১০০. مَالِكُ الْمُلْكِ (মালিকুল মুলক) সারা রাজ্যের রাজা, ১০১. بَدِيْعُ السَّمٰوَاتِ وَالْاَرْضِ (বাদীউস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ) আকাশ-মণ্ডলী ও পৃথিবীর আবিষ্কর্তা, ১০২. نُوْরُ السَّমٰوَاتِ وَالْاَرْضِ (নূরুস সামাওয়াতি অল আরদ) আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর জ্যোতি, ১০৩. ذُو الْجَلَالِ وَالْاِكْرَامِ (যুল জালালি অল ইকরামি) মহিমময় ও মহানুভব, ১০৪. اَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ (আরহামুর রাহিমীন) শ্রেষ্ঠ দয়ালু, ১০৫. اَحْكَمُ الْحَاكِمِينَ (আহকামুল হাকিমীন) শ্রেষ্ঠ বিচারক, ১০৬. اَحْسَنُ الْخَالِقِينَ (আহসানুল খালিকীন) সুনিপুণ স্রষ্টা, ১০৭. خَيْرُ الرَّازِقِينَ (খায়রুর রাযিকীন) শ্রেষ্ঠ জীবিকাদাতা।

প্রকাশ যে, আল্লাহর নামাবলী নির্দিষ্টকরণের ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসটি শুদ্ধ নয়।

টিকাঃ
৭০. বুখারী, মুসলিম ২৬৯৭নং
৩৩১. আল-কাওয়াইদুল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ও আসমায়িহিল হুসনা, ইবনু উসাইমীন ৯৯-২০৯

ফন্ট সাইজ
15px
17px