📄 মহানবী (ﷺ) এর নাম শুনলে
মহানবী (ﷺ)-এর উপর যে ব্যক্তি ১০ বার দরূদ পাঠ করে, বিনিময়ে আল্লাহ তার উপর ১০ বার রহমত বর্ষণ করে থাকেন। রাসূল (ﷺ)-এর নাম যার কানে পৌঁছে অথচ দরূদ পাঠ করে না, সেই হল আসল বখীল। সুতরাং তাঁর নাম শোনা বা বলা মাত্র পড়তে হয়, صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। অথবা عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ (আলাইহিস সালাতু আসসালাম)। অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর উপর করুণা ও শান্তি বর্ষণ করুন।
সকাল ও সন্ধ্যায় ১০ বার করে দরূদ পাঠ করলে রোজ কিয়ামতে নবী (ﷺ)-এর শাফায়াত নসীব হবে। মহানবী (ﷺ)-এর উপর দরূদ পাঠের আরো ফযীলত এই যে, তার ফলে পাঠকারীর দুশ্চিন্তা দূর হবে, গোনাহ মাফ হবে, মহানবী (ﷺ) তার জবাব দেবেন, কিয়ামতের দিন কোনো আফসোস হবে না, দুআ' কবুল হবে, ইত্যাদি। দরূদ পাঠ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি মহব্বতের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।
দরূদ পাঠের স্থান হল, নামাযের তাশাহহুদ, কুনূতের শেষে, জানাযার নামাযে, খুতবায়, আযানের জওয়াব দেওয়ার পর, দুআ’র সময়, মাসজিদে প্রবেশ করতে ও সেখান হতে বের হতে, ইলমী মজলিসে, জুমুআহার দিনে ইত্যাদি। প্রকাশ থাকে যে, জামাআতী দরূদ বা কিয়াম করে দরূদ এবং মনগড়া রচিত দরূদ পাঠ করা বিদআত।
টিকাঃ
০৮২. মুসলিম ১/২৮৮
০৮৩. সহীহ তিরমিযী ৩/১৭৭
০৮৪. তাবারানী, সহীহ তারগীব ৬৮৫নং
০৮৫. জালাউল আফহাম, ইবনুল কাইয়িম ৩৬৯-৩৭০ দ্রষ্টব্য
📄 সালাম
সালাম দেওয়া শ্রেষ্ঠ ইসলামের এক নিদর্শন। যা পরস্পরের মাঝে সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে; যা ঈমান পরিপূর্ণ করার এক অংশ। সালাম নিম্নরূপে দেওয়া বিধেয়: ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আসসালামু আলায়কুম)। এর সঙ্গে وَرَحْمَةُ اللَّهِ (অরাহমাতুল্লাহি) যোগ করা উত্তম। আবার উভয়ের শেষে وَبَرَكَاتُهُ (অবরাকাতুহু) যুক্ত করা সবচেয়ে উত্তম। মোট ৩ টি বাক্যাংশে ৩০ টি নেকী লাভ হয়ে থাকে।
টিকাঃ
৩৫৬. আবু দাউদ ৪/৩৫০, তিরমিযী ৫/৬২
📄 সালামের জওয়াব
সালামের উত্তর দেওয়ার প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, “আর যখন তোমাদেরকে অভিবাদন করা হয় তখন তোমরাও তা অপেক্ষা উত্তম অভিবাদন করবে অথবা ওরই অনুরূপ উত্তর দেবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী।” (সূরা নিসা ৪: ৮৬)
সুতরাং সালামদাতা যে মেজাজ, কণ্ঠস্বর ও বাক্যে সালাম দেবে তার চেয়ে উত্তম মেজাজ, কণ্ঠস্বর ও অধিক শব্দ দ্বারা সালামের উত্তর দেওয়া কর্তব্য। নচেৎ অনুরূপ জওয়াব দেওয়া ওয়াজেব। সালাম অপেক্ষা তার উত্তর যেন নিকৃষ্টতর না হয়, নচেৎ সম্প্রীতির স্থানে বিদ্বেষ জন্ম নেবে। অতএব উত্তর হবে, وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ. (অ আলায়কুমুস সালামু অরাহমাতুল্লাহি অবরাকাতুহু)। অর্থাৎ, আর আপনার উপরেও শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষণ হোক।
কেউ পরোক্ষভাবে অন্যের মাধ্যমে সালাম পাঠালে যে সালাম পৌঁছাবে তাকে সহ সালামদাতাকে এই উত্তর দেবে, وَعَلَيْكَ وَعَلَيْهِ السَّলَامُ. (অ আলায়কা অ আলায়হিস সালাম)। অর্থাৎ, আর আপনার ও তাঁর উপরেও শান্তি বর্ষণ হোক। কেবলমাত্র ইশারা ও ইঙ্গিতে সালাম বা তার উত্তর দেওয়া বৈধ নয়। দূর থেকে সালাম দিলেও হাতের ইশারার সাথে মুখে সালাম উচ্চারণ করতে হবে।
টিকাঃ
৩৫৭. সহীহ আবু দাউদ ৪৩৫৮নং
৩৫৮. সহীহ তিরমিযী ২১৬৮নং, সিলসিলাহ সহীহাহ ২১৬৪নং
📄 অমুসলিম সালাম দিলে
সালামের হকদার হল মুসলিমগণ। অমুসলিম সালামের হকদার নয়। কোনো অমুসলিম সালাম দিলে তার উত্তরে কেবল ‘আলাইকুম’ বলতে পারি। একই দলে মুসলিম ও অমুসলিম থাকলে মুসলিমদেরকে উদ্দেশ্য করে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলেই সালাম দেওয়া যায়। আবার কোনো অমুসলিম যদি স্পষ্ট করেই ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে সালাম দেয়, তবে তার জওয়াবে ‘অ আলায়কুমুস সালাম’ বলা দূষণীয় নয়।
সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ যে সাক্ষাতে প্রথমে সালাম দিতে চেষ্টা করে। তবুও আরোহী পদাতিককে, পদাতিক উপবিষ্টকে, অল্প সংখ্যক লোক অধিক সংখ্যক লোককে এবং ছোট বড়কে প্রথমে সালাম দিতে চেষ্টা করাই সুন্নত। জামাতভুক্ত তরফ থেকে একজন মাত্র লোক সালাম বা তার উত্তর দিলেই যথেষ্ট। শিশু হলেও তাকে সালাম দেওয়া সুন্নত। সাক্ষাৎ হলে যেমন সালাম দেবে তেমনি পৃথক বা বিদায় হলেও সালাম দেবে। তবে মুসাফাহাহ সাক্ষাতের সময় সুন্নত এবং বিদায়ের সময় মুস্তাহাব। যেমন পৃথক হবার পূর্বে সূরা আসর পড়া উত্তম। সালামের সময় কোনো প্রকার ঝুঁকা বৈধ নয়।
টিকাঃ
১৪৯. তিরমিযী, মিশকাত ১১৪নং
১৫০. মুসলিম ৪/১৭০৫
১৫১. বুখারী ৭/১০২, মুসলিম ৩/১৪২২
১৫২. ফাতওয়া ইবনু উসাইমীন
১৫৩. মিশকাত ৪৬৪নং
১৫৪. বুখারী, মুসলিম মিশকাত ৪৬৩২-৪৬৩৩নং
১৫৫. আবু দাউদ, মিশকাত ৪৬৪নং
১৫৬. মিশকাত ৪৬৩৪নং
১৫৭. সিলসিলাহ সহীহাহ ২/১৩৭৩
১৫৮. তাবারানীর আওসাত, সিলসিলাহ ২৬৪৮নং