📘 সহীহ দুআ ঝাড়ফুঁক ও যিকর 📄 জিহাদ বা হাজ্জ থেকে ফিরে এলে

📄 জিহাদ বা হাজ্জ থেকে ফিরে এলে


তাসবীহ ও তাহলীল পরিচ্ছেদের ১নং দুআ' পাঠ করে সফর থেকে ফিরে আসার উপরোক্ত (আ-য়িবূনা--) দুআ'টি পড়বে। অতঃপর এই দুআ'টি যুক্ত করবে:

صَدَقَ اللَّهُ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ

উচ্চারণঃ- সাদাকাল্লা-হু অ'দাহু। অনাসারা আ'বদাহু। অহাযামাল আহ্যাবা অহদাহু।

অর্থ- আল্লাহ তাঁর অঙ্গীকার সত্য করেছেন, তিনি তাঁর দাসকে সাহায্য করেছেন এবং একাই দলসমূহকে পরাস্ত করেছেন।

টিকাঃ
০৮১. বুখারী ৭/১৮০, মুসলিম ২/৮০

📘 সহীহ দুআ ঝাড়ফুঁক ও যিকর 📄 মহানবী (ﷺ) এর নাম শুনলে

📄 মহানবী (ﷺ) এর নাম শুনলে


মহানবী (ﷺ)-এর উপর যে ব্যক্তি ১০ বার দরূদ পাঠ করে, বিনিময়ে আল্লাহ তার উপর ১০ বার রহমত বর্ষণ করে থাকেন। রাসূল (ﷺ)-এর নাম যার কানে পৌঁছে অথচ দরূদ পাঠ করে না, সেই হল আসল বখীল। সুতরাং তাঁর নাম শোনা বা বলা মাত্র পড়তে হয়, صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। অথবা عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ (আলাইহিস সালাতু আসসালাম)। অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর উপর করুণা ও শান্তি বর্ষণ করুন।

সকাল ও সন্ধ্যায় ১০ বার করে দরূদ পাঠ করলে রোজ কিয়ামতে নবী (ﷺ)-এর শাফায়াত নসীব হবে। মহানবী (ﷺ)-এর উপর দরূদ পাঠের আরো ফযীলত এই যে, তার ফলে পাঠকারীর দুশ্চিন্তা দূর হবে, গোনাহ মাফ হবে, মহানবী (ﷺ) তার জবাব দেবেন, কিয়ামতের দিন কোনো আফসোস হবে না, দুআ' কবুল হবে, ইত্যাদি। দরূদ পাঠ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি মহব্বতের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

দরূদ পাঠের স্থান হল, নামাযের তাশাহহুদ, কুনূতের শেষে, জানাযার নামাযে, খুতবায়, আযানের জওয়াব দেওয়ার পর, দুআ’র সময়, মাসজিদে প্রবেশ করতে ও সেখান হতে বের হতে, ইলমী মজলিসে, জুমুআহার দিনে ইত্যাদি। প্রকাশ থাকে যে, জামাআতী দরূদ বা কিয়াম করে দরূদ এবং মনগড়া রচিত দরূদ পাঠ করা বিদআত।

টিকাঃ
০৮২. মুসলিম ১/২৮৮
০৮৩. সহীহ তিরমিযী ৩/১৭৭
০৮৪. তাবারানী, সহীহ তারগীব ৬৮৫নং
০৮৫. জালাউল আফহাম, ইবনুল কাইয়িম ৩৬৯-৩৭০ দ্রষ্টব্য

📘 সহীহ দুআ ঝাড়ফুঁক ও যিকর 📄 সালাম

📄 সালাম


সালাম দেওয়া শ্রেষ্ঠ ইসলামের এক নিদর্শন। যা পরস্পরের মাঝে সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে; যা ঈমান পরিপূর্ণ করার এক অংশ। সালাম নিম্নরূপে দেওয়া বিধেয়: ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আসসালামু আলায়কুম)। এর সঙ্গে وَرَحْمَةُ اللَّهِ (অরাহমাতুল্লাহি) যোগ করা উত্তম। আবার উভয়ের শেষে وَبَرَكَاتُهُ (অবরাকাতুহু) যুক্ত করা সবচেয়ে উত্তম। মোট ৩ টি বাক্যাংশে ৩০ টি নেকী লাভ হয়ে থাকে।

টিকাঃ
৩৫৬. আবু দাউদ ৪/৩৫০, তিরমিযী ৫/৬২

📘 সহীহ দুআ ঝাড়ফুঁক ও যিকর 📄 সালামের জওয়াব

📄 সালামের জওয়াব


সালামের উত্তর দেওয়ার প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, “আর যখন তোমাদেরকে অভিবাদন করা হয় তখন তোমরাও তা অপেক্ষা উত্তম অভিবাদন করবে অথবা ওরই অনুরূপ উত্তর দেবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী।” (সূরা নিসা ৪: ৮৬)

সুতরাং সালামদাতা যে মেজাজ, কণ্ঠস্বর ও বাক্যে সালাম দেবে তার চেয়ে উত্তম মেজাজ, কণ্ঠস্বর ও অধিক শব্দ দ্বারা সালামের উত্তর দেওয়া কর্তব্য। নচেৎ অনুরূপ জওয়াব দেওয়া ওয়াজেব। সালাম অপেক্ষা তার উত্তর যেন নিকৃষ্টতর না হয়, নচেৎ সম্প্রীতির স্থানে বিদ্বেষ জন্ম নেবে। অতএব উত্তর হবে, وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ. (অ আলায়কুমুস সালামু অরাহমাতুল্লাহি অবরাকাতুহু)। অর্থাৎ, আর আপনার উপরেও শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষণ হোক।

কেউ পরোক্ষভাবে অন্যের মাধ্যমে সালাম পাঠালে যে সালাম পৌঁছাবে তাকে সহ সালামদাতাকে এই উত্তর দেবে, وَعَلَيْكَ وَعَلَيْهِ السَّলَامُ. (অ আলায়কা অ আলায়হিস সালাম)। অর্থাৎ, আর আপনার ও তাঁর উপরেও শান্তি বর্ষণ হোক। কেবলমাত্র ইশারা ও ইঙ্গিতে সালাম বা তার উত্তর দেওয়া বৈধ নয়। দূর থেকে সালাম দিলেও হাতের ইশারার সাথে মুখে সালাম উচ্চারণ করতে হবে।

টিকাঃ
৩৫৭. সহীহ আবু দাউদ ৪৩৫৮নং
৩৫৮. সহীহ তিরমিযী ২১৬৮নং, সিলসিলাহ সহীহাহ ২১৬৪নং

ফন্ট সাইজ
15px
17px