📄 আযানের সময়
মুআযযিন যা বলবে তা শুনে তার উত্তরেও তাই বলতে হয়। 'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ' দ্বিতীয়বার বলে শেষ করলে তার উত্তরে নিম্নের দুআ' বলা উত্তম।
وَأَنَا أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا.
উচ্চারণ- অ আনা আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহ, অ আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু অ রসূলুহ, রাযীতু বিল্লাহি রাব্বাও অ বিমুহাম্মাদির রসূলও অবিল ইসলামি দ্বীনা।
অর্থ- আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মা'বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর দাস ও প্রেরিত রসূল। আল্লাহকে প্রতিপালক বলে মেনে নিতে, মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে নাবীরূপে স্বীকার করতে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসাবে গ্রহণ করতে আমি সম্মত ও তুষ্ট হয়েছি। এই দুআ' পড়লে গুনাহসমূহ মাফ হয়ে যায়।
মুআযযিন যখন 'হাইয়্যা আলাস সালাহ' ও 'হাইয়্যা আলাল ফালাহ' বলে, তখন তার উত্তরে বলতে হয়, لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ (লা হাওলা অলা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ)। অর্থ- আল্লাহর তাওফীক ছাড়া পাপ থেকে ফেরার এবং সৎকাজ করার (নড়া-সরার) সাধ্য নেই। 'আসসালাতু খাইরুম মিনান নাওয়াম' এর উত্তরে অনুরূপই বলতে হয়।
আযান শেষ হলে নবী (ﷺ)-এর উপর দরূদ পাঠ করতে হয়। অতঃপর এই দুআ' পাঠ করতে হয়:
اَللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيْلَةَ وَالْفَضِيْلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُوْدًا الَّذِي وَعَدْتَهُ.
উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা রাব্বা হাযিহিদ দা'অতিত তামা, অস্সলাতিল কায়িমাহ, আতি মুহাম্মাদানিল অসীলাতা অলফাদীলাহ, অবআছহু মাকামাম মাহমূদানিল্লাযী অ'আত্তাহ।
অর্থ- হে আল্লাহ এই পূর্ণাঙ্গ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠা লাভকারী নামাযের প্রভু! মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে তুমি অসীলা (জান্নাতের এক উচ্চ স্থান) ও মর্যাদা দান কর এবং তাঁকে সেই প্রশংসিত স্থানে পৌঁছাও, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাঁকে দিয়েছ। এই দুআ' পাঠ করলে পাঠকারী কিয়ামতের দিন তাঁর সুপারিশ পাবে। এর মাঝে বা শেষে অতিরিক্ত কোনো দুআ'র অংশ শুদ্ধ নয়। আযান ও ইকামাতের মাঝে দুআ' কবুল হয়।
ইক্বামাতের জওয়াব আযানের মতই। ‘ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ’ এর উত্তরে ‘আক্বামাহাল্লাহ্ .....’ বলার বিষয়ে হাদীসটি দঈফ। তাই অনুরূপ (ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ) বলাই উচিত।
টিকাঃ
১০২. মুসলিম ১/২৫০, ইবনু খুযাইমাহ ১/২২০
১০৩. বুখারী ১/১৫২, মুসলিম ১/২৮৮
১০৪. মুসলিম ১/২৫৮
১০৫. বুখারী ১/১৫২
১০৬. ইরওয়াউল গালীল ১/২৬১
১০৭. ইরওয়াদুল গালীল ১২৬২
১০৮. ইরওয়াদুল গালীল ১/২৮৬
📄 নামায শুরু করার সময়
তাকবীরে তাহরীমাহ বলে দুই হাত তুলে বক্ষঃস্থলে হাত বেঁধে নিম্নের যে কোনো দুআ’ পড়তে হয়:
১। اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنَ الْخَطَايَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اللَّهُمَّ اغْسِلْ خَطَايَايَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা বাঈদ বাইনী ওয়া বায়না খাত্বায়ায়্যা কামা বাআ’দতা বায়নাল মাশরিকি অল মাগরিব, আল্লাহুম্মা নাক্বকিনী মিনাল খাত্বায়্যা, কামা য়ুনাক্কাস্ সাওবুল আবইয়াদু মিনাদ দানাস, আল্লাহুম্মাগসিল খাত্বায়ায়্যা বিল মায়ি অসসালজি অল-বারাদ।
অর্থ- হে আল্লাহ্! তুমি আমার মাঝে ও আমার গুনাহসমূহের মাঝে এতটা ব্যবধান রাখ, যেমন তুমি পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে ব্যবধান রেখেছ। হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে গুনাহসমূহ থেকে পরিষ্কার করে দাও, যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ্! তুমি আমার গুনাহসমূহকে পানি, বরফ ও শিলাবৃষ্টি দ্বারা ধৌত করে দাও।
২। سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ
উচ্চারণ- সুবহানাকাল্লাহুম্মা অ বিহামদিকা অ তাবারাকাসমুকা অ তাআ’লা জাদ্দুকা অ লা ইলাহা গায়রুক্।
অর্থ- তোমার প্রশংসার সাথে তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করি হে আল্লাহ্! তোমার নাম অতি বরকতময়, তোমার মাহাত্ম্য অতি উচ্চ এবং তুমি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।
৩। اَللهُ اَكْبَرُ كَبِيْرًا، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيْرًا، وَسُبْحَانَ اللهِ بُكْرَةً وَّأَصِيْلاً
উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার কাবীরা, আল হামদু লিল্লাহি কাসীরা, অ সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও অ আসীলা।
অর্থ: আল্লাহ অতি মহান, আল্লাহর অনেক অনেক প্রশংসা, আমি সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করি। এই দুআ’টি দিয়ে নফল নামাজ শুরু করতে হয়।
৪। وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِيْ فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ... (দীর্ঘ দুআ)
উচ্চারণ:- অজ্জাহাতু অজিহিয়া লিল্লাযী ফাতারাছ ছামাওয়াতি অলআরদা হানীফাঁও অমা আনা মিনাল মুশরিকীন... ফাগফিরলী যাম্বী জামীআন ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা আন্তা।
অর্থঃ আমি একনিষ্ঠ হয়ে তাঁর প্রতি মুখ ফিরিয়েছি যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন... তুমিই বাদশাহ তুমি ছাড়া কেউ সত্য উপাস্য নেই... আমি নিজের উপর অত্যাচার করেছি এবং আমি আমার অপরাধ স্বীকার করেছি। সুতরাং তুমি আমার সমস্ত অপরাধ মার্জনা করে দাও। এই দু'আ'টি ফরদ ও নফল উভয় নামাযে পড়া চলে।
৫। তাহাজ্জুদের নামাযে: ‘সুবহানাকা’ পড়ে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ৩ বার এবং ‘আল্লাহু আকবার কাবীরা' ৩ বার পাঠ করবে।
৬। اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ... (তাহাজ্জুদের বিশেষ দুআ)
উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু আংতা নূরুস সামাওয়াতি ওয়ালআরদি অমান ফীহিন... আল্লাহুম্মা লাকা আসলামতু অ আলাইকা তাওয়াক্কালতু...
অর্থ- হে আল্লাহ্! তোমারই যাবতীয় প্রশংসা। তুমি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং উভয়ের মধ্যে অবস্থিত সকল কিছুর জ্যোতি... হে আল্লাহ্! আমি তোমারই নিকট আত্মসমর্পণ করেছি... তুমি আমার পূর্বের, পরের, গূঢ়, প্রকাশ্য এবং যা তুমি অধিক জান সে সব পাপকে মাফ করে দাও।
৭। اَللّٰهُمَّ رَبَّ جِبْرَائِيْلَ وَمِيْكَائِيْلَ وَإِسْرَافِيْلَ...
উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা রাব্বা জিবরাঈলা ও মিকাঈলা ও ইসরাফীলা, ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়ালআরদ... ইহদিনী লিমাখতুলিফা ফীহি মিনাল হাক্কি বিইযনিকা...
অর্থ- হে আল্লাহ! হে জিবরাঈল, মীকাইল ও ইসরাফীলের প্রভু!... যে বিষয়ে মতভেদ করা হয়েছে সে বিষয়ে তুমি আমাকে তোমার অনুগ্রহে সত্যের পথ দেখাও।
৮। ১০ বার করে ‘আল্লাহু আকবার’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ এবং অন্যান্য যিকরসমূহ।
৯। আল্লাহু আকবার’ ৩ বার। অতঃপর: ذُو الْمَلَكُوْتِ وَالْجَبَرُوْتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ।
১০। আউযু বিল্লাহিস সামীইল আলীম, মিনাশ শায়তানির রাজীম, মিন হামঝিহী অনফখিহী অনফসিহি।
টিকাঃ
১৪১. মুসলিম, সিফাতুছ ছালাতি, আলবানী ৮৭-৭৮
১৪২. মুসলিম ১/৫০৪
১৪৩. সিফাতু সালাতিন্নাবী ৮৫ পৃ:
১৪৪. আবু দাউদ
১৪৫. বুখারী ৩/৩, মুসলিম ১/৫০২
১৪৬. মুসলিম
১৪৭. আহমাদ, আবূ দাউদ ৭৬৬
১৪৮. আবু দাউদ, দারা কুতনী, তিরমিযী, হাকিম
📄 কতিপয় আয়াতের জওয়াবে
সূরাহ ক্বিয়ামাহ’র শেষ আয়াত, أَلَيْسَ ذَلِكَ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يُحْيِيَ الْمَوْتَى পড়লে জওয়াবে বলবে سُبْحَانَكَ فَبَلَى (সুবহানাকা ফাবালা), অর্থাৎ তুমি পবিত্র, অবশ্যই (তুমি সক্ষম)।
সূরাহ আ’লা’র প্রথম আয়াত, سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى পাঠ করলে জওয়াবে বলবে, سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى (সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা)। অর্থাৎ আমি আমার মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি। (আবু দাউদ)
সূরাহ রহমান’এর فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ আয়াতটি পাঠ করলে জওয়াবে বলবে, لَا بِشَيْءٍ مِنْ نِعْمَتِكَ رَبَّنَا نُكَذِّبُ، فَلَكَ الْحَمْدُ
উচ্চারণঃ- লা বিশাইইম মিন নি’আমিকা রাব্বানা নুকায়যিবু, ফালাকাল হামদু।
অর্থঃ- তোমার নিয়ামতসমূহের কোন কিছুকেই আমরা অস্বীকার করি না হে আমাদের প্রতিপালক!
টিকাঃ
১৪৯. তিরমিযী, সিলসিলাহ সহীহাহ ২১৫০নং
📄 রুকূ’র যিক্র
১। سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ। উচ্চারণঃ- সুবহানা রাব্বিয়াল আ’যীম। অর্থঃ আমি আমার মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি, ৩ অথবা ততোধিকবার পাঠ করতে হয়।
২। سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ। উচ্চারণঃ সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম অবিহামদিহ। অর্থঃ আমি আমার মহান প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি।
৩। سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ। উচ্চারণঃ- সুব্বূহুন কুদ্দূসুন রাব্বুল মালাইকাতি অররূহ। অর্থঃ অতি নিরঞ্জন, অসীম পবিত্র ফিরিশতামণ্ডলী ও জিবরীলের প্রভু (আল্লাহ্)।
৪। سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْلِي। উচ্চারণঃ- সুবহানাকাল্লাহুম্মা রাব্বানা অবিহামদিকা, আল্লাহুম্মাগ ফিরলী। অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করি, হে আমাদের প্রভু! তুমি আমাকে মাফ কর।
৫। اللَّهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ وَبِكَ آمَنْتُ... উচ্চারণঃ- আল্লাহুম্মা লাকা রাকা‘তু অবিকা আমানতু... খাশা‘আ সাম্য়ী, অ বাসারী... লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্য রুকূ‘ করলাম... আমার কর্ণ, চক্ষু, রক্ত, মাংস, অস্থি ও ধমনী বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য বিনম্র অবনত হল।
৬। سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ। উচ্চারণঃ- সুবহানা যিল জাবারূতি অল মালাকূতি অল কিবরিয়ায়ি অল আযামাহ। অর্থ: আমি প্রবলতা, সার্বভৌমত্ব, গর্ব ও মাহাত্ম্যের অধিকারী (আল্লাহর) পবিত্রতা ঘোষণা করি। এটি তাহাজ্জুদের নামাযের রুকূ'তে পঠনীয়।
টিকাঃ
১৫০. আবু দাউদ, মুসলিম, আহমাদ
১০১. আবু দাউদ, আহমাদ
১০২. মুসলিম
১০৩. বুখারী, মুসলিম
১০৪. নাসাঈ
১০৭. আবু দাউদ, নাসাঈ