📄 ঘর থেকে বের হতে
১। بِسْمِ اللَّهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
উচ্চারণঃ- বিসমিল্লাহি, তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি, অলা হাওলা অলা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে বের হচ্ছি, আল্লাহর উপর ভরসা করছি, আর আল্লাহর তওফীক ছাড়া পাপ থেকে ফেরার এবং সৎকাজ করার (নড়াসরার) শক্তি কারো নেই।
এই দুআ’ পড়ে ঘর থেকে কোথাও বের হলে পাঠকারীর জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হন, তাকে পথ নির্দেশ করা হয়, সকল প্রকার বিপদ থেকে রক্ষা করা হয় এবং শয়তান তার নিকট থেকে দূরে সরে যায়।
২। আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত ক’রে এই দুআ’ পড়তে হয়,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَضِلَّ أَوْ أُضَلَّ أَوْ أَزِلَّ অَوْ أَزَلَّ أَوْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ أَوْ أَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ عَلَيَّ
উচ্চারণঃ- আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা আন আদ্বিল্লা আউ উদ্বাল্লা আউ আযিল্লা আউ উযাল্লা, আউ আযলিমা আউ উযলামা আউ আজহালা আউ ইউজহালা আলাইয়্যা।
অর্থ- হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আমি ভ্রষ্ট হই বা আমাকে ভ্রষ্ট করা হয়, আমার পদস্খলন হয় বা পদস্খলন করানো হয়, আমি অত্যাচারী হই অথবা অত্যাচারিত হই অথবা আমি মূর্খামি করি অথবা আমার প্রতি মূর্খামি করা হয় -এসব থেকে।
টিকাঃ
১২১. আবূ দাউদ ৪/৩২৫; তিরমিযী ৫/৪৫০
১২২. সহীহ তিরমিযী ৩/১৫২
📄 ঘরে প্রবেশ করতে
ঘরে প্রবেশ করার সময় আল্লাহর যিক্র করা (বিস্মিল্লাহ বলা) উত্তম। এতে শয়তান ঘরে স্থান পায় না। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট দু’আ (খাইরাল মাওলাজ) এর হাদীসটি যঈফ।
যেমন গৃহে প্রবেশ করার সময় গৃহবাসীকে সালাম দেওয়া কর্তব্য। এতে সকলের উপর বরকত নেমে আসে।
অপরের গৃহে প্রবেশ করতে গেলে অনুমতি সহ সালাম জানাতে হবে। বিনা অনুমতিতে অপরের গৃহে সরাসরি প্রবেশ করা হারাম। (সূরাহ আন-নূর ২৪/২৭)
টিকাঃ
১২৩. মুসলিম ৩/১৫৯৮
১২৪. দঈফ আবু দাউদ ১০৯২নং, ৫০৭৩পৃ:
১২৫. তিরমিযী ৫/৬৯
📄 প্রার্থনামূলক কুরআনী দু‘আ’
কুরআন মাজীদের আল্লাহ পাক বহু প্রকার দু'আ' বর্ণনা করে বান্দাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। কুরআনের শব্দে সে সব দু'আ' নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠ। এখানে পাঠকের খিদমতে সেই সকল দু'আ'র বরাত মূল বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে পেশ করব। পুস্তিকার কলেবর বৃদ্ধির আশঙ্কায় তা মূল আরবী ও অর্থ সহ উল্লেখ করতে পারলাম না। আশা করি দু'আ'গুলো কুরআন মাজীদ থেকে মুখস্থ করে নিতে প্রিয় পাঠক-পাঠিকার কোনো অসুবিধা হবে না।
১। সম্পূর্ণ চাইতে- সূরাহ ফাতিহা।
২। আল্লাহর দয়া ও ক্ষমা ভিক্ষা করতেঃ কুরআন ৭নং সূরা/২০৭নং আয়াত। ১১/৪৬। ৭/১৫১ ‘রাব্বিগফিরলী’ থেকে ‘রাহিমীন’ পর্যন্ত। ২৮/১৬ ‘রাব্বি’ থেকে ‘লী’ পর্যন্ত। ২৩/১০৯ ‘রাব্বানা’ থেকে ‘রাহিমীন’ পর্যন্ত। ২৩/১১৬ ‘রাব্বি’ থেকে ‘রাহিমীন’ পর্যন্ত। ৩/১৮৬ ‘রাব্বানা’ থেকে ‘নার’ পর্যন্ত। ৩/১৯১ এর ‘রাব্বানা’ থেকে ১৯৪ এর ‘মীআদ’ পর্যন্ত।
৩। পিতামাতার জন্য দু'আ' করতেঃ ১৭/২৪ ‘রাব্বি’ থেকে ‘সগীরা’ পর্যন্ত। ১৪/৪১। ৭১/২৮।
৪। দু'আ' মঞ্জুর করতে আবেদন জানাতেঃ ২/১২৭ ‘রাব্বানা’ থেকে ‘আলীম’ পর্যন্ত।
৫। পরিজনের চরিত্র সুন্দর এবং মুসলিম হওয়া চাইতেঃ ২/১২৬। ২৬/৮৪। ৪৬/১৫ ‘রাব্বি’ থেকে ‘মুসিলমীন’ পর্যন্ত।
৬। পরিজনকে নামাযী বানাতেঃ ১৪/৪০।
৯। সত্যবাদিতা ও সততা চাইতে: ২৬/৮৫-৮৬।
১০। সুসন্তান চাইতে: ৩/৩৮ ‘রাব্বি’ থেকে ‘দুআ’ পর্যন্ত। ২১/৮৯ ‘রাব্বি’ থেকে ‘ওয়্যারিসীন’ পর্যন্ত। ৩৭/১০০।
১১। অজানা পথে চলা বা ভাসার সময় নিরাপদ ও সঠিক স্থান খুঁজতে: ২০/২৯ ‘রাব্বি’ থেকে ‘মুনযিলীন’ পর্যন্ত।
১২। আল্লাহর প্রশংসামূলক দুআ: ৩/২৬-২৭ ‘আল্লাহুম্মা’ থেকে ‘হিসাব’ পর্যন্ত। ৩৯/৪৫ ‘আল্লাহুম্মা’ থেকে শেষ আয়াত পর্যন্ত। ৮০/৪ ‘রাব্বানা’ থেকে শেষ আয়াত পর্যন্ত।
১৩। শত্রু বা কাফিরদের কবল থেকে মুক্তি চাইতে: ৬৩/৫। ৯০/৪৬ এর ‘রাব্বানা’ থেকে ৮৯ এর শেষ আয়াত পর্যন্ত।
১৪। নেক আমাল করতে সাহায্য চাইতে: ২৭/১৯ ‘রাব্বি’ থেকে শেষ আয়াত পর্যন্ত।
১৫। বিপদ বা ব্যাধিগ্রস্ত হলে: ২১/৮৭ ‘লা ইলাহা ইল্লা আ’ত্তা’ থেকে শেষ আয়াত পর্যন্ত। ২১/৮৩ এর ‘আ’ত্তা’ থেকে শেষ আয়াত পর্যন্ত।
১৬। বিধর্মীর অত্যাচারে- ৭/৮৯ ‘রাব্বানাফতাহ’ থেকে শেষ আয়াত পর্যন্ত।
১৭। দাওয়াতের কাজে সাহায্য চাইতে এবং সুন্দর বাকশক্তি চাইতে: ২০/২৫-২৮।
১৮। জিহাদে ধৈর্য ও স্থিরতা চাইতে: ২/২৫০ ‘রাব্বানা’ থেকে শেষ আয়াত পর্যন্ত। ৩/১৪৭ ‘রাব্বানা’ থেকে শেষ আয়াত পর্যন্ত।
১৯। রুযী ও সম্পদ চাইতে: ১৮/১০ ‘রাব্বানা’ থেকে শেষ আয়াত পর্যন্ত।
২০। জ্ঞান-বুদ্ধি চাইতে: ২০/১১৪ ‘রাব্বি’ থেকে শেষ আয়াত পর্যন্ত।
২১। শয়তান ও জিন থেকে নিষ্কৃতি চাইতে: ২৩/৯৭ এর ‘রাব্বি’ থেকে ৯৮ এর শেষ আয়াত পর্যন্ত।
২২। দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ চাইতে: ২/২০১ ‘রাব্বানা’ থেকে শেষ আয়াত পর্যন্ত।
২৩। ভুলের ক্ষমা, আল্লাহর দয়া ও সাহায্যাাদি চাইতে: ২/২৮৬ ‘রাব্বানা লা তুআখিয়াযনা’ থেকে শেষ সূরা পর্যন্ত।
২৪। দ্বীনে প্রতিষ্ঠিত থাকার উদ্দেশ্যে দুআ: ৩/৮।
২৫। জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্তি চাইতে: ২৫/৬৫ ‘রাব্বানা’ থেকে শেষ আয়াত পর্যন্ত।
২৬। মৃত মুমিনদের জন্য ক্ষমা এবং মুমিনদের থেকে হৃদয়কে দ্বেষমুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে দুআ: ৫৯/১০ ‘রাব্বানা’ থেকে শেষ আয়াত পর্যন্ত।
২৫। অত্যাচারীদের হাত হতে রক্ষা পেতেঃ ৪/৭৫ ‘রাব্বানা’ থেকে শেষ আয়াত পর্যন্ত।
২৬। ২১/২১ ‘রাব্বি’ থেকে শেষ আয়াত পর্যন্ত।
২৭। দুর্বলদের বিরুদ্ধে সাহায্য চাইতেঃ ২৯/৩০ ‘রাব্বি’ থেকে শেষ আয়াত পর্যন্ত।
২৮। বিধর্মী যালিমের অত্যাচারে ধৈর্য এবং মুসলিম হয়ে মরণ চাইতেঃ ৭/১২৬ ‘রাব্বানা আফরিগ’ থেকে শেষ আয়াত পর্যন্ত।
২৯। অন্ধকার ও ঝড়-বাতাসের সময় আল্লাহর পানাহ চাইতেঃ সূরা ফালাক ও নাস।
টিকাঃ
৩৬২. মিশকাত ২১৬২নং