📘 সহীহ দুআ ঝাড়ফুঁক ও যিকর 📄 দু‘আ’ কবুল হবার কারণ

📄 দু‘আ’ কবুল হবার কারণ


পূর্বের আলোচনা হতে কি কি কারণে দু‘আ’ মঞ্জুর হয়, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। যেমন হালাল খাওয়া পরা, দু‘আ’র ফললাভের জন্য তাড়াতাড়ি না করা, পাপ ও জ্ঞাতিবন্ধন ছিন্ন করার দু‘আ’ না করা এবং গোনাহ থেকে দূরে থেকে বিশুদ্ধচিত্তে আল্লাহরই নিকট দু‘আ’ করা ইত্যাদি।

দু‘আ’ কবুলের এক শর্ত হল বিশুদ্ধ ঈমান। তাই কাফির বা মুশরিকের দু‘আ’ বা বদদু‘আ’ কবুল নয়। অবশ্য কাফির যদি মুসলিমের হকে দু‘আ’ করে তবে তাতে ‘আমীন’ বলা বৈধ। কারণ মুসলিমের হকে কাফিরের দু‘আ’ও কবুল হয়ে থাকে।

টিকাঃ
৩৯. আল যিক্র অদ্-দু‘আ’ দ্রষ্টব্য
৪০. সিলসিলাহ সহীহাহ ৬/৪৮৩

📘 সহীহ দুআ ঝাড়ফুঁক ও যিকর 📄 শুদ্ধ দু‘আ’

📄 শুদ্ধ দু‘আ’


দু‘আ’ ও যিকিরকারী মুসলিমদের জন্য একটি সতর্কতার বিষয় এই যে, কেউ যেন দু‘আ’ ও যিকির করতে গিয়ে বিদআত ক’রে না বসে। দু‘আ’ বা যিকির কেবল তাই করা উচিত, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) শিক্ষা দিয়েছেন। অথবা কোনো সাহাবী তাঁর জীবনে তা আমল করে গেছেন। যা কিতাব ও সহীহ (ও হাসান) সুন্নাতে অথবা কোনো সাহাবাওয়ারা আমলে প্রমাণিত। যেহেতু সহীহ হাদীসের উপর আমলই মুসলিমদের জন্য যথেষ্ট। অন্যান্য জাল ও দুর্বল হাদীস অথবা কোনো আলিমের মনগড়া কল্পিত আরবী বাক্য দ্বারা যিকির বা দু‘আ’ বিদআত হবে। যেমন যদি কোনো অনির্দিষ্ট দু‘আ’ বা যিকির কোনো স্থান, সময়, নিয়ম, গুণ, সংখ্যা বা কারণ ইত্যাদি দ্বারা নির্দিষ্ট করে নেওয়া হয়, তাহলে তাও বিদআতরূপে পরিগণিত হবে। তাই সাধারণ ক্ষেত্রে ও নিজের প্রয়োজনের সময় দু‘আ’ করতেও কুরআনী দু‘আ’, শুদ্ধ হাদীসে বর্ণিত দু‘আ’য়ে-রাসূল অথবা শুদ্ধ প্রমাণিত কোনো সাহাবীদের দুআ বেছে নেওয়া উচিত। কোনো দুআ না পেলে হামদ ও দরূদ পড়ে নিজের ভাষায় নিজের প্রয়োজন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা চলে।

পক্ষান্তরে রাসূল (ﷺ) যে স্থানে বা সময়ে দুআ করতে নির্দেশ দিয়েছেন বা নিজে দুআ করেছেন সেই দুআ’র সেই নিয়ম ও পদ্ধতি সকলের ক্ষেত্রে মান্য হবে। যেমন ইস্তিসকা’য়, আরাফায়, সাফা মারওয়ার উপর, ছোট ও মধ্যম জামারায় পাথর মারার পর, কুনূতে, কেউ দুআ করতে আবেদন করলে তার জন্য (কখনো কখনো) হাত তুলে দুআ করেছেন। এসব ক্ষেত্রে হাত তুলে দুআ করা হবে। নামাজের পর দুআ বা যিকির করেছেন বা করতে নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু হাত তোলেননি বা তুলতে নির্দেশ দেননি, দাফনের পর দুআ করতে নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু হাত তুলতে বলেননি বা নিজেও হাত তুলে ওখানে দুআ করেননি, বর-কনের জন্য দুআ করেছেন, কিন্তু হাত তোলেননি। তাই এ সব ক্ষেত্রে এবং যেখানে তাঁর আদর্শ বর্তমান রয়েছে, সেখানে হাত তোলা দুআর আদব বলে আমরা হাত তুলতে পারি না। তাই তো জুমুআর খুতবায় দুআর বিষয় হলেও, হাত তোলা বিদআত। মাসরূক বলেন, ‘(জুমুআর দিন ইমাম-মুক্তাদী মিলে যারা হাত তুলে দুআ করে) আল্লাহ তাদের হাত কেটে নিন।’

অনুরূপ কারণে জামাআতে থাকতেও আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যেখানে জামাআতী দুআ করেননি বা কোনো সাহাবীও করেননি, সেখানে আমরাও জামাআত করে দুআ করতে পারি না। তিনি যেমন করেছেন বা নির্দেশ দিয়েছেন, সাহাবায় কিরাম ঐ সব ক্ষেত্রে যেমন করেছেন, তেমনইটা করা আমাদের কর্তব্য। অনুসরণে আমাদের কল্যাণ এবং নতুনভাবে কিছু করাতেই বিপদ আছে। আসুন, আমরা আগামীতে দেখি, আমাদের আদর্শ রাসূল (ﷺ) কোথায়, কোন সময়ে, কিভাবে, কতবার, কী দুআ বা যিকির পড়েছেন বা পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং সেই মতই আমল করি। যেগুলো প্রার্থনার সাধারণ দুআ সেগুলো আমাদের প্রয়োজন মতো সময়ে অর্থের প্রতি লক্ষ্য করে বেছে নিয়ে প্রার্থনা করি।

টিকাঃ
৬৭. মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ্ ৫৪৮১ ও ৫৪৬৩ নং

📘 সহীহ দুআ ঝাড়ফুঁক ও যিকর 📄 তাসবীহ ও তাহলীল

📄 তাসবীহ ও তাহলীল


ইসলামী মূলমন্ত্র কালিমাহ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللهِ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্।) অর্থ, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। প্রকাশ যে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ দ্বারা যিকির করা যায় কিন্তু ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)’ যোগ করে যিকির করা হয় না। অনুরূপ কেবল আল্লাহ-আল্লাহ বলে বা আল-আল, ইল-ইল, হু-হু বলে যিকিরও বিদআত। যিকিরের তাসবীহ ও তাহলীল নিম্নরূপ:-

১. لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণঃ- “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।”
অর্থঃ- আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য মাবূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশী নেই, তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব, তাঁরই সমস্ত প্রশংসা এবং তিনি সর্ববিষয়ে শক্তিবান।
এই দুআটি দিনে যে কোনো সময়ে ১০০ বার পাঠ করলে ১০ টি গোলাম আজাদ করার সমান সওয়াব হয়, ১০০ টি নেকী লিখা হয়, ১০০ টি গোনাহ মার্জনা করা হয়, সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং সর্বশ্রেষ্ঠ সওয়াবের অধিকারী হওয়া যায়।
যে ব্যক্তি এই দুআটি ১০ বার পাঠ করবে, সে ইসমাঈলের বংশধরের ৪টি গোলাম আজাদের সমান সওয়াব অর্জন করবে।

২. سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ
উচ্চারণঃ- 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি।'
অর্থঃ- আমি আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করি।
দিনের যে কোনো সময়ে এই তাসবীহটি ১০০ বার পাঠ করলে সমুদ্রের ফেনা সম পরিমাণ পাপ হলেও তা মাফ হয়ে যাবে। সকাল ও সন্ধ্যায় ১০০ বার করে পড়লে কিয়ামতে সবচেয়ে বেশি সওয়াব নিয়ে উপস্থিত হবে। আর এটি আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়।

৩. سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ
উচ্চারণঃ- সুবহানাল্লাহিল আজীমি ওয়াবিহামদিহি।
অর্থঃ- আমি মহান আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করি।

৪. سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ, سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ
উচ্চারণঃ সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী সুবহানাল্লাহিল আজীম।
অর্থঃ আমি আল্লাহর সপ্রশংস তাসবীহ পাঠ করি, মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করি।
এই তাসবীহ দুটি মুখে হাল্কা, কিয়ামতে নেকীর মীযানে (পাল্লায়) ভারী এবং আল্লাহর কাছে প্রিয়। যে কোনো সময়ে এটি পাঠ করতে হয়।

৫. سُبْحَانَ اللَّهِ, الْحَمْدُ لِلَّهِ, لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ, اللَّهُ أَكْبَرُ
উচ্চারণঃ সুবহানাল্লাহি, (এটিকে তাসবীহ বলে) আল হামদু লিল্লাহ, (এটিকে তাহমীদ বলে) লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, (এটিকে তাহলীল বলে) আল্লাহু আকবার, (এটিকে তাকবীর বলে)।
অর্থঃ আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করি, যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহরই জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আল্লাহ সবচেয়ে মহান।
এই কালিমাহগুলো বিশ্বের সকল বস্তুর চেয়ে উত্তম ও নবীর প্রিয়। আর আল্লাহর নিকটেও প্রিয়। এগুলো যে কোনো সময়ে আগে পিছে করে পড়া যায়। সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দুআ 'আলহামদুলিল্লাহ' এবং সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ যিকর 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।' একবার তাসবীহ পাঠ করলে ১০০০ টি নেকী লিখা হয় অথবা ১০০০ টি গোনাহ ঝরে যায়। এই কালিমাহগুলো জান্নাতের বৃক্ষহীন বাগানের বৃক্ষচারা। ‘আলহামদু লিল্লাহ’ মীযান ভরে দেয় এবং ‘সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহ’ আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে দেয়।

৬. سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ خَلْقِهِ, سُبْحَانَ اللَّهِ رِضَى نَفْسِهِ, سُبْحَانَ اللَّهِ زِنَةَ عَرْشِهِ, سُبْحَانَ اللَّهِ مِدَادَ كَلِمَاتِهِ
উচ্চারণঃ সুবহানাল্লাহি আদাদা খালকিহি, সুবহানাল্লাহি রিদা নাফসিহি, সুবহানাল্লাহি যিনাতা আরশিহি, সুবহানাল্লাহি মিদাদা কালিমাতিহি।
অর্থঃ আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি, তাঁর সৃষ্টির সমান সংখ্যক, তাঁর মর্জি অনুযায়ী, তাঁর আরশের ওজনের সমান, তাঁর বাক্যবলীর সমান সংখ্যক।
এই তাসবীহটি তিন বার পাঠ করলে ফজরের পর থেকে চাশতের সময় পর্যন্ত যিকর করার সমান সওয়াব পাওয়া যায়। এটি সকালের দিকে বলা ভালো।

৭. যিকর:
الْحَمْدُ لِلَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ... (দীর্ঘ যিকর)
উচ্চারণঃ- আলহামদু লিল্লাহি আদাদা মা খালাকা, আলহামদু লিল্লাহি মিলউআ মা খালাকা...
অর্থঃ- আল্লাহর প্রশংসা তাঁর সৃষ্টির সমান সংখ্যক... এই যিকর পড়লে রাতদিন যিকর করার সমান সওয়াব লাভ হয়। মহানবী (ﷺ) বলেছেন, “তুমি এই যিকর শিখো এবং তোমার পরবর্তীকে শিখিয়ে দাও।”

৮. لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِিকَ لَهُ، اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا، سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ
উচ্চারণঃ- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, আল্লাহু আকবার কাবীরা, আলহামদু লিল্লাহি কাসীরা, সুবহানাল্লাহি রাব্বিল আলামীন, লা হাওলা অলা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আজীযিল হাকীম।
অর্থ- আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, আল্লাহ সবচেয়ে মহান, আল্লাহর অনেক অনেক প্রশংসা। আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, পরাক্রমশালী বিজ্ঞানময় আল্লাহর প্রেরণা দান ছাড়া পাপ থেকে ফেরার এবং সৎকাজ করার (নড়া-সরা) শক্তি নেই।

৯. لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
উচ্চারণঃ- লা হাওলা অলা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি।
অর্থ- পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রেরণা দান ছাড়া পাপ থেকে ফেরার এবং সৎকাজ করার শক্তি নেই। এটি জান্নাতের একটি ভাণ্ডার।

টিকাঃ
৮৮. বুখারী ৪/৪৮, মুসলিম ৪/২০৭১
৮৯. বুখারী ७/২৬৭, মুসলিম ৪/২০৭১
৯০. বুখারী ७/২৬৮, মুসলিম ৪/২০৭১
৯১. মুসলিম ৪/২০৭২
৯২. মুসলিম ২৭০২নং
৯৩. তিরমিযী ৫/৫১১
৯৪. উচ্চারণ ও অর্থ ৩নং এর অনুরূপ
৯৫. মুসলিম
৭৪. বুখারী
৭৫. বুখারী ৭/১৫৮, মুসলিম ৪/২০৭২
৭৬. মুসলিম ৩/১৩৫৫
৭৭. তিরমিযী ৫/৪৮২
৭৮. মুসলিম ২৬৪৮
৭৯. মুসলিম
৮০. মুসলিম ২৭২৬নং
৬১. তাবারানী, সহীহুল জামি' ২৬৫৫নং
৬২. বুখারী ১১/২১০, মুসলিম ৪/২০৭৬

📘 সহীহ দুআ ঝাড়ফুঁক ও যিকর 📄 সকাল ও সন্ধ্যায় যিক্‌র

📄 সকাল ও সন্ধ্যায় যিক্‌র


আল্লাহ তাআ'লা বলেন, যিকর করো অধিক অধিক এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর। (সূরা আল-আহযাব ৪১)

১. সকাল ও সন্ধ্যায় "সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহি" ১০০ বার ক'রে।

২. أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ...
উচ্চারণঃ- আমসাইনা অ আমসাল মুলকু লিল্লাহি, আলহামদু লিল্লাহি, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর। রাব্বি আসআলুকা খাইরা মা ফী হাযিহিল লায়লাতি অ খাইরা মা বা‘দাহা...
অর্থঃ- আমরা এবং সারা রাজ্য আল্লাহর জন্য সন্ধ্যায় উপনীত হলাম। আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই... হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার নিকট অলসতা এবং বার্ধক্যের মন্দ হতে পানাহ চাচ্ছি। হে আমার প্রভু! আমি তোমার নিকট জাহান্নামের এবং কবরের সকল প্রকার আযাব হতে আশ্রয় চাচ্ছি।
এই দুআটি সন্ধ্যার সময় পাঠ করতে হয়। সকাল বেলায়ও এই দুআটি পাঠ করতে হয়। তবে শুরুতে "আমসাইনা অ আমসাল" এর পরিবর্তে "আসবাহনা অ আসবাহাল" বলতে হবে। এটি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) পাঠ করতেন।

৩. সূরাহ “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ”, “কুল আউযুবির রাব্বিল ফালাক” এবং “কুল আউযুবির রাব্বিন নাস” সকাল সন্ধ্যায় তিনবার ক’রে পঠনীয়। যা প্রত্যেক জিনিসের মন্দ থেকে যথেষ্ট হবে।

৪. সকাল হলে পড়তে হয়: اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ النُّشُورُ
অর্থঃ- হে আল্লাহ! তোমারই হুকুমে আমাদের সকাল হল এবং তোমারই হুকুমে আমাদের সন্ধ্যা হয়... তোমারই দিকে আমাদের পুনর্জীবন।
সন্ধ্যা হলে পড়তে হয়: اللَّهُمَّ بِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
অর্থঃ- হে আল্লাহ! তোমারই হুকুমে আমাদের সন্ধ্যা হল এবং তোমারই হুকুমে আমাদের সকাল... তোমারই দিকে আমাদের প্রত্যাবর্তনস্থল।

৫. সাইয়েদুল ইস্তিগফার: اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ...
অর্থঃ- হে আল্লাহ! তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ, আমি তোমার দাস... ক্ষমা প্রার্থনার এই দুআটি যদি কেউ সন্ধ্যাবেলায় পড়ে এ রাতে মারা যায় অথবা সকালবেলায় পড়ে এ দিনে মারা যায়, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

৬. اللَّهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ...
উচ্চারণঃ- আল্লাহুম্মা আলিমাল গায়বি অশশাহাদাহ, ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি রব্বা কুল্লি শাইয়িন অমালিকাহু... শয়তানের মন্দ ও শিরক হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এই দুআটি সকাল-সন্ধ্যায় ও শয়নকালে পঠনীয়।

৭. بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ...
উচ্চারণঃ- বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়্যাদুর্রু মাআ’সমিহী শাইউন ফিল আরদি অলা ফিসসামাঈ অহ্ওয়াস সামীউল আলীম।
অর্থঃ- আমি শুরু করছি সেই আল্লাহর নামে, যার নামের সাথে পৃথিবী ও আকাশের কোনো জিনিস ক্ষতি সাধন করতে পারে না এবং তিনিই সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞাতা। এই দুআটি সন্ধ্যাকালে ৩ বার করে পাঠ করলে কোনো জিনিস ক্ষতি সাধতে পারে না।

৮. أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্চারণঃ- আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত্তা-ম্মা-তি মিন শাররি মা খালাক্ব।
অর্থঃ- আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর অসীলায় যিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার মন্দ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এই দুআটি সন্ধ্যার সময় পড়লে ঐ রাতে কোনো সাপ-বিছা ইত্যাদি কষ্ট দিতে পারে না।

৯. اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ...
উচ্চারণঃ- আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আ-ফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আ-খিরাহ...
অর্থঃ- হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট ইহকালে ও পরকালে নিরাপত্তা চাচ্ছি। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার সম্মুখ ও পশ্চাৎ, ডান ও বাম এবং উপর থেকে রক্ষণাবেক্ষণ কর।

১০. أَصْبَحْنَا عَلَى فِطْرَةِ الْإِسْلَامِ وَعَلَى كَلِمَةِ الْإِخْلَاصِ...
উচ্চারণ- আস্বাহ্'না আলা ফিতরাতিল ইসলামি ওয়াআলা কালিমাতিল ইখলাস, ওয়া আলা দ্বীনি নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদিন (ﷺ)...
অর্থঃ- আমরা সকালে উপনীত হলাম ইসলামের প্রকৃতির উপর, ইখলাসের বাণীর উপর, আমাদের নবী (ﷺ)-এর দ্বীনের উপর...

১১. يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيُثُ، أَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ...
উচ্চারণঃ- ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুমু বিরাহমাতিকা আস্তাগীছু, আসলিহ লী শা'নী কুল্লাহু, অলা তাকিলনী ইলা নাফসী তারফাতা আইন।
অর্থঃ- হে চিরঞ্জীব! হে অবিনশ্বর! আমি তোমার করুণার অসীলায় ফরিয়াদ করছি। তুমি আমার সকল বিষয়কে সংশোধন করে দাও।

টিকাঃ
৮৩. মুসলিম ৪/২০৮৮
৮৪. আবু দাউদ, তিরমিযী
৮৫. তিরমিযী ৫/৪৬৬
৮৬. বুখারী ৭/১৫০
৮৭. আবূ দাউদ, সহীহ তিরমিযী, আলবানী ৩/১৪২
৯৮. আবু দাউদ, তিরমিযী, সহীহ ইবনু মাজাহ, আলবানী ২/৩৩২
৯৯. মুসলিম ৪/২০৯০
১০০. সহীহ ইবনু মাজাহ ২/৩৩২
১১. সহীহুল জামি' ৪/২০৯
১২. নাসায়ী, বাযযার, সহীহ তারগীব ৬৫৪ নং

ফন্ট সাইজ
15px
17px