📄 যিকরের উপকারিতা
আল্লাহর যিকির ও স্মরণে শতাধিক উপকার ও লাভ রয়েছে। যেমন, যিকির শয়তান দূর করে, রহমানকে সন্তুষ্ট করে, অন্তর থেকে দুশ্চিন্তা দূর করে ও অশান্তি অপসারণ করে, হৃদয়ে প্রশান্তি ও উৎফুল্লতা আনে, দেহ-মনকে সবল করে, চিত্তকে জ্যোতির্ময় করে, মুখমণ্ডলকে দীপ্তিময় করে, রুযী আনয়ন করে, আল্লাহর ভালোবাসা দান করে, জীবনে আল্লাহর ভীতি আনে, মু’মিনকে আল্লাহর প্রতি প্রত্যাবর্তন করায়, আল্লাহর সামীপ্য প্রদান করে, মা'রিফাতের দ্বার উন্মুক্ত করে, আল্লাহর স্মরণ দান করে, অন্তর জীবিত করে, আত্মা ও অন্তরকে আহার প্রদান করে, পাপমুক্ত করে, বহু উদ্বেগ দূরীভূত করে, আল্লাহর আযাব ও গযব থেকে নিস্তার দেয়, শান্তি ও রহমত আনে, পরচর্চা, গীবত, চুগলী, গালমন্দ, মিথ্যা, অশ্লীলতা, বাজে ও অসার কথা থেকে দূরে রাখে, কিয়ামতে পরিতাপ থেকে নিষ্কৃতি দেয়, নির্জন ক্রন্দনের সাথে যিকিরকারীকে ছায়াহীন কিয়ামতে আল্লাহর আরশ তলে ছায়া দান করে, হৃদয়ের শূন্যতা ও প্রয়োজন দূর করে, মু’মিনকে সতর্ক ও সংযমী করে, বন্ধুত্ব, প্রেম, সাহায্য ও প্রেরণার মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গতা দান করে, অত্যাধিক নেকী ও পুরস্কারের অধিকারী করে, হৃদয়ের কঠোরতা দূর করে, মনের রোগ নিরাময় করে।
yিক্রকারীর জন্য ফিরিশতা দুআ' করেন, যিক্রের মজলিস ফিরিশতাগণের মজলিস, যিক্রকারীদের নিয়ে আল্লাহ তাআলা ফিরিশতাগণের নিকট গর্ব করেন। যিক্র শুকরের মস্তক, যিক্র দুআ'কে কবুলের যোগ্য করে, মু'মিনকে আল্লাহর আনুগত্যে সহায়তা করে, মুশকিল আসান করে, বিপদ ও বালা দূর করে, অন্তর থেকে সৃষ্টির ভয় দূর করে, মেহনতের কাজে শক্তি প্রদান করে, যিক্রে আছে মিষ্টি সুস্বাদ, আল্লাহর প্রেম ইত্যাদি।¹⁰
টিকাঃ
১০. বিস্তারিত দ্রষ্টব্য, আল-ওয়াবিলুস সায়্যিব, ইবনুল কায়্যিম
আল্লাহর যিকির ও স্মরণে শতাধিক উপকার ও লাভ রয়েছে। যেমন, যিকির শয়তান দূর করে, রহমানকে সন্তুষ্ট করে, অন্তর থেকে দুশ্চিন্তা দূর করে ও অশান্তি অপসারণ করে, হৃদয়ে প্রশান্তি ও উৎফুল্লতা আনে, দেহ-মনকে সবল করে, চিত্তকে জ্যোতির্ময় করে, মুখমণ্ডলকে দীপ্তিময় করে, রুযী আনয়ন করে, আল্লাহর ভালোবাসা দান করে, জীবনে আল্লাহর ভীতি আনে, মু’মিনকে আল্লাহর প্রতি প্রত্যাবর্তন করায়, আল্লাহর সামীপ্য প্রদান করে, মা'রিফাতের দ্বার উন্মুক্ত করে, আল্লাহর স্মরণ দান করে, অন্তর জীবিত করে, আত্মা ও অন্তরকে আহার প্রদান করে, পাপমুক্ত করে, বহু উদ্বেগ দূরীভূত করে, আল্লাহর আযাব ও গযব থেকে নিস্তার দেয়, শান্তি ও রহমত আনে, পরচর্চা, গীবত, চুগলী, গালমন্দ, মিথ্যা, অশ্লীলতা, বাজে ও অসার কথা থেকে দূরে রাখে, কিয়ামতে পরিতাপ থেকে নিষ্কৃতি দেয়, নির্জন ক্রন্দনের সাথে যিকিরকারীকে ছায়াহীন কিয়ামতে আল্লাহর আরশ তলে ছায়া দান করে, হৃদয়ের শূন্যতা ও প্রয়োজন দূর করে, মু’মিনকে সতর্ক ও সংযমী করে, বন্ধুত্ব, প্রেম, সাহায্য ও প্রেরণার মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গতা দান করে, অত্যাধিক নেকী ও পুরস্কারের অধিকারী করে, হৃদয়ের কঠোরতা দূর করে, মনের রোগ নিরাময় করে।
yিক্রকারীর জন্য ফিরিশতা দুআ' করেন, যিক্রের মজলিস ফিরিশতাগণের মজলিস, যিক্রকারীদের নিয়ে আল্লাহ তাআলা ফিরিশতাগণের নিকট গর্ব করেন। যিক্র শুকরের মস্তক, যিক্র দুআ'কে কবুলের যোগ্য করে, মু'মিনকে আল্লাহর আনুগত্যে সহায়তা করে, মুশকিল আসান করে, বিপদ ও বালা দূর করে, অন্তর থেকে সৃষ্টির ভয় দূর করে, মেহনতের কাজে শক্তি প্রদান করে, যিক্রে আছে মিষ্টি সুস্বাদ, আল্লাহর প্রেম ইত্যাদি।¹⁰
টিকাঃ
১০. বিস্তারিত দ্রষ্টব্য, আল-ওয়াবিলুস সায়্যিব, ইবনুল কায়্যিম
📄 যিকরের প্রকার
যিক্র দুই প্রকার :
১। আল্লাহ তাআলার সুন্দরতম নামাবলী এবং মহত্তম গুণাবলীর যিক্র করা, এসব দ্বারা তাঁর প্রশংসা ও গুণগান করা এবং আল্লাহর জন্য যা উপযুক্ত নয় তা থেকে তাঁকে পাক ও পবিত্র মনে করা। এই যিক্রও আবার দুই প্রকারের;
ক- আল্লাহর নাম ও গুণাবলী দ্বারা তাঁর প্রশংসা রচনা করা। যেমন ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আল-হামদু লিল্লাহ’, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’ প্রভৃতি।
খ- আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর অর্থ ও আহকাম উল্লেখ করা। যেমন বলা যে, আল্লাহ তাআলা বান্দার সমস্ত শব্দ শুনেন, সকল স্পন্দন দেখেন তাঁর নিকট কোন কর্মই গুপ্ত থাকে না, বান্দার মাতা-পিতা অপেক্ষা তিনিই বান্দার উপর অধিক দয়াময়। তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান --ইত্যাদি।
কিন্তু এ ক্ষেত্রে সতর্কতার বিষয় এই যে, যিক্রকারী যেন সেই নাম ও গুণের কথাই উল্লেখ করে, যার দ্বারা আল্লাহ পাক নিজের প্রশংসা করেছেন অথবা তাঁর রসূল (ﷺ) যার দ্বারা তাঁর গুণগান করেছেন। এতে যেন কোন প্রকারের হেরফের ও দৃষ্টান্ত বা উপমা বর্ণনা না করা হয় এবং গুণের দলীলাকে নিরর্থক বা আল্লাহকে ঐ গুণহীন মনে করা না হয়। যেমন ঐ সকল নাম ও সিফাতের কোন দূর-ব্যাখ্যা করাও বৈধ নয়।
पक्षান্তরে এই যিক্র আবার তিন প্রকারের; হামদ, সানা এবং মাজদ। সত্ত্বায় ও ভক্তির সাথে আল্লাহর সিফাতে-কামাল উল্লেখ করে প্রশংসা করাকে ‘হামদ’ বলা হয়। গুণের পর আরো গুণগানের উল্লেখ করে প্রশংসা করাকে ‘সানা’ বলা হয় এবং আল্লাহ তাআলার মাহাত্ম্য ও শান-শওকত এবং মহিমা ও সার্বভৌমত্বের গুণাবলী দ্বারা প্রশংসা করাকে ‘মাজ্দ’ বলা হয়। এই তিন প্রকার প্রশংসা সুরাহ ফাতিহার প্রারম্ভে একত্রিত হয়েছে। অতএব বান্দা যখন নামাযে বলে (الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) অর্থাৎ, ‘সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর নিমিত্তে’ তখন আল্লাহ বলেন, ‘বান্দা আমার প্রশংসা করল।’ যখন বলে, (الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) অর্থাৎ ‘যিনি অনন্ত করুণাময়, পরম দয়ালু’ তখন আল্লাহ বলেন, ‘বান্দা আমার স্তুতি বর্ণনা করল।’ আর বান্দা যখন বলে, (مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ) অর্থাৎ ‘বিচার দিনের অধিপতি’ তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বান্দা আমার গৌরব বর্ণনা করল।
২। আল্লাহর আদেশ, নিষেধ এবং বিভিন্ন অনুশাসনের যিক্র (স্মরণ) করা। এটিও দুই রকম;
ক - আল্লাহর বিধান উল্লেখ ও জ্ঞাপন করে তাঁর স্মরণ করা। যেমন বলা যে, আল্লাহ এই করতে আদেশ করেছেন, অমুক করতে নিষেধ করেছেন, তিনি এই কাজে সন্তুষ্ট, ঐ কাজে রাগান্বিত ইত্যাদি।
খ - তাঁর বিধান ও অনুশাসন পালন করে তাঁর যিক্র (স্মরণ করা, যেমন, যে কাজ তিনি আদেশ করেছেন সত্বর তা পালন করে তাঁর যিক্র করা, যা নিষেধ করেছেন সত্বর তা বর্জন করে তাঁর স্মরণ করা। এই সকল যিক্র যদি যিক্রকারীর নিকট একত্রিত হয়, তবে তার যিক্র শ্রেষ্ঠতম যিক্র।
যিকরের আরো এক প্রকার যিক্র; আল্লাহ তাআলার দেওয়া সম্পদ, দান অনুগ্রহ, সাহায্য ইত্যাদির স্থান ও কাল প্রভৃতি উল্লেখ করে যিক্র (শুক্র) করা। এটিও এক উত্তম যিক্র।
সুতরাং উক্ত পাঁচ প্রকার যিক্র, যা কখনো অন্তর ও রসনা দ্বারা হয় এবং এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ যিক্র। আবার কখনো কেবল অন্তর দ্বারা হয়, যা দ্বিতীয় পর্যায়ের এবং কখনো বা কেবল রসনা দ্বারা হয়, যা তৃতীয় পর্যায়ের। ২ নং যিক্র হলে অন্যান্য অঙ্গ দ্বারা কার্যে পরিণত করাও যিক্র হয়। অতএব মুমিনের সারা জীবন ও জীবনের প্রতি মুহূর্তটাই যিক্রের স্থল। যেমন রসূল (ﷺ)-এর যিক্রে আমরা বুঝতে পারব।
উল্লেখ্য যে, দুআ অপেক্ষা যিক্র উত্তম। যেহেতু যিক্রে আল্লাহ তাআলার সুন্দরতম নাম, মহিমাময় গুণ ইত্যাদির সাথে তাঁর প্রশংসা করা হয়। কিন্তু দুআতে বান্দা নিজের প্রয়োজন আল্লাহর নিকট জানিয়ে তার পূরণ ভিক্ষা করে থাকে। যে দুইয়ের মাঝে রয়েছে বিরাট পার্থক্য। আবার যিক্র অপেক্ষা কুরআন তিলাওয়াত উত্তম। কিন্তু যথোপযুক্ত সময়কালে তিলাওয়াত, যিক্র ও দুআ’ স- ব স্থানে শ্রেষ্ঠ।¹¹
টিকাঃ
১১. মুসলিম ৩৪৮
যিক্র দুই প্রকার :
১। আল্লাহ তাআলার সুন্দরতম নামাবলী এবং মহত্তম গুণাবলীর যিক্র করা, এসব দ্বারা তাঁর প্রশংসা ও গুণগান করা এবং আল্লাহর জন্য যা উপযুক্ত নয় তা থেকে তাঁকে পাক ও পবিত্র মনে করা। এই যিক্রও আবার দুই প্রকারের;
ক- আল্লাহর নাম ও গুণাবলী দ্বারা তাঁর প্রশংসা রচনা করা। যেমন ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আল-হামদু লিল্লাহ’, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’ প্রভৃতি।
খ- আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর অর্থ ও আহকাম উল্লেখ করা। যেমন বলা যে, আল্লাহ তাআলা বান্দার সমস্ত শব্দ শুনেন, সকল স্পন্দন দেখেন তাঁর নিকট কোন কর্মই গুপ্ত থাকে না, বান্দার মাতা-পিতা অপেক্ষা তিনিই বান্দার উপর অধিক দয়াময়। তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান --ইত্যাদি।
কিন্তু এ ক্ষেত্রে সতর্কতার বিষয় এই যে, যিক্রকারী যেন সেই নাম ও গুণের কথাই উল্লেখ করে, যার দ্বারা আল্লাহ পাক নিজের প্রশংসা করেছেন অথবা তাঁর রসূল (ﷺ) যার দ্বারা তাঁর গুণগান করেছেন। এতে যেন কোন প্রকারের হেরফের ও দৃষ্টান্ত বা উপমা বর্ণনা না করা হয় এবং গুণের দলীলাকে নিরর্থক বা আল্লাহকে ঐ গুণহীন মনে করা না হয়। যেমন ঐ সকল নাম ও সিফাতের কোন দূর-ব্যাখ্যা করাও বৈধ নয়।
पक्षান্তরে এই যিক্র আবার তিন প্রকারের; হামদ, সানা এবং মাজদ। সত্ত্বায় ও ভক্তির সাথে আল্লাহর সিফাতে-কামাল উল্লেখ করে প্রশংসা করাকে ‘হামদ’ বলা হয়। গুণের পর আরো গুণগানের উল্লেখ করে প্রশংসা করাকে ‘সানা’ বলা হয় এবং আল্লাহ তাআলার মাহাত্ম্য ও শান-শওকত এবং মহিমা ও সার্বভৌমত্বের গুণাবলী দ্বারা প্রশংসা করাকে ‘মাজ্দ’ বলা হয়। এই তিন প্রকার প্রশংসা সুরাহ ফাতিহার প্রারম্ভে একত্রিত হয়েছে। অতএব বান্দা যখন নামাযে বলে (الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) অর্থাৎ, ‘সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর নিমিত্তে’ তখন আল্লাহ বলেন, ‘বান্দা আমার প্রশংসা করল।’ যখন বলে, (الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) অর্থাৎ ‘যিনি অনন্ত করুণাময়, পরম দয়ালু’ তখন আল্লাহ বলেন, ‘বান্দা আমার স্তুতি বর্ণনা করল।’ আর বান্দা যখন বলে, (مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ) অর্থাৎ ‘বিচার দিনের অধিপতি’ তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বান্দা আমার গৌরব বর্ণনা করল।
২। আল্লাহর আদেশ, নিষেধ এবং বিভিন্ন অনুশাসনের যিক্র (স্মরণ) করা। এটিও দুই রকম;
ক - আল্লাহর বিধান উল্লেখ ও জ্ঞাপন করে তাঁর স্মরণ করা। যেমন বলা যে, আল্লাহ এই করতে আদেশ করেছেন, অমুক করতে নিষেধ করেছেন, তিনি এই কাজে সন্তুষ্ট, ঐ কাজে রাগান্বিত ইত্যাদি।
খ - তাঁর বিধান ও অনুশাসন পালন করে তাঁর যিক্র (স্মরণ করা, যেমন, যে কাজ তিনি আদেশ করেছেন সত্বর তা পালন করে তাঁর যিক্র করা, যা নিষেধ করেছেন সত্বর তা বর্জন করে তাঁর স্মরণ করা। এই সকল যিক্র যদি যিক্রকারীর নিকট একত্রিত হয়, তবে তার যিক্র শ্রেষ্ঠতম যিক্র।
যিকরের আরো এক প্রকার যিক্র; আল্লাহ তাআলার দেওয়া সম্পদ, দান অনুগ্রহ, সাহায্য ইত্যাদির স্থান ও কাল প্রভৃতি উল্লেখ করে যিক্র (শুক্র) করা। এটিও এক উত্তম যিক্র।
সুতরাং উক্ত পাঁচ প্রকার যিক্র, যা কখনো অন্তর ও রসনা দ্বারা হয় এবং এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ যিক্র। আবার কখনো কেবল অন্তর দ্বারা হয়, যা দ্বিতীয় পর্যায়ের এবং কখনো বা কেবল রসনা দ্বারা হয়, যা তৃতীয় পর্যায়ের। ২ নং যিক্র হলে অন্যান্য অঙ্গ দ্বারা কার্যে পরিণত করাও যিক্র হয়। অতএব মুমিনের সারা জীবন ও জীবনের প্রতি মুহূর্তটাই যিক্রের স্থল। যেমন রসূল (ﷺ)-এর যিক্রে আমরা বুঝতে পারব।
উল্লেখ্য যে, দুআ অপেক্ষা যিক্র উত্তম। যেহেতু যিক্রে আল্লাহ তাআলার সুন্দরতম নাম, মহিমাময় গুণ ইত্যাদির সাথে তাঁর প্রশংসা করা হয়। কিন্তু দুআতে বান্দা নিজের প্রয়োজন আল্লাহর নিকট জানিয়ে তার পূরণ ভিক্ষা করে থাকে। যে দুইয়ের মাঝে রয়েছে বিরাট পার্থক্য। আবার যিক্র অপেক্ষা কুরআন তিলাওয়াত উত্তম। কিন্তু যথোপযুক্ত সময়কালে তিলাওয়াত, যিক্র ও দুআ’ স- ব স্থানে শ্রেষ্ঠ।¹¹
টিকাঃ
১১. মুসলিম ৩৪৮
📄 তিলাওয়াতের ফদীলত
প্রিয় নবী (ﷺ) বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করবে, সে এর বিনিময়ে একটি নেকী অর্জন করবে। আর একটি নেকী দশগুণ করা হবে। (অর্থাৎ, একটি অক্ষর তিলাওয়াতের প্রতিদানে ১০টি নেকীর অধিকারী হবে।) আমি বলছি না যে, আলিফ-লাম-মীম’ একটি অক্ষর। (বরং এতে রয়েছে তিনটি অক্ষর।)”¹²
“তোমরা কুরআন পাঠ কর। কারণ তা কিয়ামতের দিন পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী রূপে আবির্ভূত হবে।”¹³
“যে ব্যক্তি দশটি আয়াত পাঠ করবে, সে উদাসীনদের মধ্যে লিখিত হবে না, যে ব্যক্তি একশ’টি আয়াত পাঠ করবে, সে অনুগতদের মধ্যে লিখিত হবে। আর যে ব্যক্তি এক হাজারটি আয়াত পাঠ করবে, সে (অশেষ সওয়াবের) ধনপতিদের মধ্যে লিখিত হবে।”¹⁴
“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়।”¹⁵
“মাসজিদে গিয়ে একটি আয়াত শিক্ষা করা বা মুখস্থ করা একটি বৃহদাকার উট লাভ করার চেয়েও উত্তম।”¹⁶
“যে ব্যক্তি কষ্ট করেও কুরআন শুদ্ধ করে পড়ার চেষ্টা করে, তার ডবল সাওয়াব।”¹⁷
“কুরআন-ওয়ালারাই আল্লাহওয়ালা এবং তাঁর বিশিষ্ট বান্দা।”¹⁸
“কুরআন তিলাওয়াতকারী পরকালে সম্মানের মুকুট ও সম্মানের পোশাক পরিধান করবে। আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন এবং আয়াতের সংখ্যা পরিমাণে সে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত হবে।”¹⁹
“মর্যাদায় সবচেয়ে বড় সুরাহ হল, সূরাহ ফাতেহা।”²⁰
“যে গৃহে সূরাহ বাক্বারাহ তিলাওয়াত হয়, সে গৃহে শয়তান (জ্বিন) প্রবেশ করে না।”²¹
“মর্যাদায় সর্বাপেক্ষা বড় আয়াত, আয়াতুল কুরসী।”²²
“রাত্রে সূরাহ বাক্বারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করলে, তা সব কিছু হতে যথেষ্ট হবে।”²৩
“সূরাহ বাক্বারাহ ও আলু-ইমরান উভয় সূরাই তিলাওয়াতকারীর জন্য কিয়ামতে আল্লাহর নিকট সুপারিশ করবে।”²⁴
“সূরাহ কাহফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করলে দাজ্জালের ফিতনা থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব হবে।”²৫
“জুমুআর দিন সূরাহ কাহফ পাঠ করলে দুই জুমুআর মধ্যবর্তী জীবন আলোকসময় হবে।”²৬
“সূরাহ মূলুক তার তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ ক'রে পাপস্খলন করবে।”²৭
“চার বার সূরাহ ‘কাফিরুন’ পাঠ করলে এক খতমের সমান সাওয়াব লাভ হয়।”²৮
“সূরাহ ‘ইখলাস’ তিনবার পাঠ করলে এক খতমের সমান নেকী লাভ হয়।”²৯
“যে সূরাহ ইখলাস ভালোবাসে, সে আল্লাহর ভালোবাসা এবং জান্নাত লাভ করবে।”³⁰
“উক্ত সূরাহ দশবার পাঠ করলে পাঠকারীর জন্য জান্নাতে এক গৃহ নির্মাণ করা হবে।”³¹
“কোন সম্প্রদায় আল্লাহর গৃহসমূহের কোন গৃহে সমবেত হয় যখনই কুরআন তিলাওয়াত করে এবং আপোসে তার শিক্ষা গ্রহণ করে তখনই তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হয়, রহমতও তাদেরকে ছেয়ে নেয়, ফিরিশ্তামণ্ডলী তাদেরকে বেষ্টিত করে রাখেন এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তী ফিরিশ্তাবর্গের নিকট তাদের কথা আলোচনা করেন।”³²
টিকাঃ
১২. বিস্তারিত দ্রষ্টব্য আল ওয়াবিলুস সায়াব
১৩. তিরমিযী ৫/১৭৫, সহীহুল জামি’ ৫/৩৮০
১৪. মুসলিম
১৫. সিলসিলাহ সহীহাহ ৬৪২
১৬. বুখারী ৬/১০৮
১৭. মুসলিম
১৮. বুখারী ও মুসলিম
১৯. সহীহুল জামি’ ৬১১৬
২০. সহীহুল জামি’, ৮৩৩০, ৮০২২, ৮০২১
২১. বুখারী
২২. মুসলিম
২৩. মুসলিম
২৪. বুখারী, মুসলিম
২৫. মুসলিম
২৬. মুসলিম
২৭. সহীহুল জামি’ ৬৪৬০
২৮. আবু দাউদ, তিরমিযী
২৯. সহীহুল জামি’ ৬৪৬৬
৩০. বুখারী, মুসলিম
৩১. বুখারী, মুসলিম
৩২. সহীহুল জামি’ ৬৪৬২
৩২. মুসলিম
📄 দু‘আ’র ফদীলত
আল্লাহ তাআলা বলেন, ﴿وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ﴾ অর্থাৎ, তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাক (আমার নিকট দুআ’ কর) আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব (আমি তোমাদের দুআ’ কবুল করব)। যারা অহংকারে আমার উপাসনায় (আমার কাছে দুআ’ করা হতে) বিমুখ, ওরা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” (সূরা গাফের/৬০ আয়াত)
তিনি আরো বলেন, “আর আমার বান্দাগণ যখন আমার সম্বন্ধে তোমাকে প্রশ্ন করে (তখন তুমি বল,), আমি তো কাছেই আছি। যখন কোন প্রার্থনাকারী আমার কাছে প্রার্থনা জানায়, তখন আমি তার প্রার্থনা মঞ্জুর করি।” (সূরা বাক্বারাহ ১৮৬)
রসূল (ﷺ) বলেন, “দুআ’ই তো ইবাদাত।”³³
“নিশ্চয় তোমাদের প্রভু লজ্জাশীল অনুগ্রহপরায়ণ, বান্দা যখন তাঁর দিকে দুই হাত তোলে, তখন তা শ্যূন্য ও নিরাশভাবে ফিরিয়ে দিতে বান্দা থেকে লজ্জা করেন।”³⁴
“যে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে না, আল্লাহ তার উপর ক্রোধান্বিত হন।”³⁵
দুআ’ অন্যান্য ইবাদাতের মতও এক ইবাদাত। যা আল্লাহরই জন্য নির্দিষ্ট। সুতরাং গায়রুল্লাহর নিকট দুআ’ ও প্রার্থনা করলে বা কিছু চাইলে অথবা গায়রুল্লাহকে ডাকলে তা অবশ্যই শিরক হয়। তাই যাবতীয় দুআ’ ও প্রার্থনা কেবল আল্লাহরই নিকট করতে হয় এবং যত কিছু চাওয়া কেবল তাঁরই নিকট চাইতে হয়। সর্বপ্রকার, সর্বাবস্থায় এবং একই সময় অসংখ্য ডাক কেবল তিনিই শুনতে ও বুঝতে পারেন এবং সর্বপ্রকার দান কেবল তিনিই করতে পারেন।
টিকাঃ
৩৩. আবু দাউদ ২/৭৮, তিরমিযী ৫/২১১
৩৪. আবু দাউদ ২/৭৮, তিরমিযী ৫/৫৫৭
৩৫. তিরমিযী ৫/৪৫৬, ইবনু মাজাহ ২/১২৩৮