📘 সহীহ দুআ ঝাড়ফুঁক ও যিকর 📄 ভূমিকা

📄 ভূমিকা


সহীহ সুন্নাহ বা হাদীস দ্বারা শুদ্ধ আমাল ও ইবাদাত করতে বাংলার মুসলিম সমাজকে অনুপ্রাণিত করার উদ্দেশ্যে এটি একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। যেহেতু সন্দিগ্ধ দুর্বল হাদীসকে ভিত্তি ক’রে কোন আমল করার চেয়ে সহীহ হাদীসকেই ভিত্তি করে নিঃসন্দেহে নিশ্চিতরূপে আমাল করাটাই উত্তম। কারণ দুর্বল হাদীস দ্বারা আমাল ‘বিদআ’ত’ বলে পরিগণিত।

বাংলা ভাষায় লিখিত অধিকাংশ দুআ’ ও যিকরের বই-পুস্তকগুলোতে অনেক দুর্বল হাদীস থেকে দুআ’ ও যিকর সংকলিত হয়েছে। যার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রেখে -আমার জানা মতে বিশুদ্ধ হাদীস থেকে বিশুদ্ধ দুআ’গুলো অত্র पुस्तিকায় সংকলন করেছি। এ প্রয়াস আল-মাজমাহার সমবায় ইসলামী দা’ওয়াত অফিসের কর্তৃপক্ষের নিকট ব্যক্ত হলে তাঁরা বইটিকে প্রকাশ করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর জন্য আমি নিজে এবং তাঁদের জন্য আল্লাহর নিকট উত্তম প্রতিদানের আশা রাখি।

অর্থ-হৃদয়ঙ্গম সহ নামায, দুআ’ ও যিকর-আদি করাই উত্তম ও আবশ্যিক তবে এ পুস্তিকায় প্রত্যেক দুআ’র শেষে তার অর্থ সংযোজিত হয়েছে। আরবী জানেন না এমন বাংলা ভাষী পাঠকের জন্য দুআ’র বাংলা উচ্চারণও তার সাথে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু আরবী ভিন্ন কোন অন্য ভাষায় কুরআন কারীমের আয়াত লিখা ওলামা’দের ফাতওয়া মতে অবৈধ বলে কোন কুরআনী দুআ’র উচ্চারণ দেওয়া সম্ভব হয়নি। আশা করি আল্লাহ ও তাঁর যিকর-ভক্ত মুসলিম পাঠক কোন ক্বারী আলিমের নিকট মৌখিক মুখস্থ করে নেবেন। অথবা নিজে আরবী শিখে সৃষ্টিকর্তা সুমহান প্রভুর বাণী নিজে পড়ার সৌভাগ্য লাভ করবেন। কারণ ভক্তি-ভাজনের বচনামৃতে পরিতৃপ্ত না হতে পারলে ভক্তের ভক্তি অপূর্ণই থেকে যায়।

বিশেষ কতকগুলো আরবী অক্ষর উচ্চারণের প্রয়াসে বিশেষ বানান প্রদত্ত হয়েছে। যেমন, শ = শ', স = সঁ, য = যঁ, ত = তঁ, ক = ক্ব, ও = অ, ওয়া, ব, ع ও غ তে যজম বুঝাতে = ' ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন তাশদীদের নিচে জের ব্যবহার করা হয়েছে হরফের উপরেই, যা খেয়াল করে পড়া একান্ত জরুরী।

যাঁরা প্রতিনিয়ত আল্লাহ তাআলার স্মরণ চান এবং তাঁর রাসূল (ﷺ)- এর নির্ভেজাল অনুসরণ চান তাঁরা অত্র পুস্তিকা দ্বারা প্রভূত উপকৃত হবেন, এতে কোন সন্দেহ নেই। আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর বিশুদ্ধ অনুসরণের সাথে তাঁকে সর্বদা স্মরণকারীদের দলভুক্ত করুন। আমীন!

আব্দুল হামীদ মাদানী আল-মাজমাজআহ সউদী আরব ৩০/১০/১৪

সহীহ সুন্নাহ বা হাদীস দ্বারা শুদ্ধ আমাল ও ইবাদাত করতে বাংলার মুসলিম সমাজকে অনুপ্রাণিত করার উদ্দেশ্যে এটি একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। যেহেতু সন্দিগ্ধ দুর্বল হাদীসকে ভিত্তি ক’রে কোন আমল করার চেয়ে সহীহ হাদীসকেই ভিত্তি করে নিঃসন্দেহে নিশ্চিতরূপে আমাল করাটাই উত্তম। কারণ দুর্বল হাদীস দ্বারা আমাল ‘বিদআ’ত’ বলে পরিগণিত।

বাংলা ভাষায় লিখিত অধিকাংশ দুআ’ ও যিকরের বই-পুস্তকগুলোতে অনেক দুর্বল হাদীস থেকে দুআ’ ও যিকর সংকলিত হয়েছে। যার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রেখে -আমার জানা মতে বিশুদ্ধ হাদীস থেকে বিশুদ্ধ দুআ’গুলো অত্র पुस्तিকায় সংকলন করেছি। এ প্রয়াস আল-মাজমাহার সমবায় ইসলামী দা’ওয়াত অফিসের কর্তৃপক্ষের নিকট ব্যক্ত হলে তাঁরা বইটিকে প্রকাশ করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর জন্য আমি নিজে এবং তাঁদের জন্য আল্লাহর নিকট উত্তম প্রতিদানের আশা রাখি।

অর্থ-হৃদয়ঙ্গম সহ নামায, দুআ’ ও যিকর-আদি করাই উত্তম ও আবশ্যিক তবে এ পুস্তিকায় প্রত্যেক দুআ’র শেষে তার অর্থ সংযোজিত হয়েছে। আরবী জানেন না এমন বাংলা ভাষী পাঠকের জন্য দুআ’র বাংলা উচ্চারণও তার সাথে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু আরবী ভিন্ন কোন অন্য ভাষায় কুরআন কারীমের আয়াত লিখা ওলামা’দের ফাতওয়া মতে অবৈধ বলে কোন কুরআনী দুআ’র উচ্চারণ দেওয়া সম্ভব হয়নি। আশা করি আল্লাহ ও তাঁর যিকর-ভক্ত মুসলিম পাঠক কোন ক্বারী আলিমের নিকট মৌখিক মুখস্থ করে নেবেন। অথবা নিজে আরবী শিখে সৃষ্টিকর্তা সুমহান প্রভুর বাণী নিজে পড়ার সৌভাগ্য লাভ করবেন। কারণ ভক্তি-ভাজনের বচনামৃতে পরিতৃপ্ত না হতে পারলে ভক্তের ভক্তি অপূর্ণই থেকে যায়।

বিশেষ কতকগুলো আরবী অক্ষর উচ্চারণের প্রয়াসে বিশেষ বানান প্রদত্ত হয়েছে। যেমন, শ = শ', স = সঁ, য = যঁ, ত = তঁ, ক = ক্ব, ও = অ, ওয়া, ব, ع ও غ তে যজম বুঝাতে = ' ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন তাশদীদের নিচে জের ব্যবহার করা হয়েছে হরফের উপরেই, যা খেয়াল করে পড়া একান্ত জরুরী।

যাঁরা প্রতিনিয়ত আল্লাহ তাআলার স্মরণ চান এবং তাঁর রাসূল (ﷺ)- এর নির্ভেজাল অনুসরণ চান তাঁরা অত্র পুস্তিকা দ্বারা প্রভূত উপকৃত হবেন, এতে কোন সন্দেহ নেই। আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর বিশুদ্ধ অনুসরণের সাথে তাঁকে সর্বদা স্মরণকারীদের দলভুক্ত করুন। আমীন!

আব্দুল হামীদ মাদানী আল-মাজমাজআহ সউদী আরব ৩০/১০/১৪

📘 সহীহ দুআ ঝাড়ফুঁক ও যিকর 📄 যিকরের ফদীলত

📄 যিকরের ফদীলত


‘যিকর’-এর অর্থ স্মরণ। মুমিন সর্বদা আল্লাহর রহমত ছায়ায় প্রতিপালিত, তার জীবন আল্লাহর দয়াবারিদে সদা সিক্ত। তার জীবনের সকল কিছুই আল্লাহর দান। প্রতি পদে তাকে আল্লাহরই আনুগত্য করতে হয়। আল্লাহই তার স্রষ্টা, মালিক, বিধানকর্তা এবং একমাত্র উপাস্য। তাই তার নিকটে আল্লাহ সদা স্মরণীয়। অন্তরে, মুখে ও কর্মে তাঁর যিকর করা মুসলিমের অপরিহার্য কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, (وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ) অর্থাৎ, আল্লাহর যিকর (স্মরণ)ই সবচেয়ে বড়।’ (সূরাহ আনকাবূত ৪৫ আয়াত)

তিনি আরো বলেন, (فَاذْكُرُونِي أَذْคُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ) অর্থাৎ, অতএব তোমরা আমাকে স্মরণ কর আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং কৃতঘ্ন হয়ো না।’ (সূরাহ বাক্বারাহ ১৫২)

তিনি অন্যত্র বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিকরূপে স্মরণ কর।’ (সূরাহ আহযাব ৪১)

তিনি আরো বলেন, ‘আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও আল্লাহকে অধিক স্মরণকারিণী নারী এদের জন্য আল্লাহ ক্ষমা ও মহা প্রতিদান রেখেছেন।’ (সূরাহ আহযাব ৩৫ আয়াত)

তিনি আরো বলেন, “হে মুমিনগণ তোমাদের ঐশ্বর্য ও সন্তান-সন্তুতি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণে উদাসীন না করে, যারা উদাসীন হবে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।” (সূরাহ মুনাফিকূন ৯)

তিনি আরো বলেন, “সেই সমস্ত গৃহে -- যে সমস্ত গৃহকে আল্লাহ নির্মাণ ও সম্মান করতে এবং তাতে তাঁর নাম স্মরণ করতে আদেশ দিয়েছেন সেখানে সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে সে সব লোক, যাদেরকে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে এবং নামায পড়া ও যাকাত প্রদান করা হতে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেদিনের, যেদিন তাদের অন্তর ও দৃষ্টি ভীতি-বিহ্বল হয়ে পড়বে।” (সূরাহ নূর ৩৬-৩৭)

“তুমি তোমার প্রতিপালককে মনে মনে সবিনয় ও সশঙ্কচিত্তে অনুচ্চস্বরে প্রভাতে ও সন্ধ্যায় স্মরণ কর এবং উদাসীনদের দলভুক্ত হয়ো না।” (সূরাহ আ’রাফ ২০৫)

তিনি অন্যত্র বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন কোন দলের সম্মুখীন হবে, তখন অবিচলিত থাক এবং আল্লাহকে অধিক অধিক স্মরণ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।” (সূরাহ আনফাল ৪৫)

তিনি আরো বলেন, “অতঃপর যখন তোমরা হাজ্জ সম্পন্ন করে নেবে, তখন আল্লাহকে এমনভাবে স্মরণ করবে যেমন তোমরা তোমাদের পিতাপুরুককে স্মরণ করতে অথবা তদপেক্ষা গভীরভাবে।” (সূরা বাকারা ২০০ আয়াত)

তিনি বলেন, “অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান কর ও আল্লাহকে অধিকরূপে স্মরণ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হও।” (সূরা জুমুআহ ১০ আয়াত)

তিনি আরো বলেন, “সে (ইউনুস) যদি আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা না করত, তাহলে সে পুনরুত্থান-দিবস পর্যন্ত সেথায় (মাছের পেটে) অবস্থান করত।”¹

আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন, “কোন সম্প্রদায় যখন আল্লাহর যিক্র করতে বসে তখন ফিরিশ্‌তামণ্ডলী তাদেরকে বেষ্টিত করেন, আল্লাহর রহমত তাদেরকে ছেয়ে নেয়, তাদের উপর শান্তি বর্ষণ হয় এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তী ফিরিশ্‌তাবর্গের নিকট তাদের কথা আলোচনা করেন।”²

“আল্লাহর ভ্রমণরত অতিরিক্ত ফিরিশ্‌তাদল আছেন, যাঁরা যিকরের মজলিস অনুসন্ধান করে থাকেন।”³

“যে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং যে করে না, উভয়ের উপমা জীবিত ও মৃতের ন্যায়।”⁴

“আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের উত্তম কাজের সন্ধান দেব না? যা তোমাদের প্রভুর নিকট সবচেয়ে পবিত্র, তোমাদের মর্যাদায় সব চেয়ে উচ্চ, সোনা-চাঁদি দান করার চেয়ে উত্তম এবং শত্রুর সম্মুখীন হয়ে গর্দান কাটা ও কাটানোর চেয়ে শ্রেয়।” সকলে বললেন, ‘নিশ্চয় বলে দিন।’ তিনি বললেন, “আল্লাহ তাআলার যিক্র।”⁵

“আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি আমার বান্দার ধারণার কাছে থাকি। যখন সে আমাকে স্মরণ করে তখন আমি তার সঙ্গে থাকি। যদি সে আমাকে অন্তরে স্মরণ করে তাহলে তাকেও আমি আমার অন্তরে স্মরণ করি, যদি সে আমাকে কোন সভায় স্মরণ করে তবে আমি তাকে তার চেয়ে উত্তম সভায় স্মরণ করে থাকি-।⁶

"মুফাররিদগণ আগে বেড়ে গেছে।" সকলে জিজ্ঞাসা করল, 'হে আল্লাহর রাসূল! 'মুফাররিদ কারা?' তিনি বললেন, "আল্লাহর অধিক অধিক যিকিরকারী পুরুষ ও নারী।"⁷

এক ব্যক্তি বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! কল্যাণের দরজা তো অনেক। তার সবটা পালন করতে আমি সক্ষম নই। অতএব আমাকে এমন কাজের সন্ধান দিন, যাকে আমি দৃঢ়ভাবে ধরে থাকব, আর অধিক ভার দিবেন না যাতে আমি ভুলে না যাই (যেহেতু আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি)' তিনি বললেন, "তোমার জিহ্বা যেন সর্বদা আল্লাহর যিকরে আর্দ্র থাকে।"⁸

"যে ব্যক্তি এমন মজলিসে বসে, যেখানে সে আল্লাহর যিকির করে না (এর জন্য) আল্লাহর তরফ থেকে তার উপর পরিতাপ আসবে।"⁹

টিকাঃ
১. সূরা সাফ্ফাত ১৪০-১৪৪
২. মুসলিম ৪/২০৭৪
৩. বুখারী ৬/৬৬ ও মুসলিম ৪/২০৬৯
৪. বুখারী ৬/৬৮, মুসলিম ১/৫০৬
৫. তিরমিযী ৫/৪৫৮, ইবনু মাজাহ ২/১২৪০, সহীহুল জামি' ২৬২৯-৭
৬. বুখারী ৮/১৭১, মুসলিম ৪/২০৬২নং
৭. মুসলিম ৪/২০৬২নং
৮. তিরমিযী ৫/৪৮৫ ইবনু মাজাহ ২/১২৪৬
৯. আবু দাউদ ৪/২৬৪, সহীহুল জামি' ৫/০৪২

‘যিকর’-এর অর্থ স্মরণ। মুমিন সর্বদা আল্লাহর রহমত ছায়ায় প্রতিপালিত, তার জীবন আল্লাহর দয়াবারিদে সদা সিক্ত। তার জীবনের সকল কিছুই আল্লাহর দান। প্রতি পদে তাকে আল্লাহরই আনুগত্য করতে হয়। আল্লাহই তার স্রষ্টা, মালিক, বিধানকর্তা এবং একমাত্র উপাস্য। তাই তার নিকটে আল্লাহ সদা স্মরণীয়। অন্তরে, মুখে ও কর্মে তাঁর যিকর করা মুসলিমের অপরিহার্য কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, (وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ) অর্থাৎ, আল্লাহর যিকর (স্মরণ)ই সবচেয়ে বড়।’ (সূরাহ আনকাবূত ৪৫ আয়াত)

তিনি আরো বলেন, (فَاذْكُرُونِي أَذْคُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ) অর্থাৎ, অতএব তোমরা আমাকে স্মরণ কর আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং কৃতঘ্ন হয়ো না।’ (সূরাহ বাক্বারাহ ১৫২)

তিনি অন্যত্র বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিকরূপে স্মরণ কর।’ (সূরাহ আহযাব ৪১)

তিনি আরো বলেন, ‘আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও আল্লাহকে অধিক স্মরণকারিণী নারী এদের জন্য আল্লাহ ক্ষমা ও মহা প্রতিদান রেখেছেন।’ (সূরাহ আহযাব ৩৫ আয়াত)

তিনি আরো বলেন, “হে মুমিনগণ তোমাদের ঐশ্বর্য ও সন্তান-সন্তুতি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণে উদাসীন না করে, যারা উদাসীন হবে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।” (সূরাহ মুনাফিকূন ৯)

তিনি আরো বলেন, “সেই সমস্ত গৃহে -- যে সমস্ত গৃহকে আল্লাহ নির্মাণ ও সম্মান করতে এবং তাতে তাঁর নাম স্মরণ করতে আদেশ দিয়েছেন সেখানে সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে সে সব লোক, যাদেরকে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে এবং নামায পড়া ও যাকাত প্রদান করা হতে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেদিনের, যেদিন তাদের অন্তর ও দৃষ্টি ভীতি-বিহ্বল হয়ে পড়বে।” (সূরাহ নূর ৩৬-৩৭)

“তুমি তোমার প্রতিপালককে মনে মনে সবিনয় ও সশঙ্কচিত্তে অনুচ্চস্বরে প্রভাতে ও সন্ধ্যায় স্মরণ কর এবং উদাসীনদের দলভুক্ত হয়ো না।” (সূরাহ আ’রাফ ২০৫)

তিনি অন্যত্র বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন কোন দলের সম্মুখীন হবে, তখন অবিচলিত থাক এবং আল্লাহকে অধিক অধিক স্মরণ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।” (সূরাহ আনফাল ৪৫)

তিনি আরো বলেন, “অতঃপর যখন তোমরা হাজ্জ সম্পন্ন করে নেবে, তখন আল্লাহকে এমনভাবে স্মরণ করবে যেমন তোমরা তোমাদের পিতাপুরুককে স্মরণ করতে অথবা তদপেক্ষা গভীরভাবে।” (সূরা বাকারা ২০০ আয়াত)

তিনি বলেন, “অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান কর ও আল্লাহকে অধিকরূপে স্মরণ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হও।” (সূরা জুমুআহ ১০ আয়াত)

তিনি আরো বলেন, “সে (ইউনুস) যদি আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা না করত, তাহলে সে পুনরুত্থান-দিবস পর্যন্ত সেথায় (মাছের পেটে) অবস্থান করত।”¹

আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন, “কোন সম্প্রদায় যখন আল্লাহর যিক্র করতে বসে তখন ফিরিশ্‌তামণ্ডলী তাদেরকে বেষ্টিত করেন, আল্লাহর রহমত তাদেরকে ছেয়ে নেয়, তাদের উপর শান্তি বর্ষণ হয় এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তী ফিরিশ্‌তাবর্গের নিকট তাদের কথা আলোচনা করেন।”²

“আল্লাহর ভ্রমণরত অতিরিক্ত ফিরিশ্‌তাদল আছেন, যাঁরা যিকরের মজলিস অনুসন্ধান করে থাকেন।”³

“যে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং যে করে না, উভয়ের উপমা জীবিত ও মৃতের ন্যায়।”⁴

“আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের উত্তম কাজের সন্ধান দেব না? যা তোমাদের প্রভুর নিকট সবচেয়ে পবিত্র, তোমাদের মর্যাদায় সব চেয়ে উচ্চ, সোনা-চাঁদি দান করার চেয়ে উত্তম এবং শত্রুর সম্মুখীন হয়ে গর্দান কাটা ও কাটানোর চেয়ে শ্রেয়।” সকলে বললেন, ‘নিশ্চয় বলে দিন।’ তিনি বললেন, “আল্লাহ তাআলার যিক্র।”⁵

“আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি আমার বান্দার ধারণার কাছে থাকি। যখন সে আমাকে স্মরণ করে তখন আমি তার সঙ্গে থাকি। যদি সে আমাকে অন্তরে স্মরণ করে তাহলে তাকেও আমি আমার অন্তরে স্মরণ করি, যদি সে আমাকে কোন সভায় স্মরণ করে তবে আমি তাকে তার চেয়ে উত্তম সভায় স্মরণ করে থাকি-।⁶

"মুফাররিদগণ আগে বেড়ে গেছে।" সকলে জিজ্ঞাসা করল, 'হে আল্লাহর রাসূল! 'মুফাররিদ কারা?' তিনি বললেন, "আল্লাহর অধিক অধিক যিকিরকারী পুরুষ ও নারী।"⁷

এক ব্যক্তি বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! কল্যাণের দরজা তো অনেক। তার সবটা পালন করতে আমি সক্ষম নই। অতএব আমাকে এমন কাজের সন্ধান দিন, যাকে আমি দৃঢ়ভাবে ধরে থাকব, আর অধিক ভার দিবেন না যাতে আমি ভুলে না যাই (যেহেতু আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি)' তিনি বললেন, "তোমার জিহ্বা যেন সর্বদা আল্লাহর যিকরে আর্দ্র থাকে।"⁸

"যে ব্যক্তি এমন মজলিসে বসে, যেখানে সে আল্লাহর যিকির করে না (এর জন্য) আল্লাহর তরফ থেকে তার উপর পরিতাপ আসবে।"⁹

টিকাঃ
১. সূরা সাফ্ফাত ১৪০-১৪৪
২. মুসলিম ৪/২০৭৪
৩. বুখারী ৬/৬৬ ও মুসলিম ৪/২০৬৯
৪. বুখারী ৬/৬৮, মুসলিম ১/৫০৬
৫. তিরমিযী ৫/৪৫৮, ইবনু মাজাহ ২/১২৪০, সহীহুল জামি' ২৬২৯-৭
৬. বুখারী ৮/১৭১, মুসলিম ৪/২০৬২নং
৭. মুসলিম ৪/২০৬২নং
৮. তিরমিযী ৫/৪৮৫ ইবনু মাজাহ ২/১২৪৬
৯. আবু দাউদ ৪/২৬৪, সহীহুল জামি' ৫/০৪২

📘 সহীহ দুআ ঝাড়ফুঁক ও যিকর 📄 যিকরের উপকারিতা

📄 যিকরের উপকারিতা


আল্লাহর যিকির ও স্মরণে শতাধিক উপকার ও লাভ রয়েছে। যেমন, যিকির শয়তান দূর করে, রহমানকে সন্তুষ্ট করে, অন্তর থেকে দুশ্চিন্তা দূর করে ও অশান্তি অপসারণ করে, হৃদয়ে প্রশান্তি ও উৎফুল্লতা আনে, দেহ-মনকে সবল করে, চিত্তকে জ্যোতির্ময় করে, মুখমণ্ডলকে দীপ্তিময় করে, রুযী আনয়ন করে, আল্লাহর ভালোবাসা দান করে, জীবনে আল্লাহর ভীতি আনে, মু’মিনকে আল্লাহর প্রতি প্রত্যাবর্তন করায়, আল্লাহর সামীপ্য প্রদান করে, মা'রিফাতের দ্বার উন্মুক্ত করে, আল্লাহর স্মরণ দান করে, অন্তর জীবিত করে, আত্মা ও অন্তরকে আহার প্রদান করে, পাপমুক্ত করে, বহু উদ্বেগ দূরীভূত করে, আল্লাহর আযাব ও গযব থেকে নিস্তার দেয়, শান্তি ও রহমত আনে, পরচর্চা, গীবত, চুগলী, গালমন্দ, মিথ্যা, অশ্লীলতা, বাজে ও অসার কথা থেকে দূরে রাখে, কিয়ামতে পরিতাপ থেকে নিষ্কৃতি দেয়, নির্জন ক্রন্দনের সাথে যিকিরকারীকে ছায়াহীন কিয়ামতে আল্লাহর আরশ তলে ছায়া দান করে, হৃদয়ের শূন্যতা ও প্রয়োজন দূর করে, মু’মিনকে সতর্ক ও সংযমী করে, বন্ধুত্ব, প্রেম, সাহায্য ও প্রেরণার মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গতা দান করে, অত্যাধিক নেকী ও পুরস্কারের অধিকারী করে, হৃদয়ের কঠোরতা দূর করে, মনের রোগ নিরাময় করে।

yিক্‌রকারীর জন্য ফিরিশতা দুআ' করেন, যিক্‌রের মজলিস ফিরিশতাগণের মজলিস, যিক্‌রকারীদের নিয়ে আল্লাহ তাআলা ফিরিশতাগণের নিকট গর্ব করেন। যিক্‌র শুকরের মস্তক, যিক্‌র দুআ'কে কবুলের যোগ্য করে, মু'মিনকে আল্লাহর আনুগত্যে সহায়তা করে, মুশকিল আসান করে, বিপদ ও বালা দূর করে, অন্তর থেকে সৃষ্টির ভয় দূর করে, মেহনতের কাজে শক্তি প্রদান করে, যিক্‌রে আছে মিষ্টি সুস্বাদ, আল্লাহর প্রেম ইত্যাদি।¹⁰

টিকাঃ
১০. বিস্তারিত দ্রষ্টব্য, আল-ওয়াবিলুস সায়্যিব, ইবনুল কায়্যিম

আল্লাহর যিকির ও স্মরণে শতাধিক উপকার ও লাভ রয়েছে। যেমন, যিকির শয়তান দূর করে, রহমানকে সন্তুষ্ট করে, অন্তর থেকে দুশ্চিন্তা দূর করে ও অশান্তি অপসারণ করে, হৃদয়ে প্রশান্তি ও উৎফুল্লতা আনে, দেহ-মনকে সবল করে, চিত্তকে জ্যোতির্ময় করে, মুখমণ্ডলকে দীপ্তিময় করে, রুযী আনয়ন করে, আল্লাহর ভালোবাসা দান করে, জীবনে আল্লাহর ভীতি আনে, মু’মিনকে আল্লাহর প্রতি প্রত্যাবর্তন করায়, আল্লাহর সামীপ্য প্রদান করে, মা'রিফাতের দ্বার উন্মুক্ত করে, আল্লাহর স্মরণ দান করে, অন্তর জীবিত করে, আত্মা ও অন্তরকে আহার প্রদান করে, পাপমুক্ত করে, বহু উদ্বেগ দূরীভূত করে, আল্লাহর আযাব ও গযব থেকে নিস্তার দেয়, শান্তি ও রহমত আনে, পরচর্চা, গীবত, চুগলী, গালমন্দ, মিথ্যা, অশ্লীলতা, বাজে ও অসার কথা থেকে দূরে রাখে, কিয়ামতে পরিতাপ থেকে নিষ্কৃতি দেয়, নির্জন ক্রন্দনের সাথে যিকিরকারীকে ছায়াহীন কিয়ামতে আল্লাহর আরশ তলে ছায়া দান করে, হৃদয়ের শূন্যতা ও প্রয়োজন দূর করে, মু’মিনকে সতর্ক ও সংযমী করে, বন্ধুত্ব, প্রেম, সাহায্য ও প্রেরণার মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গতা দান করে, অত্যাধিক নেকী ও পুরস্কারের অধিকারী করে, হৃদয়ের কঠোরতা দূর করে, মনের রোগ নিরাময় করে।

yিক্‌রকারীর জন্য ফিরিশতা দুআ' করেন, যিক্‌রের মজলিস ফিরিশতাগণের মজলিস, যিক্‌রকারীদের নিয়ে আল্লাহ তাআলা ফিরিশতাগণের নিকট গর্ব করেন। যিক্‌র শুকরের মস্তক, যিক্‌র দুআ'কে কবুলের যোগ্য করে, মু'মিনকে আল্লাহর আনুগত্যে সহায়তা করে, মুশকিল আসান করে, বিপদ ও বালা দূর করে, অন্তর থেকে সৃষ্টির ভয় দূর করে, মেহনতের কাজে শক্তি প্রদান করে, যিক্‌রে আছে মিষ্টি সুস্বাদ, আল্লাহর প্রেম ইত্যাদি।¹⁰

টিকাঃ
১০. বিস্তারিত দ্রষ্টব্য, আল-ওয়াবিলুস সায়্যিব, ইবনুল কায়্যিম

📘 সহীহ দুআ ঝাড়ফুঁক ও যিকর 📄 যিকরের প্রকার

📄 যিকরের প্রকার


যিক্‌র দুই প্রকার :
১। আল্লাহ তাআলার সুন্দরতম নামাবলী এবং মহত্তম গুণাবলীর যিক্‌র করা, এসব দ্বারা তাঁর প্রশংসা ও গুণগান করা এবং আল্লাহর জন্য যা উপযুক্ত নয় তা থেকে তাঁকে পাক ও পবিত্র মনে করা। এই যিক্‌রও আবার দুই প্রকারের;
ক- আল্লাহর নাম ও গুণাবলী দ্বারা তাঁর প্রশংসা রচনা করা। যেমন ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আল-হামদু লিল্লাহ’, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’ প্রভৃতি।
খ- আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর অর্থ ও আহকাম উল্লেখ করা। যেমন বলা যে, আল্লাহ তাআলা বান্দার সমস্ত শব্দ শুনেন, সকল স্পন্দন দেখেন তাঁর নিকট কোন কর্মই গুপ্ত থাকে না, বান্দার মাতা-পিতা অপেক্ষা তিনিই বান্দার উপর অধিক দয়াময়। তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান --ইত্যাদি।
কিন্তু এ ক্ষেত্রে সতর্কতার বিষয় এই যে, যিক্‌রকারী যেন সেই নাম ও গুণের কথাই উল্লেখ করে, যার দ্বারা আল্লাহ পাক নিজের প্রশংসা করেছেন অথবা তাঁর রসূল (ﷺ) যার দ্বারা তাঁর গুণগান করেছেন। এতে যেন কোন প্রকারের হেরফের ও দৃষ্টান্ত বা উপমা বর্ণনা না করা হয় এবং গুণের দলীলাকে নিরর্থক বা আল্লাহকে ঐ গুণহীন মনে করা না হয়। যেমন ঐ সকল নাম ও সিফাতের কোন দূর-ব্যাখ্যা করাও বৈধ নয়।
पक्षান্তরে এই যিক্‌র আবার তিন প্রকারের; হামদ, সানা এবং মাজদ। সত্ত্বায় ও ভক্তির সাথে আল্লাহর সিফাতে-কামাল উল্লেখ করে প্রশংসা করাকে ‘হামদ’ বলা হয়। গুণের পর আরো গুণগানের উল্লেখ করে প্রশংসা করাকে ‘সানা’ বলা হয় এবং আল্লাহ তাআলার মাহাত্ম্য ও শান-শওকত এবং মহিমা ও সার্বভৌমত্বের গুণাবলী দ্বারা প্রশংসা করাকে ‘মাজ্‌দ’ বলা হয়। এই তিন প্রকার প্রশংসা সুরাহ ফাতিহার প্রারম্ভে একত্রিত হয়েছে। অতএব বান্দা যখন নামাযে বলে (الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) অর্থাৎ, ‘সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর নিমিত্তে’ তখন আল্লাহ বলেন, ‘বান্দা আমার প্রশংসা করল।’ যখন বলে, (الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) অর্থাৎ ‘যিনি অনন্ত করুণাময়, পরম দয়ালু’ তখন আল্লাহ বলেন, ‘বান্দা আমার স্তুতি বর্ণনা করল।’ আর বান্দা যখন বলে, (مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ) অর্থাৎ ‘বিচার দিনের অধিপতি’ তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বান্দা আমার গৌরব বর্ণনা করল।

২। আল্লাহর আদেশ, নিষেধ এবং বিভিন্ন অনুশাসনের যিক্‌র (স্মরণ) করা। এটিও দুই রকম;
ক - আল্লাহর বিধান উল্লেখ ও জ্ঞাপন করে তাঁর স্মরণ করা। যেমন বলা যে, আল্লাহ এই করতে আদেশ করেছেন, অমুক করতে নিষেধ করেছেন, তিনি এই কাজে সন্তুষ্ট, ঐ কাজে রাগান্বিত ইত্যাদি।
খ - তাঁর বিধান ও অনুশাসন পালন করে তাঁর যিক্‌র (স্মরণ করা, যেমন, যে কাজ তিনি আদেশ করেছেন সত্বর তা পালন করে তাঁর যিক্‌র করা, যা নিষেধ করেছেন সত্বর তা বর্জন করে তাঁর স্মরণ করা। এই সকল যিক্‌র যদি যিক্‌রকারীর নিকট একত্রিত হয়, তবে তার যিক্‌র শ্রেষ্ঠতম যিক্‌র।

যিকরের আরো এক প্রকার যিক্‌র; আল্লাহ তাআলার দেওয়া সম্পদ, দান অনুগ্রহ, সাহায্য ইত্যাদির স্থান ও কাল প্রভৃতি উল্লেখ করে যিক্‌র (শুক্‌র) করা। এটিও এক উত্তম যিক্‌র।
সুতরাং উক্ত পাঁচ প্রকার যিক্‌র, যা কখনো অন্তর ও রসনা দ্বারা হয় এবং এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ যিক্‌র। আবার কখনো কেবল অন্তর দ্বারা হয়, যা দ্বিতীয় পর্যায়ের এবং কখনো বা কেবল রসনা দ্বারা হয়, যা তৃতীয় পর্যায়ের। ২ নং যিক্‌র হলে অন্যান্য অঙ্গ দ্বারা কার্যে পরিণত করাও যিক্‌র হয়। অতএব মুমিনের সারা জীবন ও জীবনের প্রতি মুহূর্তটাই যিক্‌রের স্থল। যেমন রসূল (ﷺ)-এর যিক্‌রে আমরা বুঝতে পারব।

উল্লেখ্য যে, দুআ অপেক্ষা যিক্‌র উত্তম। যেহেতু যিক্‌রে আল্লাহ তাআলার সুন্দরতম নাম, মহিমাময় গুণ ইত্যাদির সাথে তাঁর প্রশংসা করা হয়। কিন্তু দুআতে বান্দা নিজের প্রয়োজন আল্লাহর নিকট জানিয়ে তার পূরণ ভিক্ষা করে থাকে। যে দুইয়ের মাঝে রয়েছে বিরাট পার্থক্য। আবার যিক্‌র অপেক্ষা কুরআন তিলাওয়াত উত্তম। কিন্তু যথোপযুক্ত সময়কালে তিলাওয়াত, যিক্‌র ও দুআ’ স- ব স্থানে শ্রেষ্ঠ।¹¹

টিকাঃ
১১. মুসলিম ৩৪৮

যিক্‌র দুই প্রকার :
১। আল্লাহ তাআলার সুন্দরতম নামাবলী এবং মহত্তম গুণাবলীর যিক্‌র করা, এসব দ্বারা তাঁর প্রশংসা ও গুণগান করা এবং আল্লাহর জন্য যা উপযুক্ত নয় তা থেকে তাঁকে পাক ও পবিত্র মনে করা। এই যিক্‌রও আবার দুই প্রকারের;
ক- আল্লাহর নাম ও গুণাবলী দ্বারা তাঁর প্রশংসা রচনা করা। যেমন ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আল-হামদু লিল্লাহ’, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’ প্রভৃতি।
খ- আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর অর্থ ও আহকাম উল্লেখ করা। যেমন বলা যে, আল্লাহ তাআলা বান্দার সমস্ত শব্দ শুনেন, সকল স্পন্দন দেখেন তাঁর নিকট কোন কর্মই গুপ্ত থাকে না, বান্দার মাতা-পিতা অপেক্ষা তিনিই বান্দার উপর অধিক দয়াময়। তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান --ইত্যাদি।
কিন্তু এ ক্ষেত্রে সতর্কতার বিষয় এই যে, যিক্‌রকারী যেন সেই নাম ও গুণের কথাই উল্লেখ করে, যার দ্বারা আল্লাহ পাক নিজের প্রশংসা করেছেন অথবা তাঁর রসূল (ﷺ) যার দ্বারা তাঁর গুণগান করেছেন। এতে যেন কোন প্রকারের হেরফের ও দৃষ্টান্ত বা উপমা বর্ণনা না করা হয় এবং গুণের দলীলাকে নিরর্থক বা আল্লাহকে ঐ গুণহীন মনে করা না হয়। যেমন ঐ সকল নাম ও সিফাতের কোন দূর-ব্যাখ্যা করাও বৈধ নয়।
पक्षান্তরে এই যিক্‌র আবার তিন প্রকারের; হামদ, সানা এবং মাজদ। সত্ত্বায় ও ভক্তির সাথে আল্লাহর সিফাতে-কামাল উল্লেখ করে প্রশংসা করাকে ‘হামদ’ বলা হয়। গুণের পর আরো গুণগানের উল্লেখ করে প্রশংসা করাকে ‘সানা’ বলা হয় এবং আল্লাহ তাআলার মাহাত্ম্য ও শান-শওকত এবং মহিমা ও সার্বভৌমত্বের গুণাবলী দ্বারা প্রশংসা করাকে ‘মাজ্‌দ’ বলা হয়। এই তিন প্রকার প্রশংসা সুরাহ ফাতিহার প্রারম্ভে একত্রিত হয়েছে। অতএব বান্দা যখন নামাযে বলে (الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) অর্থাৎ, ‘সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর নিমিত্তে’ তখন আল্লাহ বলেন, ‘বান্দা আমার প্রশংসা করল।’ যখন বলে, (الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) অর্থাৎ ‘যিনি অনন্ত করুণাময়, পরম দয়ালু’ তখন আল্লাহ বলেন, ‘বান্দা আমার স্তুতি বর্ণনা করল।’ আর বান্দা যখন বলে, (مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ) অর্থাৎ ‘বিচার দিনের অধিপতি’ তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বান্দা আমার গৌরব বর্ণনা করল।

২। আল্লাহর আদেশ, নিষেধ এবং বিভিন্ন অনুশাসনের যিক্‌র (স্মরণ) করা। এটিও দুই রকম;
ক - আল্লাহর বিধান উল্লেখ ও জ্ঞাপন করে তাঁর স্মরণ করা। যেমন বলা যে, আল্লাহ এই করতে আদেশ করেছেন, অমুক করতে নিষেধ করেছেন, তিনি এই কাজে সন্তুষ্ট, ঐ কাজে রাগান্বিত ইত্যাদি।
খ - তাঁর বিধান ও অনুশাসন পালন করে তাঁর যিক্‌র (স্মরণ করা, যেমন, যে কাজ তিনি আদেশ করেছেন সত্বর তা পালন করে তাঁর যিক্‌র করা, যা নিষেধ করেছেন সত্বর তা বর্জন করে তাঁর স্মরণ করা। এই সকল যিক্‌র যদি যিক্‌রকারীর নিকট একত্রিত হয়, তবে তার যিক্‌র শ্রেষ্ঠতম যিক্‌র।

যিকরের আরো এক প্রকার যিক্‌র; আল্লাহ তাআলার দেওয়া সম্পদ, দান অনুগ্রহ, সাহায্য ইত্যাদির স্থান ও কাল প্রভৃতি উল্লেখ করে যিক্‌র (শুক্‌র) করা। এটিও এক উত্তম যিক্‌র।
সুতরাং উক্ত পাঁচ প্রকার যিক্‌র, যা কখনো অন্তর ও রসনা দ্বারা হয় এবং এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ যিক্‌র। আবার কখনো কেবল অন্তর দ্বারা হয়, যা দ্বিতীয় পর্যায়ের এবং কখনো বা কেবল রসনা দ্বারা হয়, যা তৃতীয় পর্যায়ের। ২ নং যিক্‌র হলে অন্যান্য অঙ্গ দ্বারা কার্যে পরিণত করাও যিক্‌র হয়। অতএব মুমিনের সারা জীবন ও জীবনের প্রতি মুহূর্তটাই যিক্‌রের স্থল। যেমন রসূল (ﷺ)-এর যিক্‌রে আমরা বুঝতে পারব।

উল্লেখ্য যে, দুআ অপেক্ষা যিক্‌র উত্তম। যেহেতু যিক্‌রে আল্লাহ তাআলার সুন্দরতম নাম, মহিমাময় গুণ ইত্যাদির সাথে তাঁর প্রশংসা করা হয়। কিন্তু দুআতে বান্দা নিজের প্রয়োজন আল্লাহর নিকট জানিয়ে তার পূরণ ভিক্ষা করে থাকে। যে দুইয়ের মাঝে রয়েছে বিরাট পার্থক্য। আবার যিক্‌র অপেক্ষা কুরআন তিলাওয়াত উত্তম। কিন্তু যথোপযুক্ত সময়কালে তিলাওয়াত, যিক্‌র ও দুআ’ স- ব স্থানে শ্রেষ্ঠ।¹¹

টিকাঃ
১১. মুসলিম ৩৪৮

ফন্ট সাইজ
15px
17px