📘 সফলতার জন্য চাই উত্তম পরিকল্পনা > 📄 আপনি কোন স্বপ্নটি বাস্তবায়ন করতে চান?

📄 আপনি কোন স্বপ্নটি বাস্তবায়ন করতে চান?


একবার হাজরে আসওয়াদের নিকট আব্দুল্লাহ, মুসআব, উরওয়াহ, ইবনে জুবায়ের বিন আওয়াম ও ইবনে উমর রা. একত্রিত হলেন। ইবনে উমর রা. বললেন, 'তোমাদের কার কী আশা?'
আব্দুল্লাহ রা. বললেন, 'আমি খলিফা হতে চাই।'
উরওয়াহ রহ. বললেন, 'আমি চাই মানুষ আমার কাছ থেকে ইলম শিখুক।'
মুসআব রহ. বললেন, 'আমি ইরাকের নেতৃত্ব চাই। আর তালহার মেয়ে আয়িশা ও হুসাইনের মেয়ে সাকিনাহকে বিয়ে করতে চাই।'
অতঃপর ইবনে উমর রা. বললেন, 'আমি চাই আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন।'
তারা যে যা কিছুর আশা করেছেন, তা পেয়েছেন। আর আশা করি, ইবনে উমর রা.-কেও আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।১৬
যুবকদের উচিত বিশাল কিছু অর্জনের চেষ্টা করা। উমর বিন আব্দুল আজিজ রহ. বলেন :
'আমার হৃদয় প্রচণ্ড আগ্রহী। দুনিয়ার যে জিনিসই তাকে দেওয়া হয়, সে তার চেয়ে উত্তমটা পেতে চায়। যখন তাকে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ জিনিস (খিলাফত) দেওয়া হলো, সে এর চেয়েও শ্রেষ্ঠটি (জান্নাত) পেতে চাইল।'১৭
তিনি আরও বলেন :
'হায় আকাঙ্ক্ষা, আমার একটি আগ্রহী আত্মা আছে। সে আব্দুল মালিকের মেয়ে ফাতিমাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল। অতঃপর আমি তাকে বিয়ে করেছি। নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহী ছিল এবং তা আমি পেয়েছি। খিলাফতের প্রতি আগ্রহী ছিল; আমি তাও পেয়েছি। আর এখন জান্নাতের প্রতি আগ্রহী; আশা করি, ইনশাআল্লাহ সেটাও পাব।'১৮
হুসাইন রা. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ مَعَالِيَ الْأُمُورِ وَأَشْرَافَهَا، وَيَكْرَهُ سَفَاسِفَهَا
'আল্লাহ তাআলা কর্মের সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠটি ভালোবাসেন। এবং নিম্নমানের কাজ অপছন্দ করেন। '১৯
বিশিষ্ট মুত্তাকি দুনিয়াবিমুখ শাইখ শাকিক বিন ইবরাহিম আল-বালখি রহ. (তাসাউফের একজন শাইখ) একদা ইবরাহিম বিন আদহামের সাথে সাক্ষাৎ করেন। ইবরাহিম বিন আদহাম তাকে বললেন, 'আপনার এই অবস্থানে আসার শুরুটা কেমন ছিল?' অর্থাৎ আপনার দুনিয়াবিমুখতা এবং দুনিয়ার্জন পরিহারের কারণ কী ছিল?
শাকিক রহ. : নির্জন এক স্থানে আমি ডানাকাটা একটি পাখি দেখলাম। সুস্থ একটি পাখি তার কাছে নিজের ঠোঁটে করে পোকামাকড় ধরে নিয়ে আসছে তাকে খাওয়াবার জন্য। তখন থেকেই আমি দুনিয়ার্জন বাদ দিয়ে ইবাদতে মগ্ন হয়ে গেলাম।
ইবরাহিম বিন আদহাম রহ. : আপনি সুস্থ পাখির ন্যায় হলেন না কেন, যে অসুস্থ পাখিটিকে আহার করায়? যেন আপনি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতে পারেন! আপনি কি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই হাদিস শোনেননি? اليَدُ العُلْيَا خَيْرٌ مِنَ اليَدِ السُّفْلَى 'দানকারীর হাত গ্রহণকারীর হাত অপেক্ষা উত্তম। '২০
একজন মুমিনের নিদর্শন হচ্ছে, যেকোনো বিষয়ে সর্বোত্তমটি কামনা করবে; যেন সে নেককারদের মর্যাদায় পৌঁছতে পারে।
তখন শাকিক রহ. ইবরাহিম রহ.-এর হাত নিজের হাতে নিলেন। হাতে চুম্বন করে বললেন, 'হে আবু ইসহাক! আপনিই আমাদের উস্তাজ। '২১
একজন মুসলিম যতক্ষণ না তার কর্মের লক্ষ্য ও সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছে, ততক্ষণ সে পরিতুষ্ট হয় না। যদি সে ছাত্র হয়, তবে সবাইকে অতিক্রম করা ব্যতীত সন্তুষ্ট হয় না। আর যদি পিতা হয়, তবে সন্তান প্রতিপালনে কোনো ত্রুটি করে না। চেষ্টা করে যেন সন্তানরা অন্যদের জন্য আদর্শ হতে পারে। আল্লাহর দিকে পূর্ণ প্রত্যাবর্তনকারীদের দুআ বর্ণনায় আল্লাহ তাআলা বলেন : وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا (যারা দুআ করে এ বলে) আর আমাদেরকে মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ বানিয়ে দিন।'২২
এ হাদিসটিতে উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয়টি লক্ষ করুন-
فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللهَ، فَاسْأَلُوهُ الفِرْدَوْسَ، فَإِنَّهُ أَوْسَطُ الجَنَّةِ وَأَعْلَى الجَنَّةِ أُرَاهُ - فَوْقَهُ عَرْشُ الرَّحْمَنِ، وَمِنْهُ تَفَجَّرُ أَنْهَارُ الجَنَّةِ
'যখন তোমরা আল্লাহ তাআলার কাছে (জান্নাত) প্রার্থনা করো, তখন জান্নাতুল ফিরদাওস প্রার্থনা করো। কারণ, এটি সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ মানের জান্নাত। আমি তার ওপরে রহমানের আরশ দেখেছি। সেখান থেকেই জান্নাতের ঝর্ণাসমূহ প্রবাহিত হয়।'২৩
পরনির্ভর ব্যক্তি-যার দৃষ্টি কেবল নিচের দিকেই যায়, কখনো ওপরের দিকে তাকিয়েও দেখে না-তার কোনো মূল্য নেই, নেই কোনো সম্মান। সে নিজের উন্নতি কামনা করে না; বরং স্থবির হয়ে রয়। তাকে যারা ছাড়িয়ে গেছে, তাদের নাগাল পেতে চায় না সে। কখনোই তাদের সাথে সংযুক্ত হওয়ার ইচ্ছা করে না।
شباب خنع لا خير فيهم * وبورك في الشباب الطامحين
'হীনম্মন্য যুবকদের মাঝে কোনো কল্যাণ নেই। উচ্চাকাঙ্ক্ষী যুবকদের মাঝে কল্যাণই কল্যাণ নিহিত থাকে।'
মানুষ পাঁচ প্রকার। আপনি কোন প্রকারে?!
الناس خمسة إذا حسبتهم * ففارس يوم الوغى ذو درقة
يجول في ميدانها مبارزاً " إذا رأى صف القتال خرقة
ومحسن ينفق جوداً ماله * جميعه ذهبه وورقة
وعالم يدرس في كتابه * يسرده ورقة فورقة
وحاكم أقام فينا عدله * في قلبه للعالمين شفقة
وعابد يقوم في جنح الدجى * يشكو الجوى من النوى
فهؤلاء خيرهم وغيرهم * لا لحم فيهمو وليسوا مرقة
بل همج من همج متى مشوا * يضيقوا على التقي طرقة
'মানুষদের গণনা করলে পাঁচ প্রকারে বিভক্ত পাবে—
(এক.) যুদ্ধের দিন ঢালধারণকারী ঘোড়সওয়ার। সে যখন যুদ্ধের সারিগুলো বিশৃঙ্খল দেখে, তখন বীর বিক্রমে রণাঙ্গনে ঘুরে বেড়ায়।
(দুই.) এমন পরোপকারী, যে তার সর্বোত্তম সম্পদ দান করে। তার সোনা-রুপা সবকিছু দান করে।
(তিন.) এমন আলিম, যিনি কিতাবের দরস দেন। তিনি পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ধারাবাহিকভাবে পাঠ করতে থাকেন।
(চার.) এমন বিচারক, যিনি আমাদের মাঝে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার হৃদয়ে জগৎবাসীর প্রতি অনুকম্পা রয়েছে।
(পাঁচ.) অন্ধকার রাতে আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান আবিদ। যিনি দূরে থেকেও নিজের তীব্র ভালোবাসা ব্যক্ত করছেন আল্লাহর কাছে।
মানুষের মাঝে এ পাঁচ প্রকারই শ্রেষ্ঠ। অন্যদের মাঝে তো উদ্যম নেই যে, তারা সামনে বাড়বে। তাই তারা এদের সামনে কিছুই নয়। বরং তারা স্রেফ উচ্ছৃঙ্খল মানুষজন। যখন এরা পথ চলে, তখন মুত্তাকিদের জন্য সে পথ আর চলার মতো থাকে না।
ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
تَجِدُونَ النَّاسَ كَإِبِلٍ مِائَةٍ، لَا تَكَادُ تَجِدُ فِيهَا رَاحِلَةً
'তুমি উটের পালের মতো শত শত মানুষ দেখবে। কিন্তু তাদের মাঝে খুব কষ্টে চড়ার মতো একটি উট খুঁজে পেতে পারো। '২৪
হাদিসের মর্মার্থ হলো—সন্তুষ্টকারী গুণসম্পন্ন ও পূর্ণ গুণের অধিকারী মানুষের সংখ্যা খুব কমই পাওয়া যায়; যেমন উটের পালে বাহন অল্প পরিমাণে পাওয়া যায়।২৫
لولا المشقة ساد الناس كلهم * الجود يفقر والإقدام قتال
'নেতা হওয়া যদি কষ্টকর না হতো, তবে সব মানুষই নেতা হতো।
দানশীলতার ঝুঁকি দরিদ্র হওয়া আর অগ্রগামিতার ঝুঁকি যুদ্ধের মুখোমুখি হওয়া।'
পরিকল্পনা গ্রহণে মনকে আগ্রহী করে তোলার একটি মাধ্যম হলো, এমন বয়স্ক লোকদের প্রতি দৃষ্টিপাত করা, যাদের জীবন কোনো নিদর্শন রেখে যাওয়া ব্যতীতই নিঃশেষ হয়ে গেছে। তারা শুধু কয়েকটি সন্তান জন্ম দিয়েছে, এরপর সন্তানগুলো রেখে চলে গেছে—এই যা। এর বেশি কিছু এ লোক চিন্তা করতে পারেনি। জীবনে মহৎ কোনো কাজও করতে পারেনি। যে ব্যক্তি এ নিয়ে চিন্তা করে যে, 'একজন বয়স্ক লোক, যে নিজের জন্য উপকারী কোনো কিছু করেনি; বরং দুনিয়াতে বোঝা হয়ে আছে। দুনিয়া বা আখিরাতে উপকার বয়ে আনবে-এমন কিছু করার পরিকল্পনার প্রতি সে আগ্রহী ছিল না কখনো। একদিন নিজের শেষ সন্তানের বিয়ের ব্যবস্থা গ্রহণের পর নিজের পার্থিব জীবনের সমাপ্তি অনুভব করে সে। নিজের জীবনের আর কোনো অর্থই সে খুঁজে পায় না।' কোনো যুবক যখন এ ধরনের লোকদের প্রতি গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করবে, সেও তখন উপলব্ধি করতে পারবে যে, তার অবশ্যই উচ্চাকাঙ্ক্ষা রাখা দরকার। উচ্চাকাঙ্ক্ষাই তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সর্বোচ্চ আসনে সমাসীন করতে পারে। অন্যথায় সেও অচিরেই এমন অবস্থায় পৌঁছবে, যার থেকে কোনো কল্যাণ বা উপকার আশা করা যাবে না।
إذا كنت لا تُرجَى لدفع ملمة * ولا كان للمعروف عندك مطمع
ولا كنت ذا جاه يعاش بجاهه * ولا أنت يوم الحشر فيمن يشفع
فعيشك في الدنيا وموتك واحد * وعود خلال عن وصالك أنفع
'তোমার কাছে যখন কোনো বিপদ হটানোর আশা করা যায় না, কোনো কল্যাণেরও প্রত্যাশা করা যায় না।
তুমি যখন সম্মানিত কেউ নও, যার সাথে সম্মানের সাথে বসবাস করা যায়। কিংবা হাশরের দিনে সুপারিশকারীদেরও কেউ নও তুমি।
তবে তোমার দুনিয়াতে বাঁচা-মরা দুটোই সমান। তোমার থেকে বন্ধুত্বের হাত গুটিয়ে নেওয়াই বেশি লাভজনক।'

টিকাঃ
১৬. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা: ৪/১৪১
১৭. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা: ৫/১৩৪
১৮. ওয়াফিয়াতুল আইয়ান: ২/৩০১
১৯. তাবারানি রহ. কৃত আল-মুজামুল কাবির: ২৮৯৪
২০. সহিহুল বুখারি: ১৪২৮
২১. ফাওয়াতুল ওফাইয়াত: ২/১০৬
২২. সুরা আল-ফুরকান: ৭৩
২৩. সহিহুল বুখারি: ২৭৯০
২৪. সহিহু মুসলিম: ২৫৪৭
২৫. তুহফাতুল আহওয়াজি: ৮/১৪১

📘 সফলতার জন্য চাই উত্তম পরিকল্পনা > 📄 পরিকল্পনার আছে নানান ধরন

📄 পরিকল্পনার আছে নানান ধরন


সৃষ্টির ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার একটি নীতি হচ্ছে, যেভাবে তিনি রিজিক, স্বভাব ও আখলাক ভাগ করে দিয়েছেন-সেভাবে তিনি প্রতিভা ও যোগ্যতাকেও সৃষ্টির মাঝে ভাগ করে দিয়েছেন। তাদের ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে যোগ্যতা দিয়েছেন। ভাষা ও বর্ণের ন্যায় তাদের বিবেক ও বোধশক্তিতেও তাদেরকে পৃথক করে সৃষ্টি করেছেন।
وَمِنْ آيَاتِهِ خَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافُ أَلْسِنَتِكُمْ وَأَلْوَانِكُمْ
'তাঁর আরও এক নিদর্শন হচ্ছে, নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের সৃজন এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য।'২৬
আর এই পার্থক্যটা দ্বীনি ও দুনিয়াবি-উভয় ক্ষেত্রেই বিদ্যমান। দ্বীনি বিষয়ে কেউ সালাতের ব্যাপারে অগ্রগামী। কেউ সদাকার ব্যাপারে, কেউ সিয়ামের ব্যাপারে, কেউ কুরআন অধ্যয়ন ও অধ্যাপনার ব্যাপারে অগ্রগামী। কেউ হন আকিদাশাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ বা মুহাদ্দিস অথবা ফকিহ কিংবা মুফাসসির।
কাউকে আগ্রহী করা হয়েছে-অভাবীদের সাহায্য, অসহায়দের সহযোগিতা, মানুষের চিন্তা মুক্তকরণ, ঋণ পরিশোধকরণ, এতিমের খরচ বহন এবং তাদের দেখাশোনা করা, তাদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করা, তাদের শিক্ষা-দীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং তাদের রক্ষণাবেক্ষণ করার প্রতি। এভাবে সে অবিরাম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তার আগ্রহের বিষয়ে।
আবার কারও জন্য উন্মোচন করা হয়েছে—মানুষের ব্যাপারে সুপারিশ, সংশোধনে অগ্রগামী হওয়ার মতো কাজকে। ফলে সে কোনো বন্দীকে মুক্ত করতে অবদান রাখে। কারও রক্তের নিরাপত্তা বিধান করে। মন্দকে প্রতিরোধ করে। প্রাপককে তার অধিকার বুঝিয়ে দেয়। বাতিলকে বাধা প্রদান করে। অবিচার বন্ধ করে।
আর পার্থিব বিষয়ে কেউ চিকিৎসা-বিদ্যায় অগ্রগামী। কেউ আবার প্রকৌশলে কিংবা ব্যবসা, টেকনোলজি, মার্কেটিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে অগ্রগামী।
আর কারও কারও রয়েছে নিজেকে পবিত্র রাখার জন্য একটি বিয়ের পরিকল্পনা। আবার কারও ডক্টরেট অর্জনের পরিকল্পনা। কারও থাকে গৃহ নির্মাণের প্ল্যান। তো কারও থাকে গাড়ি কেনার লক্ষ্য। কারও কোনো কোম্পানির চাকরি কিংবা দাতব্য প্রতিষ্ঠান চালু করা বা দাওয়াহ অঙ্গনে কাজ করার আগ্রহ। কারও আবার কোনো ভাষা শিক্ষার পরিকল্পনা ইত্যাদি।
কিছু পরিকল্পনা আছে, যা বাস্তবায়নে সুদীর্ঘ সময় প্রয়োজন। কখনো এমন পরিকল্পনা সম্পাদনে কয়েক বছর লেগে যায়। যেমন: উচ্চ শিক্ষা, একটি নেককার পরিবার গড়ে তোলা ও দাওয়াহ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি।
আবার কিছু পরিকল্পনা আছে সংক্ষিপ্ত সময়ের, যার সীমাটা দুই-এক বছরের। যেমন : পবিত্র কুরআন মুখস্থ করার পরিকল্পনা, কোনো ভাষা শিক্ষা করা বা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, কোনো দাতব্য কর্মে অংশগ্রহণ, কোনো লেকচার-অনুষ্ঠানের প্রচার-প্রসার, অথবা কোনো বই-পুস্তক, অডিও-ভিডিও ক্যাসেট বা দাওয়াহ উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে কোনো দাওয়াহ কাজে অংশগ্রহণ করা। অথবা একটি সাক্ষাৎ বা আলোচনা সভার আয়োজন। দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর গৃহীত পরিকল্পনাতে সাহায্য করা; যেমন : কোনো রোজাদারের ইফতারের ব্যবস্থা করা, অভাবী ও দরিদ্র পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিস তাদের মাঝে বিতরণ করে দেওয়া এবং এতিমের ভরণপোষণের দায়িত্বগ্রহণ করা ইত্যাদি।
কিছু পরিকল্পনা আছে, যা মৌলিক-যার জন্য মনোযোগ ও ঢের সময়ের প্রয়োজন পড়ে। আবার কিছু পরিকল্পনা শাখাগত।
কিছু পরিকল্পনার জন্য মানুষের পুরো সময় ব্যয় করতে হয়। কিছু পরিকল্পনা আছে, যার কয়েকটির মাঝে সমন্বয় করে তা পূর্ণ করা সম্ভব।
কিছু আছে একক পরিকিল্পনা। কিছু আছে সম্মিলিত পরিকল্পনা। তবে সম্মিলিত পরিকল্পনা সফলতার জন্য বেশি উপকারী ও সম্ভাবনাময়।
তাই বলা যায়, পরিকল্পনা অনেক-দাওয়াহসংক্রান্ত, ইলমি, সামাজিক, ব্যবসায়িক, মিডিয়াভিত্তিক ইত্যাদি নানান ধরনের পরিকল্পনাই রয়েছে।
দাওয়াহ পরিকল্পনা
যেমন: শহরাঞ্চলের পরিবারগুলোকে জমা করে তাদের সামনে (দ্বীনি বিষয়ে) আলোচনা করা; কিছু দাওয়াহ-উপকরণ ক্রয় করে তা বিভিন্ন কর্মশালা, কারখানা ও কোম্পানির অফিসে বিতরণ করা; হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে দাওয়াহর মাধ্যমে আলোকিত করা; ফতোয়া বা দিক-নির্দেশনাসংবলিত কোনো ব্যানার টানিয়ে দেওয়া; দাওয়াতি চিঠিপত্র প্রেরণ, মেইলে বার্তা প্রেরণ বা মোবাইল ম্যাসেজিং করা; ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন ফোরামে দাওয়াহ কাজের প্রচার-প্রসার করা।
ইলমি পরিকল্পনা
যেমন: মুসলিমদের জন্য প্রশাসনিক, মানবিক বা চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়ে লিখিত কল্যাণকর কোনো প্রবন্ধের অনুবাদ করা; উপকারী বিষয় পাঠ করা; কোনো আলোচনা বা দরস সাজানো; গ্রন্থ রচনা করা; হাদিস মুখস্থ করা; সহায়ক কিছু শিক্ষা করা যেমন : বিভিন্ন ভাষা, কম্পিউটার, ইন্টারনেট, সামাজিক, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক বিষয়ে জ্ঞান অর্জন—এসবের যা কিছু বাস্তবায়ন ও অনুশীলন সম্ভব, তা অনুশীলন করা।
ইবাদতকেন্দ্রিক পরিকল্পনা
যেমন : বিশর বিন হারিস রহ.-এর অজিফা ছিল দৈনিক কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করা। উরওয়াহ বিন জুবাইর দেখে দেখে কুরআনের এক-চতুর্থাংশ পাঠ করতেন। রাতের বেলা কিয়ামে তা তিলাওয়াত করতেন। যে রাতে তাঁর পা কেটে গিয়েছিল, কেবল সে রাতে তাঁর এ আমল ছুটে যায়। আর ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. প্রতি রাতে এক-সপ্তমাংশ পাঠ করতেন। এভাবে প্রতি সাত রাতে এক খতম দিতেন।
সামাজিক প্রকল্প
যেমন : বিবাহ-শাদি করানো, হাসপাতালে রোগীদের দেখতে যাওয়া ও তাদের সহযোগিতা করা, দরিদ্র পরিবারের দায়ভার গ্রহণ করা। আলি বিন হুসাইন জাইনুল আবিদিন রহ. রাতের আঁধারে পিঠে করে খাদ্য বহন করে মিসকিনদের অনুসন্ধানে বের হয়ে যেতেন। মদিনায় কিছু লোক ছিল যারা জানত না তাদের খাদ্য কোথা হতে আসে। যখন আলি বিন হুসাইন মারা গেলেন, তখন তাদের কাছে রাতের খাবার আসা বন্ধ হয়ে গেল। তাঁর মৃত্যুর পর পিঠে অনেকগুলো চিহ্ন দেখা গেল, যা রাতের বেলা বিধবা মহিলাদের ঘরে খাবার বহনের কারণে হয়েছিল। ২৭
ব্যবসায়িক প্রকল্প
যেমন : ছোট কোনো দোকান দিয়ে শুরু করা। এক লোক গাড়ির খুচরা যন্ত্রাংশ ও গাড়ি পরিস্কার করার কাজ নিয়ে ছোট একটি ব্যবসা চালু করল। পরবর্তীকালে তা বিশ বছরেরও কম সময়ে এত বড় এক কোম্পানিতে পরিণত হলো, যার একত্রিশটি শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়ে ছিল। তাদের বর্ধনশীল মূলধনের পরিমাণ শত শত মিলিয়ন ডলারে পৌঁছে; বরং সম্ভবত বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যায়।
অনেক প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানি প্রাথমিক পর্যায়ে ছোট একটি প্রকল্প ছিল। যেমন : গুগল সার্চ ইঞ্জিন। মুদ্রা পরিবহন ব্যবসা প্রাথমিক পর্যায়ে ছোট ছিল। পরে সেটা বিশাল হুন্ডি কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। ছোট একটি হোটেল থেকে অনেকগুলো হোটেলের স্বতন্ত্র একটি হোটেল-প্রতিষ্ঠানে রূপ পেয়েছে।
উন্নয়ন প্রকল্প
কোনো পেশার কারিগরি দিকগুলো শেখা ও শিল্প ইত্যাদি শেখা।
মিডিয়া প্রকল্প
যেমন : কোনো চ্যানেল কিংবা ওয়েবসাইট গড়ে তোলা অথবা কোনো ম্যাগাজিন বের করা।

টিকাঃ
২৬. সুরা আর-রুম: ২২
২৭. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা: ৪/৩৯৩

📘 সফলতার জন্য চাই উত্তম পরিকল্পনা > 📄 প্রত্যেক যুবকই এক একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম

📄 প্রত্যেক যুবকই এক একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম


প্রত্যেক মুসলিমের মাঝেই এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার কারণে সে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র। প্রত্যেকের মাঝেই এমন কিছু উদ্ভাবনী প্রতিভা রয়েছে, যা তাকে বড় করে তোলে। এ যোগ্যতার বিকাশ ঘটানো উচিত; যেন মুসলিমরা তা থেকে উপকৃত হতে পারে। কারণ, যে ব্যক্তি নিজ স্বার্থে জীবনযাপন করে, তার জীবন ছোট ও তুচ্ছতায় কাটে। এভাবেই একদিন সে মারা যায়। আর যে উম্মাহর জন্য বাঁচার চেষ্টা করে, সে মহান হয়ে বেঁচে থাকে এবং মহান হয়েই মৃত্যুবরণ করে।
আর যার কাছে নিজের কোনো শক্তি ও বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট নয়, সে যেন কোনো শক্তি ও বৈশিষ্ট্য অন্বেষণ করে তা অর্জন করে নেয়। তার উন্নতি ও অগ্রগতি সাধন করে। এমন কোনো মানুষ নেই যে, তার নির্দিষ্ট কোনো স্বতন্ত্র প্রতিভা বা শক্তি থাকে না।
পৃথিবীর বুকে প্রত্যেক মানুষই এক একজন প্রতিভাবান, এক একজন সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের অধিকারী। উসামা বিন জাইদ রা. এমন একটি সেনাবাহিনীকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করেছিলেন, যেখানে বড় বড় সাহাবিগণ উপস্থিত ছিলেন। অথচ তখন তাঁর বয়স বিশ বছরও অতিক্রম করেনি। ২৮
আফরার দুই ছেলে মুআজ ও মুআওবিজ রা.। এই উম্মাহর ফিরাউন আবু জাহিলকে হত্যার জন্য তাঁরা উদগ্রীব ছিলেন। উন্মুক্ত তরবারি নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাকে তলোয়ারে আঘাত করেন। শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যাও করে দেন। ২৯
ইবনে আব্বাস রা.। কুরআনের ভাষ্যকার। অল্প বয়সেই দ্বীনি ইলম ও কুরআনের আয়াত বোঝা ও মুখস্থের ক্ষেত্রে তথ্যসূত্রে পরিণত হয়েছেন।
ইমাম শাফিয়ি র. বলেন, 'আমি সাত বছর বয়সে কুরআন মুখস্থ করেছি। মুয়াত্তা মুখস্থ করেছি দশ বছর বয়সে।'৩০
অনেক মানুষই জানে না যে, আল্লাহ তাআলা তাকে কী কী নিয়ামতে ভূষিত করেছেন। আপনি যদি তাকে বলেন, তুমি কুরআনের কিছু অংশ মুখস্থ করার একটি পরিকল্পনা করো অথবা ইলমি কোনো বিষয় মুখস্থের পরিকল্পনা করো। তবে সে বলবে, 'আমার স্মৃতিশক্তি দুর্বল। বোধশক্তি আমার সীমাবদ্ধ। আমি মুখস্থ করতে পারি না।' এমনটা বলার কারণ হলো, সে এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগই গ্রহণ করেনি। যদি করত, তবে এ বিষয়ে তার মূর্খতা প্রকাশ পেয়ে যেত-সে ভুল প্রমাণিত হতো।

টিকাঃ
২৮. আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ: ৬/২০৪
২৯. সহিহুল বুখারি: ৪০২০, সহিহু মুসলিম: ১৮০০
৩০. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা: ১৯/৭

📘 সফলতার জন্য চাই উত্তম পরিকল্পনা > 📄 প্রতিভা বিকাশে কিছু নির্দেশনা

📄 প্রতিভা বিকাশে কিছু নির্দেশনা


একটি শিশুর প্রতিভা ও যোগ্যতা কোন খেলনার প্রতি তার আগ্রহ বিদ্যমান, এর মাধ্যমেই বোঝা সম্ভব। বর্তমানে ম্যাকানিক খেলনা রয়েছে। আঁকাজোকা করা, রং করার খেলনা রয়েছে। মিলানো, খোলা-যুক্ত করাসহ ইত্যাদি হরেক রকমের খেলনা রয়েছে।
ইবনুল কাইয়িম রহ. বলেন :
'একটি শিশুর শিশুকালের অবস্থার ওপর, যে কাজের জন্য সে নিজেকে প্রস্তুত করে, গঠন করে...তার বিপরীত কিছু তাকে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।... কারণ, সে যে জিনিসের জন্য প্রস্তুত নয় সেটা তার ওপর চাপিয়ে দিলে তাতে সে সফল হবে না; বরং যার জন্য সে প্রস্তুত ছিল, তা ছুটে যাবে।
যখন দেখা যাবে যে, তার বোধশক্তি ভালো, বুঝশক্তি পরিষ্কার, ধীশক্তি প্রখর। তবে এমনটা শিক্ষা অর্জনের জন্য তার সক্ষমতার চিহ্ন প্রকাশ করে। প্রকাশ করে সে ইলম শেখার জন্য প্রস্তুতিসম্পন্ন। তাই তার শূন্য হৃদয়ের ফলকে যেন ইলমের ভালোবাসা এঁকে দেওয়া হয়—তাহলে তা হৃদয়ে বসে যাবে এবং স্থির হয়ে যাবে। সাথে সাথে আগ্রহ বৃদ্ধি পেতে থাকবে।
কিন্তু যদি সবদিক থেকেই এর বিপরীত পরিলক্ষিত হয়। সে অশ্বারোহণ ও তার আসবাব, নিক্ষেপণ যন্ত্র ও বর্শা নিয়ে খেলা করে; ইলমের প্রতি তার কোনো আগ্রহ দৃষ্টিগোচর না হয়; নিজেকে এ জন্য গড়ে না তোলে—তবে তার জন্য অশ্বারোহণ ও তার অনুশীলন সহজলভ্য করে দিতে হবে। কারণ, এটি তার জন্য ও মুসলিমদের জন্য বেশি কল্যাণকর।
যদি তার আগ্রহ বিপরীত পরিলক্ষিত হয়। সে নিজেকে এ জন্য প্রস্তুত না করে; বরং তার দৃষ্টি থাকে কোনো কারিগরি পেশার প্রতি; এ জন্য নিজেকে সে প্রস্তুত করে, এর প্রতি আগ্রহ দেখায়-আর পেশাটাও যেহেতু উপকারী ও মুবাহ-তবে তার জন্য সেই সুযোগ করে দেওয়া উচিত।’৩১
মুসলিম উলামাগণ প্রতিভা ও শক্তির উদ্ভাবন করতেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট যখন কেউ নির্দিষ্ট কোনো যোগ্যতা নিয়ে উপস্থিত হতো, তখন তার সে যোগ্যতাকে তিনি সরাসরি কাজে লাগিয়ে দিতেন। আবু মাহজুরাহ রা. ইসলাম-পূর্ব জাহিলি যুগে গায়ক ছিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার আওয়াজ শুনে বললেন :
اذْهَبْ فَأَذَّنْ عِنْدَ الْبَيْتِ الْحَرَامِا
'তুমি গিয়ে বাইতুল হারামের নিকট আজান দাও।'৩২
সুফইয়ান সাওরি রহ. ওয়াকি ইবনুল জাররাহ রহ.-এর দুচোখে তাকিয়ে বললেন, 'তোমরা দেখবে যে, এই লোকটি মহান হবে। মর্যাদাবান না হয়ে সে ইনতিকাল করবে না।'৩৩
ইমাম আবু হানিফা রহ. আবু ইউসুফ রহ.-এর মাঝে এবং মালিক রহ. শাফিয়ি রহ.-এর মাঝে তাদের মর্যাদাকর হওয়ার ব্যাপারটি নিরীক্ষণ করে বুঝতে পেরেছিলেন। ইমাম শাফিয়ি রহ. বলেন, 'যখন তিনি আমার কথা শুনলেন, তখন কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেন। ইমাম মালিক রহ. ফিরাসাহ-সমৃদ্ধ ছিলেন। নিরীক্ষণ-শক্তির অধিকারী ছিলেন। তিনি আমাকে বললেন, “তোমার নাম কি?” আমি বললাম, “মুহাম্মাদ।” তিনি বললেন, “হে মুহাম্মাদ, আল্লাহকে ভয় করো। গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয় অচিরেই তুমি বিশাল মর্যাদার অধিকারী হবে।””৩৫
আমি পাঁচ বছর বয়সী একটি শিশু পেলাম। সে কুরআন হিফজ করেছে। আমি তাকে পরীক্ষা করলাম আর অভিভূত হলাম, সে ঠিক ঠিক কুরআনের আয়াতগুলো স্থান-সহ বলে দিচ্ছে! আমি তার পিতাকে তার মুখস্থ-পদ্ধতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, 'যখন ছেলেটির বয়স দুবছর। তখন তিনি ছোট একটি রুমে অনেকগুলো খেলনা রাখলেন। সেখানে একটি টেপরেকর্ডার চালু করে রাখতেন। সব সময় তাতে কুরআন তিলাওয়াত চলত। অবশেষে যখন ছেলেটি তিন বছর অতিক্রম করল, তখন হিফজ শুরু করে দিল। পাঁচ বৎসর বয়সে হিফজ সম্পন্ন করল।
নিশ্চয় মানুষ অনেক যোগ্যতার অধিকারী। এই শিশুটির মুখস্থশক্তি ছিল প্রচণ্ড। কিন্তু তারবিয়াত, পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণ, লক্ষ্য স্থির করা ব্যতীত তার হয়তো হিফজ সম্পন্ন করা হতো না। সে এই অঙ্গনের প্রতিভাবান কেউ হতো না। কিন্তু তার পিতার সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও পরিকল্পনা তাকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
অথচ সাধারণভাবে যদি কেউ তাকে হিফজের জন্য বলত, তবে সে বলত, 'আমার স্মৃতিশক্তি দুর্বল। আমার বোধশক্তি কম। আমি করতে পারব না। আমাকে দিয়ে হবে না।' তাহলে হয়তো সে কখনোই পারত না। তাই সূচনাটাই ঠিক মতো হওয়া উচিত।
কতক মানুষ নিজেদের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রেখেছে। কিংবা প্রতিবন্ধকতা থাকার ভুল ধারণা নিয়ে বসে আছে। কখনো কখনো প্রতিবন্ধকতা থাকলেও তা ছোট হয়। কিন্তু সে এ ছোট ছোট প্রতিবন্ধকতাগুলোকে অনেক বিশাল করে দেখে। কখনো বাধা ঠিকই থাকে। চাইলে সে একে অতিক্রম করতে পারে। কিন্তু সে তা অতিক্রম করতে চায় না। এ ক্ষেত্রে আমি বলব, তোমার কাছে যদি কোনো পরিকল্পনা থাকে। যদি তুমি তা করতে সক্ষম না হও, তবে তা অন্যকে দাও। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি কতিপয় নফল আমলের বিবরণ দিতে গিয়ে বলেননি যে—
تُعِينُ صَانِعًا أَوْ تَصْنَعُ لِأَخْرَقَ
'কোনো কারিগরকে কর্মে সাহায্য করবে। অথবা কোনো অনিপুণের জন্য তৈরি করবে।'৩৬
অর্থাৎ কাজটি করতে সক্ষম-এমন কোনো কারিগরকে সাহায্য করো। অথবা এমন কোনো নির্বোধের জন্য নিজেই তৈরি করো, যে সুন্দরভাবে তৈরি করতে পারে না; অথবা এমনই অক্ষম যে, একেবারে তৈরি করতেই পারবে না, তুমি তার জন্য তৈরি করে দাও।

টিকাঃ
৩১. তুহফাতুল মাওদুদ বিআহকামিল মাওলুদ: ২৪৩-২৪৪
৩২. সুনানুন নাসায়ি: ৬৩৩; হাদিসটি সহিহ।
৩৩. তারিখু দিমাশক: ৬২/৬৯
৩৪. ইলমুল ফিরাসাহ। মুখ, হাবভাব, চালচলন ইত্যাদি দেখে কারও চরিত্র নির্ণয় করতে পারার বিদ্যা। ইংরেজিতে একে Physiognomy বলে। - অনুবাদক।
৩৫. তারিখু দিমাশক: ৫১/২৮৬
৩৬. সহিহুল বুখারি : ২৫১৮, সহিহু মুসলিম : ৮৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00