📘 সবরের পুরস্কার 📄 সবরের পুরস্কার

📄 সবরের পুরস্কার


শত কষ্টের মাঝেও যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য ধৈর্যধারণ করে, হোক সেটা আল্লাহর আনুগত্যের ক্ষেত্রে, অথবা সেটা নিষিদ্ধ কাজ থেকে বাঁচার জন্য কিংবা বিপদাপদ অবস্থায়। আল্লাহ তায়ালা তার জন্য উত্তম পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছেন। তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো-

জান্নাতে প্রবেশ ও রেশমী কাপড় পরিধানের সুসংবাদ
মুমিন ব্যক্তিদের পার্থিব জীবন হচ্ছে ধৈর্য বা সবরের জীবন। কারণ ঈমান আনার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তারা চলার পথে নিজের অবৈধ আশা-আকাঙ্ক্ষাকে অবদমিত করা, আল্লাহর নির্দিষ্ট সীমাসমূহ মেনে চলা, আল্লাহর নির্ধারিত ফরযসমূহ পালন করা, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য সময়, অর্থ-সম্পদ, শ্রম, শক্তি ও যোগ্যতা এমনকি প্রয়োজনের মুহূর্তে প্রাণ পর্যন্ত কুরবানী করা, আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এরূপ সমস্ত লোভ-লালসা ও আকর্ষণকে পদাঘাত করা, সত্য ও সঠিক পথে চলতে যেসব বিপদ ও দুঃখ-কষ্ট আসে তা সহ্য করা, ন্যায় ও সত্যপ্রীতির কারণে যে ক্ষতি মর্মবেদনা ও দুঃখ-কষ্ট এসে আঁকড়ে ধরে তা বরদাশত করা এসবই আল্লাহর এ ওয়াদার ওপর আস্থা রেখে করা যে এ সদাচরণের সুফল এ পৃথিবীতে নয় বরং মৃত্যুর পর আরেকটি জীবনে পাওয়া যাবে। সে সকল মুমিন বান্দাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে চিরস্থায়ী জান্নাত ও জান্নাতি রেশমী কাপড় পরিধানের সুসংবাদ। যেমন পবিত্র কুরআনে বলা হচ্ছে-
وَجَزَاهُم بِمَا صَبَرُوا جَنَّةً وَحَرِيرًا • (سورة الدهر : ١٢)
অর্থাৎ, আর তারা যে ধৈর্যধারণ করেছিল তার পরিণামে তিনি তাদেরকে জান্নাত ও রেশমী বস্ত্রের পুরস্কার প্রদান করবেন। (সূরা দাহর: ১২)

অন্য আয়াতে তাদের জন্য রোদ্রের উত্তাপ ও তীব্র ঠাণ্ডা বিহীন উঁচু আসনে বসার সুসংবাদ দেয়া হচ্ছে। যেমনিভাবে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলছেন-
مُتَّكِثِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ لَا يَرَوْنَ فِيهَا شَمْسًا وَلَا زَمْهَرِيرًا .
অর্থাৎ, তারা সেখানে সুউচ্চ আসনে হেলান দিয়ে আসীন থাকবে। তারা সেখানে না দেখবে অতিশয় গরম, আর না অত্যধিক শীত। (সূরা দাহর: ১৩)

জান্নাতের সম্মানিত ফেরেশতাদের শাস্তি বর্ষণ
এ সকল মুমিন বান্দাদেরকে জান্নাতের সম্মানিত ফেরেশতাগন সালাম দেবে এবং তাদেরকে পরিপূর্ণ শান্তি ও নিরাপত্তার সুখবর দিবে। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলছেন-
سَلَامٌ عَلَيْكُم بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ .
অর্থাৎ, (আর বলবে) 'শান্তি তোমাদের ওপর, কারণ তোমরা সবর করেছ, আর আখিরাতের এ পরিণাম কতই না উত্তম'। (সূরা রাদ: ২৪)

ক্ষমা ও উত্তম প্রতিদান
সবরকারী ব্যক্তি তো সেই যে কালের পরিবর্তনশীল অবস্থায় নিজের মানসিক ভারসাম্য অটুট রাখে। সময়ের প্রত্যেকটি পরিবর্তনের প্রভাব গ্রহণ করে সে নিজের রং বদলাতে থাকে না। বরং সব অবস্থায় যুক্তিসঙ্গত ও সঠিক মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে এগিয়ে চলে। যদি কখনো অবস্থা অনুকূল এসে যায় এবং সে ধনাঢ্যতা, কর্তৃত্ব ও খ্যাতির উচ্চাসনে চড়তে থাকে তাহলে শ্রেষ্ঠত্ব ও অহংকারের নেশায় মত্ত হয়ে বিপথে পরিচালিত হয় না। আর যদি কখনো বিপদ-আপদ ও সমস্যা-সংকটে করাল আঘাত ক্ষত-বিক্ষত করতে থাকে, তাহলে এহেন অবস্থায়ও সে নিজের মানবিক চরিত্র বিনষ্ট করে না। আল্লাহর পক্ষ থেকে সুখৈশ্বর্য বা বিপদ-মুসীবত যে কোনো আকারেই তাকে পরীক্ষায় ফেলা হোক না কেন উভয় অবস্থায় তার ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা অপরিবর্তিত ও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকে। তার হৃদয়পাত্র কখনো কোনো ছোট বা বড় জিনিসের আধিক্যে উপচে পড়ে না। আল্লাহ তায়ালা এমন ধরনের লোকদের দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করে দেন এবং তাদের সৎকাজের পুরস্কার প্রদান করেন। যেমনিভাবে কুরআন মাজীদে বলা হয়েছে-
إِلَّا الَّذِينَ صَبَرُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَئِكَ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ كَبِيرٌ .
অর্থাৎ, তবে যারা সবর করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্যই রয়েছে ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান। (সূরা হুদ: ১১)

অগণিত পুরষ্কার
যারা মহান আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছে এবং তাকওয়ার অবলম্বন করেছে। দুনিয়ায় আগত বিপদ-আপদের সময় ধৈর্যধারণ করেছে ও তাকদীরের ভাল-মন্দের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে, সে সকল বান্দাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে অগণিত পুরষ্কারের কথা বলা হয়েছে। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলছেন-
قُلْ يَا عِبَادِ الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا رَبَّكُمْ لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا فِي هَذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةٌ وَأَرْضُ اللَّهِ وَاسِعَةٌ إِنَّمَا يُوَفِّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ .
অর্থাৎ, বল, 'হে আমার মুমিন বান্দারা যারা ঈমান এনেছ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর। যারা এ দুনিয়ায় ভালো কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ। আর আল্লাহর যমীন প্রশস্ত, কেবল ধৈর্যশীলদেরকেই তাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে দেয়া হবে কোনো হিসেব ছাড়াই।' (সূরা যুমার: ১০)

ঈসা (আ.) এর অনুসারী যারা জাতীয়, বংশীয়, দলীয় ও স্বদেশের স্বার্থপ্রীতি থেকে মুক্ত ছিল এবং দ্বীনের ওপর অবিচল ছিল এবং নতুন নবীর আগমনে যে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাতে প্রমাণ করে দিয়েছিল যে আসলে তারা ঈসা পূজারী নয় বরং তারা আল্লাহর পূজারী ছিল। তাদের এ কঠিন পরিস্থিতিতে তারা ধৈর্যধারণ করেছিল। আর আল্লাহ তায়ালা তাদের এ ধৈর্যের পুরস্কারস্বরূপ তাদেরকে দ্বিগুণ পুরস্কারের সুসংবাদ প্রদান করেছেন। যেমন কুরআনে এসেছে-
أُولَئِكَ يُؤْتَوْنَ أَجْرَهُم مَّرَّتَيْنِ بِمَا صَبَرُوا وَيَدْرَءُونَ بِالْحَسَنَةِ السَّيِّئَةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ .
অর্থাৎ, তাদেরকে দু'বার প্রতিদান দেয়া হবে। এ কারণে যে, তারা ধৈর্যধারণ করে এবং ভালো দ্বারা মন্দকে প্রতিহত করে। আর আমি তাদেরকে যে রিষ্ক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। (সূরা কাসাস: ৫৪)

নেতৃত্ব প্রদান
ধৈর্য ও অবিচলতার মাধ্যমে যে নেতৃত্বের উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হওয়া যায়, তার বাস্তব উদাহরণ হচ্ছে বনী ইসরাঈল। আল্লাহর আয়াতের প্রতি তাদের যে দৃঢ়প্রত্যয় স্থাপন এবং আল্লাহর বিধান মেনে চলার ব্যাপারে যে সবর ও অবিচল নিষ্ঠা প্রদর্শন তার ফলশ্রুতিতে তারা শ্রেষ্ঠ জাতিসত্তায় পরিণত হয়েছিল এবং উন্নতির উচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিল। বনী ইসরাঈল জাতির মধ্যে তারাই নেতৃত্ব লাভ করে যারা আল্লাহর কিতাবের প্রতি প্রকৃত বিশ্বস্ত ছিল এবং যারা বৈষয়িক স্বার্থোদ্ধার ও স্বাদ আস্বাদনের সীমা ছাড়িয়ে যেত না। তাদের প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে এভাবে বলা হচ্ছে-
وَجَعَلْنَا مِنْهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوا وَكَانُوا بِآيَاتِنَا يُوقِنُونَ .
অর্থাৎ, আর আমি তাদের মধ্য থেকে বহু নেতা করেছিলাম, তারা আমার আদেশানুযায়ী সৎপথ প্রদর্শন করত, যখন তারা ধৈর্যধারণ করেছিল। আর তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখত। (সূরা আস্সাজদাহ: ২৪)

বিপদাপদে আল্লাহর সাহায্যের প্রতিশ্রুতি প্রদান
যে সকল ঈমানদার ব্যক্তিগণ কঠিন বিপদের মুহূর্তে ধৈর্যধারণ করে এবং নামাজ ও সবরের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে। আল্লাহ তায়ালা সে সকল মুমিন ব্যক্তিদেরকে বিপদ-মুসীবত সর্বাবস্থায় সাহায্যের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলছেন -
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ
অর্থাৎ, হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। (সূরা বাক্বারা: ১৫৩)

শত্রুর ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তিলাভ
কঠিন বিপদের মুহূর্তে ও শত্রুর হাজার ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও কেউ যদি দৃঢ় মনোবল ও ধৈর্যধারণ করে আল্লাহর নিকট সাহায্য চায়। আল্লাহ তায়ালা তাকে শত্রুর ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তিদান করেন এবং বিজয়ের পথ সুগম করে দেন। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলছেন-
إِن تَمْسَسْكُمْ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ وَإِن تُصِبْكُمْ سَيِّئَةٌ يَفْرَحُوا بِهَا ۖ وَإِن تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا ۗ إِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطٌ .
অর্থাৎ, যদি তোমাদেরকে কোনো কল্যাণ স্পর্শ করে, তখন তাদের কষ্ট হয়। আর যদি তোমাদেরকে মন্দ স্পর্শ করে, তখন তারা তাতে খুশি হয়। আর যদি তোমরা ধৈর্য ধর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, তাহলে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কিছু ক্ষতি করবে না। নিশ্চয় আল্লাহ তারা যা করে, তা পরিবেষ্টনকারী। (সূরা আলে ইমরান: ১২০)

আল্লাহর রহমত ও হিদায়ত প্রদান
আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মানুষের জীবনে যে পরীক্ষার সম্মুখীন হয় যেমন- ভীতি, ক্ষুধা, প্রাণ ও সম্পদের ক্ষতি, উপার্জন ও আমদানি হ্রাস ইত্যাদি পরীক্ষার সময় যে ব্যক্তি ধৈর্যের পথ অবলম্বন করে। সে সকল ব্যক্তির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত ও হিদায়াত দানের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। যেমনিভাবে কুরআনে বলা হয়েছে-
وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ * الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ . أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ .
অর্থাৎ, আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। যারা তাদেরকে যখন বিপদ আক্রান্ত করে তখন বলে, নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। তাদের ওপরই রয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও রহমত এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত। (সূরা বাক্বারা: ১৫৫-১৫৭)

আল্লাহর ভালোবাসা ও প্রশংসা জ্ঞাপন
وَكَأَيِّن مِّن نَّبِيٍّ قَاتَلَ مَعَهُ رِبُّيُّونَ كَثِيرٌ فَمَا وَهَنُوا لِمَا أَصَابَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَا ضَعُفُوا وَمَا اسْتَكَانُوا ۚ وَاللَّهُ يُحِبُّ الصَّابِرِينَ .
অর্থাৎ, আর কত নবী ছিল, যার সাথে থেকে অনেক আল্লাহওয়ালা লড়াই করেছে। তবে আল্লাহর পথে তাদের ওপর যা আপতিত হয়েছে তার জন্য তারা হতোদ্যম হয়নি। আর তারা দুর্বল হয়নি এবং তারা নত হয়নি। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদেরকে ভালোবাসেন। (সূরা আলে ইমরান: ১৪৬)

আল্লাহর নেক বান্দারা যখন বিপদের ও কঠিন সংকটের মুখোমুখি হয় তখন তারা তাদের রবের কাছে অভিযোগ করে না বরং ধৈর্যসহকারে তার চাপিয়ে দেয়া পরীক্ষাকে মেনে নেয় এবং তাতে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য আল্লাহর নিকট সাহায্য চায়। এমন ব্যক্তির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে ভালোবাসা ও তাদের প্রশংসা জ্ঞাপন করা হয়। যা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, আমরা হযরত আইয়ুব (আ.) এর জীবনে দেখতে পাই। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَخُذْ بِيَدِكَ ضِعْنَا فَاضْرِب بِهِ وَلَا تَحْنَتْ إِنَّا وَجَدْنَاهُ صَابِرًا نَّعْمَ الْعَبْدُ إِنَّهُ أَوَّابٌ .
অর্থাৎ, আর তুমি তোমার হাতে এক মুঠো তৃণলতা নাও এবং তা দিয়ে আঘাত কর। আর কসম ভঙ্গ করো না। নিশ্চয় আমি তাকে ধৈর্যশীল পেয়েছি। সে কতই না উত্তম বান্দা! নিশ্চয়ই সে ছিল আমার অভিমুখী। (সূরা সোয়াদ: ৪৪)

শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয় লাভ
যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন অবস্থায় লড়াই করে। সকল প্রকার ত্যাগ-কুরবানি ও দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে। সে সকল ধৈর্যশীল ব্যক্তিদেরকে আল্লাহ তায়ালা বিজয় দান করেন। যেমনিভাবে বদর যুদ্ধে বিজয় দান করেছিলেন। যেমন কুরআনে বলা হচ্ছে-
بَلَى إِن تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا وَيَأْتُوكُم مِّن فَوْرِهِمْ هَذَا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُم بِخَمْسَةِ آلَافٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُسَوِّمِينَ .
অর্থাৎ, হ্যাঁ, যদি তোমরা ধৈর্য ধর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, আর তারা হঠাৎ তোমাদের মুখোমুখি এসে যায়, তবে তোমাদের রব পাঁচ হাজার চিহ্নিত ফেরেশতা দ্বারা তোমাদেরকে সাহায্য করবেন। (সূরা আলে ইমরান: ১২৫)

আর যে জাতিকে দুর্বল মনে করা হতো আমি তাদেরকে যমীনের পূর্ব ও তার পশ্চিমের উত্তরাধিকারী বানালাম, যেখানে আমি বরকত দিয়েছি এবং বনী ইসরাঈলের ওপর তোমার রবের উত্তম বাণী পরিপূর্ণ হলো। কারণ তারা ধৈর্যধারণ করেছে। আর ধ্বংস করে দিলাম, যা কিছু তৈরি করেছিল ফিরআউন ও তার সম্প্রদায় এবং তারা যা নির্মাণ করেছিল। (সূরা আরাফ: ১৩৭)

জান্নাতে বাইতুল হামদ নামক গৃহ নির্মাণ
প্রিয়জন বিয়োগে যারা ধৈর্যধারণ করে ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তাঁর প্রশংসা করে। সে সকল ব্যক্তিদের জন্য আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে বাইতুল হামদ বা প্রশংসার গৃহ নির্মাণ করবেন। এ প্রসঙ্গে রাসূল (সা.) বলেছেন-
"হযরত আবু মূসা আশআরী (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, যখন কোনো ব্যক্তির বাচ্চা মারা যায় তখন আল্লাহ পাক ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করেন তোমরা আমার বান্দার ছেলের রূহ কবয করেছো? তারা জবাব দেয় জ্বি হ্যাঁ। আল্লাহ বলেন-তোমরা তার হৃদয়ের ফলকে ছিনিয়ে নিয়েছ? তারা জবাব দেয় জি হ্যাঁ। আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন তো আমার বান্দাহ কি বলছে? তারা জবাব দেয় সে তোমার প্রশংসা করেছে এবং পড়েছে। এরপর আল্লাহ ফেরেশতাদের আদেশ করেন, তোমরা আমার বান্দাদের জন্য জান্নাতে ঘর বানাও এবং তার নাম বায়তুল হামদ (প্রশংসার ঘর) রাখো।" (রিয়াদুস সালেহীন: ১৩৯৫)

পরিশেষে, মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে সেই সকল ধৈর্যশীলদের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত কর, যারা বিপদ-মুসিবত, দুঃখ-কষ্টে সবর করে। যারা সুখের সময় ও সুস্থতায় সবর করে। হে রব! আমাদের ধৈর্যকে তাদের মতো করে দাও, যারা একমাত্র তোমার সান্নিধ্য লাভের জন্য সবর করে এবং চিরস্থায়ী জান্নাতের অধিবাসী। আমীন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px