📄 কুরবানির পরীক্ষায় হযরত ইসমাইল (আ.) ধৈর্যধারণ
সবরের দিক থেকে হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর সবর ছিল সবচেয়ে উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ সবর। কেননা এ সবর ছিল আসসবরু ফি তাআ'তি আল্লাহি বা আল্লাহর আনুগত্য ও নির্দেশ পালনের জন্য সবর। যার দৃষ্টান্ত হচ্ছে এ রকম-
فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يَا بُنَيَّ إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانظُرْ مَاذَا تَرَى قَالَ يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِن شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ •
অর্থাৎ, অতঃপর যখন সে তার সাথে চলাফেরা করার বয়সে পৌঁছল, তখন সে বলল, 'হে প্রিয় বৎস, আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে যবেহ করছি, অতএব দেখ তোমার কী অভিমত'; সে বলল, 'হে আমার পিতা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, আপনি তাই করুন। আমাকে আপনি অবশ্যই ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন'। (সূরা আস-সফফাত: ১০২)
ইব্রাহিম (আ.) একদিন স্বপ্ন দেখলেন তিনি তার প্রাণপ্রিয় পুত্রের গলায় ছুরি চালাচ্ছেন। নবীদের স্বপ্ন একপ্রকার অহি বা আল্লাহর আদেশ। আল্লাহর হুকুম শিরধার্য। কিন্তু ইসমাঈল (আ.) কি এ হুকুম মেনে নিবে? আসলে আল্লাহ তো সে পরীক্ষাই নিতে চান। আল্লাহ তো দেখতে চান ইসমাঈল (আ.) আল্লাহর হুকুমের সামনে মাথা নত করে কি না? নিজের জীবনের চাইতেও আল্লাহর হুকুম পালন করাকে বড় কর্তব্য মনে করে কি না? আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সে নিজের জীবনকে কুরবানি করতে প্রস্তুত আছে কি না? কিন্তু ইসমাঈল তো তার পিতার মতোই আল্লাহর অনুগত। আল্লাহর সন্তুষ্টির চাইতে বড় কোনো কাম্য তার নেই। কুরআন সে ঘটনার কথা এভাবে বর্ণনা করছে-
"অতঃপর তারা উভয়ে যখন আত্মসমর্পণ করল এবং সে তাকে কাত করে শুইয়ে দিল তখন আমি তাকে আহ্বান করে বললাম, 'হে ইবরাহীম, 'তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। নিশ্চয় আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি'। 'নিশ্চয় এটা সুস্পষ্ট পরীক্ষা'। আর আমি এক মহান যবেহের বিনিময়ে তাকে মুক্ত করলাম।" (সূরা আস-সফফাত: ১০৩-১০৭)
তখন পিতা-পুত্র দু'জনই আল্লাহর হুকুমের সামনে মাথা নত করে দিলেন এবং ইব্রাহিম (আ.) পুত্রকে উপুড় করে শুইয়ে দিয়ে ছুরি চালাতে উদ্যত হলেন তখন আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাকে বললেন, ইসমাঈলের স্থলে একটি দুম্বা রেখে দিতে। তখন ইব্রাহিম (আ.) সেই দুম্বাকে জবেহ করলেন। যেমন কুরআনে এসেছে-
وَإِسْمَاعِيلَ وَإِدْرِيسَ وَذَا الْكِفْلِ كُلٌّ مِّنَ الصَّابِرِينَ . وَأَدْخَلْنَاهُمْ فِي رَحْمَتِنَا إِنَّهُم مِّنَ الصَّالِحِينَ .
অর্থাৎ, আর স্মরণ কর ইসমাঈল, ইদরীস ও যুল্-কিফল এর কথা, তাদের প্রত্যেকেই ধৈর্যশীল ছিল। আর তাদেরকে আমি আমার রহমতে শামিল করেছিলাম। তারা ছিল সৎকর্মপরায়ণ। (সূরা আম্বিয়া: ৭৫-৭৬)
আল্লাহ তায়ালা পিতা-পুত্র দুইজনকেই কবুল করে নিলেন এবং ধৈর্যশীল হিসেবে আখ্যায়িত করলেন।