📄 বিপদাপদে সবর
রোগ-ব্যাধি, দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-মুসিবত ইত্যাদি মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। দুনিয়াতে এমন কোনো মানুষ নেই যাদের ওপর এগুলো পতিত হয়নি। আর মানুষকে আল্লাহ তায়ালা প্রকৃতিগত ভাবেই দুর্বল করে সৃষ্টি করেছেন। বিপদ- মুসিবতে পড়লেই সে ঘাবড়ে যায়। যেমন কুরআনে বলা হচ্ছে-
خُلِقَ الْإِنسَانُ مِنْ عَجَل .
অর্থাৎ, মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে তাড়াহুড়ার প্রবণতা দিয়ে। (সূরা আম্বিয়া: ৩৭)
إِنَّ الْإِنسَانَ خُلِقَ هَلُوعًا • إِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوعًا .
অর্থাৎ, নিশ্চয় মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে অস্থির করে। যখন তাকে বিপদ স্পর্শ করে তখন সে হয়ে পড়ে অতিমাত্রায় উৎকণ্ঠিত। (সূরা মাআরিজ: ১৯-২০)
আর যখনই মানুষ বিপদে পড়বে তা থেকে উত্তরণের জন্য আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সবর বা ধৈর্যধারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করা, দুঃখ-কষ্টে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করাই এ প্রকার সবরের দাবি。
যেমন রাসূল (সা.) বলেছেন-
انما الصبر هذا أول صدمة أو عند أول الصدمة .
বিপদের প্রথম অবস্থায় ধৈর্যধারণ করাই হচ্ছে, প্রকৃত ধৈর্যধারণ। এই প্রসঙ্গে লোকমান (আ.) তার পুত্রকে চমৎকারভাবে উপদেশ দিয়েছেন যা কুরআন এভাবে বর্ণনা করছে-
يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ .
অর্থাৎ, 'হে আমার প্রিয় বৎস, সালাত কায়েম কর, সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজে নিষেধ কর এবং তোমার ওপর যে বিপদ আসে তাতে ধৈর্য ধর। নিশ্চয় এগুলো অন্যতম দৃঢ় সংকল্পের কাজ'। (সূরা লুকমান: ১৭)