📘 সবরের পুরস্কার 📄 হাদীস শরীফে সবরের বর্ণনা

📄 হাদীস শরীফে সবরের বর্ণনা


সবর সম্পর্কে রাসূল (সা.) এর মুখঃনিসৃত অনেক বাণী রয়েছে। নিম্নে তা থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে কিছু তুলে ধরা হলো-

১. ধৈর্য মুমিনদের বড় দুটি গুণের মধ্যে একটি
মুমিন ব্যক্তিদের বড় দুটি গুণ হলো বিপদে ধৈর্যধারণ করা ও আনন্দ ও খুশির সময় আল্লাহর শোকর ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। যেমন রাসূল (সা.) বলছেন-
আবু ইয়াহইয়া সুহাইব বিন সিনান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, ঈমানদারের বিষয় নিয়ে আমি খুব আশ্চর্যবোধ করি। তার সকল কাজেই আছে কল্যাণ। ঈমানদার ছাড়া অন্য কোনো মানুষের এ সৌভাগ্য নেই। তার যদি আনন্দ বা সুখকর কোনো বিষয় অর্জিত হয়, তাহলে সে আল্লাহর শোকর করবে, ফলে তার কল্যাণ হবে। আর যদি তাকে কোনো বিপদ মুসিবত স্পর্শ করে তাহলে সে ধৈর্যধারণ করবে। এতেও অর্জিত হবে তার কল্যাণ। (সহীহ মুসলিম: ২৯৯৯)

২. ধৈর্য আলোস্বরূপ
ধৈর্য ঈমানদারদের জন্য আলোস্বরূপ। সূর্যের আলো যেমন মানুষকে আলো দেয় ও তাপের মাধ্যমে শক্তি জোগায় ঠিক তেমনি ধৈর্য ও মানুষকে আলোকিত ও শক্তিশালী করে। যেমন রাসূল (সা.) বলছেন-
আবু মালিক হারেস ইবনে আসেম আল আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, পবিত্রতা হলো ঈমানের অর্ধেক। আর আল-হামদুলিল্লাহ আমলের পাল্লা পূর্ণ করে দেয়। সুবহানাল্লাহ ও আল হামদুলিল্লাহ উভয়ে আকাশসমূহ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তীস্থান পূর্ণ করে দেয়। নামায হলো জ্যোতি। দান সাদাকা হলো প্রমাণ। সবর-ধৈর্য হচ্ছে আলো। আল কুরআন তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে প্রমাণ হবে। প্রত্যেক মানুষ সকালে উঠে নিজেকে বিক্রি করে দেয়। এরপর সে নিজেকে মুক্ত করে অথবা ধ্বংস করে। (সহীহ মুসলিম: ২২৩)

৩. প্রিয়বস্তু ত্যাগের মাধ্যমে সবর বা ধৈর্য
আনাস (রা.) বর্ণনা করেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল (সা.) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা বলেন, (যখন আমি আমার বান্দাকে তার প্রিয়তম জিনিস দ্বারা অর্থাৎ চক্ষু থেকে বঞ্চিত করে পরীক্ষা করি এবং সে সবর করে আমি তাকে এ দুটির বিনিময়ে জান্নাত প্রদান করবো। (রিয়াদুস সালেহীন: ১০/৩৫)

বুখারী তে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি যদি আমার কোনো বান্দাকে তার প্রিয় দুটি বস্তু সম্পর্কে পরীক্ষায় ফেলি, আর সে ধৈর্য ধারণ করে, তাহলে আমি তাকে সে দুটির বিনিময়ে জান্নাত দান করবো। আনাস (রা.) বলেন, দুটি প্রিয় বস্তু হলো সে ব্যক্তির চক্ষুদ্বয়। এ রকম বর্ণনা করেছেন আশআস ইবনু জাবির ও আবু বিলাল (রহ.) আনাস (রা.)-এর সূত্রে নবী (সা.) থেকে। (সহীহ বুখারী: ৫৬৫৩)

৪. ধৈর্য একটি উত্তম সম্পদ
ধৈর্য মানুষের এক অসাধারণ গুণ। যে ব্যক্তি নিজেকে ধৈর্যশীল বানাতে চায়, আল্লাহ তাকে ধৈর্যশীল হতে সাহায্য করেন। অভাবে পড়ে মানুষের কাছে না চাওয়া, নিজের অভাবের কথা প্রকাশ না করা ধৈর্যের অন্তর্ভুক্ত। যত চারিত্রিক সম্পদ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ও ব্যাপক কার্যকরী হলো ধৈর্য বা সবর। যাকে এ গুণটি দান করা হয়েছে সে অনেক মূল্যবান সম্পদ অর্জন করেছে। এ প্রসঙ্গে হাদীসের এক বর্ণনায় এসেছে-
আবু সায়ীদ সাদ বিন মালেক বিন সিনান আল খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, আনসারী সাহাবীদের মধ্য থেকে কিছু লোক রাসূল (সা.)-এর কাছে সাহায্য চাইল। তিনি তাদেরকে দান করলেন। তারা আবার সাহায্য চাইল। তিনি আবার দান করলেন। শেষ পর্যন্ত যা কিছু তার কাছে ছিল সবই শেষ হয়ে গেল। যখন সবকিছু দান করে দিলেন তখন তিনি তাদের বললেন, আমার কাছে যা কিছু সম্পদ আসে তা আমি তোমাদেরকে না দিয়ে জমা করে রাখি না। যে ব্যক্তি মানুষের কাছে চাওয়া থেকে মুক্ত থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে মুক্ত রাখেন। যে ব্যক্তি কারো মুখাপেক্ষী হতে চায় না, আল্লাহ তাকে ধনী বানিয়ে দেন। যে ব্যক্তি ধৈর্যধারণ করতে চায়, আল্লাহ তাকে ধৈর্যশীল বানিয়ে দেন। ধৈর্যের চেয়ে উত্তম ব্যাপক বিস্তৃত সম্পদ কাউকে দান করা হয়নি। (সহীহ বুখারী: ১৪৬৯)

৫. আপনজনের মৃত্যুতে ধৈর্যধারণ
রাসূল (সা.) বিপদে দুঃখ-কষ্টে ও আপনজনের মৃত্যুতে উত্তমরূপে ধৈর্যধারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে হাদীসের এক বর্ণনায় এসেছে-
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) যখন রোগে ভারী হয়ে গেলেন রোগ যন্ত্রণা তাকে বেহুঁশ করতে লাগল তখন ফাতেমা (রা.) দুঃখের সাথে বললেন, উহ! আমার আব্বার কী কষ্ট হচ্ছে! রাসূল (সা.) এ কথা শুনে বললেন, আজকের পর তোমার আব্বার কোনো কষ্ট নেই। যখন তিনি ইন্তেকাল করলেন তখন ফাতেমা (রা.) বললেন, হায় আমার আব্বা! জিবরীলকে মৃত্যুর খবর দিচ্ছি। যখন তার দাফন শেষ হলো তখন ফাতেমা (রা.) লোকদের বললেন, তোমাদের মন কি চেয়েছে রাসূল (সা.) এর ওপর মাটি রাখতে? (সহীহ বুখারী: ৪১৯৩)

কারো আপনজনের মৃত্যুতে তাকে সান্ত্বনা দেয়া সুন্নাত। এমনিভাবে ধৈর্যধারণ করার জন্য উপদেশ দেয়া রাসূল (সা.) এর আদর্শ। এ প্রসঙ্গে অপর এক বর্ণনায় এসেছে-
উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (সা.)-এর কন্যা খবর পাঠালেন যে আমার ছেলে মৃত্যুদ্বারে উপস্থিত, তাই আপনি একটু আমাদের দেখে যান! রাসূল (সা.) খবরদাতাকে বললেন, যেয়ে সালাম বলো, আর বলবে যা তিনি নিয়ে গেছেন তা আল্লাহর জন্যই। তিনি যা দিয়েছেন তাতো তারই ছিলো। তার কাছে প্রত্যেক বস্তুর একটা নির্ধারিত মেয়াদ আছে। যেন সে ধৈর্যধারণ করে ও আল্লাহর কাছে পুরস্কারের আশা করে। ইতোমধ্যে আবার কসম দিয়ে তার কাছে লোক পাঠালেন তাকে আসতে বলে। তখন রাসূল (সা.) রওনা হলেন। সাথে সাআদ বিন উবাদা, মুআয বিন জাবাল, উবাই বিন কাআব, যায়েদ বিন সাবেত প্রমুখ সাহাবায়ে কেরাম। তারপর বাচ্চাটিকে রাসূল (সা.) এর কাছে দেয়া হলো, তিনি তাকে নিজ কোলে বসালেন। এ সময় বাচ্চাটি মৃত্যুর হেঁচকি দিচ্ছিল। রাসূল (সা.) এর দু'চোখ দিয়ে পানি বের হতে লাগল। এ দেখে সাআদ বললেন, হে রাসূল (সা.), এটা কি (আপনি কাঁদছেন)? তিনি বললেন, এটা রহমত! যা আল্লাহ তার বান্দাদের অন্তরে রেখেছেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন, আল্লাহ তার বান্দাদের মধ্যে যাকে চান তার অন্তরে এ রহমত দিয়ে দেন। আর আল্লাহ তার দয়ালু বান্দাদের প্রতি দয়া করেন। (সহীহ মুসলিম: ৯২৩)

আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সা.) একজন মহিলার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। সে একটি কবরের পাশে বসে কাঁদছিল। তিনি বললেন, তুমি আল্লাহকে ভয় কর এবং ধৈর্যধারণ কর। সে বলল, আপনি আমার নিকট হতে দূরে সরে যান। কারণ আমি যে বিপদে পড়েছি আপনি তাতে পড়েননি। (সে রাসূল (সা.) চিনতে পারেনি, তাই সে চরম শোকে তাকে অসঙ্গত কথা বলে ফেলল)। অতঃপর তাকে বলা হলো যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সা.) ছিলেন। সুতরাং এ কথা শুনে সে নবী (সা.) এর দরবারে এলো। সেখানে সে দারোয়ানকে পেল না। অতপর সে সরাসরি প্রবেশ করে বললো, আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। রাসূল (সা.) বললেন আঘাতের শুরুতে সবর করাটাই হলো প্রকৃত সবর। (সহীহ বুখারী; ১২৮৩) মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, সে মহিলাটি তার মৃত শিশুর জন্য কাঁদছিল। (সহীহ মুসলিম: ৬৩৭)

৬. সবরকারী পিতার জন্য জান্নাতে বাইতুল হামদ নামক গৃহ নির্মাণ
হযরত আবু মূসা আশআরী (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, যখন কোনো ব্যক্তির বাচ্চা মারা যায় তখন আল্লাহ পাক ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করেন তোমরা আমার বান্দার ছেলের রূহ কবয করেছো? তারা জবাব দেয় জ্বি হ্যাঁ, আল্লাহ বলেন, তোমরা তার হৃদয়ের ফলকে ছিনিয়ে নিয়েছ?। তারা জবাব দেয় জ্বি হ্যাঁ, আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, তো আমার বান্দাহ কী বলছে? তারা জবাব দেয়, সে তোমার প্রশংসা করেছে এবং পড়েছে। এরপর আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের আদেশ করেন, তোমরা আমার বান্দার জন্য জান্নাতে ঘর বানাও এবং তার নাম বায়তুল হামদ (প্রশংসার ঘর) রাখো। (সহীহ তিরমিযী: ৪৫৬, রিয়াদুস সালেহীন: ১৩৯৫)

📘 সবরের পুরস্কার 📄 সবরের প্রকারভেদ

📄 সবরের প্রকারভেদ


সবর তিন প্রকার

১. আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদতের ওপর সবর।
২. শরীয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ ও হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকার ওপর সবর।
৩. বিপদাপদে সবর।

📘 সবরের পুরস্কার 📄 সবরের দৃষ্টান্ত বা উদাহরণ

📄 সবরের দৃষ্টান্ত বা উদাহরণ


নবীদের জীবনে সবরের দৃষ্টান্ত

পৃথিবীতে এমন কোনো নবীকে প্রেরণ করা হয়নি যাদেরকে বিপদ-মুসিবত বা দুঃখ-কষ্ট দিয়ে পরীক্ষা করা হয়নি। আর এই পরীক্ষার সময়ে তারা ধৈর্যের যে পরিচয় দিয়েছেন তা আমাদের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নিম্নে নবীদের ধৈর্যের কিছু উদাহরণ পেশ করা হলো-

📘 সবরের পুরস্কার 📄 সবর বা ধৈর্যধারণে প্রতিবন্ধক কাজসমূহ

📄 সবর বা ধৈর্যধারণে প্রতিবন্ধক কাজসমূহ


সবর বা ধৈর্য পালনের ক্ষেত্রে কিছু জিনিস মানুষকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তা নিম্নরূপ:

১. তাড়াহুড়া করা
তাড়াহুড়া বা ত্বরা প্রবণতা এটা মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। সে দ্রুত কোনো কিছু পেতে চায়। এবং সময়ের পূর্বেই সে আশা করে। এ দিকে ইঙ্গিত করে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
خُلِقَ الْإِنسَانُ مِنْ عَجَلٍ سَأُرِيكُمْ آيَاتِي فَلَا تَسْتَعْجِلُونِ •
অর্থাৎ, মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে তাড়াহুড়ার প্রবণতা দিয়ে। অচিরেই আমি তোমাদেরকে দেখাব আমার নিদর্শনাবলী। সুতরাং তোমরা তাড়াহুড়া করো না। (সূরা আম্বিয়া: ৩৭)

এখানে শব্দটি ব্যবহারিত হয়েছে। যার অর্থ হচ্ছে ত্বরা। এর স্বরূপ হচ্ছে কোনো কাজ সময়ের পূর্বেই সম্পূর্ণ করা। এটা স্বতন্ত্র দৃষ্টিতে নিন্দনীয়। অস্থিরতা ও তাড়াহুড়া মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। তাদের পক্ষে সহিষ্ণু ও শান্ত হওয়াটা কঠিন। যেমনি ভাবে কুরআনে এসেছে-
وَيَدْعُ الْإِنسَانُ بِالشَّرِّ دُعَاءَهُ بِالْخَيْرِ وَكَانَ الْإِنسَانُ عَجُولًا .
অর্থাৎ, আর মানুষ অকল্যাণের দু'আ করে, যেমন তার দু'আ হয় কল্যাণের জন্য। আর মানুষ তো তাড়াহুড়াপ্রবণ। (সূরা বনি ইসরাঈল: ১১)

এজন্য আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় হাবীবকে নির্দেশ দিচ্ছেন তাড়াহুড়া না করে ধৈর্যধারণ করার জন্য। যেমন বলা হচ্ছে-
فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُولُو الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ وَلَا تَسْتَعْجِل لَّهُمْ كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَ مَا يُوعَدُونَ لَمْ يَلْبَثُوا إِلَّا سَاعَةً مِّن نَّهَارٍ بَلَاغٌ فَهَلْ يُهْلَكُ إِلَّا الْقَوْمُ الْفَاسِقُونَ .
অর্থাৎ, অতএব তুমি ধৈর্যধারণ কর, যেমন ধৈর্যধারণ করেছিল সুদৃঢ় সংকল্পের অধিকারী রাসূলগণ। আর তাদের জন্য তাড়াহুড়া করো না। তাদেরকে যে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল, যেদিন তারা তা প্রত্যক্ষ করবে, মনে হবে তারা পৃথিবীতে এক দিনের কিছু সময় অবস্থান করেছে। সুতরাং এটা এক ঘোষণা, তাই পাপাচারী কওমকেই ধ্বংস করা হবে। (সূরা আহকাফ: ৩৫)

আর তাড়াহুড়া করাটা মুমিনদের গুণাবলি নয়। কেননা তাড়াহুড়াটা শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। যেমনিভাবে তাড়াহুড়া সম্পর্কে ইমাম ইবনে কিয়াম বলেন- তাড়াহুড়া শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। আর সে এর মাধ্যমে বান্দাদের মধ্যে চঞ্চলতা, উদ্দেশ্যহীনতা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।

২. রাগান্বিত হওয়া
সবরের প্রতিবন্ধক কাজসমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাগান্বিত হওয়া বা রুক্ষ স্বভাবের হওয়া। প্রতিশোধপরায়ণ স্বভাবের হয়ে থাকা। বিশেষ করে যারা আল্লাহর পথে দাওয়াত দেয় তাদেরকে অবশ্যই এগুলোকে পরিহার করতে হবে। তারা হবে শান্ত ও নম্র স্বভাবের। যেমনিভাবে কুরআন বলছে-
وَالَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ وَإِذَا مَا غَضِبُوا هُمْ يَغْفِرُونَ .
অর্থাৎ, আর যারা গুরুতর পাপ ও অশ্লীল কার্যকলাপ থেকে বেঁচে থাকে এবং যখন রাগান্বিত হয় তখন তারা ক্ষমা করে দেয়। (সূরা শুয়ারা: ৩৭)

অন্য আয়াতে বলা হচ্ছে-
الَّذِينَ يُنفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ * وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ .
অর্থাৎ, যারা সুসময়ে ও দুঃসময়ে ব্যয় করে এবং ক্রোধ সংবরণ করে ও মানুষকে ক্ষমা করে। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন। (সূরা আলে ইমরান: ১৩৪)

ক্রোধ বা রাগান্বিত হওয়া এটা ধৈর্যের পরিপন্থী/বিপরীত একটি কাজ। তাই ধৈর্যশীল ব্যক্তিকে অবশ্যই ক্রোধ/রাগান্বিত হওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। রাসূল (সা.) বলেছেন-
হযরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, প্রকৃত বীর সে নয় যে কাউকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয়। বরং আসল বীর হলো সে যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। (বুখারী ও মুসলিম) (বুখারী: ৬১১৪)

৩. হতাশ বা নিরাশ হওয়া
হতাশ বা নিরাশ হওয়া সবরের প্রতিবন্ধকসমূহের মধ্যে অন্যতম। কেননা হতাশার দ্বারা আশা-আকাঙ্ক্ষা নিভে যায়। বান্দা আল্লাহর গোলামী থেকে দূরে সরে যায় এবং অলসতা তাকে ঘিরে ধরে। যার ফলে সে আল্লাহর ইবাদত থেকে দূরে সরে যায়। এ জন্য আল্লাহ তায়ালা মুমিনদেরকে হতাশ ও দুঃখিত না হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন। যেমন বলা হচ্ছে-
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ .
অর্থাৎ, আর তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং দুঃখিত হয়ো না, আর তোমরাই বিজয়ী হবে যদি মুমিন হয়ে থাক। (সূরা আলে ইমরান: ১৩৯)

অন্য আয়াতে ইয়াকুব (আ.) তার সন্তানদের বলেছেন-
يَا بَنِيَّ اذْهَبُوا فَتَحَسَّسُوا مِن يُوسُفَ وَأَخِيهِ وَلَا تَيْأَسُوا مِن رَّوْحِ اللَّهِ ۖ إِنَّهُ لَا يَيْأَسُ مِن رَّوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ .
অর্থাৎ, 'হে আমার ছেলেরা, তোমরা যাও এবং ইউসুফ ও তার ভাইয়ের খোঁজখবর নাও। আর তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। কেননা কাফির কওম ছাড়া কেউই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না'। (সূরা ইউসুফ: ৮৭)

তাই ধৈর্যশীলদের উচিত হচ্ছে হতাশ না হওয়া। বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে পথ চলা ও বিপদে ধৈর্যধারণ করা।

৪. সংকীর্ণতা ও বিষন্নতা
সংকীর্ণতা ও বিষন্নতা সবরের প্রতিবন্ধক কাজসমূহের মধ্যে অন্যতম। কেননা সংকীর্ণতা ও বিষন্নতা ধৈর্যধারণে বাধা প্রদান করে থাকে। যেমনিভাবে আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় হাবীবকে বলেছেন-
وَاصْبِرْ وَمَا صَبْرُكَ إِلَّا بِاللَّهِ وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلَا تَكُ فِي ضَيْقٍ مِّمَّا يَمْكُرُونَ .
অর্থাৎ, আর তুমি সবর কর। তোমার সবর তো শুধু আল্লাহর তাওফীকেই। তারা যেসব ষড়যন্ত্র করছে তুমি সে বিষয়ে সংকীর্ণমনা হয়ো না। (সূরা নাহল: ১২৭)

অন্য আয়াতে বলা হচ্ছে-
فَلَعَلَّكَ تَارِكٌ بَعْضَ مَا يُوحَى إِلَيْكَ وَضَائِقٌ بِهِ صَدْرُكَ أَن يَقُولُوا لَوْلَا أُنزِلَ عَلَيْهِ كَرْ أَوْ جَاءَ مَعَهُ مَلَكٌ إِنَّمَا أَنتَ نَذِيرٌ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ .
অর্থাৎ, তাহলে সম্ভবত তুমি তোমার ওপর অবতীর্ণ ওহীর কিছু বিষয় ছেড়ে দেবে এবং তোমার বুক সঙ্কুচিত হবে এ কারণে যে, তারা বলে, 'কেন তার ওপর ধন-ভান্ডার অবতীর্ণ হয়নি কিংবা তার সাথে ফেরেশতা আসেনি'? তুমি তো শুধু সতর্ককারী আর আল্লাহ সব কিছুর তত্ত্বাবধায়ক। (সূরা হুদ: ১২)

لَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ أَلَّا يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ .
অর্থাৎ, তারা মুমিন হবে না বলে হয়তো তুমি আত্মবিনাশী হয়ে পড়বে। (সূরা শূরা: ৩)

فَلَا تَذْهَبْ نَفْسُكَ عَلَيْهِمْ حَسَرَاتٍ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِمَا يَصْنَعُونَ .
অর্থাৎ, অতএব তাদের জন্য আফসোস করে নিজে ধ্বংস হয়ো না। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা জানেন। (সূরা ফাতির: ৮)

فَلَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ عَلَى آثَارِهِمْ إِن لَّمْ يُؤْمِنُوا بِهَذَا الْحَدِيثِ أَسَفًا .
অর্থাৎ, হয়তো তুমি তাদের পেছনে পেছনে ঘুরে দুঃখে নিজেকে শেষ করে দেবে, যদি তারা এই কথার প্রতি ঈমান আনে। (সূরা কাহাফ: ৬)

ফন্ট সাইজ
15px
17px