📘 সবরের পুরস্কার 📄 মুমিনের জীবনে সবরের আবশ্যকতা

📄 মুমিনের জীবনে সবরের আবশ্যকতা


যুগে যুগে মহান আল্লাহ যে সকল নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন, তাদের জীবনের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে আল্লাহ তায়ালা দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-মুসিবত ইত্যাদি দিয়ে পরীক্ষা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ হিসেবে (কুরআন তাদের শত্রু, অন্য জায়গায় মনুষ্য শয়তান বা জিন শয়তান) একজন অপরাধী/বিরুদ্ধাচারীকে দাঁড় করিয়েছেন তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য। যেমনিভাবে আদম (আ.) এর প্রতিপক্ষ হিসেবে ইবলিসকে, ইব্রাহিম (আ.) এর প্রতিপক্ষ হিসেবে নমরূদকে, মূসা (আ.) এর প্রতিপক্ষ হিসেবে ফেরআউনকে ও হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতিপক্ষ হিসেবে আবু জাহেলকে।

কুরআন এ কথার সত্যায়ন করছে এভাবে- وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ وَكَفَى بِرَبِّكَ هَادِيًا وَنَصِيرًا •
অর্থাৎ, হে মুহাম্মাদ (সা.)! আমি তো এভাবে অপরাধীদেরকে প্রত্যেক নবীর শত্রুতে পরিণত করেছি এবং তোমার জন্য তোমার রবই পথ দেখানোর ও সাহায্যদানের জন্য যথেষ্ট। (সূরা আল ফুরকান: ৩১)

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে- وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٌّ عَدُوًّا شَيَاطِينَ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُورًا وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوهُ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ .
অর্থাৎ, আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর শত্রু করেছি মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে শয়তানদেরকে, তারা প্রতারণার উদ্দেশ্যে একে অপরকে চাকচিক্যপূর্ণ কথার কুমন্ত্রণা দেয় এবং তোমার রব যদি চাইতেন, তবে তারা তা করত না। সুতরাং তুমি তাদেরকে ও তারা যে মিথ্যা রটায়, তা ত্যাগ কর। (সূরা আনআম: ১১২)

নবী-রাসূলদের অনুসারী মুমিন বান্দাদের ও এই পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তাদের দৃষ্টান্ত ও নবী-রাসূলদের মতোই।
যেমন কুরআন বলছে- وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ .
অর্থাৎ, আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফলফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। (সূরা বাক্বারা: ১৫৫)

অনেকের ধারণা হচ্ছে ঈমানের পথ হচ্ছে উজ্জ্বল, আলোকিত, সুগন্ধ যুক্ত গুল্মের ন্যায়। অর্থাৎ ঈমান আনয়নের পর তারা মনে করে যে আমাদের ওপর আর কোনো বিপদ বা পরীক্ষা পতিত হবে না। সম্ভবত তাদের এই ধারণাটা তারা তাদের অন্তরের মধ্যে লালন করে। বাস্তবিক পক্ষে তা অনেক কঠিন ও কণ্টকাকীর্ণ। কেননা মক্কার জীবনে যখন রাসূল (সা.) ও তার সাহাবীদের ওপর একের পর এক নির্যাতন সহ্য করতে হচ্ছিল ঠিক তখনই আল্লাহ তায়ালা সূরা আনকাবুতে বলছেন-
الم • أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ . وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ .
অর্থাৎ, আলিফ-লাম-মীম। মানুষ কি মনে করে যে, 'আমরা ঈমান এনেছি' বললেই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? আর আমি তো তাদের পূর্ববর্তীদের পরীক্ষা করেছি। ফলে আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন, কারা সত্য বলে এবং অবশ্যই তিনি জেনে নেবেন, কারা মিথ্যাবাদী। (সূরা আনকাবুত : ১-৩)

শুধু মক্কার জীবনেই নয় বরং মদিনার জীবনেও যারা এরূপ ধারণা করেছিল কুরআন তাদের সম্পর্কে বলছে-
أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُمْ مَثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِكُمْ مَسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاء وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرَ اللَّهِ قَرِيبٌ .
অর্থাৎ, তোমরা কি মনে করেছো, এমনিতেই তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করে যাবে? অথচ তোমাদের পূর্বে যারা ঈমান এনেছিল তাদের ওপর যা কিছু নেমে এসেছিল এখনও তোমাদের ওপর সেসব নেমে আসেনি। তাদের ওপর এমন কষ্ট-ক্লেশ ও বিপদ নেমে এসেছিল, যা তাদেরকে প্রকম্পিত করেছিল। এমনকি সমকালীন রাসূল ও তার সাথী ঈমানদার চিৎকার করে বলে উঠেছিল, কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে? অবশ্যই আল্লাহর সাহায্য নিকটেই। (সূরা বাক্বারা: ২১৪)

আর উহুদ যুদ্ধের সময় যখন মুসলমানদের বিপর্যস্ত অবস্থা ছিল এবং ৭০জন সাহাবী শাহাদাতবরণ করেছিল। অন্যান্য সাহাবাদের অন্তর ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিল তাদের সঙ্গী-সাথীদের মৃত্যুতে। ঠিক সেই সময় মহান আল্লাহ তায়ালা বলছেন -
أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جَاهَدُوا مِنْكُمْ وَيَعْلَمَ الصَّابِرِينَ .
অর্থাৎ, তোমরা কি মনে কর যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ আল্লাহ এখনো জানেননি তাদেরকে যারা তোমাদের মধ্য থেকে জিহাদ করেছে এবং জানেননি ধৈর্যশীলদেরকে। (সূরা আলে ইমরান: ১৪১)

যেমনিভাবে সূরা তাওবাতে বলা হয়েছে-
أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تُتْرَكُوا وَلَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جَاهَدُوا مِنْكُمْ وَلَمْ يَتَّخِذُوا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَا رَسُولِهِ وَلَا الْمُؤْمِنِينَ وَلِيجَةً وَاللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ .
অর্থাৎ, তোমরা কি মনে করেছ যে, তোমাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে? অথচ এখনও আল্লাহ যাচাই করেননি যে, তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছে এবং কারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ ছাড়া কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেনি। আর তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। (সূরা তাওবা: ১৬)

তাই এ কথা অনস্বীকার্য যে, যারা আল্লাহর পথে দায়ী ইলাল্লাহর কাজ করবে তাদেরকে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে। আর তাদের এই কঠিন পরীক্ষার মোকাবেলা করার জন্য আল্লাহ তাদেরকে সবর ও সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। যেমনিভাবে আল্লাহ তায়ালা বলছেন- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ .
অর্থাৎ, হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। (সূরা বাক্বারা: ১৫৩)

এবং এর পরের আয়াতেই শহীদদের মর্যাদা সম্পর্কে বলা হচ্ছে- وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاءٌ وَلَكِنْ لَا تَشْعُرُونَ .
অর্থাৎ, যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদেরকে মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত; কিন্তু তোমরা অনুভব করতে পার না। (সূরা বাক্বারা: ১৫৪)

আমরা যখন বিপদের ধরনের দিকে দৃষ্টিপাত করি তখন দেখতে পাই যে, কুরআন দৃঢ়ভাবে ও শব্দদ্বয়ের মধ্যে তাকীদ ব্যবহার (আরবী পরিভাষায় তাকীদ ব্যবহারের উদ্দেশ্য হচ্ছে অবশ্যই সে কাজটি সংঘটিত হবে) করে বলছে- وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ * وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ * الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ .
অর্থাৎ, আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফলফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। যারা, তাদেরকে যখন বিপদ আক্রান্ত করে তখন বলে, নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। (সূরা বাক্বারা: ১৫৫-১৫৬)

অন্য আয়াতে মুমিনদের পরীক্ষার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে এভাবে যেমন কুরআনে এসেছে- لَتُبْلَونَ فِي أَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَمِنَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا أَذًى كَثِيرًا وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ .
অর্থাৎ, অবশ্যই তোমাদেরকে তোমাদের ধন-সম্পদ ও তোমাদের নিজ জীবন সম্পর্কে পরীক্ষা করা হবে। আর অবশ্যই তোমরা শুনবে তোমাদের পূর্বে যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে এবং মুশরিকদের পক্ষ থেকে অনেক কষ্টদায়ক কথা। আর যদি তোমরা ধৈর্য ধর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে নিশ্চয় তা হবে দৃঢ় সংকল্পের কাজ। (সূরা আলে ইমরান: ১৮৬)১১

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যাচ্ছে যে-
১. নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের জন্য পারীক্ষা অবধারিত করে রেখেছেন সেটা হতে পারে ক্ষুধা দিয়ে, ধন-সম্পদ দিয়ে, ভয়-ভীতি দিয়ে, এমনকি তা হতে পারে তার নিজের জীবন দিয়ে।
২. দায়ী ইলাল্লাহদের (আল্লাহর পথে আহ্বানকারী) জন্য তিনটি পর্যায়ে সবর করা আবশ্যক-
ক. দাওয়াতের পূর্বে- ১. নিয়ত পরিশুদ্ধ করা। ২. রিয়া বা আত্মপ্রদর্শন ও খ্যাতি থেকে বিরত থাকা। ৩. বিশ্বস্তভাবে দৃঢ় সংকল্প করা।
খ. দাওয়াতের সময়ে- ১. দাওয়াতের ক্ষেত্রে ব্যর্থতা বা অবহেলা করা অবস্থায় সবর করা ২. যাকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে তার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা ও প্রতিত্তরের জন্য সবর করা। ৩. দাওয়াতের পথ থেকে সরে না আসা।
গ. দাওয়াতের পরে- ১. নফস বা অন্তরকে সাহসী কাজ করছি এমন ইচ্ছা পোষণ থেকে বিরত রাখা। ২. অহংকার ও বড়ত্ব প্রদর্শন থেকে সবর করা।
৩. আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে সবরের সম্পর্ক শরীরের সাথে মাথার মত। যেমনিভাবে যে ব্যক্তি দাওয়াত দিল কিন্তু সবর করলো না, সে মাথা বিহীন শরীরের সাথে সমতুল্য। যেমন ইবনে কিয়াম (রহ.) বলছেন- "ঈমানের মধ্যে সবরের মর্যাদা হলো মাথার সাথে শরীরের সম্পর্কের মত। অতএব ঈমান পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না সে ধৈর্য ধারণ করবে। ঐ শরীরের মতো যার শরীরের সাথে মাথার সম্পর্ক নেই।" তাই প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তির উচিত সবর বা ধৈর্য ধারণ করা এবং তার ওপর অটল থাকা।১২

টিকাঃ
১১. কারজাভী, ড. ইউসুফ আল, আবরু ফিল কুরআন, পৃঃ ১৫-১৭।
১২. কাহতানী, ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওহাব, আনওয়া উস্ সবর ওয়া মাজাল্লাতহু, পৃঃ ২০।

📘 সবরের পুরস্কার 📄 কুরআন মাজীদে সবরের বর্ণনা

📄 কুরআন মাজীদে সবরের বর্ণনা


ইমাম আহমদ (রহ.) বলছেন-পবিত্র কুরআনে ৯০টি স্থানে সবরের বর্ণনা করা হয়েছে।
আবু তালেব মাক্কী (রহ.) বলছেন- কুরআন মাজীদে ৯০টির অধিক বিষয়বস্তুতে সবরের বর্ণনা পাওয়া যায়।
আল-মু'জামূল মুফহারিস প্রণেতা বলেন- কুরআনে মূলধাতু দিয়ে ১০০ এর অধিক স্থানে বর্ণনা পাওয়া যায়।

কুরআনে সবর প্রসঙ্গে বর্ণিত কিছু আয়াত তুলে ধরা হলো

১. বিপদের সময় সবর বা ধৈর্য ধারণের নির্দেশ প্রসঙ্গে কুরআন বলছে- আর তুমি সবর কর। তোমার সবর তো শুধু আল্লাহর তাওফীকেই। তারা যেসব ষড়যন্ত্র করছে তুমি সে বিষয়ে সংকীর্ণমনা হয়ো না। (সূরা নাহল: ১২৮)
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে- আর তোমাদের রবের সিদ্ধান্তের জন্য ধৈর্যধারণ কর; কারণ তুমি আমার চোখের সামনেই আছ, তুমি যখন জেগে ওঠ তখন তোমার রবের সপ্রশংস তাসবীহ পাঠ কর। (সূরা নূর: ৪৮)

২. দৃঢ়ভাবে সবর বা ধৈর্য ধারণের নির্দেশ। সবর করা অবস্থায় মনমরা বা দুঃখ ভারাক্রান্ত হতে নিষেধ করা হয়েছে।
আর তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং দুঃখিত হয়ো না, আর তোমরাই বিজয়ী যদি মুমিন হয়ে থাক। (সূরা আলে ইমরান: ১৩৯)
অতএব তুমি তোমার রবের হুকুমের জন্য ধৈর্যধারণ কর। আর তুমি মাছওয়ালার মতো হয়ো না, যখন সে দুঃখে কাতর হয়ে ডেকেছিল। (সূরা ক্বলম: ৪৮)
অতএব তুমি ধৈর্যধারণ কর, যেমন ধৈর্যধারণ করেছিল সুদৃঢ় সংকল্পের অধিকারী রাসূলগণ। আর তাড়াহুড়া করো না। (সূরা আহকাফ: ৩৫)

৩. নেতৃত্ব দানের জন্য সবর বা ধৈর্য অত্যাবশ্যক প্রসঙ্গে বলা হয়েছে- আর আমি তাদের মধ্য থেকে বহু নেতা করেছিলাম, তারা আমার আদেশানুযায়ী সৎপথ প্রদর্শন করত, যখন তারা ধৈর্যধারণ করেছিল। আর তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখত। (সূরা আস্-সাজদাহ: ২৪)

৪. সবরের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে- আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় তা বিনয়ী ছাড়া অন্যদের ওপর কঠিন। (সূরা বাক্বারা: ৪৫)

৫. আল্লাহ তায়ালা সবর ও তাকওয়াকে শত্রুর ষড়যন্ত্র ও মন্দ কাজের মোকাবেলায় আত্মরক্ষাকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন- হ্যাঁ, যদি তোমরা ধৈর্য ধর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, আর তারা হঠাৎ তোমাদের মুখোমুখি এসে যায়, তবে তোমাদের রব পাঁচ হাজার চিহ্নিত ফেরেশতা দ্বারা তোমাদেরকে সাহায্য করবেন। (সূরা আলে ইমরান: ১২৫)

৬. আল্লাহ তায়ালা সবরকে মহাউত্তম/সংকল্পদীপ্ত কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন- আর যে ধৈর্যধারণ করে এবং ক্ষমা করে, তা নিশ্চয় দৃঢ় সংকল্পেরই কাজ। (সূরা শূরা: ৪৩)

৭. সবরকারী মুমিনদের জন্য নিশ্চিত বিজয়ের ওয়াদা করা হয়েছে- এবং বনী ইসরাঈলের ওপর তোমার রবের উত্তম বাণী পরিপূর্ণ হলো। কারণ তারা ধৈর্য ধারণ করেছে। (সূরা আ'রাফ: ১৩৭)

৮. সবরকারী মুমিনদের সফলকাম হিসেবে অখ্যায়িত করা হয়েছে- হে মুমিনগণ, তোমরা ধৈর্য ধর ও ধৈর্যে অটল থাক এবং পাহারায় নিয়োজিত থাক। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হও। (সূরা আলে ইমরান: ২০০)

৯. সবরকারী মুমিনদের জন্য দ্বিগুণ বা অগণিত পুরস্কার রয়েছে- তাদেরকে দু'বার প্রতিদান দেয়া হবে। এ কারণে যে, তারা ধৈর্যধারণ করে এবং ভালো দ্বারা মন্দকে প্রতিহত করে। (সূরা কাসাস: ৫৪)
আর আল্লাহর যমীন প্রশস্ত, কেবল ধৈর্যশীলদেরকেই তাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে দেয়া হবে কোনো হিসাব ছাড়াই। (সূরা যুমার: ১০)

১০. সবরকারী মুমিনদের সাথে আল্লাহর সাহচর্য প্রসঙ্গে বলা হয়েছে- হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। (সূরা বাক্বারা: ১৫৩)

১১. সবরকারী মুমিনদের জন্য তিনটি বিষয়কে নির্ধারিত করা হয়েছে- (১. আল্লাহর রহমত। ২. আল্লাহর অনুগ্রহ ৩. হিদায়াত বা সঠিক পথ)
আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। যারা (তাদেরকে যখন বিপদ আক্রান্ত করে তখন) বলে, নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। তাদের ওপরই রয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও রহমত এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত। (সূরা বাক্বারা: ১৫৫-১৫৭)

১২. আল্লাহ তায়ালা সবর ও তাকওয়াকে বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন- হ্যাঁ, যদি তোমরা ধৈর্য ধর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, আর তারা হঠাৎ তোমাদের মুখোমুখি এসে যায়, তবে তোমাদের রব পাঁচ হাজার চিহ্নিত ফেরেশতা দ্বারা তোমাদেরকে সাহায্য করবেন। (সূরা আলে ইমরান: ১২৫)

১৩. সবরকারী মুমিন বান্দাদের জন্য জান্নাতের সম্মানিত ফেরেশতা অভ্যর্থনা ও শান্তিবর্ষণ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে- আর ফেরেশতারা প্রতিটি দরজা দিয়ে তাদের নিকট প্রবেশ করবে। (আর বলবে) 'শান্তি তোমাদের ওপর, কারণ তোমরা সবর করেছ, আর আখিরাতের এ পরিণাম কতই না উত্তম'। (সূরা রাদ: ২৩-২৪)

১৪. সবরকে মুমিনদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার উপায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে- আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব যতক্ষণ না আমি প্রকাশ করে দিই তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদকারী ও ধৈর্যশীল এবং আমি তোমাদের কথা-কাজ পরীক্ষা করে নেব। (সূরা মুহাম্মদ: ৩১)

১৫. কুরআনে সবরকারী মুমিন বান্দাদের জন্য শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত পেশ করেছে। যেমনিভাবে বলা হয়েছে- আর আমি মূসাকে আমার আয়াতসমূহ দিয়ে পাঠিয়েছি যে, 'তুমি তোমার কওমকে অন্ধকার হতে আলোর দিকে বের করে আন এবং আল্লাহর দিবসসমূহ তাদের স্মরণ করিয়ে দাও'। নিশ্চয় এতে প্রতিটি ধৈর্যশীল, কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য রয়েছে অসংখ্য নিদর্শন। (সূরা ইব্রাহিম: ৫)
তুমি কি দেখনি যে, নৌযানগুলো আল্লাহর অনুগ্রহে সমুদ্রে চলাচল করে, যাতে তিনি তাঁর কিছু নিদর্শন তোমাদের দেখাতে পারেন। নিশ্চয় এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল, কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে। (সূরা লুকমান: ৩১)
আর তারা নিজদের প্রতি যুগ্ম করল। ফলে আমি তাদেরকে কাহিনী বানালাম এবং তাদেরকে একেবারে ছিন্নভিন্ন করে দিলাম। নিশ্চয় এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য নিদর্শন রয়েছে। (সূরা সাবা: ১৯)
তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে আরো রয়েছে সমুদ্রে চলাচলকারী পর্বতমালার মতো জাহাজ সমূহ। তিনি যদি চান বাতাসকে থামিয়ে দিতে পারেন। ফলে জাহাজগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠে গতিহীন হয়ে পড়বে। নিশ্চয় এতে পরম ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে। (সূরা শূরা: ৩২-৩৩)

📘 সবরের পুরস্কার 📄 হাদীস শরীফে সবরের বর্ণনা

📄 হাদীস শরীফে সবরের বর্ণনা


সবর সম্পর্কে রাসূল (সা.) এর মুখঃনিসৃত অনেক বাণী রয়েছে। নিম্নে তা থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে কিছু তুলে ধরা হলো-

১. ধৈর্য মুমিনদের বড় দুটি গুণের মধ্যে একটি
মুমিন ব্যক্তিদের বড় দুটি গুণ হলো বিপদে ধৈর্যধারণ করা ও আনন্দ ও খুশির সময় আল্লাহর শোকর ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। যেমন রাসূল (সা.) বলছেন-
আবু ইয়াহইয়া সুহাইব বিন সিনান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, ঈমানদারের বিষয় নিয়ে আমি খুব আশ্চর্যবোধ করি। তার সকল কাজেই আছে কল্যাণ। ঈমানদার ছাড়া অন্য কোনো মানুষের এ সৌভাগ্য নেই। তার যদি আনন্দ বা সুখকর কোনো বিষয় অর্জিত হয়, তাহলে সে আল্লাহর শোকর করবে, ফলে তার কল্যাণ হবে। আর যদি তাকে কোনো বিপদ মুসিবত স্পর্শ করে তাহলে সে ধৈর্যধারণ করবে। এতেও অর্জিত হবে তার কল্যাণ। (সহীহ মুসলিম: ২৯৯৯)

২. ধৈর্য আলোস্বরূপ
ধৈর্য ঈমানদারদের জন্য আলোস্বরূপ। সূর্যের আলো যেমন মানুষকে আলো দেয় ও তাপের মাধ্যমে শক্তি জোগায় ঠিক তেমনি ধৈর্য ও মানুষকে আলোকিত ও শক্তিশালী করে। যেমন রাসূল (সা.) বলছেন-
আবু মালিক হারেস ইবনে আসেম আল আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, পবিত্রতা হলো ঈমানের অর্ধেক। আর আল-হামদুলিল্লাহ আমলের পাল্লা পূর্ণ করে দেয়। সুবহানাল্লাহ ও আল হামদুলিল্লাহ উভয়ে আকাশসমূহ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তীস্থান পূর্ণ করে দেয়। নামায হলো জ্যোতি। দান সাদাকা হলো প্রমাণ। সবর-ধৈর্য হচ্ছে আলো। আল কুরআন তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে প্রমাণ হবে। প্রত্যেক মানুষ সকালে উঠে নিজেকে বিক্রি করে দেয়। এরপর সে নিজেকে মুক্ত করে অথবা ধ্বংস করে। (সহীহ মুসলিম: ২২৩)

৩. প্রিয়বস্তু ত্যাগের মাধ্যমে সবর বা ধৈর্য
আনাস (রা.) বর্ণনা করেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল (সা.) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা বলেন, (যখন আমি আমার বান্দাকে তার প্রিয়তম জিনিস দ্বারা অর্থাৎ চক্ষু থেকে বঞ্চিত করে পরীক্ষা করি এবং সে সবর করে আমি তাকে এ দুটির বিনিময়ে জান্নাত প্রদান করবো। (রিয়াদুস সালেহীন: ১০/৩৫)

বুখারী তে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি যদি আমার কোনো বান্দাকে তার প্রিয় দুটি বস্তু সম্পর্কে পরীক্ষায় ফেলি, আর সে ধৈর্য ধারণ করে, তাহলে আমি তাকে সে দুটির বিনিময়ে জান্নাত দান করবো। আনাস (রা.) বলেন, দুটি প্রিয় বস্তু হলো সে ব্যক্তির চক্ষুদ্বয়। এ রকম বর্ণনা করেছেন আশআস ইবনু জাবির ও আবু বিলাল (রহ.) আনাস (রা.)-এর সূত্রে নবী (সা.) থেকে। (সহীহ বুখারী: ৫৬৫৩)

৪. ধৈর্য একটি উত্তম সম্পদ
ধৈর্য মানুষের এক অসাধারণ গুণ। যে ব্যক্তি নিজেকে ধৈর্যশীল বানাতে চায়, আল্লাহ তাকে ধৈর্যশীল হতে সাহায্য করেন। অভাবে পড়ে মানুষের কাছে না চাওয়া, নিজের অভাবের কথা প্রকাশ না করা ধৈর্যের অন্তর্ভুক্ত। যত চারিত্রিক সম্পদ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ও ব্যাপক কার্যকরী হলো ধৈর্য বা সবর। যাকে এ গুণটি দান করা হয়েছে সে অনেক মূল্যবান সম্পদ অর্জন করেছে। এ প্রসঙ্গে হাদীসের এক বর্ণনায় এসেছে-
আবু সায়ীদ সাদ বিন মালেক বিন সিনান আল খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, আনসারী সাহাবীদের মধ্য থেকে কিছু লোক রাসূল (সা.)-এর কাছে সাহায্য চাইল। তিনি তাদেরকে দান করলেন। তারা আবার সাহায্য চাইল। তিনি আবার দান করলেন। শেষ পর্যন্ত যা কিছু তার কাছে ছিল সবই শেষ হয়ে গেল। যখন সবকিছু দান করে দিলেন তখন তিনি তাদের বললেন, আমার কাছে যা কিছু সম্পদ আসে তা আমি তোমাদেরকে না দিয়ে জমা করে রাখি না। যে ব্যক্তি মানুষের কাছে চাওয়া থেকে মুক্ত থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে মুক্ত রাখেন। যে ব্যক্তি কারো মুখাপেক্ষী হতে চায় না, আল্লাহ তাকে ধনী বানিয়ে দেন। যে ব্যক্তি ধৈর্যধারণ করতে চায়, আল্লাহ তাকে ধৈর্যশীল বানিয়ে দেন। ধৈর্যের চেয়ে উত্তম ব্যাপক বিস্তৃত সম্পদ কাউকে দান করা হয়নি। (সহীহ বুখারী: ১৪৬৯)

৫. আপনজনের মৃত্যুতে ধৈর্যধারণ
রাসূল (সা.) বিপদে দুঃখ-কষ্টে ও আপনজনের মৃত্যুতে উত্তমরূপে ধৈর্যধারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে হাদীসের এক বর্ণনায় এসেছে-
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) যখন রোগে ভারী হয়ে গেলেন রোগ যন্ত্রণা তাকে বেহুঁশ করতে লাগল তখন ফাতেমা (রা.) দুঃখের সাথে বললেন, উহ! আমার আব্বার কী কষ্ট হচ্ছে! রাসূল (সা.) এ কথা শুনে বললেন, আজকের পর তোমার আব্বার কোনো কষ্ট নেই। যখন তিনি ইন্তেকাল করলেন তখন ফাতেমা (রা.) বললেন, হায় আমার আব্বা! জিবরীলকে মৃত্যুর খবর দিচ্ছি। যখন তার দাফন শেষ হলো তখন ফাতেমা (রা.) লোকদের বললেন, তোমাদের মন কি চেয়েছে রাসূল (সা.) এর ওপর মাটি রাখতে? (সহীহ বুখারী: ৪১৯৩)

কারো আপনজনের মৃত্যুতে তাকে সান্ত্বনা দেয়া সুন্নাত। এমনিভাবে ধৈর্যধারণ করার জন্য উপদেশ দেয়া রাসূল (সা.) এর আদর্শ। এ প্রসঙ্গে অপর এক বর্ণনায় এসেছে-
উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (সা.)-এর কন্যা খবর পাঠালেন যে আমার ছেলে মৃত্যুদ্বারে উপস্থিত, তাই আপনি একটু আমাদের দেখে যান! রাসূল (সা.) খবরদাতাকে বললেন, যেয়ে সালাম বলো, আর বলবে যা তিনি নিয়ে গেছেন তা আল্লাহর জন্যই। তিনি যা দিয়েছেন তাতো তারই ছিলো। তার কাছে প্রত্যেক বস্তুর একটা নির্ধারিত মেয়াদ আছে। যেন সে ধৈর্যধারণ করে ও আল্লাহর কাছে পুরস্কারের আশা করে। ইতোমধ্যে আবার কসম দিয়ে তার কাছে লোক পাঠালেন তাকে আসতে বলে। তখন রাসূল (সা.) রওনা হলেন। সাথে সাআদ বিন উবাদা, মুআয বিন জাবাল, উবাই বিন কাআব, যায়েদ বিন সাবেত প্রমুখ সাহাবায়ে কেরাম। তারপর বাচ্চাটিকে রাসূল (সা.) এর কাছে দেয়া হলো, তিনি তাকে নিজ কোলে বসালেন। এ সময় বাচ্চাটি মৃত্যুর হেঁচকি দিচ্ছিল। রাসূল (সা.) এর দু'চোখ দিয়ে পানি বের হতে লাগল। এ দেখে সাআদ বললেন, হে রাসূল (সা.), এটা কি (আপনি কাঁদছেন)? তিনি বললেন, এটা রহমত! যা আল্লাহ তার বান্দাদের অন্তরে রেখেছেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন, আল্লাহ তার বান্দাদের মধ্যে যাকে চান তার অন্তরে এ রহমত দিয়ে দেন। আর আল্লাহ তার দয়ালু বান্দাদের প্রতি দয়া করেন। (সহীহ মুসলিম: ৯২৩)

আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সা.) একজন মহিলার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। সে একটি কবরের পাশে বসে কাঁদছিল। তিনি বললেন, তুমি আল্লাহকে ভয় কর এবং ধৈর্যধারণ কর। সে বলল, আপনি আমার নিকট হতে দূরে সরে যান। কারণ আমি যে বিপদে পড়েছি আপনি তাতে পড়েননি। (সে রাসূল (সা.) চিনতে পারেনি, তাই সে চরম শোকে তাকে অসঙ্গত কথা বলে ফেলল)। অতঃপর তাকে বলা হলো যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সা.) ছিলেন। সুতরাং এ কথা শুনে সে নবী (সা.) এর দরবারে এলো। সেখানে সে দারোয়ানকে পেল না। অতপর সে সরাসরি প্রবেশ করে বললো, আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। রাসূল (সা.) বললেন আঘাতের শুরুতে সবর করাটাই হলো প্রকৃত সবর। (সহীহ বুখারী; ১২৮৩) মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, সে মহিলাটি তার মৃত শিশুর জন্য কাঁদছিল। (সহীহ মুসলিম: ৬৩৭)

৬. সবরকারী পিতার জন্য জান্নাতে বাইতুল হামদ নামক গৃহ নির্মাণ
হযরত আবু মূসা আশআরী (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, যখন কোনো ব্যক্তির বাচ্চা মারা যায় তখন আল্লাহ পাক ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করেন তোমরা আমার বান্দার ছেলের রূহ কবয করেছো? তারা জবাব দেয় জ্বি হ্যাঁ, আল্লাহ বলেন, তোমরা তার হৃদয়ের ফলকে ছিনিয়ে নিয়েছ?। তারা জবাব দেয় জ্বি হ্যাঁ, আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, তো আমার বান্দাহ কী বলছে? তারা জবাব দেয়, সে তোমার প্রশংসা করেছে এবং পড়েছে। এরপর আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের আদেশ করেন, তোমরা আমার বান্দার জন্য জান্নাতে ঘর বানাও এবং তার নাম বায়তুল হামদ (প্রশংসার ঘর) রাখো। (সহীহ তিরমিযী: ৪৫৬, রিয়াদুস সালেহীন: ১৩৯৫)

📘 সবরের পুরস্কার 📄 সবরের প্রকারভেদ

📄 সবরের প্রকারভেদ


সবর তিন প্রকার

১. আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদতের ওপর সবর।
২. শরীয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ ও হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকার ওপর সবর।
৩. বিপদাপদে সবর।

ফন্ট সাইজ
15px
17px