📘 সবর ও শোকর > 📄 কৃতজ্ঞতার সিজদাহ

📄 কৃতজ্ঞতার সিজদাহ


নবিজি যখন কোনো সুসংবাদ শুনতেন, তখন তিনি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল- এর দরবারে শোকরগুজার হয়ে সিজদাহ'য় লুটিয়ে পড়তেন। [১৮৯]

আব্দুর রহমান ইবনু আউফ থেকে বর্ণিত: “নবিজি আমাদের নিকট মাসজিদে প্রবশে করলেন, কিবলার দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন, এরপর অনেক সময় নিয়ে সিজদাহ'য় অবস্থান করলেন। আমি তাকে বললাম: 'হে আল্লাহর রাসূল, আপনি এত দীঘ সময় সিজদাহ'য় অবস্থান করলেন যে, আমরা ভাবছিলাম আল্লাহ আপনার আত্মা নিয়ে গেছেন।' নবিজি বললেন:

ان جبريل أتاني فبشرني أن الله عز وجل يقول لك من صلى عليك صليت عليه ومن سلم عليك سلمت عليه فسجدت لله شكرا

'জিবরীল আমার কাছে সুসংবাদ নিয়ে এসেছিলেন। তিনি আমাকে বলেছেন, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলেছেন: যে আপনার প্রতি দুরুদ পড়বে প্রতিদানে আমি তার প্রতি সালাত বর্ষণ করব এবং যে আপনার প্রতি সালাম জানাবে, প্রতিদানে আমি তাকে সালাম জানাব। সুতরাং আমি আল্লাহর কৃতজ্ঞতাবশত সিজদাহ করলাম'।"[১৯০]

সাঈদ ইবনু মানসুর বলেন, মূসাইলামাতুল কাযযাবের মৃত্যুসংবাদ শুনে আবূ বাকর সিজদাহ দিয়ে শোকর আদায় করেছিলেন। এবং নবিজি কা'ব ইবনু মালিক-কে আল্লাহর ক্ষমার সুসংবাদ জানালে তিনি কৃতজ্ঞতার সিজদাহ আদায় করেন। [১৯১]

টিকাঃ
১৮৯. আস-সুনান, আবু দাউদ: ২৭৭৪; আস-সুনান, তিরমিযি: ১৫৭৮, তাঁর মতে হাসান গারীব; আস-সুনান, ইবন মাজাহ: ১৩৯৪, ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম ১৬৫৬ সহীহ বলেছেন- ই'লামুল মুওয়াকিঈন: ২/৩০১
১৯০. আল-মুসনাদ, আহমাদ: ১৬৬২, শাইখ আহমাদ শাকির ৬১-এর মতে সনদ সহীহ, দেখুন তাঁর তাহকিককৃত মুসনাদ: ৩/১৩০; শাইখ শু'আইব আরনাউত্ব ৩১ ও তাঁর সঙ্গীদের মতে হাসান লিগাইরিহ; আল আহাদীসুল মুখতারাহ, যিয়া মাকদিসি: ৯২৬
১৯১. আস-সহীহ, বুখারি: ৪৪১৮; আস-সহীহ, মুসলিম: ২৭৬৯

নবিজি যখন কোনো সুসংবাদ শুনতেন, তখন তিনি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল- এর দরবারে শোকরগুজার হয়ে সিজদাহ'য় লুটিয়ে পড়তেন। [১৮৯]

আব্দুর রহমান ইবনু আউফ থেকে বর্ণিত: “নবিজি আমাদের নিকট মাসজিদে প্রবশে করলেন, কিবলার দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন, এরপর অনেক সময় নিয়ে সিজদাহ'য় অবস্থান করলেন। আমি তাকে বললাম: 'হে আল্লাহর রাসূল, আপনি এত দীঘ সময় সিজদাহ'য় অবস্থান করলেন যে, আমরা ভাবছিলাম আল্লাহ আপনার আত্মা নিয়ে গেছেন।' নবিজি বললেন:

ان جبريل أتاني فبشرني أن الله عز وجل يقول لك من صلى عليك صليت عليه ومن سلم عليك سلمت عليه فسجدت لله شكرا

'জিবরীল আমার কাছে সুসংবাদ নিয়ে এসেছিলেন। তিনি আমাকে বলেছেন, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলেছেন: যে আপনার প্রতি দুরুদ পড়বে প্রতিদানে আমি তার প্রতি সালাত বর্ষণ করব এবং যে আপনার প্রতি সালাম জানাবে, প্রতিদানে আমি তাকে সালাম জানাব। সুতরাং আমি আল্লাহর কৃতজ্ঞতাবশত সিজদাহ করলাম'।"[১৯০]

সাঈদ ইবনু মানসুর বলেন, মূসাইলামাতুল কাযযাবের মৃত্যুসংবাদ শুনে আবূ বাকর সিজদাহ দিয়ে শোকর আদায় করেছিলেন। এবং নবিজি কা'ব ইবনু মালিক-কে আল্লাহর ক্ষমার সুসংবাদ জানালে তিনি কৃতজ্ঞতার সিজদাহ আদায় করেন। [১৯১]

টিকাঃ
১৮৯. আস-সুনান, আবু দাউদ: ২৭৭৪; আস-সুনান, তিরমিযি: ১৫৭৮, তাঁর মতে হাসান গারীব; আস-সুনান, ইবন মাজাহ: ১৩৯৪, ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম ১৬৫৬ সহীহ বলেছেন- ই'লামুল মুওয়াকিঈন: ২/৩০১
১৯০. আল-মুসনাদ, আহমাদ: ১৬৬২, শাইখ আহমাদ শাকির ৬১-এর মতে সনদ সহীহ, দেখুন তাঁর তাহকিককৃত মুসনাদ: ৩/১৩০; শাইখ শু'আইব আরনাউত্ব ৩১ ও তাঁর সঙ্গীদের মতে হাসান লিগাইরিহ; আল আহাদীসুল মুখতারাহ, যিয়া মাকদিসি: ৯২৬
১৯১. আস-সহীহ, বুখারি: ৪৪১৮; আস-সহীহ, মুসলিম: ২৭৬৯

📘 সবর ও শোকর > 📄 মানুষের সৎকার্য আল্লাহর একটি নিআমাতের বিনিময়যোগ্য নয়

📄 মানুষের সৎকার্য আল্লাহর একটি নিআমাতের বিনিময়যোগ্য নয়


একজন আবেদ পঞ্চাশ বছর আল্লাহর ইবাদাত করার পর আল্লাহ তাকে ওহি করলেন : আমি তোমাকে ক্ষমা করেছি। লোকটি বলল: “হে আল্লাহ, আমি যখন কোনো পাপই করিনি তখন ক্ষমা করার কী আছে?” অতঃপর আল্লাহ তার ঘাড়ের রগে ব্যথা সৃষ্টি করে দেন। এ কারণে সে ঘুমোতে অথবা সালাত পড়তে পারছিল না। পরে তার ব্যথা চলে গেলে এবং সে সালাতে সমর্থ হলে তার কাছে একজন ফেরেশতা আসেন। লোকটি ফেরেশতার কাছে কষ্টভোগের অভিযোগ করেন। ফেরেশতা তাকে বলেন, “তোমার প্রভু তোমার ব্যথা শিথিল করে দেওয়ার বিনিময়ে তোমার পঞ্চাশ বছরের ইবাদাত দিয়ে দিতে বলেছেন।”[১৯২]

ইবনু আবিদ দুনইয়া বর্ণনা করেন: দাঊদ আল্লাহর কাছে জানতে চান : “হে আমার রব, আমার প্রতি তোমার ন্যূনতম অনুগ্রহ কী?” আল্লাহ তার প্রতি ওহি পাঠান: “হে দাউদ, একবার শ্বাস নাও।” দাউদ তা-ই করেন, এরপর আল্লাহ তাকে বলেন, “এটা তোমার প্রতি আমার সর্বনিম্ন অনুগ্রহ।"[১৯৩]

এটা থেকে আমরা যাইদ ইবন সাবিত ও ইবন আব্বাস বর্ণিত হাদীসটি বুঝতে পারি।

لَوْ أَنَّ اللَّهَ عَذَّبَ أَهْلَ سَمَاوَاتِهِ وَأَهْلَ أَرْضِهِ ، لَعَذَّبَهُمْ وَهُوَ غَيْرُ ظَالِمٍ لَهُمْ ، وَلَوْ رَحِمَهُمْ لكَانَتْ رَحْمَتُهُ خَيْرًا لَهُمْ مِنْ أَعْمَالِهِمْ

“আল্লাহ যদি আসমান ও যমীনের মানুষকে শাস্তি দেন, তাহলে সেটা তাদের প্রতি যুলম করা হবে না। আর যদি তিনি তাদের প্রতি রহম করেন, তবে তাদের আমলসমূহের চেয়ে অধিক কল্যাণকর হবে।"[১৯৪]

لَنْ يُنَجِّيَ أَحَدًا مِنْكُمْ عَمَلُهُ

"কেউ তার আমলের বিনিময়ে মুক্তি লাভ করবে না।”

লোকেরা জিজ্ঞাসা করেন, “হে আল্লাহর রাসূল, আপনিও কি পারবেন না?” তিনি বললেন,

وَلَا أَنَا ، إِلَّا أَنْ يَتَغَمَّدَنِي اللَّهُ بِرَحْمَةٍ

“এমনকি আমিও না, যদি-না আল্লাহ আমাকে তাঁর রহমতে ছেয়ে নেন।"[১৯৫]

মানুষের সমুদয় ভালো কাজ আল্লাহর একটিমাত্র অনুগ্রহের মূল্য পরিশোধ করতে পারবে না। কারণ, আল্লাহর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র নিআমাত ও অনুগ্রহও মানুষের সমুদয় সৎকাজের চেয়ে অনেক বেশি ওজস্বী। সুতরাং আমাদের প্রতি আল্লাহর যে অধিকার রয়েছে, তার প্রতি সব সময় সজাগ ও যত্নশীল থাকা উচিত।

টিকাঃ
১৯২. আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ১৪৮; হিলইয়াতুল আওলিয়া, আবু নু'আইম: ৪/৬৮; শু'আবুল ঈমান, বাইহাকি: ৪৬২২
১৯৩. আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ১৪৯
১৯৪. আস-সুনান, আবু দাউদ: ৪৬৯৯; আস-সুনান, ইবন মাজাহ: ৭৭; আস-সহীহ, ইবন হিব্বان: ৭৪৭
১৯৫. আস সহীহ, বুখারি: ৬৪৬৩; আস সহীহ, মুসলিম: ২৮১৬

একজন আবেদ পঞ্চাশ বছর আল্লাহর ইবাদাত করার পর আল্লাহ তাকে ওহি করলেন : আমি তোমাকে ক্ষমা করেছি। লোকটি বলল: “হে আল্লাহ, আমি যখন কোনো পাপই করিনি তখন ক্ষমা করার কী আছে?” অতঃপর আল্লাহ তার ঘাড়ের রগে ব্যথা সৃষ্টি করে দেন। এ কারণে সে ঘুমোতে অথবা সালাত পড়তে পারছিল না। পরে তার ব্যথা চলে গেলে এবং সে সালাতে সমর্থ হলে তার কাছে একজন ফেরেশতা আসেন। লোকটি ফেরেশতার কাছে কষ্টভোগের অভিযোগ করেন। ফেরেশতা তাকে বলেন, “তোমার প্রভু তোমার ব্যথা শিথিল করে দেওয়ার বিনিময়ে তোমার পঞ্চাশ বছরের ইবাদাত দিয়ে দিতে বলেছেন।”[১৯২]

ইবনু আবিদ দুনইয়া বর্ণনা করেন: দাঊদ আল্লাহর কাছে জানতে চান : “হে আমার রব, আমার প্রতি তোমার ন্যূনতম অনুগ্রহ কী?” আল্লাহ তার প্রতি ওহি পাঠান: “হে দাউদ, একবার শ্বাস নাও।” দাউদ তা-ই করেন, এরপর আল্লাহ তাকে বলেন, “এটা তোমার প্রতি আমার সর্বনিম্ন অনুগ্রহ।"[১৯৩]

এটা থেকে আমরা যাইদ ইবন সাবিত ও ইবন আব্বাস বর্ণিত হাদীসটি বুঝতে পারি।

لَوْ أَنَّ اللَّهَ عَذَّبَ أَهْلَ سَمَاوَاتِهِ وَأَهْلَ أَرْضِهِ ، لَعَذَّبَهُمْ وَهُوَ غَيْرُ ظَالِمٍ لَهُمْ ، وَلَوْ رَحِمَهُمْ لكَانَتْ رَحْمَتُهُ خَيْرًا لَهُمْ مِنْ أَعْمَالِهِمْ

“আল্লাহ যদি আসমান ও যমীনের মানুষকে শাস্তি দেন, তাহলে সেটা তাদের প্রতি যুলম করা হবে না। আর যদি তিনি তাদের প্রতি রহম করেন, তবে তাদের আমলসমূহের চেয়ে অধিক কল্যাণকর হবে।"[১৯৪]

لَنْ يُنَجِّيَ أَحَدًا مِنْكُمْ عَمَلُهُ

"কেউ তার আমলের বিনিময়ে মুক্তি লাভ করবে না।”

লোকেরা জিজ্ঞাসা করেন, “হে আল্লাহর রাসূল, আপনিও কি পারবেন না?” তিনি বললেন,

وَلَا أَنَا ، إِلَّا أَنْ يَتَغَمَّدَنِي اللَّهُ بِرَحْمَةٍ

“এমনকি আমিও না, যদি-না আল্লাহ আমাকে তাঁর রহমতে ছেয়ে নেন।"[১৯৫]

মানুষের সমুদয় ভালো কাজ আল্লাহর একটিমাত্র অনুগ্রহের মূল্য পরিশোধ করতে পারবে না। কারণ, আল্লাহর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র নিআমাত ও অনুগ্রহও মানুষের সমুদয় সৎকাজের চেয়ে অনেক বেশি ওজস্বী। সুতরাং আমাদের প্রতি আল্লাহর যে অধিকার রয়েছে, তার প্রতি সব সময় সজাগ ও যত্নশীল থাকা উচিত।

টিকাঃ
১৯২. আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ১৪৮; হিলইয়াতুল আওলিয়া, আবু নু'আইম: ৪/৬৮; শু'আবুল ঈমান, বাইহাকি: ৪৬২২
১৯৩. আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ১৪৯
১৯৪. আস-সুনান, আবু দাউদ: ৪৬৯৯; আস-সুনান, ইবন মাজাহ: ৭৭; আস-সহীহ, ইবন হিব্বان: ৭৪৭
১৯৫. আস সহীহ, বুখারি: ৬৪৬৩; আস সহীহ, মুসলিম: ২৮১৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00