📄 সাহাবা ও তাবেঈনদের কৃতজ্ঞতার দৃষ্টান্ত
সালমান আল ফারিসি বলেন,
এক ধনী ব্যক্তি ছিলেন। একসময় তিনি তার প্রাচুর্য হারাতে থাকেন। এরপরও তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা অব্যাহত রাখেন। এভাবে তার সমস্ত প্রাচুর্য নিঃশেষ হয়ে গেল। তবুও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে থাকলেন। আরেকজন ব্যক্তিকে দুনিয়ায় প্রচুর সম্পত্তি দেওয়া হয়েছিল। তিনি (দ্বিতীয় ব্যক্তি) তাকে (প্রথম ব্যক্তিকে) জিজ্ঞাসা করলেন, "তুমি কীসের জন্য আল্লাহর প্রতি প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছ?" প্রথম ব্যক্তি উত্তরে বলেন, "আমি তাঁর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সেসব নিআমাতের জন্য, যার বিনিময়ে কেউ যদি তার সমস্ত সম্পত্তি দিয়ে দেয় আমি কখনোই তাকে তা দেব না।" "কিন্তু তা কী?" দ্বিতীয় ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন। প্রথম ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, "তুমি কি দেখতে পাও না?-এই যে আমার চোখ, কণ্ঠ, হাত, এবং আমার পা...।" [১৭২]
মাখলাদ ইবনুল হুসাইন [১৭৩] বলেন, কৃতজ্ঞতার মানে হলো পাপকাজ থেকে বিরত থাকা।”[১৭৪]
আবূ হাযিম[১৭৫] বলেন, “যে নিআমাত আল্লাহর কাছাকাছি নেয় না, তা আপদ।”[১৭৬]
আবূ সুলাইমান[১৭৭] বলেন, “আল্লাহর নিআমাতের কৃতজ্ঞতা ব্যক্তির মাঝে আল্লাহর ভালোবাসা সৃষ্টি করে।”[১৭৮]
হাম্মাদ ইবন যাইদ বর্ণনা করেন, লাইছ ইবনু আবী বুরদাহ বলেছেন, "আমি মদীনায় আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম-এর সাথে সাক্ষাৎ করি। তিনি আমাকে বলেন, 'তুমি কি সে বাড়িতে প্রবেশ করতে চাও, যেটায় নবিজি প্রবেশ করেছেন? সে বাড়িতে সালাত আদায় করতে চাও, যে বাড়িতে নবিজি সালাত আদায় করেছেন? আমরা কি তোমাকে মিসওয়াক ও খেজুর দেব?' এরপর তিনি বললেন, 'আল্লাহ যখন লোকদের আগামী দিন (কিয়ামাতে) একত্র করবেন, তখন তিনি তার নিআমাতের কথা তাদের স্মরণ করিয়ে দেবেন। তাঁর বান্দাদের একজন বলবে, আমাকে এর থেকে কিছু মনে করিয়ে দিন'।"
আল্লাহ বলবেন, "স্মরণ করো, যখন তুমি দুর্দশার মধ্যে ছিলে এবং আমার কাছে এটা-ওটা চেয়ে দুআ করেছিলে, আমি সেসব সমস্যা দূর করেছিলাম। স্মরণ করো, যখন তুমি অমুক অমুক জায়গায় ভ্রমণে ছিলে এবং তুমি আমার কাছে ভ্রমণসঙ্গী চেয়েছিলে, আমি তোমাকে দিয়েছিলাম।" এভাবে আল্লাহ তাকে মনে করিয়ে দিতে থাকবেন আর সে একে একে স্মরণ করবে। আল্লাহ আরও বলবেন, "স্মরণ করো, যখন তুমি অমুকের মেয়ে অমুকের সাথে বিবাহ প্রার্থনা করেছিলে এবং অন্যজনও তার সাথে বিবাহপ্রত্যাশী ছিল, আমি দ্বিতীয় জনকে সরিয়ে নিয়েছিলাম।" [১৭৯]
অতঃপর বর্ণনাকারী কেঁদে ফেলেন এবং বলেন, "আমি আশা করি, কেউ তার প্রভুর সামনে এভাবে দাঁড়াবে না। কারণ যে দাঁড়াবে, তার শাস্তি অবধারিত।” (কাউকে জবাবদিহি করার মানে হলো সে অকৃজ্ঞ এবং শাস্তির যোগ্য)।
বাকর ইবনু আব্দিল্লাহ ইবনু মুযানি বলেন, "যখন কেউ বিপদের সম্মুখীন হয়, সে হয়তো আল্লাহর কাছে দুআ করে আর আল্লাহও তাকে দুর্দশা থেকে মুক্ত করেন। এরপর শয়তান লোকটির কাছে এসে কুমন্ত্রণা দেয় এবং তার কৃতজ্ঞতাবোধকে দুর্বল করে ফেলে, সে বলে, তুমি ব্যাপারটা যত গুরুতর ভেবেছিলে, আসলে সেটা তেমন ছিল না।" অথচ প্রথম প্রথম বান্দা ভাবছিল, এই ব্যাপারটা আমি যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়েও গুরুতর ছিল; কিন্তু আল্লাহ আমার থেকে তা সরিয়ে দিয়েছেন। [১৮০]
যাযান [১৮১] বলেন, "যে আল্লাহর নিআমাত ভোগ করে, তার ওপর আল্লাহর অধিকার হচ্ছে সে পাপকাজে এসবের অপব্যবহার করবে না।" [১৮২]
এক জ্ঞানী ব্যক্তি বলেন, "আল্লাহ আমাদের যে সকল নিআমাত দিয়েছেন তার মধ্যে বড় নিআমাত হলো তিনি দুনিয়ার ভোগ-বিলাস থেকে আমাদের দূরে রেখেছেন; কারণ, আল্লাহ তাআলা নবিজি-এর জন্য এই পার্থিব জীবনের বিলাসিতাকে অপছন্দ করেছেন। সুতরাং আল্লাহ তাআলা নবিজি-এর জন্য যে জীবনকে অপছন্দ করেছেন, তারচেয়ে তিনি তাঁর (নবির) জন্য যেটা পছন্দ করেছেন তা-ই যদি আমি পাই, তবে সেটাই আমার নিকট অধিক পছন্দের।" [১৮৩]
ইবনু আবিদ-দুনইয়া বলেন, "আমার কাছে কিছু আলিমের মতামত এসেছে: দুনিয়ার কামনা-বাসনা থেকে বঞ্চিত হবার জন্য আলিমদের উচিত আল্লাহর প্রশংসা করা, যেমনটা তাঁরা করে থাকেন আল্লাহ যেসব অনুগ্রহ দান করেছেন তার জন্য। নিআমাত ও বিলাসিতার দায়বদ্ধতার যে জীবনে অন্তর মশগুল হয়ে পড়ে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ ক্লান্ত হয়ে যায়, তার সাথে কি দায়মুক্ত সাদামাটা গরিবি জীবনের কোনো তুলনা হতে পারে? তাই অন্তরের প্রশান্তি ও দুঃশ্চিন্তা দূর করার জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। [১৮৪]
বলা হয়ে থাকে: "কৃতজ্ঞতা হলো পাপ থেকে বিরত থাকা।" [১৮৫]
ইবনুল মুবারক বলেন, সুফিয়ান বলেন: “যে ব্যক্তি বিপদ-আপদকে নিআমাত এবং সুসময়কে মুসিবত মনে করতে না পারে, সে ফকীহ হতে পারে না।”[১৮৬]
টিকাঃ
১৭২. আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ১০০; শু'আবুল ঈমান, বাইহাকি : ৪৪৬২
১৭৩. তিনি মাখলাদ বিন হুসাইন আল আযদি আল বাসরি, তিনি সিগরাতে তাবে-তাবিঈনের অন্তর্ভুক্ত, মৃত্যু হয় ১৯১ হিজরিতে-তাকরিবুত তাহযিব: ৯২৭
১৭৪. আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ১৯; শু'আবুল ঈমান, ইমাম বাইহাকি: ৪৫৪৭
১৭৫. তিনি হচ্ছেন সুলাইমান বিন দিনার, সিগারে তাবিঈনদের একজন, খলিফা মানসুরের শাসনামলে মৃত্যুবরণ করেন-তাকরিবুত তাহযিব: ৩৯৯
১৭৬. আশ শুকর, ইমাম ইবন আবিদ দুনইয়া: ২০; হিলইয়াতুল আওলিয়া, ইমাম আব্বু নু'আইম: ৩/২৩০; শু'আবুল ঈমান, ইমাম বাইহাকি: ৪৫৩৭
১৭৭. তিনি আবু সুলাইমান আদ দারানি হিসেবেই সমধিক প্রসিদ্ধ। মূল নাম আব্দুর রাহমান বিন আহমাদ। সিগারে তাবিঈনের অন্তর্ভুক্ত-তাকরিবুত তাহযিব; ৫৮১
১৭৮. আশ শুকর, আবিদ দুনইয়া: ২১; তারিখুদ দিমাশক, ইবন আসাকির: ৩৬/৩৩৪
১৭৯. আশ শুকর, আবিদ দুনইয়া: ২২
১৮০. আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ২৬; শু'আবুল ঈমান, বাইহাকি: ৪৫৮০
১৮১. সম্ভবত ইনি আবূ আব্দুল্লাহ যাযান আল কিন্দি, তাঁর কুনিয়াত (উপনাম) আবূ উমার। তিনি কিরাবে তাবিঈনদের একজন, মৃত্যু-সন ৮২ হি.-তাকরিবুত তাহযিব, পৃ. ৩৩৩
১৮২. আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ৮২; তারিখুদ দিমাশক, ইবন আসাকির: ১৯/১৯১
১৮৩. ইবন আবিদ দুনইয়া: ১১২; শু'আবুল ঈমান, ইমাম বাইহাকি: ৪৪৮৯, ইমাম বাইহাকি ৬১-এর বর্ণনা থেকে বোঝা যায় এটা ইমাম আবু হাযম -এর উক্তি।
১৮৪. আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ১১৩
১৮৫. তারিখুদ দিমাশক, ইবন আসাকির: ৩৫/২৮২
১৮৬. তারিখুদ দিমাশক, ইবন আসাকির: ৩৫/২৪৫
সালমান আল ফারিসি বলেন,
এক ধনী ব্যক্তি ছিলেন। একসময় তিনি তার প্রাচুর্য হারাতে থাকেন। এরপরও তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা অব্যাহত রাখেন। এভাবে তার সমস্ত প্রাচুর্য নিঃশেষ হয়ে গেল। তবুও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে থাকলেন। আরেকজন ব্যক্তিকে দুনিয়ায় প্রচুর সম্পত্তি দেওয়া হয়েছিল। তিনি (দ্বিতীয় ব্যক্তি) তাকে (প্রথম ব্যক্তিকে) জিজ্ঞাসা করলেন, "তুমি কীসের জন্য আল্লাহর প্রতি প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছ?" প্রথম ব্যক্তি উত্তরে বলেন, "আমি তাঁর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সেসব নিআমাতের জন্য, যার বিনিময়ে কেউ যদি তার সমস্ত সম্পত্তি দিয়ে দেয় আমি কখনোই তাকে তা দেব না।" "কিন্তু তা কী?" দ্বিতীয় ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন। প্রথম ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, "তুমি কি দেখতে পাও না?-এই যে আমার চোখ, কণ্ঠ, হাত, এবং আমার পা...।" [১৭২]
মাখলাদ ইবনুল হুসাইন [১৭৩] বলেন, কৃতজ্ঞতার মানে হলো পাপকাজ থেকে বিরত থাকা।”[১৭৪]
আবূ হাযিম[১৭৫] বলেন, “যে নিআমাত আল্লাহর কাছাকাছি নেয় না, তা আপদ।”[১৭৬]
আবূ সুলাইমান[১৭৭] বলেন, “আল্লাহর নিআমাতের কৃতজ্ঞতা ব্যক্তির মাঝে আল্লাহর ভালোবাসা সৃষ্টি করে।”[১৭৮]
হাম্মাদ ইবন যাইদ বর্ণনা করেন, লাইছ ইবনু আবী বুরদাহ বলেছেন, "আমি মদীনায় আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম-এর সাথে সাক্ষাৎ করি। তিনি আমাকে বলেন, 'তুমি কি সে বাড়িতে প্রবেশ করতে চাও, যেটায় নবিজি প্রবেশ করেছেন? সে বাড়িতে সালাত আদায় করতে চাও, যে বাড়িতে নবিজি সালাত আদায় করেছেন? আমরা কি তোমাকে মিসওয়াক ও খেজুর দেব?' এরপর তিনি বললেন, 'আল্লাহ যখন লোকদের আগামী দিন (কিয়ামাতে) একত্র করবেন, তখন তিনি তার নিআমাতের কথা তাদের স্মরণ করিয়ে দেবেন। তাঁর বান্দাদের একজন বলবে, আমাকে এর থেকে কিছু মনে করিয়ে দিন'।"
আল্লাহ বলবেন, "স্মরণ করো, যখন তুমি দুর্দশার মধ্যে ছিলে এবং আমার কাছে এটা-ওটা চেয়ে দুআ করেছিলে, আমি সেসব সমস্যা দূর করেছিলাম। স্মরণ করো, যখন তুমি অমুক অমুক জায়গায় ভ্রমণে ছিলে এবং তুমি আমার কাছে ভ্রমণসঙ্গী চেয়েছিলে, আমি তোমাকে দিয়েছিলাম।" এভাবে আল্লাহ তাকে মনে করিয়ে দিতে থাকবেন আর সে একে একে স্মরণ করবে। আল্লাহ আরও বলবেন, "স্মরণ করো, যখন তুমি অমুকের মেয়ে অমুকের সাথে বিবাহ প্রার্থনা করেছিলে এবং অন্যজনও তার সাথে বিবাহপ্রত্যাশী ছিল, আমি দ্বিতীয় জনকে সরিয়ে নিয়েছিলাম।" [১৭৯]
অতঃপর বর্ণনাকারী কেঁদে ফেলেন এবং বলেন, "আমি আশা করি, কেউ তার প্রভুর সামনে এভাবে দাঁড়াবে না। কারণ যে দাঁড়াবে, তার শাস্তি অবধারিত।” (কাউকে জবাবদিহি করার মানে হলো সে অকৃজ্ঞ এবং শাস্তির যোগ্য)।
বাকর ইবনু আব্দিল্লাহ ইবনু মুযানি বলেন, "যখন কেউ বিপদের সম্মুখীন হয়, সে হয়তো আল্লাহর কাছে দুআ করে আর আল্লাহও তাকে দুর্দশা থেকে মুক্ত করেন। এরপর শয়তান লোকটির কাছে এসে কুমন্ত্রণা দেয় এবং তার কৃতজ্ঞতাবোধকে দুর্বল করে ফেলে, সে বলে, তুমি ব্যাপারটা যত গুরুতর ভেবেছিলে, আসলে সেটা তেমন ছিল না।" অথচ প্রথম প্রথম বান্দা ভাবছিল, এই ব্যাপারটা আমি যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়েও গুরুতর ছিল; কিন্তু আল্লাহ আমার থেকে তা সরিয়ে দিয়েছেন। [১৮০]
যাযান [১৮১] বলেন, "যে আল্লাহর নিআমাত ভোগ করে, তার ওপর আল্লাহর অধিকার হচ্ছে সে পাপকাজে এসবের অপব্যবহার করবে না।" [১৮২]
এক জ্ঞানী ব্যক্তি বলেন, "আল্লাহ আমাদের যে সকল নিআমাত দিয়েছেন তার মধ্যে বড় নিআমাত হলো তিনি দুনিয়ার ভোগ-বিলাস থেকে আমাদের দূরে রেখেছেন; কারণ, আল্লাহ তাআলা নবিজি-এর জন্য এই পার্থিব জীবনের বিলাসিতাকে অপছন্দ করেছেন। সুতরাং আল্লাহ তাআলা নবিজি-এর জন্য যে জীবনকে অপছন্দ করেছেন, তারচেয়ে তিনি তাঁর (নবির) জন্য যেটা পছন্দ করেছেন তা-ই যদি আমি পাই, তবে সেটাই আমার নিকট অধিক পছন্দের।" [১৮৩]
ইবনু আবিদ-দুনইয়া বলেন, "আমার কাছে কিছু আলিমের মতামত এসেছে: দুনিয়ার কামনা-বাসনা থেকে বঞ্চিত হবার জন্য আলিমদের উচিত আল্লাহর প্রশংসা করা, যেমনটা তাঁরা করে থাকেন আল্লাহ যেসব অনুগ্রহ দান করেছেন তার জন্য। নিআমাত ও বিলাসিতার দায়বদ্ধতার যে জীবনে অন্তর মশগুল হয়ে পড়ে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ ক্লান্ত হয়ে যায়, তার সাথে কি দায়মুক্ত সাদামাটা গরিবি জীবনের কোনো তুলনা হতে পারে? তাই অন্তরের প্রশান্তি ও দুঃশ্চিন্তা দূর করার জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। [১৮৪]
বলা হয়ে থাকে: "কৃতজ্ঞতা হলো পাপ থেকে বিরত থাকা।" [১৮৫]
ইবনুল মুবারক বলেন, সুফিয়ান বলেন: “যে ব্যক্তি বিপদ-আপদকে নিআমাত এবং সুসময়কে মুসিবত মনে করতে না পারে, সে ফকীহ হতে পারে না।”[১৮৬]
টিকাঃ
১৭২. আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ১০০; শু'আবুল ঈমান, বাইহাকি : ৪৪৬২
১৭৩. তিনি মাখলাদ বিন হুসাইন আল আযদি আল বাসরি, তিনি সিগরাতে তাবে-তাবিঈনের অন্তর্ভুক্ত, মৃত্যু হয় ১৯১ হিজরিতে-তাকরিবুত তাহযিব: ৯২৭
১৭৪. আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ১৯; শু'আবুল ঈমান, ইমাম বাইহাকি: ৪৫৪৭
১৭৫. তিনি হচ্ছেন সুলাইমান বিন দিনার, সিগারে তাবিঈনদের একজন, খলিফা মানসুরের শাসনামলে মৃত্যুবরণ করেন-তাকরিবুত তাহযিব: ৩৯৯
১৭৬. আশ শুকর, ইমাম ইবন আবিদ দুনইয়া: ২০; হিলইয়াতুল আওলিয়া, ইমাম আব্বু নু'আইম: ৩/২৩০; শু'আবুল ঈমান, ইমাম বাইহাকি: ৪৫৩৭
১৭৭. তিনি আবু সুলাইমান আদ দারানি হিসেবেই সমধিক প্রসিদ্ধ। মূল নাম আব্দুর রাহমান বিন আহমাদ। সিগারে তাবিঈনের অন্তর্ভুক্ত-তাকরিবুত তাহযিব; ৫৮১
১৭৮. আশ শুকর, আবিদ দুনইয়া: ২১; তারিখুদ দিমাশক, ইবন আসাকির: ৩৬/৩৩৪
১৭৯. আশ শুকর, আবিদ দুনইয়া: ২২
১৮০. আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ২৬; শু'আবুল ঈমান, বাইহাকি: ৪৫৮০
১৮১. সম্ভবত ইনি আবূ আব্দুল্লাহ যাযান আল কিন্দি, তাঁর কুনিয়াত (উপনাম) আবূ উমার। তিনি কিরাবে তাবিঈনদের একজন, মৃত্যু-সন ৮২ হি.-তাকরিবুত তাহযিব, পৃ. ৩৩৩
১৮২. আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ৮২; তারিখুদ দিমাশক, ইবন আসাকির: ১৯/১৯১
১৮৩. ইবন আবিদ দুনইয়া: ১১২; শু'আবুল ঈমান, ইমাম বাইহাকি: ৪৪৮৯, ইমাম বাইহাকি ৬১-এর বর্ণনা থেকে বোঝা যায় এটা ইমাম আবু হাযম -এর উক্তি।
১৮৪. আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ১১৩
১৮৫. তারিখুদ দিমাশক, ইবন আসাকির: ৩৫/২৮২
১৮৬. তারিখুদ দিমাশক, ইবন আসাকির: ৩৫/২৪৫
📄 বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে কৃতজ্ঞতা
এক ব্যক্তি আবূ হাজিম -কে বলেন, “চোখের কৃতজ্ঞতা কী?” তিনি বলেন, “যদি আপনি কল্যাণকর জিনিস দেখেন, তাহলে তা বলে বেড়াবেন, আর যদি মন্দ কিছু দেখেন, তাহলে তা গোপন রাখবেন।” লোকটি জিজ্ঞাসা করে, “কানের কৃতজ্ঞতা বলতে কী বোঝায়?” তিনি বলেন, “কল্যাণকর কিছু শুনলে গ্রহণ করবেন; মন্দ কিছু শুনলে প্রত্যাখ্যান করবেন।” এরপর লোকটি জিজ্ঞাসা করেন, “হাতের কৃতজ্ঞতা বলতে কী বোঝায়?” তিনি বলেন, “তোমার যা অধিকার নেই তা গ্রহণ কোরো না এবং আল্লাহর প্রাপ্য (যাকাত) পরিশোধে হাত গুটিয়ে রেখো না।” লোকটি জিজ্ঞাসা করেন, “পেটের কৃতজ্ঞতা কী?” তিনি বলেন, “যথাসাধ্য কম খাওয়া এবং যথাসম্ভব বেশি ইলম অর্জন করা।” লোকটি আবার জানতে চান: “শরীরের গোপন অঙ্গের কৃতজ্ঞতা কী?” তিনি কুরআন থেকে উদ্ধৃত করেন
وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ فَأُولَبِكَ هُمُ الْعَادُونَ
যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংরক্ষণ করে। নিজেদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসী ব্যতীত, কারণ এ ক্ষেত্রে তারা নিন্দা থেকে মুক্ত। এদের অতিরিক্ত যারা কামনা করে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।[১৮৭]
সে জিজ্ঞাসা করল, “পায়ের কৃতজ্ঞতা কী?” তিনি বললেন, “যদি জানো যে, কোনো কিছু বেশ ভালো তাহলে তোমার জ্ঞানের ব্যবহার করো। আর যদি জানো যে, কোনো কিছু অপছন্দনীয় তবে তা থেকে বিরত থাকো। তবেই তুমি শোকরগুজার বান্দা হবে।”
যে ব্যক্তি কেবল মুখের কথায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, অথচ শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রতঙ্গের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা আদায় করে না, সে ওই ব্যক্তির মতো—যার একটি কাপড় আছে, সে কেবল ওটাকে স্পর্শ করে কিন্তু পরিধান করে না; তাই ওটা তাকে কখনোই গরম-শীত-বরফ কিংবা বৃষ্টি থেকে সুরক্ষা দেয় না।[১৮৮]
টিকাঃ
১৮৭. সূরা আল-মুমিনুন, ২৩:৫-৭
১৮৮. আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ১২৯; হিলইয়াতুল আওলিয়া, আবু নু'আইম: ৩/২৪৩
এক ব্যক্তি আবূ হাজিম -কে বলেন, “চোখের কৃতজ্ঞতা কী?” তিনি বলেন, “যদি আপনি কল্যাণকর জিনিস দেখেন, তাহলে তা বলে বেড়াবেন, আর যদি মন্দ কিছু দেখেন, তাহলে তা গোপন রাখবেন।” লোকটি জিজ্ঞাসা করে, “কানের কৃতজ্ঞতা বলতে কী বোঝায়?” তিনি বলেন, “কল্যাণকর কিছু শুনলে গ্রহণ করবেন; মন্দ কিছু শুনলে প্রত্যাখ্যান করবেন।” এরপর লোকটি জিজ্ঞাসা করেন, “হাতের কৃতজ্ঞতা বলতে কী বোঝায়?” তিনি বলেন, “তোমার যা অধিকার নেই তা গ্রহণ কোরো না এবং আল্লাহর প্রাপ্য (যাকাত) পরিশোধে হাত গুটিয়ে রেখো না।” লোকটি জিজ্ঞাসা করেন, “পেটের কৃতজ্ঞতা কী?” তিনি বলেন, “যথাসাধ্য কম খাওয়া এবং যথাসম্ভব বেশি ইলম অর্জন করা।” লোকটি আবার জানতে চান: “শরীরের গোপন অঙ্গের কৃতজ্ঞতা কী?” তিনি কুরআন থেকে উদ্ধৃত করেন
وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ فَأُولَبِكَ هُمُ الْعَادُونَ
যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংরক্ষণ করে। নিজেদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসী ব্যতীত, কারণ এ ক্ষেত্রে তারা নিন্দা থেকে মুক্ত। এদের অতিরিক্ত যারা কামনা করে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।[১৮৭]
সে জিজ্ঞাসা করল, “পায়ের কৃতজ্ঞতা কী?” তিনি বললেন, “যদি জানো যে, কোনো কিছু বেশ ভালো তাহলে তোমার জ্ঞানের ব্যবহার করো। আর যদি জানো যে, কোনো কিছু অপছন্দনীয় তবে তা থেকে বিরত থাকো। তবেই তুমি শোকরগুজার বান্দা হবে।”
যে ব্যক্তি কেবল মুখের কথায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, অথচ শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রতঙ্গের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা আদায় করে না, সে ওই ব্যক্তির মতো—যার একটি কাপড় আছে, সে কেবল ওটাকে স্পর্শ করে কিন্তু পরিধান করে না; তাই ওটা তাকে কখনোই গরম-শীত-বরফ কিংবা বৃষ্টি থেকে সুরক্ষা দেয় না।[১৮৮]
টিকাঃ
১৮৭. সূরা আল-মুমিনুন, ২৩:৫-৭
১৮৮. আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ১২৯; হিলইয়াতুল আওলিয়া, আবু নু'আইম: ৩/২৪৩
📄 কৃতজ্ঞতার সিজদাহ
নবিজি যখন কোনো সুসংবাদ শুনতেন, তখন তিনি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল- এর দরবারে শোকরগুজার হয়ে সিজদাহ'য় লুটিয়ে পড়তেন। [১৮৯]
আব্দুর রহমান ইবনু আউফ থেকে বর্ণিত: “নবিজি আমাদের নিকট মাসজিদে প্রবশে করলেন, কিবলার দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন, এরপর অনেক সময় নিয়ে সিজদাহ'য় অবস্থান করলেন। আমি তাকে বললাম: 'হে আল্লাহর রাসূল, আপনি এত দীঘ সময় সিজদাহ'য় অবস্থান করলেন যে, আমরা ভাবছিলাম আল্লাহ আপনার আত্মা নিয়ে গেছেন।' নবিজি বললেন:
ان جبريل أتاني فبشرني أن الله عز وجل يقول لك من صلى عليك صليت عليه ومن سلم عليك سلمت عليه فسجدت لله شكرا
'জিবরীল আমার কাছে সুসংবাদ নিয়ে এসেছিলেন। তিনি আমাকে বলেছেন, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলেছেন: যে আপনার প্রতি দুরুদ পড়বে প্রতিদানে আমি তার প্রতি সালাত বর্ষণ করব এবং যে আপনার প্রতি সালাম জানাবে, প্রতিদানে আমি তাকে সালাম জানাব। সুতরাং আমি আল্লাহর কৃতজ্ঞতাবশত সিজদাহ করলাম'।"[১৯০]
সাঈদ ইবনু মানসুর বলেন, মূসাইলামাতুল কাযযাবের মৃত্যুসংবাদ শুনে আবূ বাকর সিজদাহ দিয়ে শোকর আদায় করেছিলেন। এবং নবিজি কা'ব ইবনু মালিক-কে আল্লাহর ক্ষমার সুসংবাদ জানালে তিনি কৃতজ্ঞতার সিজদাহ আদায় করেন। [১৯১]
টিকাঃ
১৮৯. আস-সুনান, আবু দাউদ: ২৭৭৪; আস-সুনান, তিরমিযি: ১৫৭৮, তাঁর মতে হাসান গারীব; আস-সুনান, ইবন মাজাহ: ১৩৯৪, ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম ১৬৫৬ সহীহ বলেছেন- ই'লামুল মুওয়াকিঈন: ২/৩০১
১৯০. আল-মুসনাদ, আহমাদ: ১৬৬২, শাইখ আহমাদ শাকির ৬১-এর মতে সনদ সহীহ, দেখুন তাঁর তাহকিককৃত মুসনাদ: ৩/১৩০; শাইখ শু'আইব আরনাউত্ব ৩১ ও তাঁর সঙ্গীদের মতে হাসান লিগাইরিহ; আল আহাদীসুল মুখতারাহ, যিয়া মাকদিসি: ৯২৬
১৯১. আস-সহীহ, বুখারি: ৪৪১৮; আস-সহীহ, মুসলিম: ২৭৬৯
নবিজি যখন কোনো সুসংবাদ শুনতেন, তখন তিনি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল- এর দরবারে শোকরগুজার হয়ে সিজদাহ'য় লুটিয়ে পড়তেন। [১৮৯]
আব্দুর রহমান ইবনু আউফ থেকে বর্ণিত: “নবিজি আমাদের নিকট মাসজিদে প্রবশে করলেন, কিবলার দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন, এরপর অনেক সময় নিয়ে সিজদাহ'য় অবস্থান করলেন। আমি তাকে বললাম: 'হে আল্লাহর রাসূল, আপনি এত দীঘ সময় সিজদাহ'য় অবস্থান করলেন যে, আমরা ভাবছিলাম আল্লাহ আপনার আত্মা নিয়ে গেছেন।' নবিজি বললেন:
ان جبريل أتاني فبشرني أن الله عز وجل يقول لك من صلى عليك صليت عليه ومن سلم عليك سلمت عليه فسجدت لله شكرا
'জিবরীল আমার কাছে সুসংবাদ নিয়ে এসেছিলেন। তিনি আমাকে বলেছেন, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলেছেন: যে আপনার প্রতি দুরুদ পড়বে প্রতিদানে আমি তার প্রতি সালাত বর্ষণ করব এবং যে আপনার প্রতি সালাম জানাবে, প্রতিদানে আমি তাকে সালাম জানাব। সুতরাং আমি আল্লাহর কৃতজ্ঞতাবশত সিজদাহ করলাম'।"[১৯০]
সাঈদ ইবনু মানসুর বলেন, মূসাইলামাতুল কাযযাবের মৃত্যুসংবাদ শুনে আবূ বাকর সিজদাহ দিয়ে শোকর আদায় করেছিলেন। এবং নবিজি কা'ব ইবনু মালিক-কে আল্লাহর ক্ষমার সুসংবাদ জানালে তিনি কৃতজ্ঞতার সিজদাহ আদায় করেন। [১৯১]
টিকাঃ
১৮৯. আস-সুনান, আবু দাউদ: ২৭৭৪; আস-সুনান, তিরমিযি: ১৫৭৮, তাঁর মতে হাসান গারীব; আস-সুনান, ইবন মাজাহ: ১৩৯৪, ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম ১৬৫৬ সহীহ বলেছেন- ই'লামুল মুওয়াকিঈন: ২/৩০১
১৯০. আল-মুসনাদ, আহমাদ: ১৬৬২, শাইখ আহমাদ শাকির ৬১-এর মতে সনদ সহীহ, দেখুন তাঁর তাহকিককৃত মুসনাদ: ৩/১৩০; শাইখ শু'আইব আরনাউত্ব ৩১ ও তাঁর সঙ্গীদের মতে হাসান লিগাইরিহ; আল আহাদীসুল মুখতারাহ, যিয়া মাকদিসি: ৯২৬
১৯১. আস-সহীহ, বুখারি: ৪৪১৮; আস-সহীহ, মুসলিম: ২৭৬৯
📄 মানুষের সৎকার্য আল্লাহর একটি নিআমাতের বিনিময়যোগ্য নয়
একজন আবেদ পঞ্চাশ বছর আল্লাহর ইবাদাত করার পর আল্লাহ তাকে ওহি করলেন : আমি তোমাকে ক্ষমা করেছি। লোকটি বলল: “হে আল্লাহ, আমি যখন কোনো পাপই করিনি তখন ক্ষমা করার কী আছে?” অতঃপর আল্লাহ তার ঘাড়ের রগে ব্যথা সৃষ্টি করে দেন। এ কারণে সে ঘুমোতে অথবা সালাত পড়তে পারছিল না। পরে তার ব্যথা চলে গেলে এবং সে সালাতে সমর্থ হলে তার কাছে একজন ফেরেশতা আসেন। লোকটি ফেরেশতার কাছে কষ্টভোগের অভিযোগ করেন। ফেরেশতা তাকে বলেন, “তোমার প্রভু তোমার ব্যথা শিথিল করে দেওয়ার বিনিময়ে তোমার পঞ্চাশ বছরের ইবাদাত দিয়ে দিতে বলেছেন।”[১৯২]
ইবনু আবিদ দুনইয়া বর্ণনা করেন: দাঊদ আল্লাহর কাছে জানতে চান : “হে আমার রব, আমার প্রতি তোমার ন্যূনতম অনুগ্রহ কী?” আল্লাহ তার প্রতি ওহি পাঠান: “হে দাউদ, একবার শ্বাস নাও।” দাউদ তা-ই করেন, এরপর আল্লাহ তাকে বলেন, “এটা তোমার প্রতি আমার সর্বনিম্ন অনুগ্রহ।"[১৯৩]
এটা থেকে আমরা যাইদ ইবন সাবিত ও ইবন আব্বাস বর্ণিত হাদীসটি বুঝতে পারি।
لَوْ أَنَّ اللَّهَ عَذَّبَ أَهْلَ سَمَاوَاتِهِ وَأَهْلَ أَرْضِهِ ، لَعَذَّبَهُمْ وَهُوَ غَيْرُ ظَالِمٍ لَهُمْ ، وَلَوْ رَحِمَهُمْ لكَانَتْ رَحْمَتُهُ خَيْرًا لَهُمْ مِنْ أَعْمَالِهِمْ
“আল্লাহ যদি আসমান ও যমীনের মানুষকে শাস্তি দেন, তাহলে সেটা তাদের প্রতি যুলম করা হবে না। আর যদি তিনি তাদের প্রতি রহম করেন, তবে তাদের আমলসমূহের চেয়ে অধিক কল্যাণকর হবে।"[১৯৪]
لَنْ يُنَجِّيَ أَحَدًا مِنْكُمْ عَمَلُهُ
"কেউ তার আমলের বিনিময়ে মুক্তি লাভ করবে না।”
লোকেরা জিজ্ঞাসা করেন, “হে আল্লাহর রাসূল, আপনিও কি পারবেন না?” তিনি বললেন,
وَلَا أَنَا ، إِلَّا أَنْ يَتَغَمَّدَنِي اللَّهُ بِرَحْمَةٍ
“এমনকি আমিও না, যদি-না আল্লাহ আমাকে তাঁর রহমতে ছেয়ে নেন।"[১৯৫]
মানুষের সমুদয় ভালো কাজ আল্লাহর একটিমাত্র অনুগ্রহের মূল্য পরিশোধ করতে পারবে না। কারণ, আল্লাহর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র নিআমাত ও অনুগ্রহও মানুষের সমুদয় সৎকাজের চেয়ে অনেক বেশি ওজস্বী। সুতরাং আমাদের প্রতি আল্লাহর যে অধিকার রয়েছে, তার প্রতি সব সময় সজাগ ও যত্নশীল থাকা উচিত।
টিকাঃ
১৯২. আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ১৪৮; হিলইয়াতুল আওলিয়া, আবু নু'আইম: ৪/৬৮; শু'আবুল ঈমান, বাইহাকি: ৪৬২২
১৯৩. আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ১৪৯
১৯৪. আস-সুনান, আবু দাউদ: ৪৬৯৯; আস-সুনান, ইবন মাজাহ: ৭৭; আস-সহীহ, ইবন হিব্বان: ৭৪৭
১৯৫. আস সহীহ, বুখারি: ৬৪৬৩; আস সহীহ, মুসলিম: ২৮১৬
একজন আবেদ পঞ্চাশ বছর আল্লাহর ইবাদাত করার পর আল্লাহ তাকে ওহি করলেন : আমি তোমাকে ক্ষমা করেছি। লোকটি বলল: “হে আল্লাহ, আমি যখন কোনো পাপই করিনি তখন ক্ষমা করার কী আছে?” অতঃপর আল্লাহ তার ঘাড়ের রগে ব্যথা সৃষ্টি করে দেন। এ কারণে সে ঘুমোতে অথবা সালাত পড়তে পারছিল না। পরে তার ব্যথা চলে গেলে এবং সে সালাতে সমর্থ হলে তার কাছে একজন ফেরেশতা আসেন। লোকটি ফেরেশতার কাছে কষ্টভোগের অভিযোগ করেন। ফেরেশতা তাকে বলেন, “তোমার প্রভু তোমার ব্যথা শিথিল করে দেওয়ার বিনিময়ে তোমার পঞ্চাশ বছরের ইবাদাত দিয়ে দিতে বলেছেন।”[১৯২]
ইবনু আবিদ দুনইয়া বর্ণনা করেন: দাঊদ আল্লাহর কাছে জানতে চান : “হে আমার রব, আমার প্রতি তোমার ন্যূনতম অনুগ্রহ কী?” আল্লাহ তার প্রতি ওহি পাঠান: “হে দাউদ, একবার শ্বাস নাও।” দাউদ তা-ই করেন, এরপর আল্লাহ তাকে বলেন, “এটা তোমার প্রতি আমার সর্বনিম্ন অনুগ্রহ।"[১৯৩]
এটা থেকে আমরা যাইদ ইবন সাবিত ও ইবন আব্বাস বর্ণিত হাদীসটি বুঝতে পারি।
لَوْ أَنَّ اللَّهَ عَذَّبَ أَهْلَ سَمَاوَاتِهِ وَأَهْلَ أَرْضِهِ ، لَعَذَّبَهُمْ وَهُوَ غَيْرُ ظَالِمٍ لَهُمْ ، وَلَوْ رَحِمَهُمْ لكَانَتْ رَحْمَتُهُ خَيْرًا لَهُمْ مِنْ أَعْمَالِهِمْ
“আল্লাহ যদি আসমান ও যমীনের মানুষকে শাস্তি দেন, তাহলে সেটা তাদের প্রতি যুলম করা হবে না। আর যদি তিনি তাদের প্রতি রহম করেন, তবে তাদের আমলসমূহের চেয়ে অধিক কল্যাণকর হবে।"[১৯৪]
لَنْ يُنَجِّيَ أَحَدًا مِنْكُمْ عَمَلُهُ
"কেউ তার আমলের বিনিময়ে মুক্তি লাভ করবে না।”
লোকেরা জিজ্ঞাসা করেন, “হে আল্লাহর রাসূল, আপনিও কি পারবেন না?” তিনি বললেন,
وَلَا أَنَا ، إِلَّا أَنْ يَتَغَمَّدَنِي اللَّهُ بِرَحْمَةٍ
“এমনকি আমিও না, যদি-না আল্লাহ আমাকে তাঁর রহমতে ছেয়ে নেন।"[১৯৫]
মানুষের সমুদয় ভালো কাজ আল্লাহর একটিমাত্র অনুগ্রহের মূল্য পরিশোধ করতে পারবে না। কারণ, আল্লাহর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র নিআমাত ও অনুগ্রহও মানুষের সমুদয় সৎকাজের চেয়ে অনেক বেশি ওজস্বী। সুতরাং আমাদের প্রতি আল্লাহর যে অধিকার রয়েছে, তার প্রতি সব সময় সজাগ ও যত্নশীল থাকা উচিত।
টিকাঃ
১৯২. আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ১৪৮; হিলইয়াতুল আওলিয়া, আবু নু'আইম: ৪/৬৮; শু'আবুল ঈমান, বাইহাকি: ৪৬২২
১৯৩. আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ১৪৯
১৯৪. আস-সুনান, আবু দাউদ: ৪৬৯৯; আস-সুনান, ইবন মাজাহ: ৭৭; আস-সহীহ, ইবন হিব্বان: ৭৪৭
১৯৫. আস সহীহ, বুখারি: ৬৪৬৩; আস সহীহ, মুসলিম: ২৮১৬