📄 ইবলিস এবং কৃতজ্ঞতা
১৩. মানুষকে অকৃতজ্ঞ করা ইবলিসের লক্ষ্য :
ثُمَّ لَآتِيَنَّهُم مِّن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَن شَمَابِلِهِمْ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ )
"তারপর আমি তাদের সামনে দিয়ে, তাদের পেছন দিয়ে, তাদের ডান দিয়ে, তাদের বাম দিয়ে, তাদের কাছে অবশ্যই আসব। তুমি তাদের অধিকাংশকেই শোকর আদায়কারী পাবে না।" [১৪৯]
১৪. আর খুব কম লোকই কৃতজ্ঞ :
.... وَقَلِيلٌ مِّنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ )
"আমার বান্দাদের অল্পই কৃতজ্ঞ।"[১৫০]
টিকাঃ
১৪৯. সূরা আল-আ'রাফ, ৭:১৭
১৫০. সূরা সাবা, ৩৪:১৩
📄 কৃতজ্ঞতা এবং ইবাদাত
১৫. আল্লাহ কুরআনে বলেন, একমাত্র কৃতজ্ঞ বান্দারাই সত্যিকার ইবাদাত করে। সুতরাং যারা কৃতজ্ঞ বান্দা নয়, তারা প্রকৃত অর্থে ইবাদাতকারীদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
.... وَاشْكُرُوا لِلَّهِ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ )
"এবং আল্লাহর উদ্দেশে শোকর করতে থাকো, যদি তোমরা তাঁরই ইবাদাত করে থাকো।" [১৫১]
১৬. আল্লাহ মূসা -কে কৃতজ্ঞতার সাথে তাঁর অনুগ্রহ গ্রহণের নির্দেশ দিচ্ছেন:
قَالَ يَا مُوسَى إِنِّي اصْطَفَيْتُكَ عَلَى النَّاسِ بِرِسالاتِي وَبِكَلَامِي فَخُذْ مَا آتَيْتُكَ وَكُن مِّنَ الشَّاكِرِينَ )
"তিনি বললেন, হে মূসা, আমি আমার রিসালাত (যা তোমাকে দিয়েছি) ও আমার বাক্য (যা তোমার সঙ্গে বলেছিলাম তার) দ্বারা সকল লোকের মধ্য থেকে তোমাকে নির্বাচিত করেছি। কাজেই যা তোমাকে দিয়েছি তা গ্রহণ করো আর শোকর আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।"[১৫২]
১৭. কৃতজ্ঞতা: আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম
... وَإِن تَشْكُرُوا يَرْضَهُ لَكُمْ ...
"তোমরা যদি কৃতজ্ঞ হও, তবে তোমাদের জন্য তা তিনি পছন্দ করেন। "[১৫৩]
১৮. কৃতজ্ঞ হওয়ার জন্যে ইবরাহীম -এর প্রশংসা :
إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً قَانِتَا لِلَّهِ حَنِيفًا وَلَمْ يَكُ مِنَ الْمُشْرِكِينَ شَاكِرًا لِأَنْعُمِهِ اجْتَبَاهُ وَهَدَاهُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
"ইবরাহীম ছিল আল্লাহর প্রতি বিনয়াবনত একনিষ্ঠ এক উম্মাত। আর সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। সে ছিল আল্লাহর নিআমাতরাজির জন্য শোকরগুজার। আল্লাহ তাকে বেছে নিয়েছিলেন আর তাকে সরল-সঠিক পথ দেখিয়েছিলেন।" [১৫৪]
১৯. কৃতজ্ঞতা: মানুষ সৃষ্টির একটি উদ্দেশ্য
وَاللَّهُ أَخْرَجَكُم مِّن بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لَا تَعْلَمُونَ شَيْئًا وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةً لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
"আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের পেট থেকে বের করেন, তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদেরকে শোনার শক্তি, দেখার শক্তি আর অন্তর দান করেছেন যাতে তোমরা শোকর আদায় করতে পারো।" [১৫৫]
২০. কৃতজ্ঞতা: সাহায্য ও বিজয়ের শর্ত
وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ بِبَدْرٍ وَأَنتُمْ أَذِلَّةٌ فَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
"এবং আল্লাহ তোমাদের হীন অবস্থায় বদর যুদ্ধক্ষেত্রে তোমাদের সাহায্য করেছেন, সুতরাং আল্লাহকে ভয় করে চলো, যেন তোমরা শোকরগুজার হতে পারো।"[১৫৬]
২১. কৃতজ্ঞতা: নবি পাঠানোর উদ্দেশ্য
فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ الله
"কাজেই তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব এবং আমার শোকর করতে থাকো, না-শোকরি কোরো না।"[১৫৭]
টিকাঃ
১৫১. সূরা আল-বাকারাহ, ২:১৭২
১৫২. সূরা আল-আ'রাফ, ৭:১৪৪
১৫৩. সূরা আয-যুমার, ৩৯:৭
১৫৪. সূরা আন-নাহল, ১৬:১২০-১২১
১৫৫. সূরা আন-নাহল, ১৬:৭৮
১৫৬. সূরা আল ইমরান, ৩:১২৩
১৫৭. সূরা আল বাকারাহ, ২:১৫২
📄 হাদিসে কৃতজ্ঞতা
১. নবিজি -এর অনুপম কৃতজ্ঞতাবোধ :
বর্ণিত আছে, রাসূল সারারাত জেগে ইবাদাত করতেন। দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে তাঁর পা ফুলে যেত। যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হতো- "আপনি কেন এত কষ্ট করছেন? অথচ আল্লাহ আপনার আগের ও পরের সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দিয়েছেন!" জবাবে তিনি বলতেন : " أَفَلَا أَكُونُ عَبْدًا شَكُورًا, আমি কি কৃতজ্ঞ বান্দা হব না?" [১৫৮]
২. কৃতজ্ঞতা জানাবার তাওফিক চেয়ে দুআ করার নির্দেশ :
রাসূল মুআয-কে বললেন, " والله اني لأحبك فلا تنسى أن تقول دبر كل صلاة আল্লাহর শপথ, আমি তোমাকে ভালোবাসি, সুতরাং প্রত্যেক সালাতের পর বলতে ভুলে যেয়ো না-
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ، وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
'হে আল্লাহ, আমাকে সাহায্য করো তোমাকে স্মরণ করতে, তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এবং তোমার ইবাদাত করতে'।" [১৫৯]
৩. কৃতজ্ঞতা জানাবার তাওফিক চেয়ে দুআ :
হিশাম ইবনু উরওয়াহ বলেন, "রাসূল -এর দুআসমূহের একটি হচ্ছে,
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ، وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
'হে আল্লাহ, আমাকে সাহায্য করো তোমাকে স্মরণ করতে, তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এবং তোমার ইবাদাত করতে।' [১৬০]
৪. কৃতজ্ঞতাবোধ চারটি সেরা নিআমাতের একটি:
ইবনু আব্বাস বর্ণনা করেছেন, "রাসূল বলেন,
أَرْبَعُ مَنْ أُعْطِيَهُنَّ فَقَدْ أُعْطِيَ خَيْرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
'চারটি এমন নিআমাত আছে, যাকে তা দেওয়া হয়েছে তাকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ দেওয়া হয়েছে:
قَلْبًا شَاكِرًا ، وَلِسَانًا ذَاكِرًا ، وَبَدَنَا عَلَى الْبَلاءِ صَابِرًا ، وَزَوْجَةً لَا تَبْغِيهِ خَوْنًا فِي نَفْسِهَا وَلا مَالِهِ
১. কৃতজ্ঞ অন্তর (যা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকে),
২. যিকরকারী জবান (যা সব সময় আল্লাহর যিকরে লিপ্ত থাকে),
৩. এমন শরীর, যা বিপদ-আপদে সবর করে এবং
৪. বিশ্বস্ত স্ত্রী, যে তার দেহ এবং স্বামীর সম্পদ দিয়ে অন্যায় করে না।[১৬১]
৫. কৃতজ্ঞতার তাৎক্ষণিক পুরস্কার:
আল-কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ আয়িশা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল বলেছেন:
ما أنعم الله على عبد نعمة فعلم أنها من عند الله الا كتب الله له شكرها وما علم الله من عبد ندامة على ذنب إلا غفر الله له قبل أن يستغفره وإن الرجل يشترى الثوب بالدينار فيلبسه فيحمد الله فما يبلغ ركبتيه حتى يغفر له
"যখন আল্লাহ বান্দাকে কোনো নিআমাত দেওয়ার পর বান্দা বুঝতে পারে যে এটা আল্লাহর তরফ থেকেই এসেছে, তখন আল্লাহ তাকে শোকরগুজারদের মাঝে লিখে দেন (শামিল করে নেন)। আল্লাহ যখন গুনাহের কারণে বান্দার অনুশোচনা দেখেন, তখন সে ক্ষমা চাওয়ার আগেই তাকে ক্ষমা করে দেন। আর যখন কোনো ব্যক্তি দিনারের বিনিময়ে কোনো কাপড় কিনে তা পরিধান করে এবং (এ জন্য) আল্লাহর প্রশংসা করে, তখন সে কাপড় তার দু-হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছুনোমাত্রই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন।" [১৬২]
৬. কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কারণে আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন:
রাসূল বলেন,
"إن الله ليرضى عن العبد يأكل الأكله فيحمده عليها ويشرب الشربه فيحمده عليها
"আল্লাহ বান্দার প্রতি খুশি হন, যখন বান্দা কিছু খায় আল্লাহর প্রশংসা করে এবং যখন কোনো কিছু পান করে আর সে জন্য আল্লাহর প্রশংসা করে।" [১৬৩]
৭. আল্লাহ বান্দার কৃতজ্ঞতা হিসেবে নিআমাতের প্রতিফলন দেখতে চান:
শুবা বলেন, আল-ফাদল ইবনু ফুদালা বর্ণনা করেন, আবূ রাজা আল-উতারিদি বলেন, একবার আমরা ইমরান ইবনু আল-হুসাইনি -কে খুব সুন্দর কাপড় পরিহিত অবস্থায় দেখলাম, যা ইতিপূর্বে কখনো দেখিনি। ইমরান আমাদের বললেন, রাসূল বলেছেন:
إذا أنعم الله على عبد نعمة يحب أن يرى أثر نعمته على عبده
"আল্লাহ যখন বান্দাকে কোনো নিআমাত দান করেন, তো তার বান্দার মাঝে সেই নিআমাতের প্রতিফলন দেখতে চান।"[১৬৪]
৮. কৃতজ্ঞতাস্বরূপ নিআমাতের প্রতিফলনে লৌকিকতা না থাকা:
ইবনু শুআইব তাঁর পিতা এবং পিতামহের কাছ থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল বলেছেন:
كلوا واشربوا وتصدقوا في غير مخيلة ولا سرف فإن الله يحب أن يرى أثر نعمته على عبده
"খাও, পান করো, সাদাকাহ দাও, তবে অতিরঞ্জন কোরো না, অপব্যয় কোরো না। কারণ, আল্লাহ বান্দার মাঝে নিআমাতের প্রতিফলন দেখতে চান।"[১৬৫]
৯. কৃতজ্ঞতাস্বরূপ নিআমাতের প্রতিফলন দেখানোর নির্দেশ:
আবুল আখওয়াছ বর্ণনা করেছেন, তাঁর পিতা বলেন, "আমি অবিন্যস্ত ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায়[১৬৬] রাসূল -এর কাছে গেলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন: هل لك من مال 'তোমার কি কোনো সম্পদ আছে?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ'। তিনি জানতে চাইলেন, من أى المال কী ধরনের সম্পদ রয়েছে? আমি বললাম: 'আমার সব ধরনের সম্পদ আছে-আল্লাহ আমাকে উট, ঘোড়া, গোলাম এবং মেষপাল দিয়েছেন।' রাসূল বললেন:
فإذا آتاك الله مالا فليري عليك
'আল্লাহ যদি তোমাকে সম্পদ দিয়ে থাকেন তো তা যেন তোমার মাঝে দেখা যায় (অর্থাৎ সে সম্পদের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়)। [১৬৭]
১০. ছোট নিআমাতের কৃতজ্ঞতা জানানো:
নোমান বিন বাশীর থেকে বর্ণিত, রাসূল বলেছেন:
التحدث بالنعمة شكر وتركها كفر ومن لا يشكر القليل لا يشكر الكثير ومن لا يشكر الناس لا يشكر الله والجماعة بركة والفرقة عذاب
"আল্লাহর নিআমাত সম্পর্কে বলা 'কৃতজ্ঞতা' এবং তা না বলা 'কুফর'। যে ব্যক্তি আল্লাহর ক্ষুদ্র নিআমাতের শুকরিয়া আদায় করে না, সে বড় নিআমাতেরও শুকরিয়া আদায় করে না। যে ব্যক্তি বান্দার শুকরিয়া আদায় করে না, সে আল্লাহর শুকরিয়াও আদায় করে না। জামাআতবদ্ধ থাকা বরকত এবং বিভক্ত হওয়া আযাব।" [১৬৮]
১১. অকৃতজ্ঞ আচরণের ফলে রিযিক সংকুচিত হয়ে যায়:
ইবনু আবিদ-দুনইয়া আয়িশা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল একদিন আয়িশা -এর ঘরে প্রবেশ করে দেখলেন এক টুকরো রুটি মেঝেতে পড়ে আছে। রাসূল রুটির টুকরোটি তুলে নিলেন, সেটাকে মুছলেন, এবং তাঁকে বললেন:
يا عائشة أحسنى جوار نعم الله فإنها فلما نفرت عن أهل بيت فكادت أن ترجع اليهم
“হে আয়িশা, আল্লাহর নিআমাতের সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ করো; কারণ, কোনো ঘর থেকে যখন এটা বেরিয়ে যায়, সেখানে আর কখনো ফিরে আসে না।" [১৬৯]
১২. মৃত্যুর সময়ও মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে:
আবূ হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসূল বলেন, আল্লাহ বলেছেন,
ان المؤمن عندى بمنزلة كل خير يحمدنى وأنا أنزع نفسه من بين جنبيه
"মুমিনের সম্পর্ক আমার সাথে সবচেয়ে ভালো, সে তখনো আমার প্রশংসা করে যখন আমি তার দেহ থেকে আত্মা বের করে আনি।" [১৭০]
১৩. আল্লাহর নিআমাতের যথাযথ মূল্যায়নের পদ্ধতি:
আবূ হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসূল বলেন,
إِذَا أَحَبَّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَرَى قَدْرَ نِعْمَةِ اللَّهِ عَلَيْهِ فَلْيَنْظُرْ إِلَى مَنْ تَحْتَهُ وَلَا يَنْظُرْ إِلَى مَنْ فَوْقَهُ
"কোনো ব্যক্তি যদি তার ওপর আল্লাহর কতটা নিআমাত আছে তা দেখতে চায়, তাহলে সে যেন তারচেয়ে কম ভাগ্যবানদের দিকে তাকায়, তারচেয়ে বেশি ভাগ্যবানদের দিকে না তাকায়।"[১৭১]
টিকাঃ
১৫৮. আস-সহীহ, বুখারি: ১১৩০;
১৫৯. আল-মুসনাদ, আহমাদ: ২২১১৬, শাইখ শু'আইব আরনাউত্ব ও তাঁর সঙ্গীদের মতে সহীহ; আল আদাবুল মুফরাদ, বুখারি: ৬৯০; শাইখ আলবানি -এর মতে সহীহ; আস সুনানুল কুবরা, নাসাঈ : ৯৮৫৭; আস-সুনান, আবু দাউদ: ১৫২২; ইমাম নববি সহীহ বলেছেন-তাহযিবুল আসমা ওয়াল লুগাত: ২/৯৯; আস-সহীহ, ইবন হিব্বان: ২০২০; আস-সহীহ, ইবন খুযাইমাহ: ৭৫১, শাইখ হাবিবুর রহমান আযমি -এর মতে সহীহ।
১৬০. এটা মূলত পূর্বের দুআই। তবে সেখানে মুআয কে রাসূলুল্লাহ ওয়াসিয়্যাত করেছিলেন আর এখানে তাঁর অভ্যাস বর্ণিত হচ্ছে। এটা হিশাম ইবন উরওয়াহ বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন মুনকাদির থেকে। তিনি মুরসালভাবে হাদীসটি রেওয়ায়েত করেছেন। দেখুন- আল মুসান্নাফ, ইবন আবী শাইবাহ: ২৯৪০০; আদ দা'ওয়াতুল কাবীর, তাবারানি: ২৭৪; আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ৪
১৬১. আল মু'জামুল আওসাত, তাবারানি: ৭২১২; আহাদীসুল মুখতারাহ, যিয়া মাকদিসি: ৬৩, ইমাম
১৬২. আল-মুসতাদরাক, হাকিম: ১৮৯৪, ইমাম হাকিম বলেন, এই হাদীসের সনদে এমন কোনো রাবি নেই, যার ওপর জার্হ (সমালোচনা) করা হয়েছে বলে তিনি জানেন। ইমাম যাহাবি কোনো মন্তব্য করেননি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই সনদে থাকা মুহাম্মাদ আল আত্তারের ওপর কঠিন জাই রয়েছে। এমনকি ইমাম ইবন আব্দিল বারর এ তাকে মাতরুকূল হাদীস বলেছেন। ইমাম ইবন আদি, ইবন আব্দিল বারর ও আবূ যুরআ -এর বিপরীতে ইমাম ইবন হিব্বান তাঁকে সিকাহ বলেছেন। এ জন্য শাইখ আলবানি এই হাদীসকে দ্বঈফুন জিদ্দান বলেছেন- সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বঈফাহ: ৫৩৪৭
১৬৩. আস-সহীহ, মুসলিম: ২৭৩৪
১৬৪. আত তারগীব ওয়াত তারহীব, ইসমাঈল বিন মুহাম্মাদ আল আসবাহানি: ২৩৬৮; ইমাম হাইসামি -এর মতে সহীহ-মাজমাউয যাওয়াইদ: ৫/১৩২
১৬৫. শু'আবুল ঈমান, বাইহাকি : ৫৭৮৬; হাদীসটি শব্দ-পার্থক্যসহ বর্ণনা করেছেন ইমাম ইবন মাজাহ, (আস-সুনান: ৩৬০৫), ইমাম নাসাঈ, (আস সুনানুস সুগরা: ২৫৫৮) ও ইমাম তিরমিযি, (আস-সুনান: ২৮১৯)। ইমাম তিরমিযি এই সনদকে হাসান বলেছেন।
১৬৬. মূল আরবি হচ্ছে قشف الهيئة মানে গোসল ও পরিচ্ছন্নতা ছেড়ে দেওয়ার পর সৃষ্ট অবস্থা-লিসানুল আরব: ১/২৮২, এখানে এর অর্থ হচ্ছে তিনি পুরোনো, ছেঁড়াফাটা বা ময়লা কাপড় পরে ছিলেন।
১৬৭. আস সুনানুস সুগরা, নাসাঈ: ৫২২৩; আস-সুনান, ইমাম আবূ দাউদ: ৪০৬৩; আস-সুনান, তিরমিযি: ২০০৬, ইমাম তিরমিযি -এর মতে হাদীস হাসান সহীহ।
১৬৮. আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ৬৪; শাইখ আলবানি -এর মতে হাসান-সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহা: ৬৬৭
১৬৯. আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ২, ইসলাহুল মাল: ৩৪৩; আস-সুনান, ইবন মাজাহ: ৩৩২৩; শাইখ আলবানি দ্বঈফ বলেছেন, ইরওয়াউল গালীল: ১৯৬১; অপর সনদে ইমাম আবু ইয়া'লা উল্লেখ করেছেন মুসনাদ-এ, তবে ইমাম হাইসামি দ্বঈফ বলেছেন-মাজমাউয যাওয়াইদ: ৮/১৯৫
১৭০. আল-মুসনাদ, বাযযার: ৮৪৭১; ইমাম হাইসামি -এর মতে সহীহ-মাজমাউয যাওয়াইদ: ১০/৯৬
১৭১. আয যুহদ, ইবনুল মুবারাক: ১৪৩৩; আশ শুকর, ইবন আবিদ দুনইয়া: ৯১, আবূ হুরাইরাহ থেকে ভিন্ন সনদে এই একই অর্থের হাদীস বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারি (আস-সহীহ: ৬৪৯০) ও ইমাম মুসলিম (আস-সহীহ: ২৯৬৩)