📄 ধৈর্যের বিভিন্ন স্তর
১. আল্লাহর উদ্দেশ্যে এবং আল্লাহর সাহায্যে—উভয় প্রকৃতির ধৈর্য : আল্লাহর সাহায্যে এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে ধৈর্যধারণের মানে আপনার এই উপলব্ধি থাকা যে, আপনার নিজের কোনো ক্ষমতাই নেই। এটা ধৈর্যের সর্বোচ্চ স্তর।
২. আল্লাহর সাহায্য ব্যতিরেকে তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ধৈর্য : যেমন কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ধৈর্য ধারণ করলো, কিন্তু সক্রিয়ভাবে তাঁর সাহায্য চাইল না, তার বিশ্বাস ও আস্থাও দুর্বল। এদের পরিণাম ভালো, কিন্তু এরা দুর্বল এবং এরা প্রত্যাশা অনুপাতে ফলাফল অর্জন করতে পারে না। এটা একজন একনিষ্ঠ অথচ দুর্বলতম বিশ্বাসীর অবস্থা।
৩. আল্লাহর সাহায্যে ধৈর্য : যেমন কেউ আল্লাহর সাহায্য চাইল, আল্লাহর ওপর আস্থা রাখল, মেনে নিল নিজের কোনো ক্ষমতা ও সামর্থ্য নেই, কিন্তু তার ধৈর্য আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নয়, আর এই ধৈর্য তার বিশ্বাসের ফলস্বরূপও নয়। এতে লক্ষ্য হয়তো পূরণ হবে কিন্তু তার শেষটা হবে অত্যন্ত মন্দ দিয়ে। এ ধরনের ব্যক্তিদের দৃষ্টান্ত হলো কাফিরদের নেতা এবং শয়তানের অনুসারীদের মতো। এদের ধৈর্য আল্লাহর অভিমুখী হলেও আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত নয়।
৪. কোনো রকমের ধৈর্য না থাকা : এটা হলো সর্বনিম্ন স্তরের, এসব লোকদের কপালে আছে সবরকমের ব্যর্থতা।
যাদের ধৈর্য কেবল আল্লাহর উদ্দেশ্যে ও তাঁর অভিমুখী; এরাই তারা, যারা দৃঢ়নিষ্ঠ অর্জনও করে অধিক। যার আল্লাহর অভিমুখী ধৈর্য আছে কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ধৈর্য ধরে না—সে যদিও সক্ষম, কিন্তু অসৎ। আর যার মধ্যে কোনোটাই নেই, সে তো চরম ব্যর্থতায় নিমজ্জিত।