📄 সবচেয়ে কঠিন রকমের ধৈর্য কী?
কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা কতটা কঠিন, তা নির্ভর করে কাজটি করার সক্ষমতা ও সংকল্পের দৃঢ়তার ওপর। যার খুন, চুরি, মদ্যপান জাতীয় অপরাধ করার ইচ্ছেও নেই, শক্তিও নেই, তার জন্য ধৈর্য ধরাটা সহজ। কিন্তু যার এ ধরনের পাপ করার কুমতলবের সাথে সাথে সামর্থ্যও আছে, তার পক্ষে প্রকৃতই ধৈর্য ধরাটা সত্যিই কঠিন। একজন রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য কঠিন হলো, অন্যায় ও অত্যাচার থেকে হাত গুটিয়ে রাখা। একজন যুবকের পক্ষে কঠিন হলো ব্যভিচার থেকে নিজেকে পরিশুদ্ধ রাখা। একইভাবে কোনো বিত্তবানের জন্য শারীরিক ভোগবিলাস, আরাম-আয়েশ থেকে নিজেকে ফিরিয়ে রাখাটাও কঠিন।
নবিজি বলেন:
عجب ربك من شاب ليست له صبوة
"তোমার রব এমন বালককে দেখে বিস্মিত হন, যার মাঝে বালকসুলভ আচরণ নেই।”[৫৩]
অন্য এক হাদীসে নবিজি যথার্থ ধৈর্যধারণকারীদের আল্লাহর আরশের ছায়ার নিচে আশ্রয় পাওয়ার সুসংবাদ দিয়েছেন। এ ধরনের সহিষ্ণু ব্যক্তির উদাহরণ হলো ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ, যে নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে হলেও সব অবস্থায় ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেয়। সেই যুবক, যে নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে আল্লাহর ইবাদাত ও আনুগত্য করে এবং সে ব্যক্তি, যে গোপনে দান করে। আর সে, যে কোনো সুন্দরী সম্ভ্রান্ত মেয়ের প্ররোচনাকে উপেক্ষা করে ধৈর্যধারণ করে এবং যে দু-ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই মিলিত হয়, তারই সন্তুষ্টির জন্য আলাদা হয়। সে ব্যক্তি, যে আল্লাহর ভয়ে কাঁদে এবং তা গোপন রাখে, অন্যদের তা বলে বেড়ায় না। সুতরাং একজন বৃদ্ধ ব্যভিচারীর, মিথ্যাবাদী শাসক, বিষম অহংকারী দরিদ্র ব্যক্তির শাস্তি অধিক হবে। কারণ, এ ধরনের অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকা তাদের জন্য অধিকতর সহজ এবং এ জন্য প্রয়োজন স্বল্প ধৈর্যের। অথচ তাদের হাবভাব থেকে বোঝা যায়, তারা স্বেচ্ছায় আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছে।
টিকাঃ
৫৩. কাশফুল খফা, আজলুনি: ১৫৩০, সনদ হাসান।
📄 কথা ও ব্যাভিচারের পাপ পরিহারে ধৈর্য
কথা ও যৌনাচারের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার ধৈর্য হচ্ছে সর্বাধিক কঠিন। কথার গুনাহ হলো গীবত করা, অপবাদ দেওয়া, দুজনের মাঝে কলহ সৃষ্টির জন্য মিথ্যা বলা, প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে নিজের প্রশংসা করা, অপছন্দের লোকদের অপমান করা, পছন্দের লোকদের প্রশংসা করা। (সত্যি কথা বলতে কী), এসব করতে মজা লাগে, ফুর্তি আসে।
এসব অন্যায় করার জন্য অন্তরের শক্তিশালী আহ্বান যেমন ক্রিয়াশীল, তেমনই জিহ্বার সঞ্চালনও খুব সহজ। ফলে ধৈর্য দুর্বল হয়ে যায়। এ জন্য নবিজি মুআয -কে বললেন:
امسك عليك لسانك
“তোমার জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করো।”
মুআয জিজ্ঞাসা করলেন, "আমরা যা বলি, সে জন্য কি পাকড়াও করা হবে?" নবিজি উত্তর দিলেন:
وهل يكب الناس في النار على مناخرهم الا حصائد ألسنتهم
“মানুষের জিহ্বার ফসল ছাড়া আর কিছু কি আছে, যা তাকে অধোমুখী করে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করবে?”[৫৪]
একবার যখন মুখের কথা অন্যায় অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়, ধৈর্য তখন দুরূহ ও অসম্ভবপর হয়ে ওঠে। এ জন্যে অনেককে দেখা যায় যে, তারা রাতভর সালাতে দাঁড়িয়ে থাকে, সারাদিন রোজা রাখে, এমনকি সিল্কের তৈরি বালিশ পর্যন্ত স্পর্শ করে না, কিন্তু জিহ্বাকে লাগامহীন ছেড়ে রেখেছে গীবতচর্চায়, কুৎসা রটনায়, লোকদের মাঝে কলহ সৃষ্টির মতো জঘন্য-সব কাজে। এটা হয়ে থাকে তার বদ অভ্যাসের কারণে।
টিকাঃ
৫৪. হাদীসটির শুরুতে امسك عليك لسانك এর বদলে كُفُّ عَلَيْكَ هَذَا 'এটা থেকে বেঁচে থাকো' রয়েছে, আল মুসনাদ, আহমাদ: ২২০১৭, শাইখ শু'আইব আরনাউত্ব ও তাঁর সঙ্গীদের মতে শাওয়াহিদের কারণে সহীহ; আস সুনানুল কুবরা, নাসাঈ: ১১৩৩০; আল মু'জামুল কাবীর, তাবারানি: ২৬৬; আল আদাব, বাইহাকি: ২৯৫