📘 সবর ও শোকর > 📄 নিষিদ্ধ (মাহযুর) ধৈর্য

📄 নিষিদ্ধ (মাহযুর) ধৈর্য


• মৃত্যু পর্যন্ত পানাহার থেকে দূরে থাকার ধৈর্য।

• যখন মৃত জন্তু, রক্ত কিংবা শূকরের মাংস না খেলে মৃত্যু অবধারিত তখন তা না খেয়ে ধৈর্য ধরা। তাউস ও আহমাদ ইবনু হাম্বাল বলেন, "যদি কেউ মৃত জন্তু ও রক্ত খেতে বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও তা না খেয়ে মারা যায়, তাহলে সে জাহান্নামে যাবে।"

• ভিক্ষাবৃত্তি থেকে নিবৃত্ত থাকার ধৈর্য। মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করা কি হারাম নাকি মুবাহ তা নিয়ে মতবিরোধ আছে। ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল-এর সাথীদের যাহির নস হচ্ছে, ভিক্ষা না করে এ রকম ধৈর্য ধরা জায়েয।[২৫] তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, "যদি কেউ ভিক্ষা না করলে মৃত্যুর আশঙ্কা করে তাহলে?” ইমাম আহমাদ বলেন, "না, সে মারা যাবে না। আল্লাহ তার জন্য বরাদ্দকৃত রিযিক পাঠাবেন।”[২৬] ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল ভিক্ষা করতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ যেহেতু বান্দার চাহিদা এবং ভিক্ষাবৃত্তি থেকে নিবৃত্ত থাকার নিষ্ঠা সম্পর্কে জানেন, তিনি অবশ্যই তার কাছে রিযিক পাঠাবেন। ইমাম আহমাদ ও ইমাম শাফিঈ-এর অধিকাংশ সাথীর মতে এমন ব্যক্তির ওপর ভিক্ষা করা ওয়াজিব, আর যদি সে ভিক্ষা না করে, তাহলে গুনাহগার হবে। কেননা, ভিক্ষার মাধ্যমে সে ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা পাচ্ছে।[২৭]

• অপর একটি নিষিদ্ধ ধৈর্য হচ্ছে এমন-সব বিষয়ে ধৈর্য ধরা, যা মানুষকে ধ্বংস করে। যেমন: হিংস্র জন্তু, সাপ, আগুন, পানি কিংবা এমন কাফির থেকে আত্মরক্ষা না করা, যে তাকে হত্যা করতে চায়।

• ফিতনার সময় ধৈর্যধারণ-যখন মুসলিমদের পরস্পরের মাঝে যুদ্ধবিগ্রহ দেখা দেয়। মুসলিমদের মধ্যে যখন পরস্পর খুনোখুনি হয় তখন ধৈর্যধারণ করা অনুমোদিত (মুবাহ), একই সাথে মুস্তাহাবও (পছন্দনীয় ও প্রশংসনীয়)। নবিজি-কে যখন এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি বলেন:

كن كخير ابنى آدم

"আদামের দু-সন্তানের উত্তম জনের মতো হও।”[২৮]

অনুরূপ আরেকটি বর্ণনায় নবিজি বলেন,

كن عبد الله المقتول ولا تكن عبد الله القاتل

"আল্লাহর (অন্যায়ভাবে) নিহত বান্দার মতো হও, তার মতো নয় যে (অন্যায়ভাবে) হত্যাকারী।"[২৯]

এবং

دعه يبوء بإئمه وإثمك

"তাকে (খুনি) নিজের এবং তোমার পাপের ভার বহন করতে দাও।"[৩০]

অন্য একটি বর্ণনায় তিনি বলেন,

فإن بهرك شعاع السيف فضع يدك على وجهك

"যদি তরবারির ঔজ্জ্বল্য তোমার চোখ ঝলসে দেয় তবে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে নাও।"[৩১]

আল্লাহ কুরআনে আদাম -এর দুই সন্তানের উত্তম জনের ঘটনা বর্ণনা করেছেন যে সে কীভাবে যুদ্ধ এড়িয়ে নিজেকে সমর্পণ করেছিল। কাফিরদের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধের ব্যাপারটা আলাদা। এ অবস্থায় মুসলিমদের জন্য আত্মরক্ষা ওয়াজিব; কারণ, জিহাদের উদ্দেশ্য হলো নিজেকে এবং মুসলিমদের রক্ষা করা।

টিকাঃ
২৫. আল ফুরু', 'ইবন মুফলিহ: ৬/২০৩; কাশশাফুল কিনা: ৬/১৯৬
২৬. আত তামহীদ, আসরাম এ-এর রিওয়ায়াতে ইমাম ইবন আব্দিল বার: ৪/১২০-২১; আল জামি লি-আহকামিল কুরআন, ইমাম কুরতুবি : ৩/২২৩; আল ফুরু', ইবন মুফলিহ: ৬/২০৪; কাশশাফুল কিনা : ৬/১৯৬
২৭. কাশশাফুল কিনা, ইমাম কাযি আবূ ইয়া'লা আল হাম্বালি এই মত ইখতিয়ার করেছেন: ৬/১৯৬, তবে শাফিঈরা ভিক্ষাবৃত্তি ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে একমত নয়-আল মাজমু, আন-নববি: ১/৪৬
২৮. আস-সুনান, আবু দাউদ, হা: ৪২৫৯; আস সহীহ, ইবন হিব্বান, হা: ৫৯৬২, ইমাম মুনাউইর -এর মতে হাদীসটি সহীহ; তাখরিজু আহাদীসিল মাসাবিহ: ৪/৪৬১
২৯. মাকাসিদুল হাসানাহ, মালিক বিন আনাস: ৩৮৮; শাইখ আলবানি -এর মতে সনদ সহীহ-ইরওয়াউল গালিল: ২৪৫১
৩০. আস-সহীহ, মুসলিম: ২৮৮৭; আস-সুনান, আবু দাউদ: ৪৪৯৯
৩১. আস-সুনান, আবূ দাউদ, হা: ৪২৬১; আস-সুনান, ইবন মাজাহ : ৩৯৫৮; আস-সহীহ, ইবন হিব্বান : ৫৯৬০; ইমাম হাকীম -এর মতে বুখারি ও মুসলিমের শর্তে সহীহ-আল মুস্তাদরাক: ২/১৫৭।

📘 সবর ও শোকর > 📄 অপছন্দনীয় (মাকরুহ) ধৈর্য

📄 অপছন্দনীয় (মাকরুহ) ধৈর্য


• খাদ্য, পানীয়, পোশাক এবং স্ত্রীর সাথে যৌনমিলন থেকে এতটুকু বিরত থাকা, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
• স্ত্রীর প্রয়োজনের সময় যৌনমিলন না করা।
• মাকরূহ কাজ করার ধৈর্য।
• মুস্তাহাব আমল না করার ধৈর্য।

📘 সবর ও শোকর > 📄 অনুমোদিত (মুবাহ) ধৈর্য

📄 অনুমোদিত (মুবাহ) ধৈর্য


• অনুমোদিত (মুবাহ) এবং ইসলামে বাধ্যবাধকতা নেই এমন কাজ থেকে বিরত থাকার ধৈর্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00