📘 সবর ও শোকর > 📄 পাপকাজ পরিহারে ধৈর্য

📄 পাপকাজ পরিহারে ধৈর্য


এ ধরনের ধৈর্য পাপের শাস্তির ভয়ের মাধ্যমে অর্জিত হতে পারে। অথবা পাপকাজে আল্লাহর নিআমাতরাজির অপব্যবহারে লজ্জাবোধের উপলব্ধি থেকে থেকেও অর্জিত হতে পারে। আল্লাহর ব্যাপারে লজ্জাশীলতার এই উপলব্ধি শক্তিশালী হতে পারে তাঁর সম্পর্কে অধিক জানাশোনা এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির মর্ম অনুধাবনের মধ্য দিয়ে। হায়া বা লজ্জাশীলতা উন্নত চরিত্র ও সদ্‌গুণসম্পন্ন ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য। সুতরাং যে লজ্জাশীলতার কারণে খারাপ কাজ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে সে শাস্তির ভয়ে দূরে থাকা ব্যক্তির চেয়ে উত্তম। লজ্জাশীলতা প্রমাণ করে, ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন। আর যার প্রতিবন্ধক হচ্ছে আল্লাহর ভয় তার নজর থাকে শাস্তির দিকে। ভীত ব্যক্তির চিন্তা যেখানে আত্মকেন্দ্রিক এবং শাস্তি থেকে আত্মরক্ষার, সেখানে একজন লজ্জাশীল ব্যক্তির ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছেন আল্লাহ ও তাঁর মহত্ত্ব। দুজনেই ঈমানের মর্যাদায় সমাসীন। তবে লজ্জাশীল ব্যক্তি লাভ করবে ঈমানের উচ্চ স্তর-ইহসানের গৌরব। ইহসান হলো সজাগ অনুভূতি নিয়ে সবসময় এমনভাবে আচরণ করা, যেন সে আল্লাহকে দেখছে। ফলে তার হৃদয় আল্লার সম্মানে পূর্ণরূপে লজ্জায় বিনম্র হয়।

মুমিনের জন্য গুনাহ থেকে দূরে থাকা অত্যাবশ্যক। কেননা, তাকে অবশ্যই তার ঈমান রক্ষা করতে হবে, আর গুনাহ ঈমানে ঘাটতি আনে অথবা এটাকে নিঃশেষ করে দেয়। নবিজি বলেন,

عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ لا يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَشْرَبُ الْخَمْرَ حِينَ يَشْرَبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَسْرِقُ السَّارِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَنْتَهِبُ نُهْبَةٌ يَرْفَعُ النَّاسُ إِلَيْهِ أَبْصَارَهُمْ حِينَ يَنْتَهِبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ

"যেনাকারী যখন যেনায় লিপ্ত হয়, তখন সে মুমিন থাকে না। মদ্যপ যখন মদ্যপানে লিপ্ত হয়, তখন সে মুমিন থাকে না। চোর যখন চৌর্যবৃত্তিতে লিপ্ত হয়, তখন সে মুমিন থাকে না। আর লুটতরাজ ও ছিনতাইকারী যখন লুটতরাজ ও ছিনতাই করে এবং লোকজন তার দিকে চোখ তুলে তাকায়, তখন সে মুমিন থাকে না। [২৪]

টিকাঃ
২৪. আস-সুনান, ইবনু মাজাহ: ৩৯৩৬

📘 সবর ও শোকর > 📄 পরীক্ষা ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্য

📄 পরীক্ষা ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্য


যে উপায়গুলোর মাধ্যমে আপনি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্যধারণ করতে পারেন:

১. অপেক্ষমাণ উত্তম পুরস্কারের কথা চিন্তা করা: আপনার জন্য পুরস্কার অপেক্ষা করছে-এটা যতবেশি বিশ্বাস করতে শিখবেন, ধৈর্যধারণ করাটা আপনার জন্য ততই সহজ হয়ে উঠবে। যদি পুরস্কার লাভের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও বিশ্বাস না থাকতো, তাহলে দুনিয়া-আখেরাতের কোনো স্বপ্ন ও লক্ষ্যই অর্জন করা সম্ভব হতো না। মানুষের স্বভাব হলো সবকিছুতেই সে নগদ প্রাপ্তি চায়, কিন্তু বিচক্ষণতা ও পরিপক্বতা আমাদের দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী ফলাফল অর্জনে উৎসাহিত করে। চিন্তার এই দূরদর্শিতা সংকট মোকাবিলায় টিকে থাকতে আমাদের ধৈর্যশক্তিকে মজবুত করে, চাই এতে ইচ্ছের দখল থাক বা না থাক।

২. সুদিনের আশা রাখা: এ আশা আমাদের অবিলম্বে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিরসন করে মুক্তির পথ দেখায় ও মনে সান্ত্বনা জোগায়।

৩. আল্লাহর দেওয়া অফুরন্ত নিআমাত নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করা: আল্লাহর অনুগ্রহের ব্যাপকতা অনুভব করতে পারলে বর্তমানের দুরবস্থা কাটিয়ে উঠতে ধৈর্যধারণ আমাদের জন্য সহজতর হয়। কারণ, বর্তমানের দুঃখ-কষ্ট আল্লাহর দান ও অনুগ্রহের অসীম সাগরের তুলনায় একটি বৃষ্টিবিন্দু সমতুল্য।

৪. আল্লাহ আগে যে সমস্ত নিআমাত দিয়েছেন সেসবের কথা চিন্তা করা: এটা আমাদের প্রতি আল্লাহর মমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং সুদিনের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে দৃঢ় করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00