📄 ধৈর্যের আরও কিছু সংজ্ঞা
একজন আলিম বলেন, “ধৈর্য হচ্ছে প্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনার বিপরীতে বোধশক্তি ও দ্বীনের প্রেরণার ওপর অটল থাকা।” মানুষের মধ্যে কামনা-বাসনার প্রতি ঝোঁক থাকাটা খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। কিন্তু সহজাত বিবেচনাশক্তি ও ধর্মীয় প্রেরণার মাধ্যমে এই ঝোঁকের লাগাম টেনে ধরা উচিত। এই দুই পরাশক্তি পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে-কখনো বিবেক-বুদ্ধি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জয়ী হয় আবার কখনো প্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনা বিজয়ী হয়। এই মারাত্মক যুদ্ধের ক্ষেত্র হচ্ছে মানুষের মন।
📄 পরিস্থিতি অনুযায়ী ধৈর্যের বিভিন্ন নাম রয়েছে
* আপনার ধৈর্য যদি যৌনকামনা রোধ করে, তবে একে বলে পবিত্রতা। এর বিপরীত হচ্ছে অশ্লীলতা, ব্যভিচার ও লাম্পট্য।
* ধৈর্য যদি আপনাকে পেটের অবৈধ কামনা ও খাবারের জন্য তাড়াহুড়ো করা কিংবা বাজে খাবার গ্রহণ থেকে বিরত রাখে, তবে তার নাম 'অভিজাত নফস'। এর বিপরীত হলো লালসা, হীনতা ও নিকৃষ্টতা।
* 'প্রকাশ করা ঠিক নয়' এমন কিছু প্রকাশ না করে চুপ থাকতে উদ্বুদ্ধ করে, তবে এটাকে বলে গোপনীয়তা। এর বিপরীত হলো জনসম্মুখে প্রচার করা, গোপনীয়তা প্রকাশ করে দেওয়া, মিথ্যা অপবাদ, কদর্যতা, গালিগালাজ, মিথ্যা ও দুর্নামকরণ。
* যদি জীবনযাপনে অতিরিক্ত খরচ না করে ধৈর্য ধরা হয়, তবে একে আত্মসংযম বলা হয়। লোভ হচ্ছে এর বিপরীত।
* যদি দুনিয়ায় অল্পে তুষ্ট হন, তাহলে একে বলা হবে অল্পেতুষ্টি। এর বিপরীতও লোভ।
* ধৈর্য যদি আপনার রাগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়, তবে একে বলে সহিষ্ণুতা। হঠকারিতা এবং ত্বরিত প্রতিক্রিয়াশীলতা এর বিপরীত।
* আপনার ধৈর্য যদি আপনাকে ত্বরাপ্রবণতা থেকে বিরত রাখে, তবে একে বলে গাম্ভীর্য, স্থিরতা। এর বিপরীত হচ্ছে ত্বরাপ্রবণতা ও চপলতা।
* ধৈর্য যদি আপনাকে পালিয়ে যাওয়ার ও ছিটকে পড়ার কাপুরুষোচিত স্বভাব থেকে বিরত রাখে, তবে একে বলে সাহসিকতা। যার বিপরীত হচ্ছে কাপুরুষতা ও মাথানত করা।
* ধৈর্য যদি আপনাকে প্রতিশোধ প্রবণতা থেকে রক্ষা করে; তবে এটাকে বলা হয় ক্ষমাশীলতা ও সহনশীলতা। যার বিপরীত হচ্ছে প্রতিশোধ ও শাস্তিদান।
* যদি ধৈর্য আপনাকে কৃপণ হওয়া থেকে বাধা দেয়, তবে তা বদান্যতা। এর বিপরীত হচ্ছে কৃপণতা।
* ধৈর্য যদি আপনাকে নির্ধারিত সময়ে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ হতে বিরত রাখে তবে এর নাম সাওম।
* যদি ধৈর্য আপনাকে অলসতা এবং অক্ষমতা থেকে দূরে রাখে, তবে একে বলে বিচক্ষণতা।
* আর আপনার ধৈর্য যদি লোকদের দোষারোপ করা থেকে আপনাকে বাঁচিয়ে রাখে, তবে একে বলে পৌরুষ।
পরিস্থিতির ভিন্নতার কারণে এর (ধৈর্যের) নাম যা-ই হোক না কেন, এর মৌলিক বৈশিষ্ট্য এক। এটা প্রমাণ করে, আমাদের ইসলামি জীবনের পূর্ণতা ধৈর্যের ওপর নির্ভরশীল।
📄 ধৈর্যের গুণ কি অর্জন করা যায়?
যদি একজন লোকের মাঝে প্রাকৃতিকভাবেই ধৈর্য না থেকে থাকে, তাহলে সে যদি ধৈর্যশীলতার ভান ধরে এবং এভাবে ভান ধরে চলতে থাকে, তাহলে পরিণামে একসময় এটা প্রায় তার স্বভাবে পরিণত হবে। নবিজি-এর একটি হাদীসে আমরা এ কথার প্রমাণ পাই:
وَمَنْ يَتَصَبَّرُ يُصَبِّرْهُ اللَّهُ
"যে (নিজে) ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহ তাকে ধৈর্য দান করেন”[১৯]
সুতরাং একজন ব্যক্তি তার যৌনাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে এবং দৃষ্টি অবনত রাখতে প্রচেষ্টা চালাতে পারে, যতক্ষণ-না এটা তার স্বভাবে পরিণত হয়ে যায়। একইভাবে এই নীতি স্থিরতা, বদান্যতা ও সাহসের মতো অন্যান্য আকাঙ্ক্ষিত সদ্গুণ অর্জনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
টিকাঃ
১৯. আল মুসনাদ, আহমাদ: ১১৮৯০; আস সহীহ, বুখারি: ১৪৬৯; আস সুনান, আবু দাউদ: ১৬৪৪