📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 যাকাত উত্তোলণকারীর করণীয়

📄 যাকাত উত্তোলণকারীর করণীয়


যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করা যাবে না: যাকাত আদায় করতে গিয়ে কোন উপহার গ্রহণ করা, জোর-যুলুম করে আদায় করা, খেয়ানত করা ইত্যাদি হারাম। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন উবাদা (রাঃ)-কে সাদাকা আদায় করার জন্য প্রেরণ করলেন, তখন বললেন, হে আবু অলীদ! তুমি আল্লাহকে ভয় করো। তুমি যেন কিয়ামতের দিন (নিজ ঘাড়ে) কোন 'চিহি' রববিশিষ্ট উট, অথবা 'হাম্বা' রববিশিষ্ট গাভী অথবা 'মে-মে' রববিশিষ্ট ছাগল বহন করা অবস্থায় উপস্থিত না হও। উবাদা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ব্যাপারটি কি সত্যই এরূপ? তিনি বললেন, হ্যাঁ- এরূপ। সেই সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্যের সাথে প্রেরণ করেছেন, আমি আপনার (বাইতুল মালের) কোন ব্যাপারে কখনো চাকুরী করব না।
আবু হুমাইদ সায়েদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আযদ অঞ্চল এর ইবনে লুতবিয়া নামক এক ব্যক্তিকে যাকাত আদায় করার কাজে কর্মচারী নিয়োগ করলেন। সে ব্যক্তি (আদায়কৃত মাল সহ) ফিরে এসে বলল, এটা আপনাদের (বায়তুল মালের), আর এটা আমাকে উপহারস্বরূপ দেয়া হয়েছে। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ ﷺ উঠে দণ্ডায়মান হয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি বর্ণনা করে বললেন, অতঃপর বলি যে, আল্লাহ আমাকে যে সকল কর্মের অধিকারী করেছেন তার মধ্য হতে কোন কর্মের জন্য তোমাদের কাউকে কর্মচারী নিয়োগ করলে সে ফিরে এসে বলে কি না, এটা আপনাদের। আর এটা উপহার স্বরূপ আমাকে দেয়া হয়েছে! যদি সে সত্যবাদী হয় তবে তার বাপ-মায়ের ঘরে বসে থেকে দেখে না কেন, তাকে কোন উপহার দেয়া হচ্ছে কি না? আল্লাহর কসম! তোমাদের মধ্যে যে কেউ কোন জিনিস অন্যায়ভাবে গ্রহণ করবে সে কিয়ামতের দিন তা তার নিজ ঘাড়ে বহন করা অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে। অতএব আমি যেন অবশ্যই চিনতে না পারি যে, তোমাদের মধ্য হতে কেউ নিজ ঘাড়ে 'চিহি' রববিশিষ্ট উট, অথবা 'হাম্বা' রববিশিষ্ট গাভী অথবা 'মে-মে' রব বিশিষ্ট ছাগল বহন করা অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করেছ।
আবু হুমাইদ (রাঃ) বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর ডানহাত এতটুকু উঁচু করলেন যে, তাঁর বগলের শুভ্রতা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল। তিনি বললেন, “হে আল্লাহ! আমি কি তোমার বাণী পৌঁছে দিয়েছি।” বর্ণনাকারী বলেন, আমার চোখ তাঁকে এ কথা বলতে দেখেছে এবং আমার কান তা শুনেছে।

টিকাঃ
২৫৯. সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৮০; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৭৯১৩; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৮৫৭।
২৬০. সহীহ বুখারী, হা/৬৯৭৯; সহীহ মুসলিম, হা/৪৮৪৫。

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 যাকাতের মাল আত্মসাৎকারীর পরিণাম

📄 যাকাতের মাল আত্মসাৎকারীর পরিণাম


যাকাত হচ্ছে একটি জনকল্যাণমূলক ইবাদাত। এতে গরীব, দুঃখী, ফকীর, মিসকীন অনেকেরই হক রয়েছে। সুতরাং এর থেকে কোন অংশ আত্মসাৎ করলে অনেকের হক আত্মসাৎ করা হয়। ফলে এর গোনাহের পরিমাণ স্বাভাবিক থেকে অনেক বেশি এবং কিয়ামতের দিন এদের পরিণতিও অনেক ভয়াবহ। কেননা হাদীসে এসেছে,
উবাদা ইবনে সামেত (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে যাকাত আদায় করার জন্য প্রেরণ করলেন। অতঃপর বললেন, হে আবুল ওয়ালীদ! (যাকাতের সম্পদের ব্যাপারে) আল্লাহকে ভয় করো। কিয়ামতের দিন এমন অবস্থা যেন না আসে যে, তুমি কাঁধের উপর উট বহন করবে, যা শব্দ করতে থাকবে অথবা গাভী বহন করবে, যা শব্দ করবে অথবা ছাগল বহন করবে, যা শব্দ করবে। উবাদা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যাকাতের মাল আত্মসাৎ করার জন্য কি এরূপ হবে? তিনি বললেন, সেই সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, এটাই হবে পরিণতি। তখন উবাদা (রাঃ) বললেন, সেই সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য সহ প্রেরণ করেছেন। আমি এরূপ যাকাত আদায়ের কাজ কখনো করব না।

টিকাঃ
২৬১. সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৮০; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৭৯১৩; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৮৫৭。

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 যাকাত আদায়ের দায়িত্ব কার

📄 যাকাত আদায়ের দায়িত্ব কার


ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সরকারের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো, যাকাত ভিত্তিক অর্থব্যবস্থা চালু করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'আমি এদেরকে পৃথিবীতে কর্তৃত্ব দান করলে এরা সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায়ের ব্যবস্থা করবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে; (জেনে রেখো) সকল কর্মের পরিণাম আল্লাহর ইখতিয়ারে (ইচ্ছাধীন)।' (সূরা হজ্জ-৪১)
অতএব যাকাত আদায় করা এবং তার সুষম বণ্টন করার মূল দায়িত্ব সরকারকেই গ্রহণ করতে হবে। সরকার এ উদ্দেশ্যে কর্মচারী নিয়োগ করে ধনীদের কাছ থেকে যাকাত আদায় করবে এবং নির্দিষ্ট খাতসমূহে বণ্টন করে দেবে।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 যাকাতদাতার করণীয়

📄 যাকাতদাতার করণীয়


ইখলাস বজায় রাখা : যে কোন আমল কবুল হওয়ার জন্য পূর্বশর্ত হচ্ছে, তার মধ্যে যথাযথ পরিমাণ ইখলাস বজায় থাকা। সুতরাং যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণভাবে ইখলাস থাকা বাধ্যতামূলক। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'এ থেকে (জাহান্নাম থেকে) দূরে রাখা হবে আল্লাহভীরু ব্যক্তিদেরকে, যে আত্মশুদ্ধির জন্য তার ধনসম্পদ হতে দান করে। অতঃপর তার উপর মহান পালনকর্তার সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কোন প্রতিদানযোগ্য অনুগ্রহ থাকে না।' (সূরা লায়ল: ১৭-২০)
আর হাদীসে এসেছে, উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, নিশ্চয় সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। অতএব, যাকাত আদায়কারীকেও অবশ্যই ইখলাসের দিকে মনোযোগী হতে হবে, যাতে কোনভাবে এতে ঘাটতি না থাকে। নতুবা এটি লোক দেখানো আমল হিসেবে পরিগণিত হয়ে বড় ধরনের পাপের ভাগিদার হতে হবে।

প্রকাশ্যে যাকাত দিতে গিয়ে অহংকারী না হওয়া:
শরীয়তের একটি মূলনীতি হচ্ছে ফরয ইবাদাতসমূহ প্রকাশ্যে এবং নফল ইবাদাতসমূহ গোপনে করাই উত্তম। যেহেতু যাকাত ফরয ইবাদাতের অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং যাকাত প্রকাশ্যে আদায় করাই উত্তম। তবে যদি রিয়ার (লোক দেখানোর) ভয় থাকে, তাহলে গোপনে আদায় করাই উত্তম। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান কর, তবে তা উত্তম। আর যদি গোপনে গরীবদেরকে দান কর, তবে তা তোমাদের জন্য আরো ভালো। আল্লাহ তোমাদের গোনাহ ক্ষমা করেন এবং তোমাদের কর্ম সম্পর্কে খবর রাখেন।' (সূরা বাকারা- ২৭১)
অতএব যদি কোন ধরনের গোনাহের ভয় অথবা বিপদের আশংকা না থাকে, তাহলে প্রকাশ্যে যাকাত আদায় করবে এবং অন্যান্য নফল সাদাকা প্রদানের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা অবলম্বন করবে। কিন্তু এরপরও যদি তা প্রকাশ পেয়ে যায় এবং এজন্য সে দুনিয়ায় কোন পৃথক সম্মান লাভ করে থাকে, তাহলে এ ক্ষেত্রে উক্ত সম্মানটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত বলে মনে করবে এবং এ জন্য আরো অধিক হারে শুকরিয়া আদায় করবে।

যাকাত দিয়ে খোঁটা দেয়া যাবে না:
কাউকে কোন কিছু দান করার পর খোঁটা দেয়াটা একটি মারাত্মক অন্যায়। যে ব্যক্তি এরূপ করে তার উক্ত দান সম্পূর্ণভাবে বরবাদ হয়ে যায়। এ কারণে আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'হে ঈমানদারগণ! খোঁটা এবং কষ্ট দিয়ে তোমরা তোমাদের দানকে বরবাদ করে দিও না।' (সূরা বাকারা- ২৬৪)
উপরন্তু যারা এসব কাজ করবে, আল্লাহ তা'আলা তাদের উপর খুবই রাগান্বিত হন। হাদীসে এসেছে, আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেন, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তিন শ্রেণির লোকের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পবিত্রও করবেন না; বরং তাদের জন্য রয়েছে ভয়ানক শাস্তি। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এ কথাটি তিনবার পাঠ করলেন। আবু যর (রাঃ) বলে উঠলেন, তারা তো ধ্বংস হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হে আল্লাহর রসূল! এরা কারা? তিনি বললেন, (১) যে ব্যক্তি পায়ের গোছার নিচে কাপড় ঝুলিয়ে চলে, (২) যে ব্যক্তি কোন কিছু দান করে খোঁটা দেয় এবং (৩) যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথের মাধ্যমে পণ্যদ্রব্য বিক্রি করে।
অতএব, যাকাতদাতাকে অবশ্যই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে যে, তার মুখ দিয়ে যেন এমন কোন কথা বের না হয়, যা যাকাত গ্রহণকারীর জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

নিজের প্রদানকৃত যাকাতের মাল পুনরায় ক্রয় করা যাবে না :
যাকাত আদায় করার পর উক্ত মাল পুনরায় ক্রয় করে নেয়া বৈধ নয়। হাদীসে এসেছে, উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আল্লাহর রাস্তায় একটি ঘোড়া দান করেছিলাম, কিন্তু যার নিকট ঘোড়াটি ছিল, সে সেটিকে অকর্মণ্য করে দিয়েছিল। আমি তা ক্রয় করতে সংকল্প করলাম। আমি ধারণা করলাম, সে তা কম মূল্যে বিক্রি করবে। তাই আমি নবী ﷺ-কে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, তুমি ওটা ক্রয় করো না। তুমি যা সাদাকা করেছ তা পুনরায় গ্রহণ করো না- যদিও সে এক দিরহামের বিনিময়ে তোমাকে তা দেয়। কেননা সাদাকার মাল পুনরায় গ্রহণকারী বমি ভক্ষণকারীর মতো।

পবিত্র এবং উত্তম জিনিসের মাধ্যমে যাকাত আদায় করা:
যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে উত্তম জিনিস দ্বারাই যাকাত প্রদান করা উচিত। কেননা উত্তম জিনিস দান করা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'তোমরা কখনো যথার্থ নেকী অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমাদের প্রিয় জিনিস আল্লাহর পথে খরচ কর। আর তোমরা যা কিছুই দান কর আল্লাহ তা জানেন।' (সূরা আলে ইমরান- ৯২)
এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর আবু তালহা (রাঃ) তার সবচেয়ে প্রিয় বাগানটি আল্লাহর রাস্তায় দান করে দেন। হাদীসে এসেছে, আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু তালহা (রাঃ) ছিলেন মদিনায় আনসারদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তার নিকট সবচেয়ে প্রিয় জিনিস ছিল 'বীরুহা' নামক একটি বাগান। বাগানটি মসজিদের সামনেই ছিল। রাসূলুল্লাহ ﷺ মাঝে মাঝে সেখানে যেতেন এবং তার পানি পান করতেন। যখন এই আয়াত নাযিল হলো, তোমরা কখনো কল্যাণ অর্জন করতে পারবে না যতক্ষণ না ব্যয় করবে তা থেকে যা তোমরা ভালোবাস। তখন আবু তালহা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা'আলা তাঁর কিতাবে বলেছেন, তোমরা কখনো সওয়াব অর্জন করতে পারবে না যতক্ষণ না ব্যয় করবে তা থেকে, যা তোমরা ভালোবাস। আমার নিকটে সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ হলো এই 'বীরুহা' নামক বাগানটি। আমি এখন এটা আল্লাহর রাস্তায় সাদাকা করে দিলাম। আমি আল্লাহর কাছে এর উত্তম বিনিময় চাই। আপনি এটা যেখানে ইচ্ছা খরচ করুন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, ওহ! এটাতো খুবই উত্তম সম্পদ! এটা তো খুবই উত্তম সম্পদ। এর ব্যাপারে তুমি যা বলেছ আমি শুনেছি। আমি চাই এটা তুমি তোমার আত্মীয়স্বজনের মাঝে বণ্টন করে দাও। আবু তালহা বললেন, আল্লাহর রাসূল! আমি এমনটাই করব। এরপর আবু তালহা (রাঃ) বাগানটি তার আত্মীয়স্বজন এবং তার চাচাতো ভাইয়ের মাঝে বণ্টন করে দিলেন।

যাকাতের নির্দিষ্ট অংশের চেয়ে বেশি দান করা যাবে :
যাকাত আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট অংশ পাওয়া না গেলে, তা হতে বেশি পরিমাণ পাওয়া গেলে তাই আদায় করবে। এতে অতিরিক্ত দান করার কারণে অতিরিক্ত নেকী অর্জিত হবে। হাদীসে এসেছে, উবাই ইবনে কা'ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ আমাকে যাকাত আদায় করার জন্য প্রেরণ করলেন। আমি এক ব্যক্তির নিকট পৌছলাম, সে আমার সামনে তার সম্পদ উপস্থিত করল। তার যে সম্পদ ছিল তাতে তার উপর একটি এক বছর বয়সের উট যাকাত ফরয ছিল। আমি বললাম, এক বছর বয়সের একটি উষ্ট্রী দিয়ে দাও। সে বলল, সে তো দুধও দেবে না এবং তার পিঠে আরোহণও করা যাবে না। কাজেই আমার এই যৌবনে পদার্পণকারী মোটা তাজা উষ্ট্রীটিই গ্রহণ করুন। তখন আমি বললাম, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অনুমতি ছাড়া এটি গ্রহণ করতে পারব না। তবে রাসূলুল্লাহ ﷺ তোমার থেকে নিকটবর্তী স্থানে অবস্থান করছেন। তুমি যদি চাও তাহলে তুমি তোমার যে উষ্ট্রীটি আমার নিকট পেশ করেছিলে তা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট পেশ করতে পার। যদি তিনি তা গ্রহণ করেন, তাহলে আমিও তা গ্রহণ করব। আর যদি তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলে আমিও তা প্রত্যাখ্যান করব। সে বলল, আমি তা (রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট) পেশ করব। অতঃপর যে উষ্ট্রীটি সে আমার নিকট পেশ করেছিল সেটি নিয়ে আমার সাথে রওনা দিল। এমনকি আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট পৌঁছে গেলাম। তখন সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিয়োজিত যাকাত আদায়কারী আমার কাছে যাকাত আদায়ের উদ্দেশ্যে এসেছিল। আর আল্লাহর শপথ! ইতিপূর্বে আপনার পক্ষ থেকে কেউ আমার নিকট যাকাত আদায়ের জন্য আসেনি। আমি তার সামনে আমার সম্পদ পেশ করলাম। তখন সে বলল, আমার উপর একটি এক বছরের উষ্ট্রী যাকাত ফরয। অথচ সেটি দুধও দেবে না এবং তার পিঠে আরোহণও করা যাবে না। ফলে আমি তার নিকট যৌবনে পদার্পণকারী মোটা তাজা উষ্ট্রী গ্রহণ করার জন্য পেশ করলাম। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেন। আর এই হচ্ছে সেই উষ্ট্রী, যা আমি আপনার নিকট নিয়ে এসেছি, আপনি তা গ্রহণ করুন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তোমার উপর ফরয ছিল তাই যা সে বলেছে। কিন্তু যদি তুমি নিজের খুশিতে ভালো কাজ করতে চাও, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তোমাকে উত্তম প্রতিদান দেবেন। আর আমরাও তা গ্রহণ করব। সে বলল, এই হচ্ছে সেই উষ্ট্রী যা আপনার নিকট নিয়ে এসেছি। অতএব আপনি তা গ্রহণ করুন। । অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ তা গ্রহণ করার নির্দেশ দিলেন এবং তার সম্পদের বরকতের জন্য দু'আ করলেন।

টিকাঃ
২৬২. সহীহ বুখারী, হা/১; আবু দাউদ, হা/২২০৩; ইবনে মাজাহ, হা/৪২২৭; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৮৮; বায়হাকী, হা/১৮১; জামেউস সগীর, হা/৪০৭৪; মিশকাত, হা/১।
২৬৩. সহীহ মুসলিম, হা/৩০৬; আবু দাউদ, হা/৪০৮৯; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৪৯০৭; সুনানে দারেমী, হা/২৬০৫।
২৬৪. সহীহ বুখারী, হা/১৪৯০; সহীহ মুসলিম, হা/৪২৫০; নাসাঈ, হা/২৬১৫; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২৬১১; মিশকাত, হা/১৯৫৪।
২৬৫. সহীহ বুখারী, হা/২৩১৮, সহীহ মুসলিম, হা/২৩৬২; মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হা/১৮০৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৪৬১; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৩৪০; বায়হাকী, হা/১১৭০০; সুনানে দারেমী, হা/১৬৫৫; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৬৮৩; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৮৭৫।
২৬৬. আবু দাউদ, হা/১৫৮৫; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২২৭৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00