📄 যাদেরকে যাকাত দেয়া যাবে না
এমন কিছু খাত রয়েছে, যাতে যাকাত প্রদানের ৮টি খাতের মধ্যে একটিতে পড়া সত্ত্বেও তাদেরকে যাকাত দেয়া যাবে না। যেমন-
১। নবীর বংশধর: রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বংশধর, বনী হাশেম, আলী, আকীল, জাফর, আব্বাস ও হারেসের বংশধরের জন্য যাকাতের মাল বৈধ নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, 'আমাদের জন্য সাদাকা হালাল করা হয়নি।'
২। যার ভরণ-পোষণ করা ফরয : যার ভরণ-পোষণ করা ফরয তাকে যাকাতের মাল দেয়া বৈধ নয়। যেমন- পিতা-মাতা, ছেলে-মেয়ে, দাদা-দাদী, নানা-নানী, নাতি-নাতনী, স্ত্রী প্রভৃতি। এজন্যই এক হাদীসে এসেছে,
আমর ইবনে শুয়াইব (রাঃ) তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, একদা এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সম্পদ ও সন্তান রয়েছে। আমার পিতা আমার সম্পদের মুখাপেক্ষী। তিনি বললেন, তুমি এবং তোমার সম্পদ তোমার পিতার জন্য। তোমাদের সন্তানরা তোমাদের উত্তম উপার্জন। সুতরাং তোমরা তোমাদের সন্তানদের উপার্জন থেকে ভক্ষণ কর।
৩। উপার্জন করতে সক্ষম ব্যক্তি : যে ব্যক্তি উপার্জন করতে সক্ষম এবং সে হাতের কাজ কিংবা দৈনিক অথবা মাসিক বেতনের মাধ্যমে রুজীপ্রাপ্ত হয়, এরূপ ব্যক্তিকে যাকাতের মাল প্রদান করা বৈধ নয়। কেননা হাদীসে এসেছে,
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেন, সম্পদশালী ও সুস্থ-সবল ব্যক্তির জন্য যাকাত গ্রহণ করা বৈধ নয়।
অপর হাদীসে এসেছে,
উবায়দুল্লাহ ইবনে আদী ইবনে খিয়ার (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুই ব্যক্তি আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা বিদায় হজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট আসলেন। তখন তিনি সাদাকা (যাকাত) বণ্টন করছিলেন। তারা উভয়ে তাঁর নিকট (যাকাত) থেকে কিছু চাইলেন। তিনি আমাদের দিকে চোখ তুলে তাকালেন এবং নিচু করলেন। তিনি দেখলেন যে, আমরা দু'জনই স্বাস্থ্যবান। ফলে তিনি বললেন, যদি তোমরা চাও আমি তোমাদেরকে দেব। তবে তাতে বিত্তশালীর এবং কোন শক্তিশালী ও কর্মক্ষম ব্যক্তির অংশ নেই।
৪। কাফির, মুনাফিক ও মুশরিক (মতান্তরে বেনামাযী) : যাকাতের মাল কেবল মুসলিমদেরই প্রাপ্ত অধিকার। সুতরাং কোন অমুসলিম ব্যক্তিকে এ সম্পদ থেকে কোন অংশ দেয়া যাবে না। রাসূলুল্লাহ ﷺ মু'আয ইবনে জাবাল (রাঃ)-কে ইয়ামানের শাসক হিসেবে নিয়োগ দানকালে উপদেশ দানের হাদীসে এসেছে, 'আল্লাহ তা'আলা তাদের উপর যাকাত ফরয করেছেন, যা তাদের ধনীদের নিকট থেকে সংগৃহীত হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হবে।'
তবে কোন কাফিরকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে যাকাতের সম্পদ থেকে যদি কোন অংশ দেয়া হয়, তাহলে তা বৈধ হবে। আবার তাদেরকে মানবিকতার খাতিরে নফল দান প্রদান করা যাবে।
৫। বিদআতী, ফাসিক অথবা অন্যায় কাজে অর্থ ব্যয়কারী : এ ধরনের ব্যক্তি দুই প্রকার হতে পারে। যেমন-
ক) চরম বিদআতী : যারা এমন বিদআতে লিপ্ত, যা মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। এই প্রকার বিদআতীদেরকে সর্বসম্মতিক্রমে যাকাত প্রদান করা বৈধ নয়। কেননা তারা এই বিদআতের মাধ্যমে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে।
খ) সাধারণ বিদআতী ও পাপাচারে লিপ্ত ব্যক্তি : যারা আকীদাগত বা আমলগত এমন কোন বিদআতে লিপ্ত নেই, যার দ্বারা ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। অথবা এমন কোন সাধারণ মুসলিম, যাদের আকীদাগত কোন সমস্যা নেই, তবে আমলগত ত্রুটি আছে। এ প্রকার লোকদের ব্যাপারে যদি ধারণা করা হয় যে, তারা যাকাতের অর্থ নিজেদের বিদআত অথবা পাপকাজে ব্যয় করবে, তাহলে তাদেরকে বিশুদ্ধ মতানুযায়ী যাকাত দেয়া বৈধ নয়। অতএব মুসলিমদের উচিত তাদের যাকাতকে যাচাইবাছাই করে গরীব, অভাবগ্রস্ত, ঋণগ্রস্তদের ও অন্যান্য হকদারদের মধ্য থেকে যারা শরীয়তের বিধান সঠিকভাবে মেনে চলে তাদেরকে প্রদান করা।
টিকাঃ
২৫১. সহীহ মুসলিম, হা/২৫২৩; আবু দাউদ, হা/১৬৫২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৭২২৬; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২৩৪৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩২৯৩; মুসনাদুল বাযযার, হা/১৩৩৬; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৯২৭; বায়হাকী, হা/২৬৮৮; সুনানে দারেমী, হা/১৫৯১; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/১০৮০৭; জামেউস সগীর, হা/৪০৪৪।
২৫২. আবু দাউদ, হা/৩৫৩২; ইবনে মাজাহ, হা/২২৯১; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/১৬১৬৭।
২৫৩. আবু দাউদ, হা/১৬৩৬; তিরমিযী, হা/৬৫২; নাসাঈ, হা/২৫৯৭; ইবনে মাজাহ, হা/১৮৩৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/৬৫৩০; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২৩৮7; মিশকাত, হা/১৮৩০।
২৫৪. আবু দাউদ, হা/১৬৩৫; নাসাঈ, হা/২৫৯৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩১১৩; মিশকাত, হা/১৮৩২।
২৫৫. সহীহ বুখারী, হা/১৪৯৬; সহীহ মুসলিম, হা/১৩০; আবু দাউদ, হা/১৫৮৬; তিরমিযী, হা/৬২৫; নাসাঈ, হা/২৫২২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৭১; সুনানে দার কুতনী, হা/২০৫৮; মিশকাত, হা/১৭৭২।
📄 স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে যাকাত দেয়ার বিধান
স্ত্রীর যাবতীয় ভরণ-পোষণের দায়িত্ব হচ্ছে স্বামীর। সুতরাং স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে দান করা কোনভাবেই বৈধ নয়। তবে স্ত্রী যদি যাকাতের নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় এবং স্বামী যদি নিঃস্ব হয়, তাহলে স্ত্রী তার স্বামীকে যাকাতের মাল প্রদান করতে পারবে। যেমন- হাদীসে এসেছে,
আবদুল্লাহ (ইবনে মাস'উদ) এর স্ত্রী যায়নাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার মসজিদে নববীতে ছিলাম। তখন নবী ﷺ-কে দেখলাম যে, তিনি (মহিলাদেরকে লক্ষ্য করে) বললেন, তোমরা তোমাদের গহনা থেকে হলেও দান করো। আর যায়নাব (তার স্বামী) আবদুল্লাহ এবং যেসব ইয়াতীম তার পোষ্য ছিল তাদের জন্য খরচ করতেন (অর্থাৎ- তাদের ভরণ-পোষণ করতেন)। তিনি (যায়নাব) আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ)-কে বললেন, আপনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে প্রশ্ন করুন, আমি যে আপনার এবং যে ইয়াতীমরা আমার পোষ্য আছে তাদের জন্য খরচ করছি তা কি দান হিসেবে আমার পক্ষে যথেষ্ট হবে? তিনি (আবদুল্লাহ) বলেন, তুমি নিজে গিয়েই রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে প্রশ্ন করো। তখন আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে উপস্থিত হলাম এবং দরজার কাছে জনৈকা আনসারী রমণীকে দেখতে পেলাম। তার প্রয়োজনটাও ছিল আমার প্রয়োজনের মতো। তখন বিলাল (রাঃ) আমাদের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমরা তাকে বললাম, আপনি নবী ﷺ-কে প্রশ্ন করুন, আমি যে আমার স্বামী ও যে ইয়াতীমরা আমার তত্ত্বাবধানে আছে তাদের জন্য সাদাকা (ব্যয়) করছি তা কি (দান হিসেবে) আমার পক্ষে যথেষ্ট হবে? আমরা (তাকে) আরো বললাম, নবী ﷺ এর কাছে আমাদের নাম বলবেন না। বিলাল (রাঃ) নবী ﷺ এর কাছে উপস্থিত হলেন এবং তাঁকে প্রশ্ন করলেন। তিনি বললেন, ঐ নারী দু'জন কে কে? বিলাল (রাঃ) বললেন, যাইনাব। তিনি (পুনরায়) প্রশ্ন করলেন, কোন্ যাইনাব? বিলাল (রাঃ) বললেন, আবদুল্লাহর (ইবনে মাস'উদ) স্ত্রী। তিনি বললেন, হ্যাঁ- তার দ্বিগুণ পুণ্য হবে- আত্মীয়তার (হক আদায় করার) নেকী এবং দানের নেকী।
টিকাঃ
২৫৬. সহীহ বুখারী, হা/১৪৬২; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৭৪৪; মা'রেফাতুস সুনান ওয়াল আছার, হা/৫৬০; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৯।
📄 যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে যাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত
যাকাত বণ্টনের ক্ষেত্রে যেসব খাত রয়েছে, সে অনুযায়ী আত্মীয়-অনাত্মীয়, নিকটবর্তী-দূরবর্তী অনেক মানুষই এর আওতাভুক্ত হয়। কিন্তু কারো জন্য সবার মাঝে যাকাত বিতরণ করা জরুরি নয়। সুতরাং এ ক্ষেত্রে যাদেরকে যাকাত প্রদান করলে অধিক উপকার লাভ করা যায়, তাদেরকে প্রাধান্য দেয়া উচিত। যেমন-
১। আত্মীয়-স্বজন:
যেসব আত্মীয়-স্বজনের ভরণ-পোষণ করা যাকাতদাতার জন্য ফরয নয়, সেসব আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে কেউ যদি যাকাতের হকদার হয়, তাহলে তাকে যাকাত দেয়াই সবচেয়ে উত্তম। যেমন- ভাই-বোন, চাচা-চাচী, মামা-মামী, ফুফা-ফুফু, খালা-খালু ইত্যাদি। কেননা এতে দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়া যায়। যেমন- হাদীসে এসেছে,
সালমান ইবনে আমের আয-যাবী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, মিসকীনকে সাদাকা দেয়া হলে শুধুমাত্র সাদাকার সওয়াব পাওয়া যাবে। আর আত্মীয়-স্বজনদের সাদাকা প্রদান করলে দুইটি সওয়াব পাওয়া যাবে- তার মধ্যে একটি হলো সাদাকার সওয়াব; আর অপরটি হলো আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার সওয়াব।
২। আহলুল ইলম :
আহলুল ইলম বলতে ঐসব লোকদেরকে বুঝানো হয়, যারা সর্বদা দ্বীনি জ্ঞান চর্চায় ব্যস্ত থাকে। যার কারণে তারা উপার্জন করার মতো যথেষ্ট সময় ও সুযোগ পান না। আল্লাহ তা'আলা তাদের সম্পর্কে বলেন, '(দান করতে হবে) ঐ সকল গরীবদের জন্য, যারা আল্লাহর পথে অবরুদ্ধ থাকার কারণে (রোজগারের জন্য) জমিনে বিচরণ করতে সক্ষম হয় না। ভিক্ষা করা থেকে দূরে থাকার কারণে মূর্য্য লোকেরা তাদেরকে ধনী বলে মনে করে। তুমি লক্ষণ দ্বারা তাদেরকে চিনতে পারবে। তারা কাকুতি-মিনতি করে মানুষের কাছে চায় না। আর তোমরা উত্তম সম্পদ হতে যা কিছু দান কর, নিশ্চয় আল্লাহ সে সম্পর্কে খবর রাখেন।' (সূরা বাকারা- ২৭৩)
অত্র আয়াতে যেসব লোকের কথা বলা হয়েছে, তারা হচ্ছে এমন লোক যারা আল্লাহর দ্বীনের খেদমতে নিজেদেরকে উৎসর্গ করে দেয়। তাদের সমস্ত সময় এ দ্বীনী খেদমতে ব্যয় করার কারণে নিজেদের ক্ষুধা নিবারণের জন্য কোন কাজকর্ম করার সুযোগ পায় না। নবী ﷺ এর যুগে এ ধরনের একটি দল ছিল। ইতিহাসে তারা 'আসহাবে সুফফা' নামে পরিচিত। যেহেতু তারা ছিলেন সার্বক্ষণিক কর্মী এবং নিজেদের প্রয়োজন পূর্ণ করার মতো উপকরণও তাদের ছিল না, তাই তাদের সাহায্য করাকে আল্লাহর পথে ব্যয়ের সর্বোত্তম খাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অতএব বর্তমান যুগেও যারা দুনিয়ার কোন স্বার্থ ছাড়াই দ্বীনের জন্য কাজ করে যাবে এবং নিজের জীবিকার জন্য কাজ করার কোন সুযোগ না পাবে তাদের পেছনে খরচ করাও আল্লাহর পথে ব্যয়ের খাত হিসেবে বিবেচিত হবে। কেননা এদেরকে দান করলে একদিকে যেমন যাকাত আদায়ের হক আদায় হয়ে যাবে, অপরদিকে দ্বীনের কাজে সহযোগিতা করারও সওয়াব পাওয়া যাবে।
৩। মুত্তাকী ও পরহেজগার লোক:
যেসব লোক সর্বদা আল্লাহকে ভয় করে, তাঁর আনুগত্য করে এবং তাঁরই ইবাদাতে ব্যস্ত থাকে, সেসব লোক যদি যাকাতের হকদার হয়, তাহলে তারাই এর জন্য বেশি হকদার।
টিকাঃ
২৫৭. ইবনে মাজাহ হা/১৮৪৪; তিরমিযী হা/৬৫৮, নাসাঈ, হা/২৫৮২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬২৭২; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২০৬৭; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৪৭৬; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৬০৮৭; বায়হাকী, হা/৭৫২৪; সুনানে দারেমী, হা/১৬৮০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/৮৪৯; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা/১৯৬২৭; জামেউস সগীর, হা/৭৩০৫; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৮৯২; মিশকাত, হা/১৯৩৯।
📄 সরকারি ফান্ডে যাকাত দেয়া
ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্বই হলো যাকাত আদায় করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'আমি এদেরকে (মুমিনদেরকে) পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা দান করি, যাতে করে তারা সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং সৎকাজের নির্দেশ দেয় ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে। আর সকল কর্মের পরিণাম তো আল্লাহর ইচ্ছাধীন।' (সূরা হাজ্জ-৪১)
অতএব, যাকাতের সম্পদ থেকে ব্যক্তিগতভাবে কিছু অংশ আদায় করার পর অবশিষ্ট যা কিছু থাকবে, সেগুলো সরকারি ফান্ডে জমা দেয়াই উত্তম। এতে করে সরকার নিজ দায়িত্বে যাকাতের মাল সুষ্ঠভাবে বণ্টন করে মুসলিম জনগণের অধিক কল্যাণ সাধন করবে।
তবে যেসব সরকার কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করে না, আল্লাহর আইন দিয়ে বিচার-ফায়সালা করে না; বরং তারা আল্লাহর ইবাদাতের পরিবর্তে জনগণের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী, সেসব সরকারের ফান্ডে যাকাতের সম্পদ জমা দেয়া যাবে না।
যাকাতের মাল মসজিদ ও গোরস্থানের কাজে ব্যবহার করা যাবে না :
যাকাতের টাকা দিয়ে মসজিদ ও গোরস্থান তৈরি করা বৈধ নয়। কেননা আল্লাহ তা'আলা যাকাত বণ্টনের জন্য যেসব খাত নির্ধারণ করে দিয়েছেন, মসজিদ ও গোরস্থান তার অন্তর্ভুক্ত নয়।