📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 শিশু, ইয়াতিম ও পাগলের মালে যাকাত

📄 শিশু, ইয়াতিম ও পাগলের মালে যাকাত


যাকাত ফরয হয় মালে। তাই তা ফরয হওয়ার জন্য মালিকের জ্ঞানসম্পন্ন ও সাবালক হওয়া শর্ত নয়। সুতরাং শিশু, ইয়াতীম ও পাগলের মালেও যাকাত আদায় করা ফরয। তাদের পক্ষ থেকে তাদের অভিভাবক হিসাব করে যাকাত আদায় করবে। এতে বাহ্যিক দৃষ্টিতে মাল কমতে থাকলেও বাস্তবে তাদের মালে বরকত বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া অভিভাবকের উচিত, তাদের মাল ব্যবসায় বিনিয়োগ করা। হাদীসে এসেছে,
উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা ইয়াতীমদের মাল দ্বারা ব্যবসা করো, যাতে সাদাকার মাল তা খেয়ে না ফেলে।
উক্ত হাদীসে ইয়াতীমদের মালসমূহ সংরক্ষণ করার অজুহাতে অযথা ফেলে না রেখে ব্যবসা করে বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে। যাতে করে এমনটি না হয় যে, উক্ত মালসমূহ থেকে সাদাকা তথা যাকাত দিতে দিতে শেষ হয়ে যায়।

টিকাঃ
২৪১. দার কুতনী, হা/১৯৭৩; বায়হাকী, হা/১০৭৬৪।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পর তা আদায়ের পূর্বে মালিক মৃত্যুবরণ করলে তার হুকুম

📄 যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পর তা আদায়ের পূর্বে মালিক মৃত্যুবরণ করলে তার হুকুম


যদি কারো উপর যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পর তা আদায় করার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করে, তাহলে পরিত্যক্ত সম্পত্তি ওয়ারিসদের মধ্যে বণ্টন হওয়ার পূর্বেই তা থেকে যাকাত আদায় করতে হবে। কেননা যাকাত হচ্ছে এক প্রকার ঋণ, যা পরিশোধ করা ওয়াজিব। হাদীসে এসেছে,
ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী ﷺ এর নিকট এসে বলল, আমার বোন হজ্জ করতে মানত করেছিলেন। কিন্তু তা আদায় করার পূর্বেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তোমার বোনের উপর কারো ঋণ থাকলে তুমি কি তা আদায় করতে না? সে বলল, হ্যাঁ (তা আদায় করতাম)। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তবে আল্লাহর ঋণ আদায় করো। কেননা এটা আদায়ের অধিক হকদার।
অত্র হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, মৃত ব্যক্তির ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করা ওয়াজিব। আর যাকাত আল্লাহর ঋণের অন্তর্ভুক্ত।

টিকাঃ
২৪২. সহীহ বুখারী, হা/৬৬৯৯; সহীহ মুসলিম, হা/২৭১০; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৩৬; মিশকাত, হা/২৬১২।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 যাকাত ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তা আদায়ের পূর্বেই বিক্রি করলে তার হুকুম কী হবে

📄 যাকাত ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তা আদায়ের পূর্বেই বিক্রি করলে তার হুকুম কী হবে


কোন ব্যক্তির উপর যাকাত ওয়াজিব হয়েছে। কিন্তু যাকাত আদায়ের পূর্বেই তা বিক্রি করে দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে উক্ত বিক্রয় বৈধ হবে কিনা- এ ব্যাপারে উলামায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে সহীহ মত হল, উক্ত বিক্রয় বৈধ। আর এক্ষেত্রে বিক্রেতার উপর উক্ত সম্পদের যাকাত আদায় করা ওয়াজিব। অর্থাৎ তাকে উক্ত বিক্রয়কৃত সম্পদের যাকাত আদায় করতে হবে。

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 যাকাত না দেয়ার জন্য কৌশল অবলম্বন করা বৈধ নয়

📄 যাকাত না দেয়ার জন্য কৌশল অবলম্বন করা বৈধ নয়


যাকাত আদায় না করার জন্য কৌশল অবলম্বন করার অর্থ হচ্ছে আল্লাহর নির্ধারিত যাকাত ব্যবস্থাকে মনে-প্রাণে মেনে না নেয়া। অথচ আল্লাহর বিধানকে মেনে নেয়াটাই হচ্ছে ঈমানের পরিচায়ক। তাছাড়া আল্লাহ তা'আলা বান্দাদের নিয়ত অনুযায়ীই তাদের ইবাদাত গ্রহণ করে থাকেন এবং তাদেরকে পুরস্কৃত করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, 'নিশ্চয় প্রত্যেক কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে।'
সুতরাং যাকাত আদায় না করার জন্য যে কোন ধরনের কৌশল অবলম্বন করা তথা যাকাত আদায়ের ভয়ে কিছু সম্পদ বিক্রি করে দেয়া অথবা কাউকে হাদিয়া দেয়া অথবা কারো কাছে বন্ধক রাখা, যাতে নিসাব পরিমাণ সম্পদ না হয়- ইত্যাদি কর্মকাণ্ড বৈধ নয়।

টিকাঃ
২৪৩. সহীহ বুখারী হা/১; আবু দাউদ, হা/২২০৩; ইবনে মাজাহ, হা/৪২২৭; মিশকাত, হা/১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00