📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 খামারে উৎপাদিত সম্পদের যাকাত

📄 খামারে উৎপাদিত সম্পদের যাকাত


বর্তমান যুগে বিভিন্ন ধরনের খামার গড়ে উঠেছে। যেমন- কৃষি খামার, নার্সারী, হাঁস-মুরগীর খামার, পশু-সম্পদ খামার, দুগ্ধ খামার, মৎস্য খামার, ইত্যাদি। এসব খামার বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হয় বলে ব্যবসায়িক সম্পদ হিসেবে এগুলোর উপর যাকাত প্রযোজ্য হবে। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে খামারে পালিত হাঁস-মুরগি, ডিম ও বাচ্চা ইত্যাদি ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে যাকাতের আওতাভুক্ত হবে।
ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে পশু প্রতিপালন করা হলে সেসকল পশুর বাছুর, দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত সামগ্রী, মাংস, চামড়া ইত্যাদি ব্যবসায়িক পণ্য বলে গণ্য হবে এবং তাতে যাকাত প্রযোজ্য হবে। তাছাড়া মজুদ পশুখাদ্য, ব্যবসার নগদ অর্থ ও অন্যান্য চলতি সম্পদের সাথে যোগ করে যাকাত নির্ধারণ করতে হবে।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 পাওনা টাকার যাকাত

📄 পাওনা টাকার যাকাত


পাওনা টাকা দু'রকম হতে পারে :
ক) আদায়যোগ্য পাওনা :
যে ঋণ ঋণগ্রহীতা কর্তৃক স্বীকৃত এবং ঋণগ্রহীতা তা পরিশোধ করতে সক্ষম অথবা যদি ঋণ পরিশোধে ঋণগ্রহীতা অস্বীকৃতি জানায়, কিন্তু তার প্রমাণ রয়েছে এবং আদালতে অভিযুক্ত হলে ঋণ পরিশোধে বাধ্য হবে, তাকে আদায়যোগ্য পাওনা বলে। এরূপ পাওনা মোট সম্পত্তির সাথে যোগ করে যাকাতের আওতাধীন সম্পত্তির পরিমাণ নির্ণয় করতে হবে।
খ) আদায়ের অযোগ্য পাওনা :
ঋণগ্রহীতা যদি দেউলিয়া হয়ে যায়, কিংবা ঋণ পরিশোধে অস্বীকৃতি জানায়, কিংবা ঋণের সমর্থনে কোন বৈধ প্রমাণ না থাকে কিংবা ঋণ স্বীকার করলেও ঋণ পরিশোধ করতে অহেতুক গড়িমসি করে তাহলে ঐ ঋণকে আদায়ের অযোগ্য পাওনা বলা হয়। এ ধরনের সন্দেহজনক পাওনা কার্যত আদায় না হওয়া পর্যন্ত যাকাতের আওতায় আসবে না। এ জাতীয় পাওনা আদায় হওয়ার পর মাত্র এক বছরের যাকাত আদায় করতে হবে, এটিই অধিকাংশ আলেমদের অভিমত।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির উপর যাকাত

📄 ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির উপর যাকাত


যদি কোন ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তাহলে প্রথমে তাকে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এরপর যদি দেখা যায় যে, তার অবশিষ্ট সম্পত্তি নিসাব পরিমাণ রয়েছে তাহলে তা থেকে যাকাত দিতে হবে। রমাযান মাস আসলে উসমান (রাঃ) বলতেন,
'এটি (রমাযান) যাকাতের মাস। অতএব যদি কারো উপর ঋণ থাকে, তাহলে সে যেন প্রথমে ঋণ পরিশোধ করে। এরপর অবশিষ্ট সম্পদ নিসাব পরিমাণ হলে তার যাকাত আদায় করবে।'

টিকাঃ
২৪০. মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হা/৮৭৩; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৭৮৫৬।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 শিশু, ইয়াতিম ও পাগলের মালে যাকাত

📄 শিশু, ইয়াতিম ও পাগলের মালে যাকাত


যাকাত ফরয হয় মালে। তাই তা ফরয হওয়ার জন্য মালিকের জ্ঞানসম্পন্ন ও সাবালক হওয়া শর্ত নয়। সুতরাং শিশু, ইয়াতীম ও পাগলের মালেও যাকাত আদায় করা ফরয। তাদের পক্ষ থেকে তাদের অভিভাবক হিসাব করে যাকাত আদায় করবে। এতে বাহ্যিক দৃষ্টিতে মাল কমতে থাকলেও বাস্তবে তাদের মালে বরকত বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া অভিভাবকের উচিত, তাদের মাল ব্যবসায় বিনিয়োগ করা। হাদীসে এসেছে,
উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা ইয়াতীমদের মাল দ্বারা ব্যবসা করো, যাতে সাদাকার মাল তা খেয়ে না ফেলে।
উক্ত হাদীসে ইয়াতীমদের মালসমূহ সংরক্ষণ করার অজুহাতে অযথা ফেলে না রেখে ব্যবসা করে বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে। যাতে করে এমনটি না হয় যে, উক্ত মালসমূহ থেকে সাদাকা তথা যাকাত দিতে দিতে শেষ হয়ে যায়।

টিকাঃ
২৪১. দার কুতনী, হা/১৯৭৩; বায়হাকী, হা/১০৭৬৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00