📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 খনিজ সম্পদের উপর যাকাত

📄 খনিজ সম্পদের উপর যাকাত


(ক) ভূ-গর্ভ বা সমুদ্রতল থেকে উত্তোলিত বিভিন্ন রকম খনিজ দ্রব্যকে খনিজ সম্পদ বলে। তরল পেট্রোলিয়াম, কয়লা বা লবণ, বায়বীয় গ্যাস, ধাতব পদার্থ ও লৌহ সবই খনিজ সম্পদ বলে বিবেচিত হয়।
(খ) যাকাতের জন্য খনিজ সম্পদের নিসাবের পরিমাণ স্বর্ণের বা রৌপ্যের পরিমাণের ভিত্তিতে নিরূপিত হবে।
(গ) খনিজ সম্পদের উপর যাকাত বার্ষিক ভিত্তিতে প্রদান করা হয় না। খনিজ দ্রব্যের উত্তোলিত ও পরিশোধিত অংশের মূল্য নিসাব পরিমাণ পৌছলে তাৎক্ষণিকভাবে যাকাত আদায় করতে হবে।
(ঘ) খনিজ সম্পদের উপর যাকাতের হার ২.৫%।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 মাটির নিচে লুকানো বা গুপ্তধনের উপর যাকাত

📄 মাটির নিচে লুকানো বা গুপ্তধনের উপর যাকাত


যদি কখনো পূর্ববর্তী যুগের মানুষ কর্তৃক লুকায়িত কোন সম্পদ পাওয়া যায়, যার কোন মালিক নেই তাহলে সেসব জিনিসেরও যাকাত প্রদান করতে হবে। এসব সম্পদ ইসলামী পরিভাষায় 'আর-রিকায' নামে পরিচিত। এসব জিনিসের যাকাত আদায়ের ব্যাপারে হাদীসে বলা হয়েছে,
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, রিকায পাওয়া গেলে তার এক-পঞ্চমাংশ রাষ্ট্রের প্রাপ্য।
অপর হাদীসে এসেছে,
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, খনি ও কূপে কাজ করা অবস্থায় কিংবা জন্তু-জানোয়ার দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে জরিমানা দিতে হবে না। গুপ্তধনের এক পঞ্চমাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে। অতএব, এসব সম্পদ পাওয়া গেলে সাথে সাথেই এর পাঁচ ভাগের এক ভাগ বায়তুল মালে জমা দিতে হবে।

টিকাঃ
২৩৮. সহীহ বুখারী, হা/১৪৯৯; মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হা/৫৮৫; সহীহ মুসলিম, হা/৪৫৬৫; আবু দাউদ, হা/৩০৮৭; তিরমিযী, হা/৬৪২; নাসাঈ, হা/২৪৯৭; ইবনে মাজাহ, হা/২৫০৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭১২০; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২৩২৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬০০৫; মুসনাদুল বাযযার, হা/৭৬৪০; মুসনাদে আবু ই'আলা, হা/৬০৭৫; মুস্তাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/৫১১৫; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৬৪২; বায়হাকী, হা/৭৪৩৪; মিশকাত, হা/১৭৯৮।
২৩৯. সহীহ বুখারী, হা/২৩৫৫; মুসনাদুল বাযযার, হা/৭০১৭; সুনানে দার কুতনী, হা/৩৩১০।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 ব্যবসায়িক মালের যাকাত

📄 ব্যবসায়িক মালের যাকাত


ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নিয়োজিত যে কোন ধরনের পণ্যকে ব্যবসায়িক পণ্য বলা হয়। জমি ক্রয়-বিক্রয়, প্লট ব্যবসা, দালান-কোঠা (ফ্ল্যাট ব্যবসা), খাদ্য সামগ্রী ও কৃষি-পণ্য ইত্যাদি যদি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ক্রয়-বিক্রয় হয়, তাহলে সেগুলোও ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। সুতরাং স্থায়ী সম্পত্তি যা প্রতিষ্ঠানকে চালিয়ে নেয়ার কাজে ব্যবহৃত হয় যেমন- কারখানা, দালান-কোঠা, কলকজা, যানবাহন, ডেস্ক, আসবাবপত্র, গুদাম, পণ্যদ্রব্য সাজিয়ে রাখার জন্য র‍্যাক বা তাক ইত্যাদির যাকাত আসবে না।

ব্যবসায়িক সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করা :
যাকাত নির্ণয় করার সময় বর্তমান বাজারের পাইকারি মূল্যের আলোকেই ব্যবসায়িক সম্পদের মূল্য নির্ধারিত হবে। এক্ষেত্রে বাজারমূল্য ক্রয়মূল্যের চেয়ে কম না বেশি- তা বিবেচ্য নয়।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 খামারে উৎপাদিত সম্পদের যাকাত

📄 খামারে উৎপাদিত সম্পদের যাকাত


বর্তমান যুগে বিভিন্ন ধরনের খামার গড়ে উঠেছে। যেমন- কৃষি খামার, নার্সারী, হাঁস-মুরগীর খামার, পশু-সম্পদ খামার, দুগ্ধ খামার, মৎস্য খামার, ইত্যাদি। এসব খামার বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হয় বলে ব্যবসায়িক সম্পদ হিসেবে এগুলোর উপর যাকাত প্রযোজ্য হবে। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে খামারে পালিত হাঁস-মুরগি, ডিম ও বাচ্চা ইত্যাদি ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে যাকাতের আওতাভুক্ত হবে।
ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে পশু প্রতিপালন করা হলে সেসকল পশুর বাছুর, দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত সামগ্রী, মাংস, চামড়া ইত্যাদি ব্যবসায়িক পণ্য বলে গণ্য হবে এবং তাতে যাকাত প্রযোজ্য হবে। তাছাড়া মজুদ পশুখাদ্য, ব্যবসার নগদ অর্থ ও অন্যান্য চলতি সম্পদের সাথে যোগ করে যাকাত নির্ধারণ করতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00