📄 উটের যাকাতের নিসাব
৫টি উট (এর কম হলে যাকাত ফরজ নয়) হলে তার যাকাত:
- ১ থেকে ৪ পর্যন্ত: কোন যাকাত দিতে হবে না
- ৫ থেকে ৯ পর্যন্ত: ১টি ছাগল
- ১০ থেকে ১৪ পর্যন্ত: ২টি ছাগল
- ১৫ থেকে ১৯ পর্যন্ত: ৩টি ছাগল
- ২০ থেকে ২৪ পর্যন্ত: ৪টি ছাগল
- ২৫ থেকে ৩৫ পর্যন্ত: দুই বছর বয়সের ১টি স্ত্রী উট
- ৩৬ থেকে ৪৫ পর্যন্ত: তিন বছর বয়সের ১টি স্ত্রী উট
- ৪৬ থেকে ৬০ পর্যন্ত: চার বছর বয়সের ১টি স্ত্রী উট
- ৬১ থেকে ৭৫ পর্যন্ত: পাঁচ বছর বয়সের ১টি স্ত্রী উট
- ৭৬ থেকে ৯০ পর্যন্ত: ২ থেকে ৩ বছর বয়সের ২টি স্ত্রী উট
- ৯১ থেকে ১২০ পর্যন্ত: ৩ থেকে ৪ বছর বয়সের ২টি স্ত্রী উট
যখন উটের সংখ্যা ১২০ এর বেশি হবে, তখন প্রতি ৪০টির জন্য ৩ বছর বয়সের ১টি স্ত্রী উট এবং প্রতি ৫০টি উটের জন্য ৪ বছর বয়সের ১টি স্ত্রী উট দিতে হবে।
📄 গরুর যাকাতের নিসাব
৩০টি গরু (এর কম হলে যাকাত ফরজ নয়) হলে তার যাকাত:
- ১ থেকে ২৯ পর্যন্ত: কোন যাকাত দিতে হবে না
- ৩০ থেকে ৩৯ পর্যন্ত: ১টি ১ বছর বয়সের ষাঁড়
- ৪০ থেকে ৫৯ পর্যন্ত: ১টি ২ বছর বয়সের গাভী
- ৬০ থেকে ৬৯ পর্যন্ত: ২টি ১ বছর বয়সের ষাঁড় বা গাভী
- ৭০ থেকে ৭৯ পর্যন্ত: ১টি ২ বছর বয়সের গাভী এবং একটি ১ বছর বয়সের ষাঁড়
- ৮০ থেকে ৮৯ পর্যন্ত: ২টি ২ বছর বয়সের গাভী
- ৯০ থেকে ৯৯ পর্যন্ত: ৩টি ১ বছর বয়সের গাভী
- ১০০ থেকে ১০৯ পর্যন্ত: ১টি ২ বছর বয়সের গাভী এবং ২টি ১ বছর বয়সের ষাঁড়
- ১১০ থেকে ১১৯ পর্যন্ত: ২টি ২ বছর বয়সের গাভী এবং ১টি ১ বছর বয়সের ষাঁড়
- ১২০ থেকে ১২৯ পর্যন্ত: ৩টি ২ বছর বয়সের গাভী এবং ৪টি ১ বছর বয়সের ষাঁড়
এরপর প্রত্যেক ৩০টি গরুর জন্য ১ বছরের ১টি গরু এবং প্রত্যেক ৪০টি গরুর জন্য ২ বছরের ১টি গরু যাকাত দিতে হবে।
📄 ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার যাকাতের নিসাব
৪০টি ছাগল/ভেড়া/দুম্বা (এর কম হলে যাকাত ফরয নয়) হলে তার যাকাত:
- ১ থেকে ৩৯ পর্যন্ত: কোন যাকাত দিতে হবে না
- ৪০ থেকে ১২০ পর্যন্ত: ১টি ছাগল/ভেড়ী/দুম্বা
- ১২১ থেকে ২০০ পর্যন্ত: ২টি ছাগল/ভেড়ী/দুম্বা
- ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত: ৩টি ছাগল/ভেড়ী/দুম্বা
এর পর প্রতি ১০০টি অতিরিক্ত ছাগল/ভেড়ী/দুম্বার জন্য একটি ছাগল/ভেড়ী/দুম্বা যাকাত বাবদ গণ্য হবে।
📄 যেসব পশু দ্বারা যাকাত আদায় করা হবে সেসব পশুর বৈশিষ্ট্যসমূহ
গৃহপালিত পশুর যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহের প্রতি লক্ষ্য করা অত্যাবশ্যক। যেমন-
১। দোষত্রুটি মুক্ত হওয়া: যেসব পশু দ্বারা যাকাত আদায় করা হবে, সেসব পশুকে অবশ্যই এমন দোষ হতে মুক্ত হতে হবে, যা দ্বারা কুরবানী বৈধ নয়। যেমন- রোগাক্রান্ত হওয়া, অঙ্গহীন হওয়া, জীর্ণশীর্ণ হওয়া, লেংড়া হওয়া, কানা হওয়া ইত্যাদি। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'হে ঈমানদারগণ! তোমরা যা উপার্জন করেছ এবং আমি জমিন থেকে তোমাদের জন্য যা বের করেছি তার মধ্য হতে পবিত্র জিনিসসমূহ দান করো। আর তোমরা খারাপ জিনিস দান করার ইচ্ছা করো না। কেননা অন্ধ না হলে তোমরা নিজেরাই তো সেটা গ্রহণ করতে চাও না। জেনে রেখো, নিশ্চয় আল্লাহ সম্পদশালী ও প্রশংসিত।' (সূরা বাকারা- ২৬৭)
তাছাড়া হাদীসে এসেছে,
আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াবিয়া আল-গাযিরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ বলেছেন, তিন ধরনের লোক যারা এরূপ করবে, তারা পরিপূর্ণ ঈমানের স্বাদ গ্রহণ করবে- (১) যে ব্যক্তি কেবলমাত্র আল্লাহরই ইবাদাত করে। (২) আর যে ব্যক্তি স্বীকার করে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই। (৩) যে ব্যক্তি প্রত্যেক বছর তার সম্পদের যাকাত হিসেবে উত্তম সম্পদ প্রদান করে এবং বৃদ্ধ বয়সের, রোগাক্রান্ত, ত্রুটিপূর্ণ, নিকৃষ্ট সম্পদ প্রদান করে না, বরং মধ্যম মানের সম্পদ প্রদান করে। আল্লাহ তোমাদের নিকট তোমাদের উত্তম মাল চান না এবং নিকৃষ্ট মাল প্রদান করতেও নির্দেশ দেননি।
২। পশু মধ্যম মানের হওয়া:
যেসব পশু দ্বারা যাকাত আদায় করা হবে, সেসব পশুকে অবশ্যই মধ্যম মানের হতে হবে। সুতরাং যেমনিভাবে বাছাই করে অতি উত্তম মানের পশুগুলো যাকাত হিসেবে গ্রহণ করা যাকাত আদায়কারীর জন্য বৈধ নয়, ঠিক তেমনিভাবে বাছাই করে কেবল দুর্বল ও নিকৃষ্ট পশুগুলো দ্বারা যাকাত আদায় করাও মালিকের জন্য বৈধ নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ মু'আয ইবনে জাবাল (রাঃ) কে ইয়ামানের শাসক নিয়োগ করে পাঠানোর সময় বলেছিলেন, 'যদি তারা তোমার এ কথা স্বীকার করে তবে তাদেরকে জানিয়ে দেবে, আল্লাহ তা'আলা তাদের উপর যাকাত ফরয করেছেন, যা তাদের ধনীদের নিকট থেকে সংগৃহীত হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হবে। যদি তারা তোমার এ কথাও স্বীকার করে, তবে তাদের ভালো ভালো সম্পদগুলো গ্রহণ থেকে বিরত থাকবে। আর তুমি মাযলুমদের অভিশাপকে ভয় করবে; কেননা মাযলুম ও আল্লাহর মাঝখানে কোন প্রতিবন্ধক নেই (তারা যা দু'আ করবে, আল্লাহ তা'আলা তা কবুল করবেন)।'
তবে মালিক যদি ইচ্ছা করে তাহলে সে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাছাই করে কেবল উত্তম সম্পদ দ্বারা যাকাত আদায় করতে পারবে। যেমন- হাদীসে এসেছে,
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহ তা'আলা তাঁর রাসূলের প্রতি যাকাতের যে বিধান দিয়েছেন তা আবু বকর (রাঃ) আনাস (রাঃ) এর নিকট লিখে পাঠান। তাতে লিখা ছিল যে, অধিক বয়সের দাঁত পড়া বৃদ্ধ ও ত্রুটিযুক্ত বকরী এবং পাঁঠা যাকাত হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। তবে যাকাত প্রদানকারী ইচ্ছা করলে (পাঁঠা) দিতে পারেন।
টিকাঃ
২২৪. আবু দাউদ, হা/১৫৮৪; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১০৪৬; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৭৫০।
২২৫. সহীহ বুখারী, হা/১৪৯৬; সহীহ মুসলিম, হা/১৩০; আবু দাউদ, হা/১৫৮৬; তিরমিযী, হা/৬২৫; নাসাঈ, হা/২৫২২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৭১; সুনানে দার কুতনী, হা/২০৫৮; সুনানে দারেমী, হা/১৬১৪; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৭৫২৬; মিশকাত, হা/১৭৭২।
২২৬. সহীহ বুখারী, হা/১৪৫৫; সুনানে দার কুতনী, হা/১৯৮৩; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৭৫০২; মিশকাত, হা/১৭৯৬।