📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 গৃহপালিত পশুর উপর যাকাত ফরয হওয়ার জন্য শর্তসমূহ

📄 গৃহপালিত পশুর উপর যাকাত ফরয হওয়ার জন্য শর্তসমূহ


১. নিসাব পরিমাণ হওয়া: যাকাত আদায়ের প্রধান শর্তই হচ্ছে সম্পদ নিসাব পরিমাণ হওয়া। যদি নিসাব সংখ্যক পশু থেকে একটিও কম থাকে, তাহলে যাকাত ফরয হবে না। যেমন- হাদীসে এসেছে, আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, পাঁচের কম সংখ্যক উটের মধ্যে কোন যাকাত নেই।
২. পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হওয়া: এসব পশুর উপর যাকাত ফরয হওয়ার জন্য আরো একটি শর্ত হচ্ছে, পশু ব্যক্তির মালিকানায় আসার দিন থেকে নিয়ে পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত করতে হবে; নতুবা যাকাত ফরয হবে না। কেননা হাদীসে এসেছে, আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি যে, সম্পদের মালিকানা এক বছর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত এর উপর যাকাত আরোপিত হয় না।
৩. কাজে ব্যবহৃত পশু না হওয়া: যেসব গৃহপালিত পশু চাষাবাদের কাজে, পরিবহণের কাজে অথবা অন্য কোন কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়, তাহলে সেসব পশুর উপর যাকাত আদায় করা ওয়াজিব হবে না। হাদীসে এসেছে, আলী ইবনে আবি তালেব (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেছেন, শাক-সবজিতে যাকাত নেই, আরিয়াতে যাকাত নেই, পাঁচ ওয়াসাকের কমে যাকাত নেই, কাজে নিয়োজিত পশুতে যাকাত নেই এবং যাবহাতেও যাকাত নেই। সাকার বলেন, জাবহা অর্থ হল, ঘোড়া, খচ্ছর এবং দাস-দাসী।
৪. সায়েমা হওয়া: সায়েমা এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে বিচরণশীল। ইসলামী পরিভাষায় সায়েমা বলা হয় ঐসব পশুকে, যেগুলো বছরের অধিকাংশ সময় চারণভূমিতে স্বাধীনভাবে বিচরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে এবং সেগুলোকে কেবল বংশবৃদ্ধি ও দুগ্ধ দোহনের জন্য লালন-পালন করা হয়।
সুতরাং কোন মালিক যদি বছরের অধিকাংশ সময় নিজে খাদ্য সংগ্রহ করে পশুকে খাওয়ায়, তাহলে ঐ পশুর উপর যাকাত ওয়াজিব হবে না। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, 'বিচরণশীল ছাগলের যাকাত চল্লিশটি হতে একশত বিশটি পর্যন্ত একটি ছাগল।'
অন্য হাদীসে তিনি বলেন, 'বিচরণশীল প্রত্যেক ৪০টি উটে একটি বিনতু লাবুন।'

টিকাঃ
২১৮. সহীহ বুখারী, হা/১৪৪৭; মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হা/৫৭৭।
২১৯. ইবনে মাজাহ, হা/১৭৯২; মুসনাদুল বাযযার, হা/৩০৪; দার কুতনী, হা/১৮৮৯; জামেউস সগীর, হা/১৩৪৫৪।
২২০. সুনানে দার কুতনী, হা/১৯৩০; মিশকাত, হা/১৮১৩।
২২১. সহীহ বুখারী, হা/১৪৫৪; নাসাঈ, হা/২৪৪৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭২; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২২৬১; মুসনাদে আবু ই'আলা, হা/১২৭; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৭৪৯৯; মিশকাত, হা/১৭৯৬।
২২২. বিনতু লাবুন বলা হয় ঐ উটকে, যার বয়স দু'বছর অতিক্রম করে তৃতীয় বছরে পদার্পণ করেছে।
২২৩. নাসাঈ, হা/২৪৪৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০০৩০; মুসনাদে দারেমী, হা/১৭১৯।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 গৃহপালিত পশুর যাকাতের নিসাব

📄 গৃহপালিত পশুর যাকাতের নিসাব


হাদীসের আলোকে উট, গরু ও ছাগলের যাকাত ছকের মাধ্যমে দেখানো হল:

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 উটের যাকাতের নিসাব

📄 উটের যাকাতের নিসাব


৫টি উট (এর কম হলে যাকাত ফরজ নয়) হলে তার যাকাত:
- ১ থেকে ৪ পর্যন্ত: কোন যাকাত দিতে হবে না
- ৫ থেকে ৯ পর্যন্ত: ১টি ছাগল
- ১০ থেকে ১৪ পর্যন্ত: ২টি ছাগল
- ১৫ থেকে ১৯ পর্যন্ত: ৩টি ছাগল
- ২০ থেকে ২৪ পর্যন্ত: ৪টি ছাগল
- ২৫ থেকে ৩৫ পর্যন্ত: দুই বছর বয়সের ১টি স্ত্রী উট
- ৩৬ থেকে ৪৫ পর্যন্ত: তিন বছর বয়সের ১টি স্ত্রী উট
- ৪৬ থেকে ৬০ পর্যন্ত: চার বছর বয়সের ১টি স্ত্রী উট
- ৬১ থেকে ৭৫ পর্যন্ত: পাঁচ বছর বয়সের ১টি স্ত্রী উট
- ৭৬ থেকে ৯০ পর্যন্ত: ২ থেকে ৩ বছর বয়সের ২টি স্ত্রী উট
- ৯১ থেকে ১২০ পর্যন্ত: ৩ থেকে ৪ বছর বয়সের ২টি স্ত্রী উট

যখন উটের সংখ্যা ১২০ এর বেশি হবে, তখন প্রতি ৪০টির জন্য ৩ বছর বয়সের ১টি স্ত্রী উট এবং প্রতি ৫০টি উটের জন্য ৪ বছর বয়সের ১টি স্ত্রী উট দিতে হবে।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 গরুর যাকাতের নিসাব

📄 গরুর যাকাতের নিসাব


৩০টি গরু (এর কম হলে যাকাত ফরজ নয়) হলে তার যাকাত:
- ১ থেকে ২৯ পর্যন্ত: কোন যাকাত দিতে হবে না
- ৩০ থেকে ৩৯ পর্যন্ত: ১টি ১ বছর বয়সের ষাঁড়
- ৪০ থেকে ৫৯ পর্যন্ত: ১টি ২ বছর বয়সের গাভী
- ৬০ থেকে ৬৯ পর্যন্ত: ২টি ১ বছর বয়সের ষাঁড় বা গাভী
- ৭০ থেকে ৭৯ পর্যন্ত: ১টি ২ বছর বয়সের গাভী এবং একটি ১ বছর বয়সের ষাঁড়
- ৮০ থেকে ৮৯ পর্যন্ত: ২টি ২ বছর বয়সের গাভী
- ৯০ থেকে ৯৯ পর্যন্ত: ৩টি ১ বছর বয়সের গাভী
- ১০০ থেকে ১০৯ পর্যন্ত: ১টি ২ বছর বয়সের গাভী এবং ২টি ১ বছর বয়সের ষাঁড়
- ১১০ থেকে ১১৯ পর্যন্ত: ২টি ২ বছর বয়সের গাভী এবং ১টি ১ বছর বয়সের ষাঁড়
- ১২০ থেকে ১২৯ পর্যন্ত: ৩টি ২ বছর বয়সের গাভী এবং ৪টি ১ বছর বয়সের ষাঁড়

এরপর প্রত্যেক ৩০টি গরুর জন্য ১ বছরের ১টি গরু এবং প্রত্যেক ৪০টি গরুর জন্য ২ বছরের ১টি গরু যাকাত দিতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00