📄 একাধিক মালিকানায় স্বর্ণ ও রৌপ্য নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত ফরয হবে কি
যাকাত ফরয হওয়ার জন্য অন্যতম একটি শর্ত হচ্ছে, ব্যক্তিকে এককভাবে নিসাব পরিমাণ সম্পদের পূর্ণ মালিকানা অর্জন করতে হবে। সুতরাং একাধিক মালিকানাভুক্ত স্বর্ণ ও রৌপ্য যদি নিসাব পরিমাণ হয়ে যায়, তাহলে উক্ত সম্পদের উপর যাকাত আদায় করা আবশ্যক হবে না।
অনুরূপভাবে যদি একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নিকট পৃথক পৃথকভাবে এত পরিমাণ সম্পদ থাকে, যা যাকাতের নিসাবের সমতুল্য, তাহলে তাদের উপর যাকাত ফরয হবে না। বরং যখন পরিবারের কোন সদস্য এককভাবে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে, তখন তাকে যাকাত দিতে হবে। তবে যদি একজনের মালিকানাভুক্ত বস্তু কয়েকজনে ব্যবহার করে এবং উক্ত সম্পদ নিসাব পরিমাণ হয়, তাহলে উক্ত সম্পদের যাকাত দিতে হবে。
📄 ব্যাংক ও বীমা কোম্পানীতে জমাকৃত অর্থের উপর যাকাত
ব্যাংক ও বীমা কোম্পানীতে যেসব অর্থ জমা দেয়া হয় সেগুলোর ক্ষেত্রে বিধান হচ্ছে-
১। কোন কোম্পানীতে যেসব অর্থ জমা রাখা হয় তা যদি নিসাব পরিমাণ হয়, তবে সে সম্পদের যাকাত দিতে হবে। আর যদি তা নিসাব পরিমাণ না হয় তবে অন্যান্য সম্পদের সাথে এটা যোগ করে নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত আদায় করতে হবে।
২। যদি কোন কোম্পানীতে টাকা জমা রাখার পর এরূপ পরিস্থিতি হয় যে, ঐ টাকা আর ফেরত পাওয়া যাবে না, তাহলে তার উপর যাকাত প্রযোজ্য হবে না।
৩। যেসব কোম্পানী সুদী কারবারের উপর প্রতিষ্ঠিত, তাতে অর্থ জমা রাখা বৈধ নয়। যদি কেউ ঐসব প্রতিষ্ঠানে লেনদেন করে তাহলে সে পাপী হবে। তবে মূল জমাকৃত টাকার যাকাত অবশ্যই দিতে হবে। আর সুদ হিসেবে অতিরিক্ত যা কিছু পাবে, তা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করে দেবে অথবা দান করে দেবে。
📄 পশুর যাকাত
কিছু পশু আছে, মানুষ তাদেরকে বিভিন্নভাবে কাজে ব্যবহার করে থাকে। এসব পশুকে 'আন'আম' বা 'চতুষ্পদ জন্তু' বলে। ঐসব প্রাণীর যাকাত দিতে হবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
'প্রত্যেক উট, গরু ও ছাগলের অধিকারী ব্যক্তি যে তার যাকাত আদায় করবে না, নিশ্চয় কিয়ামতের দিন তাদেরকে আনা হবে বিরাট আকারে ও অতি মোটাতাজা অবস্থায়। তারা দলে দলে তাকে তাদের ক্ষুর দ্বারা মাড়াতে থাকবে এবং মারতে থাকবে তাদের শিং দ্বারা। যখনই তাদের শেষ দল অতিক্রম করবে, পুনরায় প্রথম দল এসে তার সাথে এরূপ করতে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না মানুষের বিচার ফায়সালা শেষ হয়ে যায়।'
মহিষ ও ভেড়ার যাকাত :
হাদীসে যেসব পশুর উপর যাকাত আদায়ের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে মহিষের কথা পৃথকভাবে উল্লেখ নেই। তবে মুহাদ্দিসগণ বলেছেন যে, গরু ও মহিষ একই জাতিবিশিষ্ট। সুতরাং গরুর উপর যেভাবে যাকাত আদায় করা ফরয, ঠিক তেমনিভাবে মহিষের উপরও যাকাত আদায় করা ফরয এবং উভয়টিই একই নিসাবের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে ভেড়াও ছাগলের অন্তর্ভুক্ত।
ঘোড়ার যাকাত :
ঘোড়া হচ্ছে এক ধরনের গৃহপালিত পশু। কিন্তু তা সত্ত্বেও এর উপর যাকাত আদায় করা ফরয নয়। কেননা হাদীসে এসেছে,
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী রাসূলুল্লাহ ﷺ হতে বর্ণনা করে বলেন, মুসলমানদের উপর তাদের গোলাম ও ঘোড়ার যাকাত নেই।
টিকাঃ
২১৬. সহীহ বুখারী, হা/১৪৬০; নাসাঈ, হা/২৪৪০; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১৫২৯; মিশকাত, হা/১৭৭৫।
২১৭. সহীহ বুখারী, হা/১৪৬৪; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৭৬৫৪; মিশকাত, হা/১৭৯৫।
📄 পশুর প্রকারভেদ
যাকাত আদায়কে কেন্দ্র করে পশু কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। যেমন-
১) সায়েমা তথা বছরের বেশিরভাগ সময় বৈধ ঘাসের মাঠে ও চারণভূমিতে স্বাধীনভাবে বিচরণ করে যে পশুগুলো জীবিকা নির্বাহ করে এবং সেগুলোকে বংশবৃদ্ধি ও দুগ্ধ আহরণের জন্য লালন-পালন করা হয়, সেগুলোকে সায়েমা বলে। এসব পশুর উপর যাকাত প্রদান করা ফরয।
২) যেসব পশু বংশবৃদ্ধি ও দুগ্ধ আহরণের জন্য লালন-পালন করা হয় ঠিকই, কিন্তু বছরের বেশির ভাগ সময় নিজেরা মাঠে বিচরণ করে ঘাস-পানি খায় না; বরং মালিককে খাদ্য ক্রয় করে বা কেটে এনে খাওয়াতে হয়। এসব পশুর উপর যাকাত প্রদান করা ফরয নয়।
৩) যেসব পশু বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। যেমন- গাড়ি চালানো, পিঠে বোঝা বহন করা, সওয়ার হওয়া, কৃষি কাজে ব্যবহার করা, হালচাষ করা ও পানি উত্তোলন করা ইত্যাদি। অধিকাংশ আলেমের মতে এসব পশুর উপর যাকাত আদায় করা ফরয হবে না।
৪) যেসব পশু ব্যবসার জন্য প্রতিপালন করা হয়, সেগুলোকে ব্যবসায়িক পণ্য বলে গণ্য করা হবে এবং এর উপর যাকাত সংখ্যার ভিত্তিতে নয়, বরং মূল্যের ভিত্তিতে ধার্য হবে। এক্ষেত্রে পশুর মালিক পশুর নির্ধারিত মূল্যকে তার মালিকানাধীন নগদ অর্থ ও ব্যবসায়িক পণ্যের মূল্যের সাথে যোগ করে মোট মূল্যের ২.৫% হারে যাকাত প্রদান করবে。