📄 ব্যবহারী অলংকারের উপর যাকাত
স্বর্ণ ও রৌপ্য যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, সর্বাবস্থায় এর উপর যাকাত প্রদান করা ফরয। হাদীসে এসেছে,
আমর ইবনে শু'আইব (রাঃ) তার পিতা, তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেন, জনৈক মহিলা তার মেয়েকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট আসলেন। সে সময় তার মেয়ের হাতে দুটি স্বর্ণের বালা পরা ছিল। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে বললেন, তুমি এর যাকাত আদায় করেছ? মেয়েটি উত্তরে বলল, না। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তোমার কাছে কি এটা পছন্দনীয় যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা এগুলোকে আগুনের চুড়ি বানিয়ে তোমার হাতে পরিয়ে দিন? (বর্ণনাকারী) বলেন, এরপর মেয়েটি সেগুলো খুলে ফেলল এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট দিয়ে দিল। তারপর বলল, এগুলো আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের জন্য।
অপর হাদীসে এসেছে,
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ আমার নিকটে এসে দেখেন যে, আমি রূপার আংটি পরে আছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এটা কী- হে আয়েশা? উত্তরে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার জন্যই নিজেকে সজ্জিত করতে এগুলো তৈরি করেছি। তিনি বললেন, তুমি কি এগুলোর যাকাত আদায় করেছ? আমি বললাম, না অথবা মাশাআল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ যেমনটা চেয়েছেন তেমনটাই হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তোমার জাহান্নামে যাওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক মহিলা তাকে জিজ্ঞেস করলেন যে, অলংকারের যাকাত দিতে হবে কি? তিনি বললেন, যদি তা ২০০ দিরহামে পৌঁছে, তাহলে তার যাকাত দিতে হবে।
সুতরাং ব্যবহারী অলংকার যদি নিসাব পর্যন্ত পৌঁছে, তাহলে উক্ত অলংকারের উপরও যাকাত প্রদান করা ফরয।
টিকাঃ
২১৩. আবু দাউদ, হা/১৫৬৫; নাসাঈ, হা/২৪৭৯; দার কুতনী, হা/১৯৮২; বায়হাকী, হা/৭৩৪০।
২১৪. আবু দাউদ, হা/১৫৬৭; দার কুতনী, হা/১৯৫১; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৪৩৭; বায়হাকী, হা/৭৩৩৮।
২১৫. মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৯৪৭৮; সনদটি হাসান।
📄 একাধিক মালিকানায় স্বর্ণ ও রৌপ্য নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত ফরয হবে কি
যাকাত ফরয হওয়ার জন্য অন্যতম একটি শর্ত হচ্ছে, ব্যক্তিকে এককভাবে নিসাব পরিমাণ সম্পদের পূর্ণ মালিকানা অর্জন করতে হবে। সুতরাং একাধিক মালিকানাভুক্ত স্বর্ণ ও রৌপ্য যদি নিসাব পরিমাণ হয়ে যায়, তাহলে উক্ত সম্পদের উপর যাকাত আদায় করা আবশ্যক হবে না।
অনুরূপভাবে যদি একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নিকট পৃথক পৃথকভাবে এত পরিমাণ সম্পদ থাকে, যা যাকাতের নিসাবের সমতুল্য, তাহলে তাদের উপর যাকাত ফরয হবে না। বরং যখন পরিবারের কোন সদস্য এককভাবে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে, তখন তাকে যাকাত দিতে হবে। তবে যদি একজনের মালিকানাভুক্ত বস্তু কয়েকজনে ব্যবহার করে এবং উক্ত সম্পদ নিসাব পরিমাণ হয়, তাহলে উক্ত সম্পদের যাকাত দিতে হবে。
📄 ব্যাংক ও বীমা কোম্পানীতে জমাকৃত অর্থের উপর যাকাত
ব্যাংক ও বীমা কোম্পানীতে যেসব অর্থ জমা দেয়া হয় সেগুলোর ক্ষেত্রে বিধান হচ্ছে-
১। কোন কোম্পানীতে যেসব অর্থ জমা রাখা হয় তা যদি নিসাব পরিমাণ হয়, তবে সে সম্পদের যাকাত দিতে হবে। আর যদি তা নিসাব পরিমাণ না হয় তবে অন্যান্য সম্পদের সাথে এটা যোগ করে নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত আদায় করতে হবে।
২। যদি কোন কোম্পানীতে টাকা জমা রাখার পর এরূপ পরিস্থিতি হয় যে, ঐ টাকা আর ফেরত পাওয়া যাবে না, তাহলে তার উপর যাকাত প্রযোজ্য হবে না।
৩। যেসব কোম্পানী সুদী কারবারের উপর প্রতিষ্ঠিত, তাতে অর্থ জমা রাখা বৈধ নয়। যদি কেউ ঐসব প্রতিষ্ঠানে লেনদেন করে তাহলে সে পাপী হবে। তবে মূল জমাকৃত টাকার যাকাত অবশ্যই দিতে হবে। আর সুদ হিসেবে অতিরিক্ত যা কিছু পাবে, তা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করে দেবে অথবা দান করে দেবে。
📄 পশুর যাকাত
কিছু পশু আছে, মানুষ তাদেরকে বিভিন্নভাবে কাজে ব্যবহার করে থাকে। এসব পশুকে 'আন'আম' বা 'চতুষ্পদ জন্তু' বলে। ঐসব প্রাণীর যাকাত দিতে হবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
'প্রত্যেক উট, গরু ও ছাগলের অধিকারী ব্যক্তি যে তার যাকাত আদায় করবে না, নিশ্চয় কিয়ামতের দিন তাদেরকে আনা হবে বিরাট আকারে ও অতি মোটাতাজা অবস্থায়। তারা দলে দলে তাকে তাদের ক্ষুর দ্বারা মাড়াতে থাকবে এবং মারতে থাকবে তাদের শিং দ্বারা। যখনই তাদের শেষ দল অতিক্রম করবে, পুনরায় প্রথম দল এসে তার সাথে এরূপ করতে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না মানুষের বিচার ফায়সালা শেষ হয়ে যায়।'
মহিষ ও ভেড়ার যাকাত :
হাদীসে যেসব পশুর উপর যাকাত আদায়ের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে মহিষের কথা পৃথকভাবে উল্লেখ নেই। তবে মুহাদ্দিসগণ বলেছেন যে, গরু ও মহিষ একই জাতিবিশিষ্ট। সুতরাং গরুর উপর যেভাবে যাকাত আদায় করা ফরয, ঠিক তেমনিভাবে মহিষের উপরও যাকাত আদায় করা ফরয এবং উভয়টিই একই নিসাবের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে ভেড়াও ছাগলের অন্তর্ভুক্ত।
ঘোড়ার যাকাত :
ঘোড়া হচ্ছে এক ধরনের গৃহপালিত পশু। কিন্তু তা সত্ত্বেও এর উপর যাকাত আদায় করা ফরয নয়। কেননা হাদীসে এসেছে,
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী রাসূলুল্লাহ ﷺ হতে বর্ণনা করে বলেন, মুসলমানদের উপর তাদের গোলাম ও ঘোড়ার যাকাত নেই।
টিকাঃ
২১৬. সহীহ বুখারী, হা/১৪৬০; নাসাঈ, হা/২৪৪০; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১৫২৯; মিশকাত, হা/১৭৭৫।
২১৭. সহীহ বুখারী, হা/১৪৬৪; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৭৬৫৪; মিশকাত, হা/১৭৯৫।