📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 যেসব সম্পদের উপর যাকাত আদায় করা ফরয

📄 যেসব সম্পদের উপর যাকাত আদায় করা ফরয


যেসব সম্পদের উপর যাকাত আদায় করা ফরয হয়- সেগুলা মূলত ৫ প্রকার। যথা-
১. স্বর্ণ ও রৌপ্য : স্বর্ণ ও রৌপ্য হচ্ছে অনেক মূল্যবান খনিজ পদার্থ। আল্লাহ তা'আলা এগুলোর উপর পৃথকভাবে যাকাত নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুতরাং যার নিকট নিসাব পরিমাণ স্বর্ণ অথবা রৌপ্য পূর্ণ এক বছর পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে, তাকে অবশ্যই যাকাত দিতে হবে।
২. ব্যবসায়িক পণ্য : ব্যবসার উদ্দেশ্যে যেসব পণ্য উৎপাদন ও ক্রয়-বিক্রয় করা হয়, সেগুলোকেই ব্যবসায়িক পণ্য বলা হয়। আল্লাহ তা'আলা এসব পণ্যের ক্ষেত্রেও যাকাত নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং প্রতি বৎসরের নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবসায়িক পণ্যগুলো হিসাব করে তার উপর নির্ধারিত হারে যাকাত প্রদান করা আবশ্যক।
৩. গৃহপালিত পশু : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব গৃহপালিত পশুর উপর যাকাত ফরয করেছেন সেগুলো হলো- উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা। সুতরাং যার নিকট এসব সম্পদ নিসাব পরিমাণ পূর্ণ এক বছর পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে, তাকে অবশ্যই যাকাত প্রদান করতে হবে।
৪. ভূমি থেকে উৎপন্ন ফসল : যেসব ফসল ভূমি থেকে উৎপন্ন হয়, সেসব ফসল থেকেও যাকাত প্রদান করা আবশ্যক। যেমন- গম, যব, খেজুর, কিসমিস, ধান ইত্যাদি।

৫. খনিজ সম্পদ ও মাটির নিচে সঞ্চিত সম্পদ বা গুপ্তধন:
মাটির নিচে সাধারণত দুই ধরনের সম্পদ পাওয়া যায়। একটি হচ্ছে- খনিজ সম্পদ, যা আল্লাহ তা'আলা মানুষের জন্য সৃষ্টি করে মাটির নিচে রেখেছেন। যেমন- স্বর্ণ, রৌপ্য, তামা, ইউরেনিয়াম, কয়লা, গ্যাস ইত্যাদি। আর আরেকটি হচ্ছে, পূর্ববর্তী যুগের মানুষ কর্তৃক লুকিয়ে রাখা সম্পদ। যা আল্লাহ তা'আলা তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী যে কারো নিকট হস্তগত করার ব্যবস্থা করে দেন। আল্লাহ তা'আলা উভয় প্রকার সম্পদের উপর যাকাত আদায় করা আবশ্যক করে দিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এ ধরনের কোন সম্পদ প্রাপ্ত হবে, তার উপর নির্দিষ্ট পরিমাণ যাকাত প্রদান করা আবশ্যক হয়ে যাবে।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 যাকাতের নিসাব

📄 যাকাতের নিসাব


যে পরিমাণ মাল থাকলে যাকাত ফরয হয় তাকে ‘নিসাব’ বলে। আর যিনি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক, তাকে ‘সাহেবে নিসাব’ বলা হয়। কোন ব্যক্তির নিকট যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে তার উপর যাকাত প্রদান করা ফরয হবে। নিচে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বস্তুর যাকাতের নিসাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 স্বর্ণ ও রৌপ্যের যাকাত

📄 স্বর্ণ ও রৌপ্যের যাকাত


স্বর্ণের নিসাব : স্বর্ণের যাকাতের ক্ষেত্রে এর নিসাবের পরিমাণ হচ্ছে ২০ দিনার। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, 'আর যদি তোমার নিকট বিশ দিনারের কম স্বর্ণ মজুদ থাকে, তাহলে তোমার উপর যাকাত ফরয নয়। তবে যদি তোমার নিকট ২০ দিনার পরিমাণ স্বর্ণ মজুদ থাকে এবং সেটা এক বছর পর্যন্ত অতিবাহিত হয়, তাহলে তার জন্য অর্ধ দিনার যাকাত দিতে হবে। এরপরে যা বৃদ্ধি পাবে তার হিসাব ঐভাবেই হবে।'
উল্লেখ্যে যে, ১ দিনার সমান হচ্ছে ৪.২৫ গ্রাম। সুতরাং ২০ দিনার সমান হচ্ছে ২০ × ৪.২৫ = ৮৫ গ্রাম। অতএব ১১.৬৬ গ্রাম সমান যদি ১ ভরি হয়, তাহলে ৮৫ গ্রাম সমান হচ্ছে, ৮৫ ÷ ১১.৬৬ = ৭.২৯ ভরি। তবে স্বর্ণের নিসাব সাড়ে সাত ভরি ধরা হয়।

রৌপ্যের নিসাব : রৌপ্যের নিসাবের পরিমাণ হচ্ছে, ৫ উকিয়া বা ২০০ দিরহাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণ রৌপ্যে যাকাত নেই।'
উল্লেখ্যে যে, ১ উকিয়া সমান হচ্ছে ৪০ দিরহাম। সুতরাং ৫ উকিয়া সমান হচ্ছে ২০০ দিরহাম। অপর হাদীসে এসেছে, 'যখন তোমার নিকট ২০০ দিরহাম মজুদ থাকবে এবং সেটা এক বছর পর্যন্ত অতিবাহিত হবে, তাহলে তা থেকে ৫ দিরহাম যাকাত দিতে হবে। এরপরে যা বৃদ্ধি পাবে তার হিসাব ঐভাবেই হবে।'
অপর হাদীসে এসেছে, 'তোমরা প্রতি ২০ দিরহামে ১ দিরহাম যাকাত আদায় করবে। আর ২০০ দিরহাম পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের উপর কোন কিছুই ফরয নয়। অতঃপর ২০০ দিরহাম পূর্ণ হলে এর যাকাত হবে ৫ দিরহাম এবং এর অতিরিক্ত হলে তার যাকাত উপরোক্ত হিসাব অনুযায়ী প্রদান করতে হবে।'
উপরের হাদীস দুটিতে বর্ণিত ২০০ দিরহাম সমান হচ্ছে ৫৯৫ গ্রাম। অতএব ১১.৬৬ গ্রাম সমান যদি ১ ভরি হয়, তাহলে ৫৯৫ গ্রাম সমান হচ্ছে, ৫৯৫ ÷ ১১.৬৬ = ৫১.০২ ভরি। তবে রৌপ্যের নিসাব সাড়ে বায়ান্ন ভরি ধরা হয়।

টিকাঃ
২০৯. আবু দাউদ, হা/১৫৭৫; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৭৭৮৩।
২১০. সহীহ বুখারী, হা/১৪৮৪; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৭৭৬৫।
২১১. আবু দাউদ, হা/১৫৭৫; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৭৭৮৩।
২১২. আবু দাউদ, হা/১৫৭৪; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২২৯৭; সুনানে দুর কাতুনী, হা/১৮৯৮।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 যাকাত নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বর্ণের নিসাব প্রযোজ্য নাকি রৌপ্যের নিসাব

📄 যাকাত নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বর্ণের নিসাব প্রযোজ্য নাকি রৌপ্যের নিসাব


এ ব্যাপারে আলেমদের দু'টি মতামত রয়েছে:
এক: অনেক আলেমের মতে, স্বর্ণ ও রৌপ্যের মধ্য থেকে বাজারে যেটার মূল্য কম থাকবে সেটার নিসাবের সাথে মিলাতে হবে। এতে গরীবদের লাভের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়। কেননা বর্তমানে স্বর্ণের মূল্য হিসাব করলে অনেকের উপরই যাকাত ফরয হবে না; কিন্তু রৌপ্যের মূল্য হিসাব করলে যাকাত ফরয হয়।
দুই: অধিকাংশ মুহাদ্দিস ও মুহাক্কিক আলেমগণই নগদ অর্থ ও ব্যবসায়ের মালের যাকাত নির্ণয়ের ক্ষেত্রে স্বর্ণের নিসাবকে মূল নিসাব সাব্যস্ত করেছেন। উল্লেখ্য যে, স্বর্ণ খাঁটি না হলে মালিকানাধীন স্বর্ণ থেকে খাদ বাদ দিয়ে স্বর্ণের নিট ওজনকে ভিত্তি হিসেবে ধরে নিতে হবে। রৌপ্য যদি খাঁটি না হয় তাহলে রৌপ্যের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00