📄 যাকাত আদায় না করার পরিণতি
যাকাত হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে আগত রিযিক বণ্টনের একটি সুষম ব্যবস্থা। এতে বান্দাদের জন্য রয়েছে বহুমুখী কল্যাণ। বান্দা এর মাধ্যমে যেমনিভাবে দুনিয়াতে উপকার লাভ করে থাকে, ঠিক তেমনিভাবে আখিরাতে আরো বেশি উপকার লাভ করতে পারে। অনুরূপভাবে বান্দা যদি এর পূর্ণ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে তাকে উভয় জগতে মারাত্মক পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো :
যাকাত আদায় না করাটা মুনাফিকীর লক্ষণ :
আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে মুনাফিকদের যেসব কার্যকলাপ বর্ণনা করেছেন, তার মধ্যে একটি হচ্ছে যাকাত আদায় না করা। যেমন- তিনি বলেন, 'তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর নিকট অঙ্গীকার করেছিল যে, আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে আমাদেরকে দান করলে নিশ্চয় আমরা সাদাকা করব এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হব। অতঃপর যখন তিনি নিজ কৃপায় তাদেরকে তা দান করলেন, তখন তারা এ বিষয়ে কার্পণ্য করল এবং বিরুদ্ধভাবাপন্ন হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিল। পরিণামে তাদের অন্তরে কপটতা স্থান পেল আল্লাহর সহিত ওদের সাক্ষাৎ দিবস পর্যন্ত। কেননা তারা আল্লাহর নিকট যে অঙ্গীকার করেছিল, তা ভঙ্গ করেছিল; আর তারা ছিল মিথ্যাচারী।' (সূরা তাওবা : ৭৫-৭৭)
যারা যাকাত দেবে না তাদের ধ্বংস অনিবার্য:
'দুর্ভোগ মুশরিকদের জন্য, যারা যাকাত প্রদান করে না এবং আখিরাতের প্রতিও বিশ্বাস স্থাপন করে না।' (সূরা হা-মীম সিজদা- ৬)
তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করতে হবে :
আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যাকাত ত্যাগকারী কিয়ামতের দিন জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসলেন। এ সময় তিনি আমার হাতে রূপার তৈরি একটি বড় আংটি দেখতে পান। তখন তিনি বলেন, এটা কী- হে আয়েশা? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উদ্দেশ্যে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য এটা তৈরি করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এর যাকাত দাও? আমি বললাম, না অথবা আল্লাহর যা ইচ্ছা ছিল। তখন তিনি বললেন, তোমাকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট।
যাকাত আদায় না করলে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে :
'যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় না করে, তাদেরকে মর্মান্তিক শাস্তির সুসংবাদ দাও।' (সূরা তওবা- ৩৪)
কিয়ামতের দিন তাদের ললাট, পার্শ্বদেশ ও পৃষ্ঠদেশে দাগ দেয়া হবে :
'যেদিন তা (যাকাতের মাল) জাহান্নামের অগ্নিতে উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্বদেশ ও পৃষ্ঠদেশে দাগ দেয়া হবে। সেদিন বলা হবে, এটাই তো সেটা যা তোমরা নিজেদের জন্য পুঞ্জীভূত করতে। সুতরাং তোমরা যা পুঞ্জীভূত করেছিলে তার স্বাদ আস্বাদন করো।' (সূরা তওবা- ৩৫)
তাদের সম্পদ দিয়ে তাদের গলায় বেড়ি পরিয়ে দেয়া হবে:
'আল্লাহ যাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহ হতে কিছু দান করেছেন, অথচ তারা সে বিষয়ে কার্পণ্য করে, তারা যেন এরূপ ধারণা না করে যে, ওটা তাদের জন্য কল্যাণকর; বরং ওটা তাদের জন্য আরো ক্ষতিকর। তারা যে বিষয়ে কৃপণতা করেছে, কিয়ামতের দিন ওটাই তাদের গলার বেড়িতে পরিণত হবে। (জেনে রেখো) আল্লাহ নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের স্বত্ত্বাধিকারী; আর তোমরা যা করছ আল্লাহ সে বিষয়ে পূর্ণ খবর রাখেন।' (সূরা আলে ইমরান- ১৮০)
যাকাতের সম্পদ বিষধর সাপে পরিণত হয়ে দংশন করবে :
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যাকে আল্লাহ তা'আলা ধনসম্পদ দান করেছেন; কিন্তু সে তার যাকাত আদায় করেনি, শেষ বিচারের দিন সে ধনসম্পদ এমন বিষধর সাপে পরিণত হবে, যার মাথার উপর থাকবে দু'টি কালো দাগ। এ সাপ সে ব্যক্তির গলায় ঝুলে তার দু'গালে কামড়াতে থাকবে এবং বলবে, "আমিই তোমার মাল, আমিই তোমার সঞ্চিত সম্পদ।” অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ এ আয়াত পাঠ করলেন- “আল্লাহ তাদেরকে নিজের অনুগ্রহে যা কিছু দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে তারা যেন মনে না করে যে, এটা তাদের জন্য কল্যাণকর হবে; বরং এটা তাদের জন্য ক্ষতিকর। যেসব জিনিসের ব্যাপারে তারা কার্পণ্য করে কিয়ামতের দিন সেসব ধনসম্পদকে বেড়ি বানিয়ে তাদের গলায় পরানো হবে। আর আল্লাহ হচ্ছেন আসমান ও জমিনের পরম সত্ত্বাধিকারী। আর যা কিছু তোমরা কর; আল্লাহ তা'আলা সে সম্পর্কে জানেন।”
পশুর যাকাত আদায় না করলে উক্ত পশু দ্বারাই আযাব দেয়া হবে :
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যেসব ধনাঢ্য ব্যক্তি নিজেদের ধনসম্পদের যাকাত আদায় করে না কিয়ামতের দিন তাদের এ সম্পদ দোযখের আগুনে গরম করে পাত তৈরি করা হবে এবং তা দিয়ে তাদের দেহের উভয় পার্শ্ব ও ললাটে দাগ দেয়া হবে। তার শাস্তি বান্দাদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। এ সময়কার একটি দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর কেউ পথ ধরবে জান্নাতের দিকে আর কেউ ধরবে জাহান্নামের দিকে। আর যেসব উটের মালিকরা যাকাত আদায় করবে না তাদেরকে একটি সমতল মাঠে উপুড় করে শুয়ে রাখা হবে এবং ঐসব উট স্থুল দেহ নিয়ে আসবে যেমনটি তারা পৃথিবীতে ছিল এবং এগুলো তাদেরকে পা দিয়ে মাড়াতে মাড়াতে অগ্রসর হবে। এভাবে যখনই এর শেষ দলটি অতিক্রম করবে পুনরায় এর প্রথম দল এসে পৌঁছবে। এগুলো তাদেরকে মাড়াতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের বিচার শেষ না করবেন। আর এ কাজ এমন এক দিনে করা হবে, যা পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান হবে। অতঃপর কেউ পথ ধরবে জান্নাতের দিকে আর কেউ ধরবে জাহান্নামের দিকে। আর যেসব ছাগলের মালিকরা তার যাকাত আদায় করবে না তাদেরকে একটি সমতল মাঠে উপুড় করে ফেলে রাখা হবে এবং তার ছাগলগুলো মোটাতাজা অবস্থায় যেমনটি পৃথিবীতে ছিল, সেগুলো এসে তাদের খুর দিয়ে তাকে মাড়াতে থাকবে এবং শিং দিয়ে গুতো মারতে মারতে অগ্রসর হবে। অথচ সেদিন কোন একটি ছাগলই শিং বাঁকা, শিংহীন বা শিং ভাঙ্গা হবে না। যখন এদের শেষ দল অতিক্রম করবে পুনরায় প্রথম দল এসে পৌঁছবে। আর এভাবে আযাব চলতে থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের বিচার সমাপ্ত করেন। এ শাস্তি এমন এক দিনে হবে, যার পরিমাণ হবে তোমাদের হিসাবানুসারে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর কেউ তার পথ ধরবে জান্নাতের দিকে আর কেউ ধরবে জাহান্নামের দিকে।
যাকাত আদায় না করলে দুনিয়াতে আল্লাহর গযব নাযিল হয় :
বুরাইদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যখন কোন জাতি যাকাত আদায় না করে তখন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে দুর্ভিক্ষ ও অনাবৃষ্টিতে আক্রান্ত করেন।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ﷺ আমাদের নিকট এসে বললেন, হে মুহাজিরগণ! তোমরা পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। তবে আমি আশ্রয় চাচ্ছি তোমরা যেন পরীক্ষার সম্মুখীন না হও। (১) যখন কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্য অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, তখন সে জাতির উপর প্লেগ রোগের আবির্ভাব হয়। (২) যখন কোন জাতি ওজন ও মাপে কম দেয়, তখন সে জাতির উপর নেমে আসে দুর্ভিক্ষ, কঠিন বালা-মুসিবত এবং অত্যাচারী শাসক তাদের উপর নিপিড়ন করতে থাকে। (৩) যখন কোন জাতি তাদের সম্পদের যাকাত আদায় করে না, তখন তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেয়া হয়। যদি চতুষ্পদ প্রাণী না থাকত, তাহলে তাদের উপর বৃষ্টিপাত হতো না। (৪) যখন কোন জাতি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের অঙ্গীকার পূরণ করে না, তখন আল্লাহ তাদের বিজাতীয় দুশমনকে তাদের উপর বিজয়ী করেন; যারা এসে তাদের হাত থেকে কিছু সম্পদ কেড়ে নিয়ে যায়। (৫) আর যখন তাদের ইমামগণ আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী বিচার-ফায়সালা করে না এবং আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানকে প্রত্যাখ্যান করে, তখন আল্লাহ তাদের পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ বাধিয়ে দেন।
সরকার তাদের উপর জবরদস্তি করতে পারবে :
যদি তারা ইসলামী রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে সরকার তাদের থেকে যাকাত আদায় করার জন্য জবরদস্তি করতে পারবে। কেননা হাদীসে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্যিকার ইলাহ নেই ও মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর সালাত কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে। তারা যদি এ কাজগুলো করে, তবে আমার পক্ষ থেকে তারা তাদের ব্যাপারে ও তাদের মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করল; অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোন কারণ থাকে (যেমন: কিসাস, রজম ইত্যাদি) তাহলে স্বতন্ত্র কথা। আর তাদের হিসাবের ভার আল্লাহর উপর ন্যস্ত।
যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে আবু বকর (রাঃ) যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন:
কোন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করার পরেও যেসব কারণে তার জান-মালের নিরাপত্তা বাতিল হয়ে যায়, তার মধ্যে একটি হচ্ছে যাকাত আদায় করতে অস্বীকার করা। যার কারণে আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। হাদীসে এসেছে,
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ মৃত্যুবরণ করেন, তখন আবু বকর (রাঃ) খলীফা নিযুক্ত হন। এ সময় আরবের একদল লোক (যাকাত অস্বীকার করে) মুরতাদ হয়ে গেল। [আবু বকর (রাঃ) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সংকল্প করলেন] উমর (রাঃ) বললেন, আপনি কিরূপে লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন? অথচ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন : “আমি (আল্লাহর পক্ষ থেকে) লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যে পর্যন্ত না তারা বলে 'লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ (আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই) আর যে ব্যক্তি 'লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ' বলল, সে তার জান-মাল আমার হাত থেকে রক্ষা করল। অবশ্য আইনের দাবী আলাদা। (অর্থাৎ ইসলামের বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় কোন অপরাধ করলে তাকে অবশ্যই শাস্তি ভোগ করতে হবে)। তবে তার আসল বিচারের ভার আল্লাহর উপর ন্যস্ত। তখন আবু বকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! যে ব্যক্তি সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। কেননা যাকাত হচ্ছে মালের (উপর বঞ্চিতের) অধিকার। আল্লাহর কসম! যদি তারা আমাকে একটি রশি প্রদান করতেও অস্বীকৃতি জানায়, যা তারা (যাকাত বাবদ) রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে প্রদান করত, তাহলে আমি এ অস্বীকৃতির কারণে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। এবার উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! ব্যাপারটা এ ছাড়া আর কিছুই নয় যে, আল্লাহ তা'আলা আবু বকরের হৃদয়কে যুদ্ধের জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছিলেন। আমি স্পষ্টই উপলদ্ধি করলাম, এটাই (আবু বকরের সিদ্ধান্তই) সঠিক এবং যথার্থ।
বাগানওয়ালাদের পরিণতি:
'আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি, যেভাবে পরীক্ষা করেছিলাম বাগানের মালিকদেরকে। যখন তারা এ শপথ করেছিল যে, তারা বাগান হতে প্রত্যুষেই ফল কেটে নেবে; কিন্তু তারা 'ইনশাআল্লাহ' বলেনি। অতঃপর সেই বাগানে তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে এক আযাব পতিত হলো, তখন তারা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল। ফলে তা পুড়ে ছাই বর্ণ ধারণ করল। এরপর সকালে তারা একে অপরকে ডেকে বলল, তোমরা যদি ফসল কাটতে চাও তবে সকাল সকাল বাগানে চলো। অতঃপর তারা ফিস ফিস করে এ কথা বলতে বলতে চলল- আজ বাগানে যেন তোমাদের নিকট কোন অভাবগ্রস্ত ব্যক্তি প্রবেশ করতে না পারে। অতঃপর তারা (অভাবীদেরকে) প্রতিহত করতে সক্ষম- এই বিশ্বাস নিয়ে সকালে রওয়ানা হলো। কিন্তু তারা যখন ঐ বাগান প্রত্যক্ষ করল তখন তারা বলল, আমরা তো পথ ভুলে গেছি। (না) বরং আমরা বঞ্চিত হয়েছি! অতঃপর তাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বলল, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি, যদি তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করতে! তখন তারা বলল, আমরা আমাদের প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি; নিশ্চয় আমরা ছিলাম অত্যাচারী। এভাবে তারা একে অপরকে দোষারোপ করতে লাগল। তারা বলল, হায় দুর্ভোগ! আমরা তো সীমালঙ্ঘনকারী ছিলাম। আমরা আশা রাখি যে, আমাদের রব এর পরিবর্তে আমাদেরকে উত্তম বাগান দান করবেন; আমরা আমাদের রবের দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী। শাস্তি এভাবেই এসে থাকে; আর পরকালের শাস্তি তো আরো কঠিন, যদি তারা জানত।' (সূরা ক্বালাম: ১৭-৩৩)
কারুনের করুণ পরিণতি:
'কারূন ছিল মুসার সম্প্রদায়ভুক্ত, কিন্তু সে তাদের প্রতি বাড়াবাড়ি করেছিল। আর আমি তাকে দান করেছিলাম এমন ধনভাণ্ডার, যার চাবিগুলো বহন করা একদল শক্তিশালী লোকের পক্ষেও কষ্টসাধ্য ছিল। স্মরণ করো, যখন তার সম্প্রদায় তাকে বলেছিল, অহংকার করো না, নিশ্চয় আল্লাহ অহংকারীদেরকে পছন্দ করেন না। আল্লাহ তোমাকে যা দিয়েছেন তার দ্বারা আখিরাতের আবাস অনুসন্ধান করো এবং দুনিয়ার অংশ লাভ করতে ভুলে যেও না। তুমি অনুগ্রহ করো যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করার চেষ্টা করো না। (কেননা) আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদেরকে ভালোবাসেন না। সে বলল, এ সম্পদ আমি আমার জ্ঞানবলে প্রাপ্ত হয়েছি। সে কি জানত না- আল্লাহ তার পূর্বে বহু মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছেন, যারা ছিল শক্তিতে তার চেয়ে প্রবল এবং জনসংখ্যায় ছিল অধিক? অপরাধীদেরকে কি তাদের অপরাধ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে না? কারূন তার সম্প্রদায়ের সম্মুখে উপস্থিত হয়েছিল জাঁকজমক সহকারে। ফলে যারা পার্থিব জীবন কামনা করত তারা বলতে লাগল যে, হায়! কারূনকে যেরূপ দেয়া হয়েছে আমাদেরকেও যদি সেরূপ দেয়া হতো! প্রকৃতই সে মহাভাগ্যবান। কিন্তু যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছিল তারা বলল, ধিক তোমাদেরকে! যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য আল্লাহর পুরস্কারই সর্বশ্রেষ্ঠ; আর ধৈর্যশীল ব্যতীত তা কেউ লাভ করতে পারবে না। অতঃপর আমি কারূনকে তার প্রাসাদসহ ভূগর্ভে প্রোথিত করলাম। তার স্বপক্ষে এমন কোন দলও ছিল না, যে তাকে আল্লাহর শাস্তি হতে সাহায্য করতে পারত এবং সে নিজেও আত্মরক্ষায় সক্ষম ছিল না। ফলে ইতিপূর্বে যারা তার মতো হতে চেয়েছিল তারা বলতে লাগল, দেখলে তো! আল্লাহ তার বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা তার রিযিক বর্ধিত করেন এবং যার জন্য ইচ্ছা হ্রাস করেন। যদি আল্লাহ আমাদের প্রতি সদয় না হতেন তবে আমাদেরকেও ভূগর্ভে প্রোথিত করতেন। দেখলে তো! কাফিররা সফলকাম হয় না।' (সূরা ক্বাসাস: ৭৬-৮২)
টিকাঃ
১৯৭. মু'জামূস সগীর লিত তাবারানী, হা/৯৩৫; জামেউস সগীর, হা/১০৭৪৬; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৭৬২।
১৯৮. আবু দাউদ, হা/১৫৬৭; সুনানে দার কুতনী, হা/১৯৫১; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৭৭৯৭; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৪৩৭; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৭৬৯।
১৯৯. সহীহ বুখারী, হা/১৪০৩; বায়হাকী, হা/৭০১৫; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৫৬০; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৭৬১; মিশকাত, হা/১৭৭৪।
২০০. সহীহ মুসলিম, হা/২৩৩৯; আবু দাউদ, হা/১৬৬০; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৫৫৩; মুস্তাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/৫৮৭৪; বায়হাকী, হা/৭০১৭।
২০১. মু'জামুল আওসাত লিত তাবারানী, হা/৪৫৭৭; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৭৬৩।
২০২. ইবনে মাজাহ, হা/৪০১৯; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৮৬২৩; শু'আবুল ঈমান, হা/৩০৪২; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১০৬; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৭৬১।
২০৩. সহীহ বুখারী, হা/২৫; সহীহ মুসলিম, হা/১৩৮; নাসাঈ, হা/৩৯৬৯; ইবনে মাজাহ, হা/৭২; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৫২৫; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২২৪৮; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/১৭৫; মুসনাদুল বাযযার, হা/৯৮১০; দার কুতনী, হা/৮৯২; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৪২৮; মু'জামুল কাবীর লিত তাবরানী, হা/১৪৫৩৮; বায়হাকী, হা/৪৯২০; জামেউস সগীর, হা/২২৫১; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৪০৮; মিশকাত, হা/১২।
২০৪. সহীহ বুখারী, হা/১৩৯৯-১৪০০; সহীহ মুসলিম, হা/১৩৩; আবু দাউদ, হা/১৫৫৮; নাসাঈ, হা/২৪৪৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৩৫; মিশকাত, হা/১৭৯০।
📄 যাকাত ফরয হওয়ার শর্তসমূহ
১. মুসলিম হওয়া: ইসলামের ইবাদাতসমূহ কেবল মুসলিমদের জন্যই প্রযোজ্য। সুতরাং কোন অমুসলিমের উপর যাকাত আদায় করা ফরয নয়। ঈমান ব্যতীত কোন ইবাদাত গ্রহণযোগ্যও নয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন- 'তাদের দান গ্রহণে বাধা কেবল এই ছিল যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করত।' (সূরা তওবা- ৫৪)
২. স্বাধীন হওয়া :
যাকাত আদায়ের জন্য স্বাধীন হওয়া পূর্বশর্ত। সুতরাং কৃতদাস ও দাসীর উপর যাকাত আদায় করা ফরয নয়। কেননা তারা নিজেরাই অন্যের সম্পত্তির অংশ বিশেষ এবং তারা কোন সম্পদের মালিক হতে পারে না। হাদীসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করে বলেন, সাদাকাতুল ফিতর ব্যতীত ক্রীতদাসের উপর কোন সাদাকা নেই।
৩. নিসাব পরিমাণ সম্পদ হওয়া:
যাকাত ফরয হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ মাল বিদ্যমান থাকা আবশ্যক। সুতরাং যদি কারো নিকট নিসাব পরিমাণ সম্পদের চেয়ে সামান্য পরিমাণ কম সম্পদ বিদ্যমান থাকে, তার উপর যাকাত আদায় করা আবশ্যক নয়। যেমন- হাদীসে এসেছে, আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, পাঁচ ওয়াসাকের কম উৎপন্ন দ্রব্যের উপর যাকাত নেই, পাঁচটির কম উটের উপর যাকাত নেই এবং পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণ রৌপ্যের উপরও যাকাত নেই।
৪. সম্পদের পূর্ণ দখল (হস্তগত) থাকা :
যাকাত ফরয হওয়ার জন্য যাকাতের মালের পূর্ণ দখল থাকা আবশ্যক। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'তাদের সম্পদ হতে যাকাত গ্রহণ করো।' (সূরা তওবা- ১০৩) সুতরাং যেসব সম্পদ এখনও পূর্ণ হস্তগত হয়নি, সেসব সম্পদের উপর যাকাত আদায় করা আবশ্যক নয়। বরং যখন হস্তগত হবে তখন তার উপর যাকাত আবশ্যক হবে।
৫. এক বছর অতিবাহিত হওয়া:
যাকাত প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সময় প্রদান করতে হয় এবং উক্ত মাল ব্যক্তির নিকট এক বছর যাবৎ হস্তগত থাকতে হয়। তারপর যদি দেখা যায় যে, তার মাল নিসাব পরিমাণ হয়েছে, তাহলে তার উক্ত মালের যাকাত প্রদান করা আবশ্যক; নতুবা আবশ্যক হবে না। হাদীসে এসেছে, আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ -কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, এক বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সম্পদের কোন যাকাত নেই। সুতরাং কারো নিকট যদি ৫টি উট অথবা ৩০টি গরু অথবা ৪০টি ছাগল অথবা ৭.৫ ভরি স্বর্ণ থাকে এবং বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই তার থেকে কিছু অংশ হাত ছাড়া হয়ে যায়, তাহলে তার উপর যাকাত আদায় করা আবশ্যক হবে না। তবে জমি হতে উৎপন্ন ফসল কাটার সময়ই যাকাত দিয়ে দিতে হবে। এক্ষেত্রে এক বছর অতিবাহিত হওয়ার শর্তটি প্রযোজ্য হবে না। তাছাড়া গবাদি পশুর বাচ্চা এবং ব্যবসায়িক সম্পদের লভ্যাংশের ক্ষেত্রেও পূর্ণ এক বছর হওয়া শর্ত নয়। বরং এগুলো তাদের মূলের দিকে ফিরে যাবে। অর্থাৎ গবাদি পশুর বাচ্চার হিসাব তার মায়ের হিসাবের সাথে যোগ করা হবে এবং ব্যবসায়িক সম্পদের লভ্যাংশ তার মূলধনের সাথে যোগ করা হবে।
বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে যাকাত আদায়ের বিধান:
যাকাত ফরয হওয়ার জন্য একটি শর্ত হচ্ছে, নিসাব পরিমাণ সম্পদ পূর্ণ এক বছর হস্তগত থাকা। তবে কেউ যদি এক বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই যাকাত আদায় করতে চায়, তাহলে তার জন্য তা বৈধ আছে। হাদীসে এসেছে, আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ ﷺ কে এক বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই যাকাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে অনুমতি দিলেন।
টিকাঃ
২০৫. সহীহ মুসলিম, হা/২৩২৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/৯৪৩৬; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২২৮৯; সুনানে দার কুতনী, হা/২০২৪; জামেউস সগীর, হা/৯৫৪৪।
২০৬. সহীহ বুখারী, হা/১৪৮৪; সহীহ মুসলিম, হা/২৩১০; আবু দাউদ, হা/১৫৬০; তিরমিযী, হা/৬২৬; নাসাঈ, হা/২৪৪৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/৯২১০।
২০৭. ইবনে মাজাহ, হা/১৭৯২; মুসনাদুল বাযযার, হা/৩০৪; সুনানে দার কুতনী, হা/১৮৮৯; জামেউস সগীর, হা/১৩৪৫৪।
২০৮. আবু দাউদ, হা/১৬২৬; তিরমিযী, হা/৬৭৮; ইবনে মাজাহ, হা/১৭৯৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮২২; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৫৪৩১; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/১৯৭৫১; মিশকাত, হা/১৭৮৮।
📄 যেসব সম্পদের উপর যাকাত আদায় করা ফরয
যেসব সম্পদের উপর যাকাত আদায় করা ফরয হয়- সেগুলা মূলত ৫ প্রকার। যথা-
১. স্বর্ণ ও রৌপ্য : স্বর্ণ ও রৌপ্য হচ্ছে অনেক মূল্যবান খনিজ পদার্থ। আল্লাহ তা'আলা এগুলোর উপর পৃথকভাবে যাকাত নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুতরাং যার নিকট নিসাব পরিমাণ স্বর্ণ অথবা রৌপ্য পূর্ণ এক বছর পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে, তাকে অবশ্যই যাকাত দিতে হবে।
২. ব্যবসায়িক পণ্য : ব্যবসার উদ্দেশ্যে যেসব পণ্য উৎপাদন ও ক্রয়-বিক্রয় করা হয়, সেগুলোকেই ব্যবসায়িক পণ্য বলা হয়। আল্লাহ তা'আলা এসব পণ্যের ক্ষেত্রেও যাকাত নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং প্রতি বৎসরের নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবসায়িক পণ্যগুলো হিসাব করে তার উপর নির্ধারিত হারে যাকাত প্রদান করা আবশ্যক।
৩. গৃহপালিত পশু : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব গৃহপালিত পশুর উপর যাকাত ফরয করেছেন সেগুলো হলো- উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা। সুতরাং যার নিকট এসব সম্পদ নিসাব পরিমাণ পূর্ণ এক বছর পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে, তাকে অবশ্যই যাকাত প্রদান করতে হবে।
৪. ভূমি থেকে উৎপন্ন ফসল : যেসব ফসল ভূমি থেকে উৎপন্ন হয়, সেসব ফসল থেকেও যাকাত প্রদান করা আবশ্যক। যেমন- গম, যব, খেজুর, কিসমিস, ধান ইত্যাদি।
৫. খনিজ সম্পদ ও মাটির নিচে সঞ্চিত সম্পদ বা গুপ্তধন:
মাটির নিচে সাধারণত দুই ধরনের সম্পদ পাওয়া যায়। একটি হচ্ছে- খনিজ সম্পদ, যা আল্লাহ তা'আলা মানুষের জন্য সৃষ্টি করে মাটির নিচে রেখেছেন। যেমন- স্বর্ণ, রৌপ্য, তামা, ইউরেনিয়াম, কয়লা, গ্যাস ইত্যাদি। আর আরেকটি হচ্ছে, পূর্ববর্তী যুগের মানুষ কর্তৃক লুকিয়ে রাখা সম্পদ। যা আল্লাহ তা'আলা তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী যে কারো নিকট হস্তগত করার ব্যবস্থা করে দেন। আল্লাহ তা'আলা উভয় প্রকার সম্পদের উপর যাকাত আদায় করা আবশ্যক করে দিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এ ধরনের কোন সম্পদ প্রাপ্ত হবে, তার উপর নির্দিষ্ট পরিমাণ যাকাত প্রদান করা আবশ্যক হয়ে যাবে।
📄 যাকাতের নিসাব
যে পরিমাণ মাল থাকলে যাকাত ফরয হয় তাকে ‘নিসাব’ বলে। আর যিনি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক, তাকে ‘সাহেবে নিসাব’ বলা হয়। কোন ব্যক্তির নিকট যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে তার উপর যাকাত প্রদান করা ফরয হবে। নিচে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বস্তুর যাকাতের নিসাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো: