📄 যাকাতের গুরুত্ব
ভিত্তিগত দিক থেকে ইসলামে যাকাতের অবস্থান তৃতীয়। এর মধ্যে আল্লাহ তা'আলা অনেক প্রকার কল্যাণ নিহিত রেখেছেন। ফলে ইসলামে এর গুরুত্ব অনেক। নিম্নে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো :
যাকাত হচ্ছে ইসলামের তৃতীয় মূলভিত্তি :
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহর একত্ব ঘোষণা করা অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহর রাসূল- এ কথার সাক্ষ্য দেয়া, সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, হজ্জ করা এবং রমাযান মাসে সিয়াম পালন করা।
সকল নবীর যুগেই যাকাতের বিধান ছিল :
'তাদেরকে (নবীদেরকে) আমি নেতা বানিয়েছিলাম, যেন তাঁরা আমার নির্দেশানুসারে মানুষকে পথপ্রদর্শন করতে পারে। আর তাঁদের নিকট ওহী প্রেরণ করেছিলাম, যেন তাঁরা সৎকর্ম করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে; আর তাঁরা ছিল আমারই ইবাদাতকারী।' (সূরা আম্বিয়া- ৭৩)
সাহাবীরা যাকাত আদায় করতেন :
'তাঁরা এমন লোক, যাঁদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে এবং সালাত কায়েম ও যাকাত প্রদান করা হতে বিরত রাখে না। তাঁরা সেদিনকে ভয় করে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।' (সূরা নূর- ৩৭)
যাকাত আদায় করা মুমিনের একটি মৌলিক গুণ:
'মুমিন নর-নারী একে অপরের বন্ধু, তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে, সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে। অচিরেই আল্লাহ তাঁদের উপর অনুগ্রহ করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।' (সূরা তওবা- ৭১)
যাকাত হচ্ছে পরকালীন নাজাতের ক্ষেত্রে দলীলস্বরূপ :
আবু মালিক আশ'আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, পরিপূর্ণভাবে অযু করা ঈমানের অংশ বিশেষ। 'আলহামদুলিল্লাহ' পাল্লাকে ভারী করে, 'সুবহানাল্লাহ' ও 'আল্লাহু আকবার' আসমান ও জমিনকে পূর্ণ করে। আর সালাত হলো নূর, যাকাত হলো দলীল, ধৈর্য হলো আলো এবং কুরআন হচ্ছে তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে দলীলস্বরূপ।
সরকারিভাবে যাকাত উত্তোলনের জন্য নবী ﷺ এর প্রতি নির্দেশ :
'তাদের সম্পদ হতে যাকাত গ্রহণ করো। এর দ্বারা তুমি তাদেরকে পবিত্র করবে এবং পরিশুদ্ধ করবে। আর তুমি তাদের জন্য দু'আ করো। নিশ্চয় তোমার দু'আ তাদের জন্য প্রশান্তিদায়ক; আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।' (সূরা তওবা- ১০৩)
রাসূলুল্লাহ ﷺ যাকাত আদায়ের জন্য বায়'আত গ্রহণ করতেন :
জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে সালাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত আদায় করা এবং প্রত্যেক মুসলিমের জন্য কল্যাণ কামনা করার জন্য বাই'আত গ্রহণ করেছি।
যাকাত হচ্ছে আখিরাতের পুঁজি :
দুনিয়া হচ্ছে মানবজাতির জন্য আখিরাতের বিভিন্ন ধরনের বালা-মুসিবত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য পুঁজি সংগ্রহ করার স্থান। কেননা সেদিন কোন টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ইত্যাদি কোন কাজে আসবে না; বরং সেদিন কেবল ঐ জিনিসগুলোই কাজে আসবে, যা সে দুনিয়ায় থাকাকালীন সময় আখিরাতের পুঁজি হিসেবে প্রেরণ করেছে। আর যাকাত হচ্ছে সে ধরনেরই একটি পুঁজি। মানুষ যদি যথাযথভাবে যাকাত আদায় করে সে সকল পুঁজিকে সমৃদ্ধশালী করে তুলে, তাহলে পরকালে তার জন্য নাজাত লাভ করা খুবই সহজ হয়ে যাবে। তাছাড়া মানুষ যদি দুনিয়াতে সামান্য পরিমাণ সম্পদ দান করে, তাহলে আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার পুঁজিকে আরো বহু গুণ সমৃদ্ধশালী করে উপস্থাপন করবেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'মানুষের ধনসম্পদে তোমাদের সম্পদ বৃদ্ধি পাবে- এ আশায় তোমরা যা কিছু সুদে (ঋণ) দিয়ে থাক, আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না। পক্ষান্তরে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য যা কিছু যাকাত হিসেবে দিয়ে থাক, তবে এরূপ লোকের (প্রদত্ত বস্তু) আল্লাহর নিকট বৃদ্ধি পেতে থাকবে।' (সূরা রূম- ৩৯)
হাদীসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের পবিত্র (হালাল) উপার্জন থেকে একটি খেজুর পরিমাণ দান করল আর আল্লাহর কাছে পবিত্র জিনিসই গৃহীত হয়, আল্লাহ তা'আলা ঐ দানকে নিজ ডান হাতে কবুল করেন। অতঃপর তা দানকারীর জন্য লালন-পালন করতে থাকেন যেমনিভাবে তোমাদের মধ্য হতে কেউ বকরির বাচ্চাকে লালন-পালন করে থাকে, অতঃপর তা পাহাড় সমতুল্য হয়ে যায়।
শয়তান যাকাত আদায় না করার জন্য কুমন্ত্রণা দেয়:
দুনিয়াতে মানুষের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস হল তার সম্পদ। তারা এগুলো অনেক কষ্ট করে উপার্জন করে থাকে। তাই এগুলোকে রক্ষা করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে থাকে এবং এগুলো হাত ছাড়া করতে সবসময় নারাজ থাকে। আর শয়তান মানুষের মানসিকতার এ সুযোগটাকেই যথাযথভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। ফলে অনেক মানুষ এটা জরিমানা বা অর্থদণ্ড মনে করে বসে এবং সম্পদ কমে যাওয়া বা গরীব হয়ে যাওয়ার ভয় করে। যাতে করে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যাকাত আদায় না করে কুফরীতে লিপ্ত হয়। আল্লাহ তা'আলা শয়তানের এসব কুমন্ত্রণা ফাঁস করে দিয়ে বলেন, 'শয়তান তোমাদেরকে অভাবের ভয় দেখায় এবং অশ্লীল কাজের আদেশ দেয়; অথচ আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। আল্লাহ অসীম করুণাময় ও মহাজ্ঞানী।' (সূরা বাকারা- ২৬৮)
হাদীসে এসেছে, বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যখনই কোন ব্যক্তি তার যাকাত বের করে, তখনই সে তার দ্বারা ৭০টি শয়তানের চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দেয়।
যাকাত আদায়কারীদের জন্য ফেরেশতাগণ দু'আ করেন:
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেছেন, প্রতিদিন সকালে যখন আল্লাহর বান্দারা ঘুম থেকে উঠে, তখন দু'জন ফেরেশতা আকাশ থেকে অবতরণ করেন। তাদের একজন বলতে থাকেন, হে আল্লাহ! দানশীল ব্যক্তিকে প্রতিদান দাও। অপরজন বলতে থাকেন, হে আল্লাহ! কৃপণকে নিঃশেষ করো।
টিকাঃ
১৮৫. সহীহ বুখারী, হা/৮; সহীহ মুসলিম, হা/১২১; তিরমিযী, হা/২৬০৯; নাসাঈ, হা/৫০০১; মুসনাদে আহমাদ, হা/৬০১৫; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/৩০৮; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/১৫৮; মিশকাত, হা/৪।
১৮৬. নাসাঈ, হা/২৪৩৭; ইবনে মাজাহ, হা/২৮০।
১৮৭. সহীহ বুখারী, হা/৫৭; সহীহ মুসলিম, হা/২০৮; তিরমিযী, হা/১৯২৫; নাসাঈ, হা/৪১৭৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৯১৮৬; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২৩১৫; মিশকাত, হা/৪৯৬৭।
১৮৮. সহীহ বুখারী, হা/ ১৪১০; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৩৬৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৩১৯; মুসনাদুল বাযযার, হা/৮৯৮০; মিশকাত, হা/১৮৮৮।
১৮৯. মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৫২১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩০১২; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২৪৫৭; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৮০৭১; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১২৬৮।
১৯০. সহীহ বুখারী, হা/১৪৪২; সহীহ মুসলিম, হা/২৩৮৩; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৯১৩৪; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৯২০; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৯১৪; মিশকাত, হা/১৮৬০।
📄 যাকাতের হুকুম
যাকাত আদায় করা ফরয। যার উপর যাকাত ফরয হওয়ার শর্তাবলি পাওয়া যাবে, তাকে অবশ্যই যাকাত আদায় করতে হবে। আর যে ব্যক্তি এটাকে অস্বীকার করবে, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে এবং মুরতাদ হিসেবে বিবেচিত হবে।
যাকাত অমান্যকারী কাফির:
যাকাত হচ্ছে একটি ফরয ইবাদাত। সুতরাং যে ব্যক্তি এর ফরয হওয়াকে অস্বীকার করবে, সে সর্বসম্মতিক্রমে কাফির ও মুরতাদ হয়ে যাবে। আর যারা এটাকে মৌখিকভাবে স্বীকার করে; কিন্তু আমলগতভাবে যাকাত দিতে অস্বীকার করে তাদের ব্যাপারে বড় বড় ফিকহবিদগণের বক্তব্য হচ্ছে, কেউ যদি যাকাত ফরয হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করা সত্ত্বেও যাকাত দিতে অস্বীকার করে, তাহলে দেখতে হবে যে, সে কেন তা অস্বীকার করছে- সে কি নওমুসলিম হিসেবে এ ব্যাপারে এখনও অবহিত হতে পারেনি, নাকি ইসলামী সমাজসভ্যতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকার কারণে এরূপ মনোভাব পোষণ করছে; যদি এরূপ হয়, তাহলে তাকে কাফির বলা যাবে না। তখন প্রথমে তাকে ভালোভাবে বুঝাতে হবে; তারপর তার কাছ থেকে যাকাত নিয়ে নিতে হবে। এরপরও সে যদি যাকাত দিতে অস্বীকার করে, তাহলে অবশ্যই তাকে কাফির বলতে হবে।
আর যদি বিষয়টি তার কাছে স্পষ্ট হওয়ার পরও সে তা অস্বীকার করে, তাহলে সে কাফির বলে গণ্য হবে এবং তার উপর মুরতাদ হওয়ার শাস্তি কার্যকর হবে। প্রথমে তাকে তওবা করতে বলা হবে এবং তওবা না করলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। কেননা যাকাত ফরয হওয়ার বিষয়টি সর্বজন স্বীকৃত এবং তা দ্বীন-ইসলামের অবিচ্ছিন্ন অঙ্গ। কাজেই তা অস্বীকার করা হলে আল্লাহকেই অস্বীকার করা হয় এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ কেও অমান্য করা হয়। অতএব তাদের কাফির হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ থাকে না। নিচে এ সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসের বক্তব্য তুলে ধরা হলো:
যাকাত আদায়ের জন্য আল্লাহর নির্দেশ:
আল্লাহ তা'আলা কুরআন মাজীদের অনেক আয়াতেই সালাত কায়েমের সাথে সাথে যাকাত আদায়ের কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন- তিনি বলেন, 'আর তোমরা সালাত প্রতিষ্ঠা করো ও যাকাত প্রদান করো এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু করো।' (সূরা বাকারা- ৪৩)
'সালাত প্রতিষ্ঠা করো, যাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও।' (সূরা মুয্যাম্মিল- ২০)
মহিলাদের প্রতিও যাকাত আদায়ের নির্দেশ এসেছে :
'তোমরা (মহিলারা) সালাত আদায় করো, যাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো।' (সূরা আহযাব- ৩৩)
অত্র আয়াতে আল্লাহ তা'আলা এককভাবে মহিলাদেরকেও যাকাত প্রদানের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
যাকাত আদায় করার জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নির্দেশ :
ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ মু'আয ইবনে জাবাল (রাঃ) কে ইয়ামানে পাঠানোর সময় বললেন, প্রথমে তুমি তাদেরকে এই কালেমার সাক্ষ্য দেয়ার জন্য আহ্বান জানাবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। যদি তারা এটা মেনে নেয় তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তা'আলা তাদের উপর দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা ফরয করেছেন। যদি তারা এটারও আনুগত্য করে তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তাদের মালের মধ্যে যাকাত ফরয করেছেন। যা তাদের ধনীদের থেকে নেয়া হবে এবং তাদের গরীবদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।
উপরোক্ত আয়াত এবং হাদীস থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, যাকাত আদায় করা ফরয। সুতরাং যার উপর যাকাত ফরয হওয়ার শর্তাবলি পাওয়া যাবে, তাকে অবশ্যই যাকাত আদায় করতে হবে।
টিকাঃ
১৯১. সহীহ বুখারী, হা/১৩৯৫; সহীহ মুসলিম, হা/১৩০; আবু দাউদ, হা/১৫৮৬; তিরমিযী, হা/৬২৫; ইবনে মাজাহ, হা/১৭৮৩; নাসাঈ, হা/২৫২২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৭১; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২২৭৫; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/৯৯২৪; দার কুতনী, হা/২০৫৮; মুস্তাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/২১১৫; বায়হাকী, হা/৭০৬৮; সুনানে দারেমী, হা/১৬১৪; মিশকাত, হা/১৭৭২।
📄 যাকাত আদায়ের উপকারিতা
যাকাত একটি লাভজনক ব্যবসা :
'যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, সালাত কায়েম করে এবং তাদেরকে যা কিছু রিযিক হিসেবে দান করেছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে; তারা এমন ব্যবসার আশা করে, যাতে কখনো লোকসান হবে না।' (সূরা ফাতির- ২৯)
যাকাত আদায় করলে সম্পদ বৃদ্ধি পায় :
বাহ্যিক দৃষ্টিতে যাকাত আদায় করলে সম্পদ কমে যায় বলে মনে হলেও, মূলত এর মাধ্যমে সম্পদ আরো বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে, তিনি তার বিনিময় দান করবেন। আর তিনিই শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।' (সূরা সাবা- ৩৯)
'মানুষের ধনসম্পদে তোমাদের সম্পদ বৃদ্ধি পাবে- এ আশায় তোমরা যা কিছু সুদে (ঋণ) দিয়ে থাক, আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না। পক্ষান্তরে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য যা কিছু যাকাত হিসেবে দিয়ে থাক; এরূপ লোকের (প্রদত্ত বস্তু) আল্লাহর নিকট বৃদ্ধি পেতে থাকবে।' (সূরা রূম- ৩৯)
'আল্লাহ সুদকে ধ্বংস করেন এবং দানকে বর্ধিত করেন। আর আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক অকৃতজ্ঞ পাপীকে ভালোবাসেন না।' (সূরা বাকারা- ২৭৬)
তাছাড়া হাদীসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ হতে বর্ণনা করে বলেন, দান সম্পদ কমায় না এবং ক্ষমার দ্বারা আল্লাহ তা'আলা কোন বান্দার সম্মান হ্রাস করেন না; বরং বৃদ্ধি করেন। আর যদি কেউ আল্লাহর জন্য বিনয় প্রকাশ করে, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তাকে আরো উন্নত করেন।
অপর হাদীসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেছেন, প্রতিদিন সকালে যখন আল্লাহর বান্দারা ঘুম থেকে উঠে, তখন দু'জন ফেরেশতা আকাশ থেকে অবতরণ করেন। তাদের একজন বলতে থাকেন, হে আল্লাহ! দানশীল ব্যক্তিকে প্রতিদান দাও। অপরজন বলতে থাকেন, হে আল্লাহ! কৃপণকে নিঃশেষ করো।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের পবিত্র (হালাল) উপার্জন থেকে একটি খেজুর পরিমাণ দান করল আর আল্লাহর কাছে পবিত্র জিনিসই গৃহীত হয়, আল্লাহ তা'আলা ঐ দানকে নিজ ডান হাতে কবুল করেন। অতঃপর তা দানকারীর জন্য লালন-পালন করতে থাকেন যেমনিভাবে তোমাদের মধ্য হতে কেউ তার বকরির বাচ্চাকে লালন-পালন করে থাকে, অতঃপর তা পাহাড় সমতুল্য হয়ে যায়।
যাকাত দিলে আত্মা পবিত্র হয়:
'তাদের সম্পদ হতে 'সাদাকা' গ্রহণ করবে। এটার দ্বারা তুমি তাদেরকে পবিত্র করবে এবং পরিশুদ্ধ করবে। তুমি তাদের জন্য দু'আ করবে। তোমার দু'আ তো তাদের জন্য প্রশান্তি যোগায়। আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।' (সূরা তওবা- ১০৩)
যাকাত আদায় করলে আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়:
'মরুবাসীদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে, যাদের কেউ কেউ আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে এবং যা ব্যয় করে সেটাকে আল্লাহর সান্নিধ্য ও রাসূলের দু'আ লাভের উপায় মনে করে। বাস্তবিকই তা তাদের জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়, (কেননা এর মাধ্যমেই) আল্লাহ তাদেরকে নিজ রহমতে প্রবেশ করাবেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।' (সূরা তওবা- ৯৯)
যাকাত আদায়কারীরা আল্লাহর সাহায্য লাভ করে:
'আল্লাহ তা'আলা বলেছিলেন, তোমরা যদি সালাত কায়েম কর এবং যাকাত দাও, তবে নিশ্চয় আমি তোমাদের সাথেই আছি।' (সূরা মায়েদা- ১২)
যাকাত আদায় করলে আল্লাহর রহমত লাভ হয়:
'আমার দয়া প্রত্যেক বস্তুর উপর প্রশস্ত। সুতরাং আমি তা তাদের জন্য নির্ধারণ করব, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, যাকাত দেয় এবং আমার নিদর্শনসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে।' (সূরা আ'রাফ- ১৫৬)
যাকাতের প্রতিদান আল্লাহর কাছে পাওয়া যাবে :
'তোমরা সালাত প্রতিষ্ঠা করো, যাকাত প্রদান করো। আর তোমরা নিজেদের জন্য যেসব সৎকর্ম আগে প্রেরণ করেছ তা আল্লাহর নিকট পাবে। তোমরা যা করছ নিশ্চয় আল্লাহ তা দেখছেন।' (সূরা বাকারা- ১১০)
যাকাত আদায়কারীরাও সফলতা লাভ করে:
'অবশ্যই সফলকাম হয়েছে ঐসব মুমিনগণ, যাঁরা নিজেদের সালাতে বিনয় ও নম্র, যাঁরা অনর্থক ক্রিয়াকলাপ হতে বিরত থাকে, যাঁরা যাকাত দানে সক্রিয়।' (সূরা মু'মিনূন: ১-৪)
যাকাত আদায় করা জাহান্নাম থেকে বাঁচার উপায়:
'অচিরেই সে ব্যক্তিকে তা (জাহান্নাম) থেকে দূরে রাখা হবে, যে আল্লাহকে ভয় করে এবং যে পবিত্রতা অর্জনের উদ্দেশ্যে নিজের ধনসম্পদ হতে ব্যয় করে।' (সূরা লাইল- ১৭, ১৮)
যাকাত আদায় করলে জান্নাত লাভ করা যায়:
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা এক বেদুইন রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে এমন কিছু আমলের কথা বলে দিন, যার মাধ্যমে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। তখন তিনি বললেন, তুমি আল্লাহর ইবাদাত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না, ফরয সালাত আদায় করবে, ফরয যাকাত আদায় করবে এবং রমযান মাসে রোযা রাখবে। তখন লোকটি বলল, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ! আমি এর থেকে সামান্যতম বেশিও করব না এবং সামান্যতম কমও করব না। অতঃপর যখন লোকটি চলে গেল তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি কোন জান্নাতী লোককে দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন এই লোকটিকে দেখে।
যাকাত আদায়কারীরা ইসলামী রাষ্ট্রে নিরাপত্তা লাভ করে থাকে :
'অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদেরকে যেখানে পাবে হত্যা করবে। তাদেরকে বন্দী করবে, অবরোধ করবে এবং প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের জন্য ওঁৎ পেতে (বসে) থাকবে। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয়, তবে তাদের পথ ছেড়ে দেবে। নিশ্চয় আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।' (সূরা তওবা- ৫)
যাকাত আদায় করলে সম্পদ থেকে অকল্যাণ দূর হয়:
জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! যদি কেউ তার সম্পদের যাকাত আদায় করে তাহলে কি হবে? তখন তিনি বলেন, যদি কেউ তার সম্পদের যাকাত আদায় করে, তাহলে তার সম্পদের অকল্যাণ দূর হয়ে যাবে।
যাকাত আদায় করলে আল্লাহর সাহায্য লাভ করা যায় :
'আল্লাহ নিশ্চয় তাকে সাহায্য করেন, যে তাঁকে সাহায্য করে। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিমান ও পরাক্রমশালী। আমি এদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা দান করলে এরা সালাত কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে।' (সূরা হাজ্জ- ৪০, ৪১)
যাকাত আদায় করলে মুসলিম ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি পায় :
যাকাত হচ্ছে পরস্পর সাহায্য-সহযোগিতামূলক একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত। যাকাতের মাধ্যমে পরস্পর সাহায্য-সহযোগিতার ব্যাপক আদান-প্রদান হয়। যার কারণে যাকাত প্রদানকারী এবং যাকাত গ্রহণকারী উভয় পক্ষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব আরো বৃদ্ধি পায়। এজন্যই আল্লাহ তা'আলা উভয় পক্ষকে পরস্পর দ্বীনি ভাই হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বলেন, 'অতএব যদি তারা সালাত আদায় করে ও যাকাত দেয়, তবে তারা তো তোমাদেরই দ্বীনি ভাই। আর আমি আমার নিদর্শনসমূহ জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন লোকদের জন্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে থাকি।' (সূরা তওবা- ১১)
যাকাতের মাধ্যমে দারিদ্রতা দূর হয়:
ইসলামী শরীয়তে যাকাত ফরয হওয়ার প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে দারিদ্রতা দূর করা। তার উপর এটা সর্বজ্ঞ আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক প্রদত্ত একটি বাধ্যতামূলক বিধান। সমাজে যাতে সকলেই স্বাচ্ছন্দের সাথে জীবন পরিচালনা করতে পারে এবং ধনী-গরীবের মধ্যে ব্যবধান না থাকে- এ মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই আল্লাহ তা'আলা বান্দাদের জন্য যাকাতের বিধান প্রণয়ন করেছেন। সুতরাং দারিদ্রতা বিমোচনে যাকাতের ভূমিকা অদ্বিতীয়। যে সমাজে যাকাত ব্যবস্থার যথাযথ প্রচলন রয়েছে, সে সমাজে দারিদ্রতার ছোঁয়া লাগতে পারে না। বরং সেটিই হয়ে উঠে বিশ্বের সবচেয়ে সুখী ও সমৃদ্ধশীল সমাজ।
সমাজে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমে যায় :
যে কোন সমাজের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মূল হচ্ছে দারিদ্রতা। দারিদ্রতার কারণে মানুষ নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। আর যেহেতু যাকাত দারিদ্রতাকে নির্মূল করে দেয়, সুতরাং সমাজে সুষ্ঠভাবে যাকাত ব্যবস্থা চালু থাকলে সমাজে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও কমে যাবে।
টিকাঃ
১৯২. সহীহ মুসলিম, হা/৬৭৫৭; তিরমিযী, হা/২০২৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৯৯৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩২৪৮; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২৪৩৮; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১২৮৭; সুনানে দারেমী, হা/১৬৭৬; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২৮৯১; মিশকাত, হা/১৮৮৯।
১৯৩. সহীহ বুখারী, হা/১৪৪২; সহীহ মুসলিম, হা/২৩৮৩; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৯১৩৪; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৮০৬৮; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৮৬৭৯; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৯১৪; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৯২০; মিশকাত, হা/১৮৬০।
১৯৪. সহীহ বুখারী, হা/ ১৪১০; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৩৬৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৩১৯; মুসনাদুল বাযযার, হা/৮৯৮০; মিশকাত, হা/১৮৮৮।
১৯৫. সহীহ বুখারী, হা/১৩৯৭; সহীহ মুসলিম, হা/১১৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৪৯৬; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৭৪৮; মিশকাত, হা/১৪।
১৯৬. মু'জামুল আওসাত লিত তাবারানী, হা/১৫৭৯; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৭৪৩।
📄 যাকাত আদায় না করার পরিণতি
যাকাত হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে আগত রিযিক বণ্টনের একটি সুষম ব্যবস্থা। এতে বান্দাদের জন্য রয়েছে বহুমুখী কল্যাণ। বান্দা এর মাধ্যমে যেমনিভাবে দুনিয়াতে উপকার লাভ করে থাকে, ঠিক তেমনিভাবে আখিরাতে আরো বেশি উপকার লাভ করতে পারে। অনুরূপভাবে বান্দা যদি এর পূর্ণ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে তাকে উভয় জগতে মারাত্মক পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো :
যাকাত আদায় না করাটা মুনাফিকীর লক্ষণ :
আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে মুনাফিকদের যেসব কার্যকলাপ বর্ণনা করেছেন, তার মধ্যে একটি হচ্ছে যাকাত আদায় না করা। যেমন- তিনি বলেন, 'তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর নিকট অঙ্গীকার করেছিল যে, আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে আমাদেরকে দান করলে নিশ্চয় আমরা সাদাকা করব এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হব। অতঃপর যখন তিনি নিজ কৃপায় তাদেরকে তা দান করলেন, তখন তারা এ বিষয়ে কার্পণ্য করল এবং বিরুদ্ধভাবাপন্ন হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিল। পরিণামে তাদের অন্তরে কপটতা স্থান পেল আল্লাহর সহিত ওদের সাক্ষাৎ দিবস পর্যন্ত। কেননা তারা আল্লাহর নিকট যে অঙ্গীকার করেছিল, তা ভঙ্গ করেছিল; আর তারা ছিল মিথ্যাচারী।' (সূরা তাওবা : ৭৫-৭৭)
যারা যাকাত দেবে না তাদের ধ্বংস অনিবার্য:
'দুর্ভোগ মুশরিকদের জন্য, যারা যাকাত প্রদান করে না এবং আখিরাতের প্রতিও বিশ্বাস স্থাপন করে না।' (সূরা হা-মীম সিজদা- ৬)
তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করতে হবে :
আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যাকাত ত্যাগকারী কিয়ামতের দিন জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসলেন। এ সময় তিনি আমার হাতে রূপার তৈরি একটি বড় আংটি দেখতে পান। তখন তিনি বলেন, এটা কী- হে আয়েশা? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উদ্দেশ্যে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য এটা তৈরি করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এর যাকাত দাও? আমি বললাম, না অথবা আল্লাহর যা ইচ্ছা ছিল। তখন তিনি বললেন, তোমাকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট।
যাকাত আদায় না করলে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে :
'যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় না করে, তাদেরকে মর্মান্তিক শাস্তির সুসংবাদ দাও।' (সূরা তওবা- ৩৪)
কিয়ামতের দিন তাদের ললাট, পার্শ্বদেশ ও পৃষ্ঠদেশে দাগ দেয়া হবে :
'যেদিন তা (যাকাতের মাল) জাহান্নামের অগ্নিতে উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্বদেশ ও পৃষ্ঠদেশে দাগ দেয়া হবে। সেদিন বলা হবে, এটাই তো সেটা যা তোমরা নিজেদের জন্য পুঞ্জীভূত করতে। সুতরাং তোমরা যা পুঞ্জীভূত করেছিলে তার স্বাদ আস্বাদন করো।' (সূরা তওবা- ৩৫)
তাদের সম্পদ দিয়ে তাদের গলায় বেড়ি পরিয়ে দেয়া হবে:
'আল্লাহ যাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহ হতে কিছু দান করেছেন, অথচ তারা সে বিষয়ে কার্পণ্য করে, তারা যেন এরূপ ধারণা না করে যে, ওটা তাদের জন্য কল্যাণকর; বরং ওটা তাদের জন্য আরো ক্ষতিকর। তারা যে বিষয়ে কৃপণতা করেছে, কিয়ামতের দিন ওটাই তাদের গলার বেড়িতে পরিণত হবে। (জেনে রেখো) আল্লাহ নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের স্বত্ত্বাধিকারী; আর তোমরা যা করছ আল্লাহ সে বিষয়ে পূর্ণ খবর রাখেন।' (সূরা আলে ইমরান- ১৮০)
যাকাতের সম্পদ বিষধর সাপে পরিণত হয়ে দংশন করবে :
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যাকে আল্লাহ তা'আলা ধনসম্পদ দান করেছেন; কিন্তু সে তার যাকাত আদায় করেনি, শেষ বিচারের দিন সে ধনসম্পদ এমন বিষধর সাপে পরিণত হবে, যার মাথার উপর থাকবে দু'টি কালো দাগ। এ সাপ সে ব্যক্তির গলায় ঝুলে তার দু'গালে কামড়াতে থাকবে এবং বলবে, "আমিই তোমার মাল, আমিই তোমার সঞ্চিত সম্পদ।” অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ এ আয়াত পাঠ করলেন- “আল্লাহ তাদেরকে নিজের অনুগ্রহে যা কিছু দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে তারা যেন মনে না করে যে, এটা তাদের জন্য কল্যাণকর হবে; বরং এটা তাদের জন্য ক্ষতিকর। যেসব জিনিসের ব্যাপারে তারা কার্পণ্য করে কিয়ামতের দিন সেসব ধনসম্পদকে বেড়ি বানিয়ে তাদের গলায় পরানো হবে। আর আল্লাহ হচ্ছেন আসমান ও জমিনের পরম সত্ত্বাধিকারী। আর যা কিছু তোমরা কর; আল্লাহ তা'আলা সে সম্পর্কে জানেন।”
পশুর যাকাত আদায় না করলে উক্ত পশু দ্বারাই আযাব দেয়া হবে :
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যেসব ধনাঢ্য ব্যক্তি নিজেদের ধনসম্পদের যাকাত আদায় করে না কিয়ামতের দিন তাদের এ সম্পদ দোযখের আগুনে গরম করে পাত তৈরি করা হবে এবং তা দিয়ে তাদের দেহের উভয় পার্শ্ব ও ললাটে দাগ দেয়া হবে। তার শাস্তি বান্দাদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। এ সময়কার একটি দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর কেউ পথ ধরবে জান্নাতের দিকে আর কেউ ধরবে জাহান্নামের দিকে। আর যেসব উটের মালিকরা যাকাত আদায় করবে না তাদেরকে একটি সমতল মাঠে উপুড় করে শুয়ে রাখা হবে এবং ঐসব উট স্থুল দেহ নিয়ে আসবে যেমনটি তারা পৃথিবীতে ছিল এবং এগুলো তাদেরকে পা দিয়ে মাড়াতে মাড়াতে অগ্রসর হবে। এভাবে যখনই এর শেষ দলটি অতিক্রম করবে পুনরায় এর প্রথম দল এসে পৌঁছবে। এগুলো তাদেরকে মাড়াতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের বিচার শেষ না করবেন। আর এ কাজ এমন এক দিনে করা হবে, যা পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান হবে। অতঃপর কেউ পথ ধরবে জান্নাতের দিকে আর কেউ ধরবে জাহান্নামের দিকে। আর যেসব ছাগলের মালিকরা তার যাকাত আদায় করবে না তাদেরকে একটি সমতল মাঠে উপুড় করে ফেলে রাখা হবে এবং তার ছাগলগুলো মোটাতাজা অবস্থায় যেমনটি পৃথিবীতে ছিল, সেগুলো এসে তাদের খুর দিয়ে তাকে মাড়াতে থাকবে এবং শিং দিয়ে গুতো মারতে মারতে অগ্রসর হবে। অথচ সেদিন কোন একটি ছাগলই শিং বাঁকা, শিংহীন বা শিং ভাঙ্গা হবে না। যখন এদের শেষ দল অতিক্রম করবে পুনরায় প্রথম দল এসে পৌঁছবে। আর এভাবে আযাব চলতে থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের বিচার সমাপ্ত করেন। এ শাস্তি এমন এক দিনে হবে, যার পরিমাণ হবে তোমাদের হিসাবানুসারে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর কেউ তার পথ ধরবে জান্নাতের দিকে আর কেউ ধরবে জাহান্নামের দিকে।
যাকাত আদায় না করলে দুনিয়াতে আল্লাহর গযব নাযিল হয় :
বুরাইদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যখন কোন জাতি যাকাত আদায় না করে তখন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে দুর্ভিক্ষ ও অনাবৃষ্টিতে আক্রান্ত করেন।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ﷺ আমাদের নিকট এসে বললেন, হে মুহাজিরগণ! তোমরা পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। তবে আমি আশ্রয় চাচ্ছি তোমরা যেন পরীক্ষার সম্মুখীন না হও। (১) যখন কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্য অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, তখন সে জাতির উপর প্লেগ রোগের আবির্ভাব হয়। (২) যখন কোন জাতি ওজন ও মাপে কম দেয়, তখন সে জাতির উপর নেমে আসে দুর্ভিক্ষ, কঠিন বালা-মুসিবত এবং অত্যাচারী শাসক তাদের উপর নিপিড়ন করতে থাকে। (৩) যখন কোন জাতি তাদের সম্পদের যাকাত আদায় করে না, তখন তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেয়া হয়। যদি চতুষ্পদ প্রাণী না থাকত, তাহলে তাদের উপর বৃষ্টিপাত হতো না। (৪) যখন কোন জাতি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের অঙ্গীকার পূরণ করে না, তখন আল্লাহ তাদের বিজাতীয় দুশমনকে তাদের উপর বিজয়ী করেন; যারা এসে তাদের হাত থেকে কিছু সম্পদ কেড়ে নিয়ে যায়। (৫) আর যখন তাদের ইমামগণ আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী বিচার-ফায়সালা করে না এবং আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানকে প্রত্যাখ্যান করে, তখন আল্লাহ তাদের পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ বাধিয়ে দেন।
সরকার তাদের উপর জবরদস্তি করতে পারবে :
যদি তারা ইসলামী রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে সরকার তাদের থেকে যাকাত আদায় করার জন্য জবরদস্তি করতে পারবে। কেননা হাদীসে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্যিকার ইলাহ নেই ও মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর সালাত কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে। তারা যদি এ কাজগুলো করে, তবে আমার পক্ষ থেকে তারা তাদের ব্যাপারে ও তাদের মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করল; অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোন কারণ থাকে (যেমন: কিসাস, রজম ইত্যাদি) তাহলে স্বতন্ত্র কথা। আর তাদের হিসাবের ভার আল্লাহর উপর ন্যস্ত।
যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে আবু বকর (রাঃ) যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন:
কোন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করার পরেও যেসব কারণে তার জান-মালের নিরাপত্তা বাতিল হয়ে যায়, তার মধ্যে একটি হচ্ছে যাকাত আদায় করতে অস্বীকার করা। যার কারণে আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। হাদীসে এসেছে,
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ মৃত্যুবরণ করেন, তখন আবু বকর (রাঃ) খলীফা নিযুক্ত হন। এ সময় আরবের একদল লোক (যাকাত অস্বীকার করে) মুরতাদ হয়ে গেল। [আবু বকর (রাঃ) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সংকল্প করলেন] উমর (রাঃ) বললেন, আপনি কিরূপে লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন? অথচ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন : “আমি (আল্লাহর পক্ষ থেকে) লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যে পর্যন্ত না তারা বলে 'লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ (আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই) আর যে ব্যক্তি 'লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ' বলল, সে তার জান-মাল আমার হাত থেকে রক্ষা করল। অবশ্য আইনের দাবী আলাদা। (অর্থাৎ ইসলামের বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় কোন অপরাধ করলে তাকে অবশ্যই শাস্তি ভোগ করতে হবে)। তবে তার আসল বিচারের ভার আল্লাহর উপর ন্যস্ত। তখন আবু বকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! যে ব্যক্তি সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। কেননা যাকাত হচ্ছে মালের (উপর বঞ্চিতের) অধিকার। আল্লাহর কসম! যদি তারা আমাকে একটি রশি প্রদান করতেও অস্বীকৃতি জানায়, যা তারা (যাকাত বাবদ) রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে প্রদান করত, তাহলে আমি এ অস্বীকৃতির কারণে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। এবার উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! ব্যাপারটা এ ছাড়া আর কিছুই নয় যে, আল্লাহ তা'আলা আবু বকরের হৃদয়কে যুদ্ধের জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছিলেন। আমি স্পষ্টই উপলদ্ধি করলাম, এটাই (আবু বকরের সিদ্ধান্তই) সঠিক এবং যথার্থ।
বাগানওয়ালাদের পরিণতি:
'আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি, যেভাবে পরীক্ষা করেছিলাম বাগানের মালিকদেরকে। যখন তারা এ শপথ করেছিল যে, তারা বাগান হতে প্রত্যুষেই ফল কেটে নেবে; কিন্তু তারা 'ইনশাআল্লাহ' বলেনি। অতঃপর সেই বাগানে তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে এক আযাব পতিত হলো, তখন তারা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল। ফলে তা পুড়ে ছাই বর্ণ ধারণ করল। এরপর সকালে তারা একে অপরকে ডেকে বলল, তোমরা যদি ফসল কাটতে চাও তবে সকাল সকাল বাগানে চলো। অতঃপর তারা ফিস ফিস করে এ কথা বলতে বলতে চলল- আজ বাগানে যেন তোমাদের নিকট কোন অভাবগ্রস্ত ব্যক্তি প্রবেশ করতে না পারে। অতঃপর তারা (অভাবীদেরকে) প্রতিহত করতে সক্ষম- এই বিশ্বাস নিয়ে সকালে রওয়ানা হলো। কিন্তু তারা যখন ঐ বাগান প্রত্যক্ষ করল তখন তারা বলল, আমরা তো পথ ভুলে গেছি। (না) বরং আমরা বঞ্চিত হয়েছি! অতঃপর তাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বলল, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি, যদি তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করতে! তখন তারা বলল, আমরা আমাদের প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি; নিশ্চয় আমরা ছিলাম অত্যাচারী। এভাবে তারা একে অপরকে দোষারোপ করতে লাগল। তারা বলল, হায় দুর্ভোগ! আমরা তো সীমালঙ্ঘনকারী ছিলাম। আমরা আশা রাখি যে, আমাদের রব এর পরিবর্তে আমাদেরকে উত্তম বাগান দান করবেন; আমরা আমাদের রবের দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী। শাস্তি এভাবেই এসে থাকে; আর পরকালের শাস্তি তো আরো কঠিন, যদি তারা জানত।' (সূরা ক্বালাম: ১৭-৩৩)
কারুনের করুণ পরিণতি:
'কারূন ছিল মুসার সম্প্রদায়ভুক্ত, কিন্তু সে তাদের প্রতি বাড়াবাড়ি করেছিল। আর আমি তাকে দান করেছিলাম এমন ধনভাণ্ডার, যার চাবিগুলো বহন করা একদল শক্তিশালী লোকের পক্ষেও কষ্টসাধ্য ছিল। স্মরণ করো, যখন তার সম্প্রদায় তাকে বলেছিল, অহংকার করো না, নিশ্চয় আল্লাহ অহংকারীদেরকে পছন্দ করেন না। আল্লাহ তোমাকে যা দিয়েছেন তার দ্বারা আখিরাতের আবাস অনুসন্ধান করো এবং দুনিয়ার অংশ লাভ করতে ভুলে যেও না। তুমি অনুগ্রহ করো যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করার চেষ্টা করো না। (কেননা) আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদেরকে ভালোবাসেন না। সে বলল, এ সম্পদ আমি আমার জ্ঞানবলে প্রাপ্ত হয়েছি। সে কি জানত না- আল্লাহ তার পূর্বে বহু মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছেন, যারা ছিল শক্তিতে তার চেয়ে প্রবল এবং জনসংখ্যায় ছিল অধিক? অপরাধীদেরকে কি তাদের অপরাধ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে না? কারূন তার সম্প্রদায়ের সম্মুখে উপস্থিত হয়েছিল জাঁকজমক সহকারে। ফলে যারা পার্থিব জীবন কামনা করত তারা বলতে লাগল যে, হায়! কারূনকে যেরূপ দেয়া হয়েছে আমাদেরকেও যদি সেরূপ দেয়া হতো! প্রকৃতই সে মহাভাগ্যবান। কিন্তু যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছিল তারা বলল, ধিক তোমাদেরকে! যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য আল্লাহর পুরস্কারই সর্বশ্রেষ্ঠ; আর ধৈর্যশীল ব্যতীত তা কেউ লাভ করতে পারবে না। অতঃপর আমি কারূনকে তার প্রাসাদসহ ভূগর্ভে প্রোথিত করলাম। তার স্বপক্ষে এমন কোন দলও ছিল না, যে তাকে আল্লাহর শাস্তি হতে সাহায্য করতে পারত এবং সে নিজেও আত্মরক্ষায় সক্ষম ছিল না। ফলে ইতিপূর্বে যারা তার মতো হতে চেয়েছিল তারা বলতে লাগল, দেখলে তো! আল্লাহ তার বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা তার রিযিক বর্ধিত করেন এবং যার জন্য ইচ্ছা হ্রাস করেন। যদি আল্লাহ আমাদের প্রতি সদয় না হতেন তবে আমাদেরকেও ভূগর্ভে প্রোথিত করতেন। দেখলে তো! কাফিররা সফলকাম হয় না।' (সূরা ক্বাসাস: ৭৬-৮২)
টিকাঃ
১৯৭. মু'জামূস সগীর লিত তাবারানী, হা/৯৩৫; জামেউস সগীর, হা/১০৭৪৬; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৭৬২।
১৯৮. আবু দাউদ, হা/১৫৬৭; সুনানে দার কুতনী, হা/১৯৫১; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৭৭৯৭; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৪৩৭; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৭৬৯।
১৯৯. সহীহ বুখারী, হা/১৪০৩; বায়হাকী, হা/৭০১৫; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৫৬০; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৭৬১; মিশকাত, হা/১৭৭৪।
২০০. সহীহ মুসলিম, হা/২৩৩৯; আবু দাউদ, হা/১৬৬০; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৫৫৩; মুস্তাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/৫৮৭৪; বায়হাকী, হা/৭০১৭।
২০১. মু'জামুল আওসাত লিত তাবারানী, হা/৪৫৭৭; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৭৬৩।
২০২. ইবনে মাজাহ, হা/৪০১৯; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৮৬২৩; শু'আবুল ঈমান, হা/৩০৪২; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১০৬; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৭৬১।
২০৩. সহীহ বুখারী, হা/২৫; সহীহ মুসলিম, হা/১৩৮; নাসাঈ, হা/৩৯৬৯; ইবনে মাজাহ, হা/৭২; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৫২৫; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২২৪৮; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/১৭৫; মুসনাদুল বাযযার, হা/৯৮১০; দার কুতনী, হা/৮৯২; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৪২৮; মু'জামুল কাবীর লিত তাবরানী, হা/১৪৫৩৮; বায়হাকী, হা/৪৯২০; জামেউস সগীর, হা/২২৫১; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৪০৮; মিশকাত, হা/১২।
২০৪. সহীহ বুখারী, হা/১৩৯৯-১৪০০; সহীহ মুসলিম, হা/১৩৩; আবু দাউদ, হা/১৫৫৮; নাসাঈ, হা/২৪৪৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৩৫; মিশকাত, হা/১৭৯০।