📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 আইয়্যামে বীযের রোযা

📄 আইয়্যামে বীযের রোযা


প্রতি চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোযাকে আইয়্যামে বীযের রোযা বলা হয়। এ রোযার অনেক গুরুত্ব রয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ আবু যর (রাঃ) কে বললেন, 'হে আবু যর! তুমি যখন প্রতি মাসে তিনদিন রোযা রাখবে তখন ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোযা রাখো।'
আবু যর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিনদিন রোযা রাখল সে যেন সারা বছরই রোযা রাখল। এর সত্যতা স্বরূপ তিনি আল্লাহ তা'আলার কিতাবের এ আয়াতটি পাঠ করেন, 'যে ব্যক্তি একটি নেক আমল করবে এর বিনিময়ে সে দশটি নেকী পাবে।' (সূরা আনআম- ১৬০)
একদিন দশদিনের সমান এবং তিনদিন এক মাসের সমান। এভাবে প্রতি মাসে তিনটি রোযা রাখলে পূর্ণ বছর রোযা রাখার সওয়াব পাওয়া যায়।

টিকাঃ
১৬৮. তিরমিযী, হা/৭৬১; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২১২৮; বায়হাকী, হা/৮২২৮; জামেউস সগীর, হা/৬৭৫; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১০৩৮; মিশকাত, হা/২০৫৭।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 আরাফার রোযা

📄 আরাফার রোযা


আরাফার দিন তথা যিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখের রোযার গুরুত্ব অপরিসীম। এ সম্পর্কে নবী ﷺ বলেন, 'আমি ধারণা করি যে, আরাফার দিনের রোযা গত বছর ও আগামী এক বছরের গোনাহের কাফফারা হয়ে যায়।'

টিকাঃ
১৬৯. সহীহ মুসলিম, হা/২৮০৩; তিরমিযী, হা/৭৪৯; ইবনে মাজাহ, হা/১৭৩০; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২০৭৮; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৬৩২; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১০১০; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৭৯০; মিশকাত, হা/২০৪৪।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোযা

📄 প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোযা


সপ্তাহে প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখার অনেক ফযীলত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। হাদীসে এসেছে, আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোযাকে খুবই গুরুত্ব দিতেন। তিনি বলতেন, 'সোমবার ও বৃহস্পতিবার মানুষের আমলসমূহ আল্লাহর নিকট পেশ করা হয়। তাই আমি এটা পছন্দ করি যে, রোযা অবস্থায় আমার আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হোক।'

টিকাঃ
১৭০. সহীহ মুসলিম, হা/৬৭১১; তিরমিযী, হা/৭৪৭; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৭৯৯; জামেউস সগীর, হা/৫২৭০; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১০৪১; মিশকাত, হা/২০৫৬।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 রোযার উদ্দেশ্য

📄 রোযার উদ্দেশ্য


প্রত্যেকটি কাজের পরিকল্পনা গ্রহণের মূলে একটি লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য থাকে। সেই উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়িত করার জন্য কাজটি সম্পাদন করা হয়। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর একমাস রোযা রাখা ফরয করেছেন তাদেরকে উপবাস রেখে অযথা কষ্ট দেয়ার জন্য নয়। রোযা ফরয করার পেছনে এক বিরাট উদ্দেশ্য রয়েছে। যে আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা রোযা ফরয করেছেন সে আয়াতেরই শেষাংশে সেই উদ্দেশ্যের কথা তিনি বলে দিয়েছেন। তাই আমাদের কর্তব্য হলো সে বিষয়টি জানা এবং তা অর্জন করার জন্য চেষ্টা করা। কারণ কোন কাজ যে উদ্দেশ্যে করা হয় সে উদ্দেশ্য যদি সফল না হয় তবে কাজটি বিফলে যায়। আল্লাহ তা'আলা রোযার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, 'হে ঈমানদারগণ! পূর্ববর্তী উম্মতের মতো তোমাদের উপরও রোযা ফরয করে দেয়া হয়েছে, সম্ভবত এর মাধ্যমে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারবে।' (সূরা বাকারা- ১৮৩)
এখান থেকে স্পষ্ট জানা গেল যে, তাকওয়া অর্জন করাই রোযার মূল উদ্দেশ্য। তাকওয়া এত মূল্যবান জিনিস যে, এর ফলে যে কল্যাণ ও উপকার পাওয়া যায় অন্য কিছুর দ্বারা তা পাওয়া যায় না। যেমন কুরআন থেকে হেদায়াত লাভে ধন্য হয় মুত্তাকীরা। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, 'যাদের তাকওয়া আছে তারাই এর থেকে হেদায়াত বা পথের দিশা পায়।' (সূরা বাকারা- ২)
সবচেয়ে বড় ও চিরস্থায়ী সুখ ও শান্তির ঠিকানা জান্নাতে মুত্তাকীরাই যাবে। যত ভালো কাজ ও নেক আমল রয়েছে এর বাহ্যিক কাঠামো আল্লাহর কাছে পৌঁছে না; বরং তাকওয়াই তাঁর কাছে পৌঁছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'তোমাদের কুরবানীর পশুর রক্ত এবং গোশত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না; বরং তাকওয়াই আল্লাহর কাছে পৌঁছে।' (সূরা হাজ্জ- ৩৭)
এখন প্রশ্ন হলো, তাকওয়া এমন কোন জিনিসের নাম, যার এত মান-মর্যাদা, এত উপকারিতা, যা অর্জন করার জন্য দীর্ঘ একটি মাস সাধনা করতে হয়?
তাকওয়ার শাব্দিক অর্থ রক্ষা করা, বেঁচে চলা, ভয় করা। পূর্ণাঙ্গ অর্থে তাকওয়া হচ্ছে মানুষের ভেতরে লুকায়িত এমন কিছু গুণের নাম, যা আল্লাহর খাওফ ও মুহাব্বত (ভয় ও ভালোবাসা) থেকে জন্ম নেয়, যা ভালো কাজের প্রেরণা দেয় এবং খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখে। এজন্য যার মধ্যে তাকওয়ার গুণ অর্জিত হয়ে যায় সে জাহান্নাম ও আল্লাহর শাস্তির ভয়ে গোনাহের কাজ করতে পারে না। আর জান্নাত ও আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের আশায় নেক আমল ছাড়তে পারে না। রোযার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে এ গুণটি অর্জিত হয়。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00