📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 ঈদের দিন কবর যিয়ারত করার বিধান

📄 ঈদের দিন কবর যিয়ারত করার বিধান


কবর যিয়ারত করা শরীয়ত সমর্থিত একটা নেক আমল। হাদীসে এসেছে,
ইবনে বুরাইদা (রহ.) তার পিতা হতে বর্ণনা করে বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। হ্যাঁ- এখন তোমরা কবর যিয়ারত করবে।
অত্র হাদীসে কবর যিয়ারত করার জন্য বৈধতা প্রদান করা হয়েছে তবে নির্দিষ্ট কোন দিনের কথা বলা হয়নি। তাছাড়া অন্য কোন হাদীসে এ ধরনের কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। সুতরাং ঈদের দিন কবর যিয়ারতকে অভ্যাসে পরিণত করা বা একটা প্রথা বানিয়ে নেয়া শরীয়তসম্মত নয়। হাদীসে এসেছে,
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমরা তোমাদের ঘরসমূহকে কবরে পরিণত করো না এবং আমার কবরে ঈদ উদযাপন করো না।

টিকাঃ
১৫৭. সহীহ মুসলিম, হা/২৩০৫; মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হা/১০৩১; আবু দাউদ, হা/৩২৩৭; তিরমিযী, হা/১০৫৪; নাসাঈ, হা/২০৩২; ইবনে মাজাহ, হা/১৫৭১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩০৫৫; মুসনাদুল বাযযার, হা/৪৪৩৫; জামেউস সগীর, হা/৪২৪০; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩৫৪৪; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা/৬৭০৮; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/১১৯২৬; মিশকাত, হা/১৭৬২।
১৫৮. আবু দাউদ, হা/২০৪৪; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১১৫৯; মিশকাত, হা/৯২৬।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 ঈদ উপলক্ষে বর্জনীয় কাজসমূহ

📄 ঈদ উপলক্ষে বর্জনীয় কাজসমূহ


ঈদ হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতি আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উৎসব। কিন্তু অনেক মুসলিম এ দিনটাকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে জানে না। তারা এ দিনে বিভিন্ন অনৈসলামিক কাজকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে। নিম্নে এ ধরনের কিছু কাজকর্ম সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

কাফিরদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কাজ করা:
মুসলিম সমাজের অনেকে চাল-চলনে অমুসলিমদের অন্ধ অনুকরণে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। অথচ হাদীসে এসেছে,
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাথে সাদৃশ্যতা রাখবে সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে। এ হাদীসের বাহ্যিক অর্থ হলো, যে কাফিরদের সাথে সাদৃশ্য রাখবে সে কাফির হয়ে যাবে।

পুরুষ কর্তৃক মহিলার বেশ ধারণ করা ও মহিলা কর্তৃক পুরুষের বেশ ধারণ :
পোশাক-পরিচ্ছদ, চাল-চলন ও সাজ-সজ্জার ক্ষেত্রে পুরুষের মহিলার বেশ ধারণ ও মহিলার পুরুষের বেশ ধারণ করা হারাম। ঈদের দিন এ কাজটি অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়। হাদীসে এসেছে,
ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ ঐ সকল মহিলাকে অভিশম্পাত করেছেন, যারা পুরুষের বেশ ধারণ করে এবং ঐ সকল পুরুষকেও অভিশম্পাত করেছেন, যারা মহিলার বেশ ধারণ করে।

পর্দা লঙ্ঘন করা:
মহিলাদের খোলামেলা ও অশালীন পোশাকে রাস্তাঘাটে বের হওয়া ইসলামী শরীয়তে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'আর তোমরা নিজেদের ঘরে অবস্থান করবে এবং প্রথম যুগের মূর্খদের ন্যায় নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না। তোমরা সালাত কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে।' (সূরা আহযাব- ৩৩)
হাদীসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, অচিরেই এমন একদল মহিলার আগমন ঘটবে, যারা পোশাক পরিধান করেও যেন উলঙ্গ থাকে। তারা অন্যদেরকে আকৃষ্ট করবে এবং তারাও অন্যদের প্রতি আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথার চুলের অবস্থা উটের হেলে পড়া কুঁজের ন্যায়। এরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি তার সুগন্ধিও পাবে না। যদিও তার সুগন্ধি এতো এতো দূর থেকে পাওয়া যাবে।
অনেককে দেখা যায় অন্যান্য সময়ের চেয়ে ঈদের দিন গোনাহের কাজ বেশি করে। নিকট আত্মীয়দের মাঝে যাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা শরীয়ত অনুমোদিত নয়, তাদের সাথে অবাধে দেখা-সাক্ষাৎ করে। হাদীসে এসেছে,
উকবা ইবনে আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমরা মেয়েদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা থেকে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখবে। আনসারী সাহাবীদের মধ্য থেকে এক লোক প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! দেবর-ভাসুর প্রমুখ আত্মীয়দের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি উত্তরে বললেন, এ ধরনের দেবর-ভাসুর তো মৃত্যুর সমতুল্য। এমনসব আত্মীয়, যারা স্বামীর সম্পর্কের দিক দিয়ে নিকটতম যেমন- স্বামীর ভাই, তার মামা, খালু প্রমুখ তাদেরকে মৃত্যুর সাথে তুলনা করার কারণ হলো, এসকল আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমেই বেপর্দাজনিত বিপদ বেশি ঘটে থাকে। অথচ এ বিষয়ে আমাদের সমাজ খুবই অসতর্ক।

গান-বাজনা করা:
বর্তমান সময়ে মানুষের কাছে গান-বাজনা অতি সাধারণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ এটি একটি বড় ধরনের গোনাহের কাজ। আর ঈদের দিনে এ গোনাহের কাজটা আরো বেশি করে লক্ষ্য করা যায়। দেখে মনে হয় যেন এটি কোন মুসলিম সমাজের ঈদ নয়; বরং অন্য কোন ধর্মের অথবা জাতির আনন্দোৎসব। অথচ ইসলামী শরীয়তে গান ও বাদ্যযন্ত্রের নিষিদ্ধতার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, 'আমার উম্মতের মাঝে এমন একটা দলের আবির্ভাব ঘটবে, যারা ব্যভিচার, রেশমি পোশাক, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।'
আল্লাহ তা'আলা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা দান করে মুসলিম উম্মাহকে এর মাধ্যমে জাহেলী ঈদ-উৎসব থেকে মুক্ত করেছেন। মুসলিমদের ঈদ হলো ইবাদাত, যা বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্য দান করে। আর কাফিরদের ঈদ হলো এর বিপরীত; কেননা সেখানে কুফর ও গোমরাহী প্রদর্শন করা হয় এবং বিভিন্ন শয়তানী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়। তাই বছরের অন্যান্য দিনের মতো ঈদের দিনও শয়তানী কর্মকাণ্ড বর্জন করা মুসলিমদের জন্য অবশ্য কর্তব্য।

টিকাঃ
১৫৯. আবু দাউদ, হা/৪০৩৩; মুসনাদুল বাযযার, হা/২৯৬৬; মু'জামুল আওসাত, হা/৮৩২৭; জামেউস সগীর, হা/১১০৯৪; মুখতাসার ইরওয়ালুল গালীল, হা/২৩৮৪; মিশকাত, হা/৪৩৪৭।
১৬০. সহীহ বুখারী, হা/৫৮৮৫; আবু দাউদ, হা/৪০৯৯; ইবনে মাজাহ, হা/১৯০৪; মুসনাদুল বাযযার, হা/৯৫৫৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩১৫১; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১১৪৮১; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩২০৬; জামেউস সগীর, হা/৯২৩১; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২০৬৮; মিশকাত, হা/৪৪২৯।
১৬১. সহীহ মুসলিম, হা/৫৭০৪; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৩৩৮৬; জামেউস সগীর, হা/৭২৪৭; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৩২৬; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২০৪৪; মিশকাত, হা/৩৫২৪।
১৬২. সহীহ বুখারী, হা/৫২৩২; সহীহ মুসলিম, হা/৫৮০৩; তিরমিযী, হা/১১৭১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৩৮৫; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৯১৭২; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/১৩৯০১; মুস্তাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/৩২৬১; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৪১৮১; শারহুস সুন্নাহ, হা/২২৫২; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৫৮৮; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/১৭৯৫৪; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৯০৮; মিশকাত, হা/৩১০২।
১৬৩. সহীহ বুখারী, হা/৫৫৯০; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৭৫৪; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৬৩১৭; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৩৩৩৯; জামেউস সগীর, হা/৯৫৯৭; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২০৬৭; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৯১; মিশকাত, হা/৫৩৪৩।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 নফল রোযার বিবরণ

📄 নফল রোযার বিবরণ


রমাযান মাস ছাড়াও বছরের অন্যান্য সময়ে কিছু কিছু রোযা রাখার অভ্যাস থাকা খুবই উত্তম এবং বিরাট সওয়াবের কাজ। আবু উমামা (রাঃ) নবী ﷺ কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে কোন (ভালো) আমলের কথা বলে দিন। নবী ﷺ বললেন, 'তুমি অবশ্যই রোযা রাখবে, কেননা এর সমতুল্য অন্য কিছু নেই।'
রমাযান মাস ছাড়াও যে দিনগুলোতে রোযা রাখার বিশেষ ফযীলত রয়েছে হাদীসের প্রমাণসহ নিচে তা উল্লেখ করা হলো :

টিকাঃ
১৬৪. নাসাঈ, হা/২২২২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৩৩০; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৮৯৩; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৫৩৩; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৭৩৩৭; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/৯৮৯৯; জামেউস সগীর, হা/৭৪৯২; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৯৮৬।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 শাওয়াল মাসের ছয়টি রোযা

📄 শাওয়াল মাসের ছয়টি রোযা


শাওয়াল মাসের ছয়টি রোযা রাখা সুন্নত। এর অনেক ফযীলত রয়েছে। যেমন- হাদীসে এসেছে,
আবু আইয়ূব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি রমাযান মাসে রোযা রাখল এবং শাওয়াল মাসে আরো ছয়টি রোযা রাখল, সে যেন সারা বছর রোযা রাখল।
এ হাদীসটির উপর আমল করা সকলের উচিত। একটি নেক আমলের প্রতিদানে সর্বনিম্ন দশটি নেকী দেয়া হয়। তাই রমাযানের ত্রিশটি রোযা দিন আর শাওয়ালের ৬টি রোযা ৬০ দিনের সমান হয়। এতে ৩৬০ দিন পূর্ণ হয়ে যায়, যা একবছরের বেশি হয়; কারণ আরবি বছর ৩৫৪ দিনে হয়ে থাকে। এ রোযাগুলো শাওয়াল মাসের যেকোন দিন রাখা যায়, একসাথে না রেখে ভেঙ্গে ভেঙ্গেও রাখা যায়।

টিকাঃ
১৬৫. সহীহ মুসলিম, হা/২৮১৫; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/২৮৭৯; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৩৮১১; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৭৮০; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১০০৬; মিশকাত, হা/২০৪৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00