📄 ঈদের সালাতের পর খুতবা
ঈদের সালাতের পর ইমাম খুতবা দেবেন। সে খুতবায় তিনি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রশংসা, গুণগান ও অধিক পরিমাণে তাকবীর পাঠ করবেন এবং দ্বীনি শিক্ষা বিষয়ক আলোচনা করবেন। মুসল্লিরা মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনবেন। হাদীসে এসেছে,
আবদুল্লাহ ইবনে সায়েব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে ঈদে উপস্থিত হলাম। অতঃপর যখন তিনি (ঈদের) সালাত আদায় করা শেষ করলেন তখন বললেন, নিশ্চয় আমরা খুতবা দেব। অতএব খুতবা (শ্রবণ) এর জন্য যে বসা পছন্দ করে সে যেন বসে থাকে এবং যে চলে যেতে ইচ্ছা করে সে যেন চলে যায়।
ঈদের খুতবা শেষে সমবেতভাবে হাত উঠিয়ে দু'আ করা সুন্নাতের খিলাফ :
ঈদের খুতবা শেষে সমবেতভাবে হাত উঠিয়ে দু'আ করা সুন্নাত বিরোধী কাজ। নবী ﷺ ও সালফে সালেহীনের যুগে এর কোন প্রচলন ছিল না।
টিকাঃ
১৫৩. আবু দাউদ, হা/১১৫৭; ইবনে মাজাহ, হা/১২৯০; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১০৯৩; জামেউস সগীর, হা/৪০৫৩।
📄 ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়
ঈদ উপলক্ষে পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানানো জায়েয আছে। হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) জুবায়ের ইবনে নফী (রহ.) এর থেকে হাসান হওয়ার যোগ্যতা রাখে এমন সূত্রে বর্ণনা করেন, সাহাবীগণ ঈদের দিন সাক্ষাৎকালে একে অপরকে বলতেন,
'আল্লাহ তা'আলা আমাদের ও আপনার ভালো কাজগুলো কবুল করুন।'
'ঈদ মুবারক' বলেও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়। তবে প্রথমে উল্লেখিত বাক্য দ্বারা শুভেচ্ছা বিনিময় করা উত্তম। কারণ সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) এ বাক্য ব্যবহার করতেন এবং এতে রয়েছে পরস্পরের জন্য কল্যাণ কামনা ও আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে দু'আ।
মুআনাকা করা:
ঈদের দিন মুআনাকা করার খাস কোন দলীল নেই। তবে সুন্নাত মনে না করে যদি কেউ মুআনাকা করে তাতে কোন অসুবিধা নেই। সাহাবীগণ পরস্পর সাক্ষাৎ করলে মুসাফাহা করতেন এবং সফর থেকে ফিরে আসলে মুআনাকা করতেন।
টিকাঃ
১৫৪. ফাতহুল বারী, ২/৪৪৬ পৃঃ।
১৫৫. সিলসিলা সহীহাহ, হা/২৬৪৭।
📄 ঈদের দিন আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর নেয়া
আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ ও তাদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সকল প্রকার মনোমালিন্য দূর করার জন্য ঈদ একটা বিরাট সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে দেয়। এসময় তাদের খোঁজ-খবর নেয়া উচিত। কেননা হিংসা-বিদ্বেষ ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে খারাপ সম্পর্ক এমন একটা বিষয়, যা আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়। হাদীসে এসেছে,
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। যে আল্লাহর সাথে শিরক করে তাকে ব্যতীত সে দিন সকল বান্দাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়। কিন্তু ঐ দু'ভাইকে ক্ষমা করা হয় না, যাদের মাঝে হিংসা ও দ্বন্দ্ব রয়েছে- যতক্ষণ না নিজেদের বিবাদ মিটিয়ে নেয়। বলা হয়ে থাকে, এ দু'জনকে অবকাশ দাও, যেন তারা নিজেদের দ্বন্দ্ব বিবাদ মিটিয়ে মিলে মিশে যায়। এ দু'জনকে অবকাশ দাও, যেন তারা নিজেদের দ্বন্দ্ব বিবাদ মিটিয়ে মিলে মিশে যায়। এ দু'জনকে অবকাশ দাও, যেন তারা নিজেদের দ্বন্দ্ব বিবাদ মিটিয়ে মিলে মিশে যায়।
এ হাদীস দ্বারা অনুধাবন করা যায় যে, নিজেদের মাঝে হিংসা, বিবাদ অথবা দ্বন্দ্ব রাখা এমন অপরাধ, যার কারণে ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হতে হয়। সদাচরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে আত্মীয়-স্বজনের মাঝে সবচেয়ে বেশি হকদার হলো মাতা-পিতা। তারপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন। অতএব প্রতিটি ঈদের সময় প্রথমে মাতা-পিতা, তারপর ভাই-বোন, খালা- ফুফু, চাচা-মামা ইত্যাদি বিশেষ বিশেষ আত্মীয়দের খোঁজ-খবর নেয়া উচিত। প্রয়োজনে তাদের সাথে সারাসরি দেখা করার উদ্দেশ্যে তাদের মেহমান হওয়া অথবা তাদেরকে নিজ বাড়িতে নিমন্ত্রণ করা আরো উত্তম ।
টিকাঃ
১৫৬. মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হা/১৬১৮; সহীহ মুসলিম, হা/৬৭০৯; আবু দাউদ, হা/৪৯১৮; তিরমিযী, হা/২০২৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/১০০০৭; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৬৬২৩; আদাবুল মুফরাদ, হা/৪১১; শারহস সুন্নাহ, হা/৩৫২৩; জামেউস সগীর, হা/৫২৮১; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২৭৬৬; মিশকাত, হা/৫০২৯।
📄 ঈদের দিন কবর যিয়ারত করার বিধান
কবর যিয়ারত করা শরীয়ত সমর্থিত একটা নেক আমল। হাদীসে এসেছে,
ইবনে বুরাইদা (রহ.) তার পিতা হতে বর্ণনা করে বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। হ্যাঁ- এখন তোমরা কবর যিয়ারত করবে।
অত্র হাদীসে কবর যিয়ারত করার জন্য বৈধতা প্রদান করা হয়েছে তবে নির্দিষ্ট কোন দিনের কথা বলা হয়নি। তাছাড়া অন্য কোন হাদীসে এ ধরনের কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। সুতরাং ঈদের দিন কবর যিয়ারতকে অভ্যাসে পরিণত করা বা একটা প্রথা বানিয়ে নেয়া শরীয়তসম্মত নয়। হাদীসে এসেছে,
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমরা তোমাদের ঘরসমূহকে কবরে পরিণত করো না এবং আমার কবরে ঈদ উদযাপন করো না।
টিকাঃ
১৫৭. সহীহ মুসলিম, হা/২৩০৫; মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হা/১০৩১; আবু দাউদ, হা/৩২৩৭; তিরমিযী, হা/১০৫৪; নাসাঈ, হা/২০৩২; ইবনে মাজাহ, হা/১৫৭১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩০৫৫; মুসনাদুল বাযযার, হা/৪৪৩৫; জামেউস সগীর, হা/৪২৪০; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩৫৪৪; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা/৬৭০৮; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/১১৯২৬; মিশকাত, হা/১৭৬২।
১৫৮. আবু দাউদ, হা/২০৪৪; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১১৫৯; মিশকাত, হা/৯২৬।