📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 মহিলাদের ঈদগাহে যাওয়ার বিধান

📄 মহিলাদের ঈদগাহে যাওয়ার বিধান


মহিলাদের ঈদগাহে যাওয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অনুমতি :
উম্মে আতিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে নির্দেশ দিতেন, যেন আমরা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ঋতুবতী, সাবালিকা এবং পর্দাশীল নারীদেরকে নিয়ে বের হই। অতঃপর ঋতুবতী নারীরা সালাত আদায় করা হতে পৃথক থাকতেন। কিন্তু তারা অন্যান্য উত্তম কাজসমূহ ও মুসলিমদের দু'আয় অংশগ্রহণ করতেন। একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মাঝে এমন অনেক নারী আছে, যাদের কোন চাদর নেই। তখন তিনি বললেন, তাদের বোন যেন তাদেরকে চাদর ধার দেয়।
ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ তার কন্যা ও স্ত্রীদেরকে দুই ঈদে বের হওয়ার নির্দেশ দিতেন।
ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ একবার ঈদুল আযহা অথবা ঈদুল ফিতরের দিন বের হলেন এবং দু' রাকআত সালাত আদায় করলেন এবং এর পূর্বে ও পরে কোন সালাত আদায় করলেন না। অতঃপর তিনি মহিলাদের নিকট আসলেন। এ সময় তাঁর সাথে বিলাল (রাঃ) ছিলেন। অতঃপর তিনি তাদেরকে সাদাকা করার আদেশ দেন। ফলে মহিলারা নিজ নিজ কানের রিং ও গলার হার সাদাকা করতে লাগল।
উম্মে আতিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈদের দিন আমাদের বের হওয়ার আদেশ দেয়া হতো। এমনকি আমরা কুমারী মেয়েদেরকেও অন্দর মহল হতে বের করতাম এবং ঋতুবতী মেয়েদেরকেও। তারা পুরুষদের পিছনে থাকত এবং তাদের তাকবীরের সাথে তাকবীর বলত ও তাদের দু'আর সাথে দু'আ করত। আর তারা সে দিনের বরকত এবং পবিত্রতার আশা করত।
উপরোক্ত হাদীসগুলো হতে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রাপ্তবয়স্কা, গৃহবাসিণী এবং ঋতুবতী মহিলাদেরকেও উভয় ঈদে ঈদগাহে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর স্ত্রী ও কন্যাদেরকেও দুই ঈদে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আরো প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ মহিলাদেরকে ঈদগাহে যাওয়ার ব্যাপারে এমনভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন যে, যদি কোন মহিলার ওড়না/চাদর না থাকে তাহলে তাকে তার অপর বোনের চাদর ধার নিয়ে হলেও ঈদগাহে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, ঋতুবতী মহিলারা নামাযের সময় নামায পড়া হতে বিরত থাকবে এবং অন্যান্য কল্যাণকর কাজে ও মুসলিমদের দু'আয় শরীক হবে।
অপর হাদীসে এসেছে,
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ঈদের দিন রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি খুতবার আগে প্রথমে সালাত আদায় করলেন- আযান-ইকামত ছাড়া। অতঃপর তিনি বিলাল (রাঃ) এর উপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন এবং "আল্লাহ ভীতি” অর্জন করার আদেশ করলেন ও তাঁর আনুগত্য করার জন্য অনুপ্রাণিত করলেন। অতঃপর তিনি সমবেত জনতার সামনে উপদেশমূলক বক্তৃতা প্রদান করলেন। তারপর বক্তৃতা শেষ করে মহিলাদের কাছে গেলেন। অতঃপর তিনি তাদের সামনেও উপদেশমূলক বক্তৃতা প্রদান করলেন। তারপর বললেন, তোমরা সাদাকা করো। কেননা তোমাদের বেশির ভাগ মহিলাই জাহান্নামের জ্বালানী হবে। (এ কথা শুনে) মহিলাদের মধ্য থেকে উভয় গালে কালো দাগ বিশিষ্ট একজন মহিলা দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, কেন- হে আল্লাহর রাসূল? রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, কেননা তোমরা বেশি বেশি অজুহাত ও অভিযোগ পেশ করে থাক এবং স্বামীর অবাধ্যচরণ করে থাক। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর মহিলারা তাদের অলঙ্কারাদি দান করতে শুরু করল। তারা তাদের কানের রিং এবং আংটিসমূহ বিলালের কাপড়ে ফেলতে লাগল।
এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈদের সালাত আদায় করে বিলাল (রাঃ)-কে সাথে নিয়ে মহিলাদের নিকট গিয়েছেন। তাদেরকে দান সাদাকার জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন, এমনকি মহিলারা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ওয়াজ-নসীহত শ্রবণ করে তাদের কানের রিং ও গলার হার পর্যন্তও দান করে দিয়েছেন। উক্ত দানগুলো বিলাল (রাঃ) একত্রিত করে নিয়ে এসেছেন।
কিন্তু বড় অনুতাপের বিষয় হলো এই যে, মহিলাদের মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সহীহ হাদীস ও অনুমতি থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে অনেক মুসলিম সমাজ মহিলাদেরকে মসজিদ ও ঈদগাহে যাওয়া এবং মুসলিমদের দু'আ, দ্বীন শিক্ষা ও ওয়াজ-নসীহত শ্রবণ করা হতে বঞ্চিত করছে।

ঈদের সালাতের সময়:
সূর্য পরিপূর্ণভাবে উদিত হওয়ার পর থেকে ঈদের সালাতের সময় আরম্ভ হয় এবং দুপুরের পূর্ব পর্যন্ত যে কোন সময় এ সালাত আদায় করা যায়। ঈদুল আযহার সালাত একটু আগে পড়া উত্তম। যেহেতু এরপর পশু কুরবানী করতে হয়। আর ঈদুল ফিতরের সালাত একটু দেরিতে পড়া উত্তম, যাতে লোকেরা সাদাকায়ে ফিতর আদায় করে ঈদগাহে আসতে পারে।

টিকাঃ
১৩৮. সহীহ বুখারী, হা/৩২৪; সহীহ মুসলিম, হা/২০৯৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৮১৮।
১৩৯. মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৫৪; জামেউস সগীর, হা/৯০১৯; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২১১৫।
১৪০. সহীহ মুসলিম, হা/২০৯৪; বায়হাকী, হা/৬০২০; আবু দাউদ, হা/১১৬১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৩৩; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৪৩৬; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১২০৯৮।
১৪১. সহীহ বুখারী, হা/৯৭১।
১৪২. সহীহ মুসলিম, হা/২০৮৫; নাসাঈ, হা/১৫৭৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৪৪৬০; সুনানে দারেমী, হা/১৬১০; বায়হাকী, হা/৬০১৫।
১৪৩. সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ, ১/৫২৮।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 ঈদের সালাত আদায়ের পদ্ধতি

📄 ঈদের সালাত আদায়ের পদ্ধতি


ঈদের সালাত হলো দু' রাকআত। হাদীসে এসেছে,
আবদুর রহমান ইবনে আবু লাইলা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুমু'আর সালাত দু' রাকআত, ঈদুল ফিতরের সালাত দু' রাকআত, ঈদুল আযহার সালাত দু' রাকআত ও সফরের সালাতও দু' রাকআত।
প্রথমে মনে মনে নিয়ত করে তাকবীরে তাহরীমা দিয়ে সালাত শুরু করবে। তাকবীরে তাহরীমার পর অতিরিক্ত সাতটি তাকবীর দেবে। অতঃপর সূরা ফাতিহাসহ অন্য সূরা পাঠ করে যথারীতি প্রথম রাকআত শেষ করবে। অতঃপর দ্বিতীয় রাকআতের জন্য দাঁড়ানোর পর অতিরিক্ত পাঁচটি তাকবীর দেবে। তাকবীরসমূহ আদায় করার পর সূরা ফাতিহা পড়বে, তারপর অন্য যেকোন সূরা বা আয়াত পাঠ করবে। তারপর যথারীতি দ্বিতীয় রাকআত শেষ করবে।

ঈদের সালাতের মুস্তাহাব কিরাআত :
নু'মান ইবনে বাশির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ দু' ঈদের সালাতে ও জুমু'আর সালাতে "সাব্বিহিস্স্না রাব্বিকাল আ'লা-” ও "হাল আতা-কা হাদীছুল গা-শিয়াহ্” সূরাদ্বয় পাঠ করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, ঈদ ও জুমু'আ একই দিনে হলেও তিনি উভয় সালাতে ঐ সূরাদ্বয় পাঠ করতেন।
উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) আবু ওয়াক্বিদ আল লাইছী (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলেন, নবী ﷺ ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরে কী কিরাত পড়তেন? তখন তিনি বলেন, নবী ﷺ ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরে সূরা "ক্বাফ ওয়াল কুরআ-নিল মাজীদ” এবং “ইক্বতারাবাতিস সা-'আতু ওয়ান শাক্কাল ক্বামারু" পাঠ করতেন।

ঈদের সালাতের পূর্বে বা পরে নফল সালাত নেই:
রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈদের সালাতের পূর্বে বা পরে কোন সালাত আদায় করেননি। হাদীসে এসেছে, ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈদুল ফিতরে দু' রাকআত সালাত আদায় করতেন। এর পূর্বে বা পরে কোন সালাত আদায় করতেন না।
তবে যদি কোন অসুবিধার কারণে ঈদের সালাত মসজিদে আদায় করতে হয়, তাহলে মসজিদে প্রবেশ করে দু' রাকআত তাহিয়্যাতুল মাসজিদ আদায় করা যেতে পারে।

ঈদের সালাতের জন্য আযান ও ইকামত নেই:
ঈদের সালাতের জন্য কোন আযান নেই এবং এতে কোন ইকামতও নেই। হাদীসে রয়েছে,
ইবনে আব্বাস (রাঃ) ও জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) উভয়ে বলেছেন, ঈদুল ফিতর কিংবা ঈদুল আযহার সালাতে আযান বা ইকামত দেয়া হতো না।

ঈদের সালাতের পূর্বে কোন ওয়াজ-নসীহত বা খুতবা নেই:
ঈদের সালাত আদায়ের পর ইমাম সাহেব খুতবা দেবেন। সালাত আদায়ের পূর্বে কোন খুতবা নেই। হাদীসে এসেছে, আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ঈদগাহের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হতেন। ঈদগাহে প্রথম সালাত শুরু করতেন। সালাত শেষে মানুষের দিকে ফিরে খুতবা দিতেন। এ খুতবাতে তিনি তাদের ওয়াজ করতেন, উপদেশ দিতেন, বিভিন্ন নির্দেশ দিতেন। আর এ অবস্থায় মানুষেরা তাদের কাতারে বসে থাকত। এ হাদীস দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, ঈদের সালাতের পূর্বে কোন ওয়াজ-নসীহত বা খুতবা দেয়া যাবে না। ইমাম সাহেব ঈদগাহে এসে প্রথমে সালাত শুরু করে দেবেন। অতঃপর লোকদের উদ্দেশ্যে ওয়াজ-নসীহত বা খুতবা প্রদান করবেন। উল্লেখ্য যে, ঈদগাহে মাইকে ডাকাডাকি করা, সালাতের পূর্বে বিভিন্ন জনের বক্তব্য দেয়া সুন্নাতের খিলাফ।

টিকাঃ
১৪৪. নাসাঈ, হা/১৪২০; ইবনে মাজাহ, হা/১০৬৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৭; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৪২৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৭৮৩; মুসনাদুল বাযযার, হা/৩৩০; মুসনাদে আবু ই'আলা, হা/২৪১; বায়হাকী, হা/৫৫১০।
১৪৫. সহীহ মুসলিম, হা/২০৬৫; আবু দাউদ, হা/১১২৪; তিরমিযী, হা/৫৩৩; নাসাঈ, হা/১৫৬৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৪৩৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৮২২; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৫৯৩৫; মিশকাত, হা/৮৪০।
১৪৬. মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হা/৪৩৩; সহীহ মুসলিম, হা/২০৯৬; আবু দাউদ, হা/১১৫৬; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/১১৪৮৬; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৬৪১২; মিশকাত, হা/৮৪১।
১৪৭. সহীহ বুখারী, হা/৯৬৪; সহীহ মুসলিম, হা/২০৯৪; তিরমিযী, হা/৫৩৭; নাসাঈ, হা/১৫৮৭; ইবনে মাজাহ, হা/১২৯১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৩৩; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৪৩৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৮১৮; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৬৪১৮; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/৫৯০২; মুসনাদে দারেমী, হা/১৬৪৬।
১৪৮. সহীহ বুখারী, হা/৯৬০; সহীহ মুসলিম, হা/১১৯০; তিরমিযী, হা/৫৩২; আবু দাউদ, হা/১১৪৮; ইবনে মাজাহ, হা/১২৭৪।
১৪৯. সহীহ বুখারী, হা/৯৫৬; বায়হাকী, হা/৫৯২৯; মিশকাত, হা/১৪২৬।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 ঈদের সালাতে অতিরিক্ত তাকবীর কয়টি

📄 ঈদের সালাতে অতিরিক্ত তাকবীর কয়টি


ঈদের সালাতে অতিরিক্ত তাকবীর হলো ১২টি এবং এর উপরই আমল করা উচিত। হাদীসে বলা হয়েছে,
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার সালাতের প্রথম রাকআতে সাত তাকবীর দিলেন এবং দ্বিতীয় রাকআতে পাঁচ তাকবীর দিলেন।
আমর ইবনে শু'আইব (রহ.) তিনি তার পিতা হতে তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, নবী ﷺ ঈদের সালাতে ১২টি তাকবীর দিতেন। প্রথম রাকআতে ৭টি এবং শেষ রাকআতে ৫টি। আর তিনি এ সালাতের পূর্বে ও পরে কোন নফল সালাত আদায় করতেন না।

ঈদের সালাতের অতিরিক্ত তাকবীরসমূহে রাফউল ইয়াদাইন করার বিধান :
ঈদের সালাতে তাকবীরে তাহরীমা ব্যতীত অতিরিক্ত তাকবীরগুলোতে রাফউল ইয়াদাইন করা নবী ﷺ থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত নেই। তাই ইমাম ইবনে হাযম, ইমাম শাওকানী, ইমাম আলবানী প্রমূখ বিদ্বানগণ উক্ত তাকবীরসমূহের সময় রাফউল ইয়াদাইন না করার পক্ষে মতামত দিয়েছেন।

টিকাঃ
১৫০. আবু দাউদ, হা/১১৫১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৯৭৩৯; দার কুতনী, হা/১৭৩০; ইবনে মাজাহ, হা/১২৭৯; মা'রেফাতুস সুনান ওয়াল আছার, হা/১৯২৫।
১৫১. মুসনাদে আহমাদ, হা/৬৬৮৮; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/৫৭৪৩।
১৫২. আল মুহাল্লা- ৫/৮৩, ৮৪; নাইলুল আওতার, তামামুল মিন্নাহ, পৃঃ ৩৪৮-৩৪৯।

📘 সিয়াম ও যাকাত > 📄 ঈদের সালাতের পর খুতবা

📄 ঈদের সালাতের পর খুতবা


ঈদের সালাতের পর ইমাম খুতবা দেবেন। সে খুতবায় তিনি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রশংসা, গুণগান ও অধিক পরিমাণে তাকবীর পাঠ করবেন এবং দ্বীনি শিক্ষা বিষয়ক আলোচনা করবেন। মুসল্লিরা মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনবেন। হাদীসে এসেছে,
আবদুল্লাহ ইবনে সায়েব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে ঈদে উপস্থিত হলাম। অতঃপর যখন তিনি (ঈদের) সালাত আদায় করা শেষ করলেন তখন বললেন, নিশ্চয় আমরা খুতবা দেব। অতএব খুতবা (শ্রবণ) এর জন্য যে বসা পছন্দ করে সে যেন বসে থাকে এবং যে চলে যেতে ইচ্ছা করে সে যেন চলে যায়।

ঈদের খুতবা শেষে সমবেতভাবে হাত উঠিয়ে দু'আ করা সুন্নাতের খিলাফ :
ঈদের খুতবা শেষে সমবেতভাবে হাত উঠিয়ে দু'আ করা সুন্নাত বিরোধী কাজ। নবী ﷺ ও সালফে সালেহীনের যুগে এর কোন প্রচলন ছিল না।

টিকাঃ
১৫৩. আবু দাউদ, হা/১১৫৭; ইবনে মাজাহ, হা/১২৯০; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১০৯৩; জামেউস সগীর, হা/৪০৫৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00